তৃণমূল জমানায় দেওয়া ওবিসি সার্টিফিকেট বৈধ নয়, কেন এমন রায় কলকাতা হাইকোর্টের?

OBC Certificate: দু'দিন আগেই এসএসসি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে মুখ পুড়েছে রাজ্যের। এবার বাতিল হল তৃণমূল সরকারের ওবিসি সার্টিফিকেট। ভোটমুখী বাংলায় ঠিক কতটা প্রভাব পড়বে এই রায়ের?

Sohini Das
৩ মিনিট
তৃণমূল জমানায় দেওয়া ওবিসি সার্টিফিকেট বৈধ নয়, কেন এমন রায় কলকাতা হাইকোর্টের?

লোকসভা ভোটের আরও দু'দফা ভোটগ্রহণ বাকি। এরই মধ্যে ফের হাইকোর্টে মুখ পুড়ল তৃণমূল সরকারের। একসঙ্গে প্রায় ৫ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দিল হাইকোর্ট। ২০১০ সালের পরবর্তী রাজ্যের দেওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বৈধ নয় বলে জানিয়ে বুধবার ওই রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে চাকরি যাওয়ার ভয় নেই বলেই জানানো হয়েছে। কিন্তু ওই শংসাপত্রটি পরবর্তীকালে আর কোনও চাকরিপ্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যাবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে আদালত।

একের পর এক নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের পর রাজ্য জুড়ে এমনিতেই আতঙ্কের আবহ। তার মধ্যেই আরও একটি বড় রায়। অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্তদের সংরক্ষণের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে যে শংসাপত্র অর্থাৎ ওবিসি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, তা বাতিল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইতিমধ্যেই ওই ওবিসি সার্টিফিকেট ব্যবহার করে যারা চাকরি পেয়েছেন বা অন্য সুবিধা পেয়েছেন, হাইকোর্টের এই রায়ে তাঁদের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ওই শংসাপত্র ব্যবহার করে পরবর্তীকালে চাকরি পাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এখনই বাতিল নয় ২৫,৭৫৩ চাকরি! হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

SSC Recruitment Case Hearing: ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ার ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

কার্যত তৃণমূল জমানাতে জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেটই বাতিল করেছে হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত মামলাটি দায়ের হয়েছিল ২০১২ সালে। ২০১০ সালে একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্টের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে ‘অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি’ তৈরি করেছিল বামফ্রন্ট সরকার। ওই শ্রেণির নাম দেওয়া হয় ‘ওবিসি-এ’। তার পরের বছরই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। বাংলার মসনদ থেকে সরে যায় বামফ্রন্ট। ২০১১ সালে বিপুল জয় পেয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। নয়া সরকার ক্ষমতায় এসে ওই শ্রেণি সংক্রান্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট ছাড়াই একটি তালিকা তৈরি করে ও প্রণয়ন হয় আইনও। সে নিয়েই ২০১২ সালে মামলা দায়ের হয় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। ২০১২ সালে হওয়া ওই মামলায় মামলাকারীরা আদালতে আর্জি করেন অবিলম্বে ওই আইন খারিজ করার জন্য। যুক্তি হিসাবে তাঁরা বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকার সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে , তা ১৯৯৩ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ওয়েলফেয়ার কমিশনের আইনের পরিপন্থী। এর ফলে সরকারি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষেরা। তাই সরকার যেন ওই আইন মেনেই শংসাপত্র দেয়।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১% ঘটে থাকলেও ১০০% লজ্জার! সন্দেশখালি মামলায় যেভাবে শাসকদলকেই দুষল হাইকোর্ট

Sandeshkhali Case: হলফনামার এক শতাংশ সত্যি হলেও তা ভয়ানক রকমের লজ্জার বলে বক্তব্য হাইকোর্টের। এই ঘটনার একশো শতাংশ দায় বর্তায় গোটা জেলার প্রশাসন ও শাসকদলের উপরেই।

বারো বছর পরে সেই মামলার রায়ঘোষণা হল বুধবার। মামলাকারীদের পক্ষে আদালতে ছিলেন আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত এবং বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ওই ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের রায় দিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ জানিয়েছে, ২০১০ সালের পরে যে সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট তৈরি করা হয়েছে, তা যথাযথ ভাবে আইন মেনে বানানো হয়নি। তাই ওই শংসাপত্র বাতিল করতে হবে।

বিচারপতিদের বেঞ্চ এ-ও জানিয়ে দিয়েছে, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এর পরে কারা ওবিসি হবেন তা রাজ্যের আইনসভা অর্থাৎ বিধানসভা ঠিক করবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের বেঞ্চ। ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস কমিশন অ্যাক্ট ১৯৯৩ অনুযায়ী ওবিসিদের নতুন তালিকা তৈরি করতে হবে। সেই তালিকা রাজ্যের আইনসভা বা বিধানসভাকে পাঠাতে হবে। যাঁদের নাম বিধানসভা অনুমোদন দেবে পরবর্তীকালে তাঁরাই ওবিসি বলে গণ্য হবেন। একই সঙ্গে ২০১০ সালের আগে যে যে গোষ্ঠীগুলিকে ওবিসি শ্রেণিভুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলি বৈধ থাকছে বলেই জানিয়ে দিয়েছে হাই কোর্ট।

যদিও ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে ওবিসি সংরক্ষণ চলছে, চলবে। তা এ ভাবে বাতিল করে দেওয়া যায় না। এই রায়কে ‘বিজেপির রায়’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। বুধবার দমজমের পাণিহাটি জনসভা থেকেই হুঙ্কার দেন মুখ্যমন্ত্রী, ‘‘ক’দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী বলে বেড়াচ্ছেন, সংরক্ষণ কেড়ে নেবেন। সেটা কখনও হয়? তা হলে তো সংবিধান ভেঙে দিতে হয়। এটা হতে পারে না। এই রায় আমি মানি না। ২৬ হাজার চাকরি ওরা বাতিল করেছিল, তখনও আমি সেই রায় মানিনি। বুধবার যে রায় দিয়েছে, তা বিজেপির রায়। আমরা মানি না। ওবিসি সংরক্ষণ চলছে, চলবে।’’

রাজ্য জুড়ে চলছে ভোট। বাকি আর মাত্র দু'দফা। আগামী ২৫ মে এবং ১ জুন, দু'দিনই ভোট রয়েছে বাংলায়। ভোটমুখী বাংলায় ঠিক কতটা প্রভাব পড়বে এই রায়ের? দু'দিন আগেই এসএসসি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে মুখ পুড়েছে রাজ্যের। এবার বাতিল হল তৃণমূল সরকারের ওবিসি সার্টিফিকেট। ভোটের বাজের ওবিসি বা পিছিয়ে পড়া শ্রেণিদের মুখ হয়ে ওঠার চেষ্টা অবিরাম করে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। ভোটের ঠিক মুখে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় কতটা ছাপ ফেলবে তৃণমূল সরকারের ওবিসি ভোটে? স্বাভাবিক ভাবেই উঠে গিয়েছে প্রশ্ন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।