রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর স্বপ্ন বিশ্বভারতী

Amit Patihar
৪ মিনিট
রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর স্বপ্ন বিশ্বভারতী

ভারত তৃতীয় বিশ্বের দেশ। আর্থসামাজিক দিকে তথাকথিত বড় দেশগুলির থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও শিক্ষা এবং উন্নতির দিকে থেকে ভারত গোটা পৃথিবীকে এক হাত নিতে শুরু করেছে গত কয়েক দশকে। সারা পৃথিবী থেকে যেমন ভারতে জন্মে, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা করা ছেলেমেয়েদের ডাক পড়ছে কাজের সুত্রে, তেমনই এই দেশের বুকে দাঁড়িয়ে লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে রোজ, গর্বিত করছে এই মাটিকে। এই নক্ষত্রদের এই প্রতিষ্ঠা, এই সাফল্যের পেছনে ভূমিকা থেকেছে এই দেশেরই শিক্ষক শ্রেণীর তথা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির। আজ আলোচনা করবো এমনই একটি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যার শিক্ষাব্যবস্থা দেশের অন্য সকল ইউনিভার্সিটির তুলনায় অনেকটা আলাদা, যার ভাবনা আলাদা এবং যা বাঙালি ঐতিহ্যকে নিজের মত বয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে গত একশো বছর ধরে। বিশ্বভারতী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজে হাতে তৈরি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।

সারা ভারতে মোট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা এক হাজারের একটু বেশি। এঁদের মধ্যে সম্ভবত ৬৯ তম স্থান নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই শতাব্দী প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৬৩ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর রায়পুরের তালুকদার ভুবনমোহন সিংহের থেকে বাৎসরিক ৫ টাকায় কুড়ি একর জমি পান। এই জমিতে একটি ভবন তৈরি করে তার নাম রাখেন শান্তিনিকেতন। প্রথমে এই জায়গার নাম ভুবন মোহন বাবুর নাম অনুসারে ভুবনডাঙ্গা ছিল, পরে আস্তে আস্তে নাম বদলে হয়ে যায় শান্তিনিকেতন। প্রাথমিকভাবে সেখানের ছাতিম গাছের নিচে একটি আশ্রম স্থাপিত হয়, এখানে মানুষ আসতেন যোগ সাধন করতে, মনের শান্তির জন্য। ১৯০১ সালে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই আশ্রমের ভেতর একটি স্কুল স্থাপন করেন। রবীন্দ্রনাথ খোলা আকাশের নিচে, মুক্ত হাওয়ায় বসে শিক্ষায় বিশ্বাস করতেন, সেই মতো এখানে পড়াশোনা হতো গাছ তলায়। ছাত্রছাত্রীরা মাদুর বা বস্তা বিছিয়ে বসতো আর শিক্ষক বসতেন সামনে বেদীতে। ১৯২১ সালে স্থাপিত হল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯২৫ সালে আগের স্কুলটির নামকরণ করা হল পাঠভবন। মুক্ত প্রাঙ্গণে পড়াশোনা, দেশের স্বাধীনতার কার্যকলাপে অংশগ্রহণ, শিল্পচর্চা সংস্কৃতি সবকিছু নজর কেড়ে নিতে লাগলো ধীরে ধীরে। ১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনাবসান হয় এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪ বছর পর, ১৯৫১ সালে জওহরলাল নেহেরুর উদ্দ্যেগ বিশ্বভারতী কে কেন্দ্র সরকার নিয়ন্ত্রিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এই নিয়ম মেনে বিশ্বভারতীর পরিদর্শক হন ভারতের নির্দিষ্ট সময়কালীন রাষ্ট্রপতি, প্রধান হন রাজ্যের রাজ্যপাল, চ্যান্সেলর হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বভারতী প্রাঙ্গণে রয়েছে কলাভবন অর্থাৎ কলা বিভাগ নিয়ে পড়াশোনার জায়গা, সঙ্গীতভবন অর্থাৎ নাচ, গান এবং নাটক নিয়ে শিক্ষার জায়গা, চীনাভবন অর্থাৎ চাইনিজ পঠন পাঠনের জায়গা, পল্লী সংগঠন বিভাগ অর্থাৎ গ্রাম্য আচার এবং উন্নিকরণ নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ, হিন্দিভবন, নিপনভবন যেখানে জাপানি ভাষা সহ আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে পড়াশোনা হয়, শিক্ষাভবন, বিদ্যাভবন, ভাষাভবন, বিনয়ভবন এবং আরও অনেক জায়গা যেখানে ইউরোপীয় ভাষা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের রীতিনীতিও শেখানো হয়। বিশ্বভারতীর মূল বিষয় হল প্রকৃতি। সময়ের সাথে সাথে কিছু পরিবর্তন এখানে করা হয়েছে অবশ্যই কিন্তু তবুও এখানের পরিবেশের

মূল স্বাদ একই রয়ে গেছে। ডিপার্টমেন্টগুলোয় এখন বেশিরভাগই ঘরের ভিতরে পঠনপাঠন চলে। পাঠভবন ও শিক্ষাসত্রে এখনও গাছের নিচে ক্লাস হয়। ঠিক আগের মতোই ছাত্রছাত্রীরা মাটিতে, আসন পেতে বসে। মাস্টারমশাই বসেন বেদীতে। রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন প্রকৃতির মধ্যে ছেলেমেয়েরা বড়ো হোক, তাই খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। এই সম্পূর্ন ভাবনাকে আকৃতি দেওয়া হয়েছিল প্রাচীন তপোবনের আদলে। তাই শান্তিনিকেতনকে আশ্রম বলা হয়। এখানকার সাংস্কৃতিক দিক আজও ভারতের তাবড় তাবড় বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে দিতে পারে, একাধারে ছাত্রছাত্রীরা নাচ, গান, আঁকা, সেলাই, মাটির কাজ, কাঠের কাজ সহ নিজের মনের মতো যাবতীয় বিষয় নিয়ে কাজ শিখতে তথা পড়াশোনা করতে পারেন। শান্তিনিকেতনে প্রতিটি ঋতুকে বরণ করে নেওয়ার চল রয়েছে, শীতে পৌষ উৎসব, বর্ষায় বর্ষামঙ্গল, বসন্ত কালে বসন্ত উৎসব। এই সময় এখানে মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে যা শুধু রাজ্য নয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে। বসন্ত উৎসবের সময় আয়োজিত দোল উৎসবে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোক ছুটে আসেন, মানুষ আসেন বিদেশ থেকেও। সাথে সাথেই এখানকার পৌষ মেলা ভারত বিখ্যাত। এই উৎসব গুলির সময় এখানে আয়োজন করা হয় গান, বাজনা, নাচের সাথে সাথে গীতিনাট্য, গীতি আলেখ্যরও। এছাড়াও স্কুলে, অর্থাৎ পাঠভবন, শিক্ষাসত্রে সাহিত্যসভা নামের একটি সভা হয় মঙ্গলবার করে। সেই সভায় স্বরচিত কবিতা, লেখা পাঠ করে ছেলেমেয়েরা।

বিশ্বভারতীতে কর্মসূত্রে অনেকেই আসেন। কেউ শিক্ষকতা করেন, কেউ কর্মী, ছাত্রছাত্রী, গবেষক তো আছেনই। তাঁরা সকলেই এখানে থাকেন, কেউ কোয়ার্টারে, স্টুডেন্টরা হোস্টেলে, কেউ আবার বাড়িতে। এখানের জল হাওয়া পরিবেশের সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন একটু একটু করে। এখানে কর্মরত ও কাজের সূত্রে বসবাস করা সকলকেই আশ্রমিক বলা হয়। যদিও শান্তিনিকেতনে থাকেন অথচ সরাসরি বিশ্বভারতীর সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের আশ্রমিক বলা হবে কিনা, এ এক বড় প্রশ্ন! কিন্তু যে এই জায়গার মূল ভাবনাটুকু আত্মস্থ করতে পারে, তাকে আশ্রমিক বলাই যায়, তাতে সরাসরি যোগ থাক বা না থাক।

বিশ্বভারতীর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধীরে ধীরে এই দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠার গল্প অসম্ভব আকর্ষণীয়। যেই ধ্যান ধারণা রবীন্দ্রনাথ এখানে বপন করে গেছেন তা এখানকার শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, মানুষ আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন। এখানে সুযোগ পাওয়া এবং পড়াশোনা করা বহু পাঠরত ছেলেমেয়ের স্বপ্ন। আর হবেই না কেন! এখানের মতো প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ দেশের অন্য কোথাও পাওয়া তো মুশকিল।

Source :

  • https://en.m.wikipedia.org/wiki/Visva-Bharati_University

  • https://www.tagoreweb.in/Essays/shikkha-73/ashromer-shikkha-6268

  • https://en.m.wikipedia.org/wiki/Shantiniketan

লিখেছেন
Amit Patihar
Amit Patihar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই কেন পেলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার?

Navi Pillay Nobel Peace Prize 2026: ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এক দরিদ্র ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। তাঁর ঠকুমা-ঠাকুরদা ১৮৯০-এর দশকে ভারত থেকে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার নাতাল প্রদেশের চিনি বাগানে কাজ করতে এসেছিলেন।

বাড়িতে এক নারীর আগমন, তারপর স্বপ্নাদেশ: যেভাবে শুরু হয়েছিল দে বাড়ির দুর্গাপুজো

Dey Bari Durga Puja Bhawanipur: কথিত আছে, একবার ২৬ নম্বর চন্দ্রনাথ স্ট্রিটের বাড়িতে লালপাড়-সাদা শাড়ি পরিহিতা একজন সধবা নারী তাঁর ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই বাড়িতে এসেছিলেন চাল-ডাল ভিক্ষা করতে। বাড়িরই এক সদস্যা অন্দরমহল থেকে চাল-ডাল নিয়ে আসার পর আর সেই সধবা মহিলাকে দেখতে পাননি।

শ্রীরামকৃষ্ণের চিকিৎসক গঙ্গাপ্রসাদ সেনের বাড়ির দুর্গাপুজো: পূর্ববঙ্গের ঐতিহ্য যেভাবে এল কুমারটুলিতে

Gangaprasad Sen Bari Durga Puja: গঙ্গাপ্রসাদ সেন ছিলেন বিখ্যাত আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবও তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে আসতেন। তাঁর বাবা নীলাম্বর সেন অবিভক্ত বাংলার এক নামকরা কবিরাজ ছিলেন। কলকাতায় আসার পর সেন পরিবার কুমারটুলিতে বসতি গড়ে এবং সেখানেই ১৮৫৭ সালে শুরু হয় দুর্গার আরাধনা।

১৩ বছর বয়সে ফুটপাথে থাকা, কার্গিলে জওয়ানদের পাশে, ‘পরিন্দা’য় আগুনে পুড়ে যাওয়া: নানা পাটেকর আসলে কেমন মানুষ ছিলেন?

Nana Patekar unknown facts: প্রকাশ রাজের ভাষায়, নানা কেবল একজন প্রবীণ সহকর্মী ছিলেন না; তিনি ছিলেন এমন এক অভিভাবক-বন্ধু, যাঁর সঙ্গে তীব্র তর্কে জড়িয়ে পড়া যেত, আবার একই টেবিলে বসে তাঁর হাতের রান্না করা খাবার ভাগ করে নেওয়া যেত। মদ বা মুম্বইয়ের তথাকথিত হাই-প্রোফাইল পার্টি কালচারের প্রতি তাঁর চিরকালই ছিল তীব্র অনীহা।

নানা পাটেকর: ফিরে দেখা অনন্য জীবন

Nana Patekar: ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন বোম্বে রাজ্যের রায়গড় জেলার মুরুদ-জানজিরায় এক মারাঠি পরিবারে জন্মেছিলেন বিশ্বনাথ পাটেকর। পরে সিনেমার দুনিয়ায় তিনি হয়ে ওঠেন ‘নানা পাটেকর’।

মাছ-ভাত খেয়েই বোধন, দশমীতে মৎস্যমুখ! বাগবাজার হালদার বাড়ির সাড়ে চারশো বছরের পরম্পরা

Bagbazar Haldar Bari Durga Puja: পুজোর ইতিহাসের সূত্রপাত ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে সাহেবপুর বা রহনপুরে। হালদার পরিবারের পূর্বপুরুষরা চন্দননগরের নোয়াপাড়ার জমিদার ছিলেন। তাঁদেরই এক পূর্বপুরুষ কৃষ্ণপ্রসাদ হালদার প্রমোদভ্রমণে ওড়িশার ওই এলাকায় গেলে স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে সত্যিই উদ্ধার হয় মহিষমর্দিনীর কষ্টিপাথরের মূর্তি।

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।

ইস্টবেঙ্গলের জয়ে কোমা ভেঙে চোখ মেলেছিলেন শচীনকর্তা

S D Burman's love for East Bengal: শচীনকর্তার একমাত্র পুত্র ‘পঞ্চম’ বাবার কানের কাছে চিৎকার করে উঠলেন— “বাবা… ইস্টবেঙ্গল জিতসে… পাঁচ-শূন্য!” আর তারপরই ... যে মানুষটি নির্জীব পড়েছিলেন, যাঁর স্নায়ু কোনো ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না—তাঁর চোখের কোণ সামান্য কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে শচীনকর্তা তাঁর অক্ষিপট মেলে তাকালে। ব্যাস, ওইটুকুই। এর পর আর কোনোদিন তিনি চোখ খোলেননি।