দুয়ারে সরকার-কে সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বিজেপি? তৎপরতা তুঙ্গে

২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপিকে বাংলার বুকে আবার চাঙ্গা করে তোলার জন্য অবশেষে তৃণমূল সরকারের দেখানো পথেই হাঁটতে চলেছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

Sayan Das
৩ মিনিট
দুয়ারে সরকার-কে সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বিজেপি? তৎপরতা তুঙ্গে

২০২১ সালের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবির পর থেকেই ক্রমশ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে তাদের আত্মবিশ্বাস। তাই ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপিকে বাংলার বুকে আবার চাঙ্গা করে তোলার জন্য অবশেষে তৃণমূল সরকারের দেখানো পথেই হাঁটতে চলেছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার বঙ্গ সফরের মাঝে ঠিক এহেন ইঙ্গিতই উঠে আসতে শুরু করেছে। তবে তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজির ওপর নির্ভর করে তাদেরকেই কীভাবে মাত দিতে পারবে কেন্দ্রীয় সরকার, তা নিয়ে উঠে গিয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

এবার একটু অতীতে ফিরে যাওয়া যাক। গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-নেত্রী পদ্ম শিবিরে যোগদান করেন। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে লাগাতার প্রচার চালানোর পর বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দুশো ভোটে জেতার শপথ পর্যন্ত নেওয়া হয়। তবে প্রকৃতপক্ষে দেখা যায় এক ভিন্ন রূপ। মাত্র ৭৭-এ গিয়েই থেমে যায় বিজেপির রথ। এরপর থেকেই পদ্ম শিবির ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে একাধিক নেতা। মুকুল রায়, রাজীব বন্দ‍্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বর্তমানে বাবুল সুপ্রিয় এবং অর্জুন সিংয়ের মতো নেতাদের ঘাসফুল শিবিরে যোগদানের মাধ্যমে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে বিজেপি সংগঠন। শুধু তাই নয়, বর্তমানে রাজ্যর বিরোধী দলের অন্দরের চিত্র খুব একটা ভালো নয়! একাধিক প্রান্তে গোষ্ঠী সংঘর্ষর পাশাপাশি এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপরেও ক্ষুব্ধ বঙ্গ বিজেপি কর্মীরা, আর তা একপ্রকার আঁচ করতে পেরেই সম্প্রতি বাংলায় আসতে শুরু করেছেন অমিত শাহ থেকে জেপি নাড্ডা সকলে।

তবে শুধুমাত্র এই স্ট্র্যাটেজিতে যে কাজ হবে না, বর্তমানে তা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, আর সেই কারণেই সম্প্রতি জেপি নাড্ডার বঙ্গ সফর বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কয়েকদিন আগেই বাংলায় পদার্পন করে অমিত শাহ দলের সকল কর্মীর মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করে যান। একই সঙ্গে বাংলার ১০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পাশাপাশি দলের সকল সদস্যকে রাস্তায় নেমে কাজ করারও পরামর্শ দেন তিনি। এবার জেপি নাড্ডার বক্তব্যেও শোনা গেল একই সুর। প্রধানত, বিজেপির বিধায়কদের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি, আর এতেই উঠে এল তৃণমূল কংগ্রেসের 'দুয়ারে সরকার' প্রসঙ্গ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বঙ্গ বিজেপির কাহিল অবস্থা বেআব্রু সংঘের রিপোর্টে, বড় বিপদ অপেক্ষা করছে?

সংঘ পরিবারের এই সমীক্ষা রিপোর্টের মূল বক্তব্যে বিজেপির শীর্ষ স্তর নিশ্চিতভাবেই মুষড়ে পড়েছে। ১৬ সাংসদ, ৬৯ বিধায়ক থাকা দলের এই হাল দেখে আশ্চর্যই হয়েছেন বিজেপির শীর্ষ স্তরের পোড় খাওয়া নেতৃত্ব।

বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে বাংলায় 'দুয়ারে সরকার' প্রকল্প বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস-সৃষ্ট এই প্রকল্প শহর থেকে গ্রামে, বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে আর সেই কারণেই যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বাংলার মেয়ে' আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে- তা অনস্বীকার্য। বাংলার প্রতিটি প্রান্তে সব মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার এই উদ্যোগ আপন করে নিয়েছিল একাংশের বঙ্গবাসী। এবার তৃণমূলের সেই অস্ত্রেই শান দিতে চলেছে বিজেপি।

সম্প্রতি, বাংলায় পা রেখেই দলের সব বিধায়কদের ভোকাল টনিক দিয়ে যান জেপি নাড্ডা। যেভাবে দলের ভেতর কোন্দল বড় আকার ধারণ করেছে, তার ফল গত পুরসভা থেকে উপনির্বাচনেও দেখা গিয়েছে। একের পর এক ভোটে বিজেপির পরাজয়ের ধারা দেখে চিন্তিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সামনে লোকসভা নির্বাচন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ এবং বাংলায় জয়লাভ দেশের নির্বাচনে গভীর প্রভাব রেখে চলে। ২০১৯ নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ছিল ১৮ এবং অতীতে স্বয়ং অমিত শাহ এসে ২৫-এর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দিয়ে যান। তবে বর্তমানে সেই সম্ভাবনা ধীরে ধীরে যখন অদৃশ্য হতে শুরু করেছে, সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে পুনরায় একবার 'খেলা' নিজেদের দিকে ঘোরাতে তৎপর পদ্মফুল শিবির।

বলে রাখা ভালো, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা কলকাতায় এসে দলীয় বিধায়কদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বার্তা দিয়ে যান। তিনি বলেন, "দলের সকল বিধায়কদের উদ্দেশে বলছি, আপনারা বাংলার সব মানুষের কাছে পৌঁছে যান। তাদের সমস্যা শোনার পাশাপাশি সমাধানের রাস্তাও আপনাদের খুঁজে বের করতে হবে। কোনও গাফিলতি করা চলবে না।"

স্বভাবতই, বিজেপি নেতার বক্তব্যে আগাগোড়াই ফুটে ওঠে তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজির উল্লেখ। যেভাবে দুয়ারে সরকার প্রকল্পর মাধ্যমে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক সেরকমভাবেই দলীয় বৈঠকে উপস্থিত সকল নেতৃত্বকে একই বার্তা দেন নাড্ডা। শুধু তাই নয়, মাসে পাঁচ দিন সময় বের করে নিজেদের এলাকার সব বাসিন্দার কাছে পৌঁছনো, সার্টিফিকেট কিংবা অন্য কোনও বিষয়ে সমস্যা হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলেন সর্বভারতীয় সভাপতি। উদ্দেশ্য একটাই, বঙ্গবাসীর হারানো বিশ্বাস ফের একবার ফিরে পাওয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির এই পরিকল্পনা আদৌ সফল হয় কি না, তা সময়ই বলবে। তবে বঙ্গে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তারা যে কতটা মরিয়া, তা প্রতিটি পদক্ষেপে বুঝিয়ে চলেছে পদ্মফুল শিবির।

লিখেছেন
Sayan Das
Sayan Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।