১৭ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ করা হলো রাজ্যের ওবিসি কোটা, কারা থাকল, করা বাদ পড়ল?
West Bengal OBC quota: পশ্চিমবঙ্গে নতুন ওবিসি তালিকা প্রকাশের পর কোন কোন সম্প্রদায় সংরক্ষণের আওতায় থাকল, আর কারা বাদ পড়ল? কেন ১৭ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নামল ওবিসি কোটা? মুসলিম গোষ্ঠীর একাংশকে তালিকা থেকে সরানো নিয়ে কেন বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক ও আইনি প্রশ্ন?
পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার পুরনো ওবিসি তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। সেই সিদ্ধান্তের জেরে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বাদ পড়েছে বহু মুসলিম সম্প্রদায়, যাদের আগের তৃণমূল সরকার ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
নতুন সরকারের দাবি, তারা মূলত ২০১০ সালের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে গিয়েছে। অর্থাৎ যে ৬৬টি সম্প্রদায় আগে থেকেই ওবিসি তালিকায় ছিল, তাদেরই পুনরায় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় কিছু মুসলিম সম্প্রদায় থাকলেও, আগের সরকারের আমলে অন্তর্ভুক্ত বহু মুসলিম গোষ্ঠী আর থাকছে না। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ভিত্তিতে ওবিসি তালিকা সম্প্রসারণ করেছিল।
এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ২০২৪ সালে কলকাতা হাই কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একাধিক ওবিসি তালিকা বাতিল করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যেসব সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তার মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম এবং সেই অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। আদালত জানায়, শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে সংরক্ষণ দেওয়া যায় না।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
OBC Certificate: দু'দিন আগেই এসএসসি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে মুখ পুড়েছে রাজ্যের। এবার বাতিল হল তৃণমূল সরকারের ওবিসি সার্টিফিকেট। ভোটমুখী বাংলায় ঠিক কতটা প্রভাব পড়বে এই রায়ের?
তৃণমূল সরকারের সময় ওবিসি সংরক্ষণকে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল—ওবিসি এ এবং ওবিসি বি। ওবিসি এ শ্রেণিতে তুলনামূলকভাবে বেশি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়দের রাখা হয়েছিল এবং সেখানে মুসলিম গোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। এই ব্যবস্থার ফলে মোট সংরক্ষণ বেড়ে ১৭ শতাংশে পৌঁছয়। নতুন সরকার সেই শ্রেণিবিভাগ বাতিল করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক দীর্ঘদিন ধরেই বড় রাজনৈতিক ফ্যাক্টর। রাজ্যের প্রায় ২৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে মুসলিম ভোট নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Modi OBC Votes: মোদি বলছেন, সমস্ত মুসলিমদের শংসাপত্র বিলিয়ে ওবিসি করা হয়েছে যাতে সমস্ত সুযোগ তাঁরাই পান আর প্রকৃত ওবিসিদের অধিকার কমে যায়।
বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে তৃণমূল সরকার 'তুষ্টিকরণের রাজনীতি' করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সরকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর জন্য আলাদা সুবিধা দেবে না এবং সংবিধানের নীতিই মানা হবে।
অন্যদিকে তৃণমূল এবং সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই পদক্ষেপের ফলে বহু পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায় সংরক্ষণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। তাদের দাবি, যেসব সম্প্রদায়কে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার সমীক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে।
এটি ২০২৬ সালের রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় বিতর্ক হয়ে উঠেছে। বিজেপি এই প্রশ্নে নিজেদের 'সংবিধানসম্মত অবস্থান'-এর কথা বলছে, আর তৃণমূল অভিযোগ করছে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে নতুন তালিকা কার্যকর হওয়ার ফলে সরকারি চাকরি এবং কলেজে ভর্তি—দু'ক্ষেত্রেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই নতুন ৭ শতাংশ সংরক্ষণ নীতি অনুযায়ী ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করেছে।








