শংসাপত্র দিয়ে কেবল মুসলিমদেরই ওবিসি করা হয়েছে? শেষ দফার আগে যে তাস খেলছেন মোদি

Modi OBC Votes: মোদি বলছেন, সমস্ত মুসলিমদের শংসাপত্র বিলিয়ে ওবিসি করা হয়েছে যাতে সমস্ত সুযোগ তাঁরাই পান আর প্রকৃত ওবিসিদের অধিকার কমে যায়।

inscript
৩ মিনিট
শংসাপত্র দিয়ে কেবল মুসলিমদেরই ওবিসি করা হয়েছে? শেষ দফার আগে যে তাস খেলছেন মোদি

ভোটের বাজারে তাঁকে শিরোনামে থাকতেই হবে। তাই কোনও সুযোগই হাতছাড়া করছেন না তিনি। কখনও বলছেন হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ তিই করেন না, কখনও বলছেন তিনি নিজেই ঈশ্বরের পাঠানো দূত। পরস্পরবিরোধী মন্তব্যে গলা অবধি ডুবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার তিনি বলছেন, বিজেপি নয়, তপশিলি জাতি (এসসি), তপশিলি উপজাতি (এসটি) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করছে বিরোধী কংগ্রেসই! তাই পিছিয়ে পড়া জনজাতিদের রক্ষা করা দরকার।

এএনআইকে এক সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলছে, সংরক্ষণ ইস্যু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। "আমি এসসি, এসটি, ওবিসি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষদের সতর্ক করতে চাই কারণ তাদেরকে অন্ধকারে রেখে বিরোধীরা তাদের লুট করছে" বলছেন মোদি। নরেন্দ্র মোদি আরও বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখেই তিনি দেশবাসীকে সবচেয়ে বড় সংকট সম্পর্কে সচেতন করতে চান। জনগণকে বুঝিয়ে দিতে চান, ভারতের সংবিধানের মূল চেতনাকেই অবমাননা করা হচ্ছে এবং তাও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য। মোদি বুঝিয়ে দিতে চাইছেন, যারা নিজেদেরকে দলিত ও আদিবাসীদের শুভাকাঙ্খী বলে, অর্থাৎ মূলত কংগ্রেস, তারা আসলে এই অনগ্রসর জাতির কট্টর শত্রু। নরেন্দ্র মোদি, যিনি বলেছেন কিছুকাল আগেই যে তিনি হিন্দু-মুসলি ভেদাভেদ করেন না, তিনিই আবার বলছেন, "কংগ্রেসের ইস্তেহারে মুসলিম লীগের ছাপ আছে...ভোটব্যাংকের স্বার্থে আগামী প্রজন্মকেও ধ্বংস করতে চান আপনারা?...আমি আমার দলিত, উপজাতি, ওবিসি ভাই ও বোনেদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়ব।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নারী-পুরুষের মিলনে জন্মাননি! খোদ ঈশ্বর প্রেরিত দূত মোদি! প্রধানমন্ত্রীর কথা বিশ্বাস করেন?

Modi Messenger of God: মোদি বলছেন, নারী-পুরুষের মিলনে, মানে শুক্রাণু ডিম্বাণুর যে জটিল খেলায় যুগে যুগে মানুষ এই ধরাধামে জন্মেছে, তাঁর জন্ম সেভাবে হয়নি!

এই মুহূর্তে, লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফায় এসে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করছেন বিরোধীরা আর তাতে এসসি, এসটি এবং ওবিসি সম্প্রদায়েরই বিপদ বাড়ছে।

মোদি বলছেন, বিরোধীরা দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করছে যার ফলে সংরক্ষণ উঠে যাবে। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইউনিভার্সিটিকে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সংরক্ষণের ক্ষতি হয়েছে। পড়াশোনায় ভর্তি এবং চাকরি দুই-ই তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি মোদির। মোদির দাবি, প্রায় ১০,০০০ এই ধরনের প্রতিষ্ঠানকে সংখ্যালঘুদের জন্য করে দিয়ে এসসি, এসটি এবং ওবিসিদের সুরক্ষা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির জয় নিশ্চিত, প্রমাণ করতে মিথ্যে অঙ্ক কষছেন প্রশান্ত কিশোর

Prashant Kishore Poll Prediction: পিকে জোর দিচ্ছেন যে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে বিজেপির আসন বাড়বে। বাস্তব বলছে, পশ্চিমবাংলায় বিজেপির আসন আগের চেয়ে কমবে

প্রধানমন্ত্রী মোদি সংরক্ষণের বিষয়ে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে আবারও বলেছেন, মুসলিম লীগের পদ্ধতি মেনেই নাকি নিজেদের ইস্তেহার তৈরি করেছে।

গত ৫ এপ্রিল কংগ্রেস নিজেদের ইস্তেহারে উল্লেখ করেছে, ক্ষমতায় এলে এসসি, এসটি এবং ওবিসিদের ৫০% সংরক্ষণের জন্য সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করবে কংগ্রেস। মোদি বলছেন, কংগ্রেস বলেছে খেলাধুলোয় সংখ্যালঘুদের জন্যও 'কোটা' নির্ধারিত হবে। তাহলে উত্তরপ্রদেশের যে যুবকরা পরিশ্রম করছে, বাংলার যে যুবকেরা ভোর ৪টেয় ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা কোথায় যাবেন, তাঁদের কী হবে? কেন এই অযাচিত বৈষম্য গড়ে তুলতে চাইছেন মোদি? ইসলামফোবিয়ার আড়ালে তিনি কেন দলিত-প্রীতি দেখাচ্ছেন? কে না জানে, মুসলিমদের পরেই দলিতরাই, পিছিয়ে পড়া জাতিই বিজেপির হিন্দুত্ববাদের প্রধান শত্রু!

প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের জন্য সরকারি টেন্ডার সংরক্ষণের কংগ্রেসের প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির জন্য সেই সংস্থার সঙ্গেই চুক্তি করতে হবে যাদের 'ট্র্যাক রেকর্ড’ ভালো, যাদের কাজ উৎরে দেওয়া যোগ্যতা ও ক্ষমতা আছে। মোদি স্পষ্ট বোঝাতে চাইছেন, সংখ্যালঘু কোটায় কাজ পাওয়া মানুষের হাতে ব্রিজ তৈরি হলে সেই ব্রিজ ভাঙবেই আর মানুষ তাতে মারা যাবে। কংগ্রেস সব জেনেও 'ওবিসি, এসসি, এসটি ভাই ও বোনদের' অধিকার কেড়ে সংখ্যালঘুদের বিলিয়ে দিচ্ছে।

সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট একটি নির্দিষ্ট বছরের পর থেকে দেওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। মোদি বলছেন, সমস্ত মুসলিমদের এইভাবেই শংসাপত্র বিলিয়ে ওবিসি করা হয়েছে যাতে সমস্ত সুযোগ তাঁরাই পান আর প্রকৃত ওবিসিদের অধিকার কমে যায়। রামমন্দির দিয়ে শুরু করে সিএএ, তারপর হেমন্ত সোরেন ও কেজরিওয়ালের মতো বিরোধীদের গ্রেফতার, মুসলিমদের বিরুদ্ধে সরাসরি উস্কানির পর এবার আস্তিনে লুকনো শেষ তাস বের করেছেন মোদি। এবার দলিত ও অনগ্রসর জাতির ভোট নিশ্চিত করতে তাঁদের লড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ এখন দলি আর শুধু দলিত নন, তারা হিন্দু দলিত, হিন্দু এসসি, হিন্দু এসটি। যাদের এখনও ব্রাহ্মণদের মন্দিরে ঢুকলে দূর দূর করে তাড়ানো হয়, যাদের এখনও নির্দিষ্ট কুয়ো থেকে জল তুলতে হয়, যাদের এখনও ধর্ষণ করে গাছে টাঙিয়ে দেওয়া হয় বা জিভ কেটে নেওয়া হয়। সামনে 'মুসলিমরা সব পেয়ে যাচ্ছে'-র টোপ ঝুলিয়ে প্রধানমন্ত্রী এখন তাঁদের ভোট চাইছেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।