স্বদেশিদের তৈরি এই মেলায় আসতেন বিপিনচন্দ্র পাল, সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ

Swadeshi Mela : আজও গোস্বামী ঘাটের কাছে প্রবর্তক আশ্রমের মাঠে একটি বৈষ্ণব মেলা খুব সাধারনভাবে হয়। নাম, খুন্তির মেলা। অগ্রহায়ণ মাসে মেলাটি হয়।

Mukut Tapadar
২ মিনিট
স্বদেশিদের তৈরি এই মেলায় আসতেন বিপিনচন্দ্র পাল, সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ

গঙ্গার পাড়ে চন্দননগর একসময় সশস্ত্র বিপ্লবীদের আঁতুড়ঘর ছিল। এই চন্দননগর ফরাসিদের শহর বলেই আরেক নাম ফরাসডাঙ্গা। এ অঞ্চল ছিল বিপ্লবীদের সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল। সমাজসেবক ও বিপ্লবী মতিলাল রায় এখানেই নির্মাণ করেছিলেন প্রবর্তক আশ্রম ও নবরত্ন শৈলীর শ্রীমন্দির। বর্তমানে যা দরিদ্র শিশুদের আশ্রম। তবে শুরুটা ছিল অন্যরকম। মতিলাল রায় বিপ্লবের মশাল স্বদেশিদের বুকে জ্বালিয়ে রাখতেন। নিজের বাসস্থান বিপ্লবীদের সুরক্ষার জন্য খুলে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। অরবিন্দ ঘোষ, বারীন ঘোষ, কানাইলাল দত্ত, উল্লাসকর দত্ত, বাঘাযতীন, রাসবিহারীর মতো বিপ্লবীদের চারণভূমি প্রবর্তক।

শ্রীঅরবিন্দ নিজে বলেছিলেন যদি তাকে জানতে হয় তাহলে আগে প্রবর্তককে জানতে হবে। সালটা ছিল ১৯১০, অরবিন্দ ঘোষ গঙ্গাপাড়ে চন্দননগরে আত্মগোপন করেন। তখন কলকাতায় তিনি আলিপুর বোমা মামলায় অভিযুক্ত। সেই সময় এই প্রবর্তকে তিনি কিছুদিন ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-ও এই সংঘে এসেছিলেন। ২১শে বৈশাখ ১৩৩৪, কবিগুরু প্রবর্তকে এক ভাষণে বলেছিলেন,

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলায় আজও বসে শতাব্দী প্রাচীন কুম্ভমেলা।। কেমন তার আকার-প্রকার?

Tribeni, Anu Kumbhmela: কুম্ভতীর্থ, কুম্ভস্নান রূপে প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জয়িনী কালে-কালে ধন্য হয়েছে কিন্তু ‘চণ্ডীমঙ্গল’ থেকে ‘মনসামঙ্গল’-এ গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর সঙ্গম ত্রিবেণীর নাম বাংলার এক আদি তীর্থক্ষেত্র হয়ে রয়েই গেছে।

সত্যের উপর যার শ্রদ্ধা আছে, সে সীমার মধ্যে অসীমকে দেখতে পায়, যে মন্দিরের সত্যের উপর প্রতিষ্ঠা হচ্ছে, নিত্যকালের জন্য শাশ্বত কাল থেকে শাশ্বত কাল পর্যন্ত যাঁর বিধান, তাঁর আশীর্বাদে এ ধর্মনিকেতনের সাধনা সার্থক হউক, একান্ত মনে কামনা করি, অভিনন্দন করি।

সংঘের আদর্শ ছিল ঐক্য, এবং সেই ঐক্যই আসল সাধনা। ১৯২৩ সালে নেতাজির উপস্থিতিতে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন আশ্রমে শুরু হয় 'স্বদেশি মেলা'। বিপিনচন্দ্র পালের সভাপতিত্বে ও নেতাজির সান্নিধ্যতে নবরত্ন শৈলীর শ্রীমন্দিরটি জাতীয় মন্দিরে প্রতিষ্ঠা পায়। মেলার লক্ষ্য কি ছিল জানেন? মেলার লক্ষ্য ছিল স্বদেশি পণ্যের বেচা-কেনার দ্বারা দেশীয় শিল্পের প্রসার ঘটানো। বিদেশি পণ্য বর্জন। স্বদেশি পণ্য ব্যবহারে সমাজকে উৎসাহিত করা। ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়াই ছিল মেলার প্রধান উদ্দেশ্য। এর সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল সবার মধ্যে দেশপ্রেমকে জাগিয়ে তোলার তোলবার চেষ্টাও। স্বদেশি মেলা একসঙ্গে বহু মানুষকে একত্রিত করত। চরকায় কাটা সুতোর তৈরি কাপড় বিক্রি হত। তখন খাদি কাপড়ের খুবই জনপ্রিয়তা ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির মানুষ আসতেন। দেশীয় পণ্য কিনে নিয়ে যেতেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে ঐক্য স্থাপনে সূচনা হয়েছিল হিন্দুমেলা। প্রবর্তক আশ্রমের মেলার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি। নানা ধরনের দেশীয় সংস্কৃতি মেলার মাধ্যমে সামনে উঠে আসত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মেঘলা দিনের রথের মেলা আজও রঙিন মাটির পুতুলে

Clay Doll : বলাই চিত্রকরের তৈরি পুতুলের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো ঘাড়-নাড়া বুড়ো পুতুল। দুই খোল ছাঁচের এই পুতুলের শরীরের ভেতরটা ফাঁপা।

প্রবর্তক সঙ্ঘ

আজও গোস্বামী ঘাটের কাছে প্রবর্তক আশ্রমের মাঠে একটি বৈষ্ণব মেলা খুব সাধারনভাবে হয়। নাম, খুন্তির মেলা। অগ্রহায়ণ মাসে মেলাটি হয়। রাধা-কৃষ্ণের পুজো হয়। কিন্তু এখন আর তাকে মেলা বলে বোঝা মুশকিল। কয়েকটি মাত্র দোকান মেলা উপলক্ষে বসে। কিন্তু এখনও এ অঞ্চলের বয়স্ক মানুষদের মুখে-মুখে ঘোরে খুন্তির মেলা ও প্রবর্তকে স্বদেশি মেলার কথা। মন্ডা মিঠাই, হরেক রকমের দেশীয় জিনিস, পুতুল নাচ, যাত্রাপালা, রঙিন কাপড়, পাটের ব্যাগ, হস্তশিল্প, হাতপাখা, তালপাতার বাঁশি ইত্যাদি সবই আজ স্মৃতি। খুন্তির মেলাতেও সেই আড়ম্বর আর নেই।

অর্থ ও উদ্যোগের অভাবে অনেকদিন আগেই বন্ধ হয়েছে প্রবর্তকের স্বদেশী মেলা। বন্ধ কেন হল প্রবর্তকে স্বদেশি মেলাটি? সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্যোক্তাদের অভাব। ফলে গুরুত্ব হারিয়েছে মেলা। তবে প্রতিবছর অক্ষয় তৃতীয়াতে মেলার দিনটি আশ্রমে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজিত হয়। আশ্রমে শিশুদের মাঝে অনুষ্ঠানটি উদযাপন করা হয়। প্রথম ঠিক যে স্থানে মেলার সূচনা হয়েছিল, সেখানেই অনুষ্ঠান হয়। স্মরণ করা হয় বিশেষ এই দিনটিকে।

লিখেছেন
Mukut Tapadar
Mukut Tapadar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।