মমতায় না, নবীনে হ্যাঁ! কেন এই দুমুখো নীতি বিজেপির?

সরল পাটিগণিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজেপি-মনোনীত প্রার্থীর হারার কথা নয়। তবুও ভয় কাটছে না মোদি-শাহর।

Kanad Dasgupta
৩ মিনিট
মমতায় না, নবীনে হ্যাঁ! কেন এই দুমুখো নীতি বিজেপির?

আশার আলো থাকলেও ভয় কাটছে না, ভরসাও পাচ্ছে না বিজেপি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে 'না' বললেও নবীন পট্টনায়েকে 'হ্যাঁ' বলতেই হলো কেন্দ্রকে। লঘু বাংলায় একেই বলে 'ভন্ডামি', একটু ভালো ভাষায় 'দ্বিচারিতা'।

আসলে ভোট বড় বালাই। ভোটের জন্য সব কিছুই 'জায়েজ'। টানা ৮ বছর ক্ষমতায় আছে বিজেপি। এই মুহূর্তে দেশের ১২ রাজ্যে সরাসরি ক্ষমতায় আছে বিজেপি। অন্য দলের সঙ্গে জোট গড়ে বিজেপি সরকারে আছে আরও ৬ রাজ্যে। পক্ষান্তরে কংগ্রেস, তৃণমূল, আপ, বিজেডি, সিপিএম, টিআরএস, শিবসেনা, ওয়াইএসআর ইত্যাদি বিরোধী দলগুলির হাতে ১২ রাজ্য। সরল পাটিগণিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজেপি-মনোনীত প্রার্থীর হারার কথা নয়। তবুও ভয় কাটছে না মোদি-শাহর। আর এই ভয় কাটাতে সংকীর্ণ মানসিকতা প্রদর্শনেও তাই পিছপা হয়নি বিজেপি তথা কেন্দ্র।

২০২১-এ রোমে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন Comunita di Sant’Egidio বা 'কমুনিতা দি সান্তেএজিদিও' সংস্থা‌‌‌। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো ওই সংস্থার সভাপতি মার্কো ইমপ্যাগলিয়াজো-র আমন্ত্রণপত্রে সামাজিক ক্ষেত্রে মমতার অবদানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, "বিগত ১০ বছর সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য যে কাজ আপনি করে যাচ্ছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।" পাশাপাশি নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের জন্য বাংলার শাসন ক্ষমতায় আসার জন্য মমতাকে অভিনন্দনও জানান ওই সংস্থার সভাপতি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার বাঁচাতেই নুপুর-ইস্যুতে নীরব মোদি? জানুন আসল কারণ

ভারতের আকাশে সামগ্রিক শঙ্কার কালো মেঘ ভাসিয়ে দিয়েছে বিশ্বের নৃশংসতম জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়দা।

এই Comunita di Sant’Egidio সংস্থাটি মূলত সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করে। ১৯৮৭ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্মেলনেরও আয়োজন করে তারা। ২০২১-এর শান্তি বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল পোপ ফ্রান্সিস, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলো মার্কেল-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে। গত বছরের ৬ এবং ৭ অক্টোবর রোমে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়। দু'দিনের সম্মেলনেই মুখ্যমন্ত্রীকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল।

ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়া এই ধরনের কোনও সম্মেলনে দেশের কোনও মুখ্যমন্ত্রী অংশ নিতে পারেন না‌। নবান্নের তরফে দিল্লির কাছে অনুমতিও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোম সফরের অনুমতি দেয়নি কেন্দ্র। ২০২১-এর ২৪ সেপ্টেম্বর বিদেশ মন্ত্রকের তরফে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, রোম থেকে যে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশ নেওয়া সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওই অনুষ্ঠান অনেক বড় মাপের। সেখানে ভারতের কোনও রাষ্ট্রনেতার পরিবর্তে একটি অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়া বেমানান। এই অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর রোম সফরের অনুমতি সেদিন দেয়নি কেন্দ্র। এর ফলে দেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদি সরকারের এই মনোভাবকে ‘প্রতিহিংসামূলক আচরণ’ চিহ্নিত করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরবও হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছিলেন, "কতগুলি জায়গায় আটকাবেন আমাকে? চিরকাল এভাবে আমাকে আটকাতে পারবেন না।"

কিন্তু যেসব কারণ দেখিয়ে সেদিন মমতার রোম সফরে আপত্তি জানিয়েছিল কেন্দ্র, এবার আর সেই সব কারণকে বিবেচনায় না এনে একবাক্যে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সফরে ছাড়পত্র দিয়েছে মোদির সরকার। কেন্দ্রের তরফে বলা হচ্ছে, নবীন পট্টনায়েক ওড়িশায় শিল্প আনতে ওখানকার শিল্পকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছেন। তারপর ব্যক্তিগত সফরে তিনি ভ্যাটিকানে যাবেন। এতে আপত্তির কিছু নেই। যুক্তি যাই-ই হোক, এর ফলে আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ভন্ডামি, সামনে এসেছে সরকারের দু'মুখো নীতি। একই সঙ্গে জাতীয় স্তরে নানা প্রশ্নও উঠছে‌।

আগামী ২৪ জুলাই মেয়াদ শেষ হচ্ছে ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তাই নিয়ে জল্পনাও চলছে জাতীয় স্তরে। হিসেবে দেখা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে এককভাবে বা জোট গড়ে যতগুলি রাজ্যে সরকার চালাচ্ছে বিজেপি, সেসব রাজ্যের ভোট একত্র করেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট কিছু কম রয়েছে বিজেপি তথা এনডিএ-র হাতে। উত্তরপ্রদেশে এবার বিজেপির বিধায়ক কমেছে। ২০১৭ সালের চেয়ে অনেক বেশি আসন পেয়েছে সমাজবাদী পার্টি। পাঞ্জাবেও বিজেপি-বিরোধী বিধায়কই বেশি। মহারাষ্ট্রেও একই ছবি। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সার্বিকভাবে বেশ খানিকটাই চাপেই রয়েছে বিজেপি। ওদিকে শোনা যাচ্ছে, বিজেপি-বিরোধী শিবির এমন কাউকে প্রার্থী করতে চাইছে, যাতে ওড়িশার নবীন পট্টনায়েকের বিজু জনতা দল এবং অন্ধ্রপ্রদেশের জগন্মোহন রেড্ডির দল ওয়াইএসআরসিপি-র সমর্থন মেলে। এমন ভাবনা থাকলেও বাস্তবে এই দুই দলের সমর্থন বিজেপির বিরুদ্ধে সম্ভবত যাবে না। শোনা যাচ্ছে, নবীন পট্টনায়েক এবং জগন্মোহন রেড্ডি, দু'জনই মোদি এবং শাহ-কে নাকি কথা দিয়েছেন, এনডিএ-র প্রার্থীকেই তাঁদের দল ভোট দেবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইলেক্টোরাল কলেজে বিজেডির বেশ ভালোই ‘নম্বর’ রয়েছে।

বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, এইসব অঙ্ক মাথায় রেখেই বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকার তুষ্ট রাখতে চাইছে নবীন পট্টনায়েককে। নবীনকে খুশি করার জন্যই তাঁর রোম সফরে এক কথায় সবুজ সংকেত দিয়েছেন মোদি-শাহ। কেন্দ্রের এই উদারতার পিছনে নিশ্চিতভাবেই কৌশলী রাজনৈতিক ছক রয়েছে।

আর সেই ছক আর গোপন রইল না। ফের খুলে গেল বিজেপির মুখোশ। আরও একবার প্রকাশ্যে এল গেরুয়া শিবিরের সংকীর্ণ মানসিকতার ছবি।

লিখেছেন
Kanad Dasgupta
Kanad Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।