শুধু সরকারকে দোষারোপ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আটকানো যায় না

Climate Change: বিগত কয়েক বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। সে জোশিমঠ হোক, হিমাচল হোক কিংবা পাঞ্জাব। উওর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম সর্বত্র এক ঘটনা এবং তা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

Subhajit Naskar
৯ মিনিট
শুধু সরকারকে দোষারোপ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আটকানো যায় না

এই তো কয়েকদিন আগের কথা, দিল্লি শহরের ব্যালকনি থেকে বাইরে তাকালেই, দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল, পুরু ধোঁয়ার চাদর। দূষণ যেন মেঘদূত হয়ে নেমে এসেছে ঘরের আশেপাশে, AQI-এর থাবা নিয়ে। লখনউ শহরে একটি ক্রিকেট ম্যাচ বাতিলই হয়ে গেল এই কারণে।

আবার যদি বেশ কয়েকটা মাস পিছিয়ে যাই, গতবছর বাংলার সবথেকে বড় উৎসব দূর্গাপুজোর আবহে জল ঢেলে দিয়ে তিলোত্তমা জলমগ্ন হয়ে যায়। গণমাধ্যম খুললেই দক্ষিণ থেকে উত্তর সর্বত্র একটাই ছবি—জলমগ্ন জলযাপন। বেশ কয়েক জায়গা থেকে মৃত্যুর চিত্রও উঠে এসেছিল। ছাড় পায়নি বহু পুজো প্যান্ডেল, বেশ কয়েকটি পুজো প্যান্ডেলের অবস্থা ছিল যথেষ্ট খারাপ। আবার, পুজো শেষ হতে না হতেই ভেসে গেল উত্তরবঙ্গ। ভেঙে পড়ল ব্রিজ। পাহাড়ে নামল ধস। সেই সময় বন্যায় মানুষ, পশু একসঙ্গে ভাসার দৃশ্য দেখেছি আমরা।

বিগত কয়েক বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। সে জোশিমঠ হোক, হিমাচল হোক কিংবা পাঞ্জাব। উওর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম সর্বত্র এক ঘটনা এবং তা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

বিপর্যস্ত জনজীবনের খুব স্বাভাবিক একটি অভ্যেস হলো প্রশাসনের উপর আঙুল তোলা। এটাই স্বাভাবিক। কারণ, আমরা ভোট দিই একটি সুস্থ নাগরিক জীবন পাওয়ার আশায়। বিশেষ করে সরকার যখন দূষণের দায় তন্দুরি কাবাবের দিকে ঠেলে দিয়ে উদাসীন থাকে, তখন প্রশ্ন তোলাই তো স্বাভাবিক। এর মধ্যে কোনো অন্যায় নেই। কিন্তু ভোট দিই বলে আমাদের যাবতীয় নাগরিক দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে শুধুমাত্র সরকারকে দোষারোপ করে কিন্তু কোনো বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা যায় না। এ কথা তো স্বীকার করতেই হবে যে, শীত আসার আগে দিল্লি জুড়ে 'দিওয়ালি' পালনের ধুম ছিল, এবং তাতে যে বিপুল ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলেই দূষণের জন্ম হয়েছে সে সময়। আর তা তো নাগরিক সমাজেরই কীর্তি!

সরকারকে প্রশ্ন করা, সে সরকার লাল/ নীল/ হলুদ/ সবুজ যে রঙ-এরই হোক না কেন, আমাদের নৈতিক দায়। কিন্তু সরকারের ব্যর্থতা কোথাও গিয়ে নাগরিক জীবনেরও ব্যর্থতা নয় কি? অবশ্যই সরকারের কর্তব্য থাকে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের, বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে তো অবশ্যই।

তবে একটিবার আমাদের ভেবে দেখা উচিত সরকার আসলে কী? সরকার কারা? সরকার কোথাও গিয়ে আমাদের নাগরিক জীবনের লোভীরূপের একটি প্রতিচ্ছবি নয় কি? সরকার তো নির্বাচিতই হয় নাগরিকের ভোটে, জনগণের চাহিদায়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকার বদল করে বা সরকারকে দোষারোপ করে কি থামিয়ে দেওয়া আদৌ সম্ভব? পূর্বের ইতিহাস কী বলে? নতুন সরকার এসে বা ভিন্ন একটি সরকার এসে জলবায়ু পরিবর্তন এবং তার বিপর্যয়কে কি সম্পূর্ণরূপে রোধ করে দিতে পারবে?

বরং আমাদের অনেক বেশি ভাবা প্রয়োজন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কীভাবে প্রাত্যহিক জীবনের নানান আলোচনার অঙ্গ হয়ে উঠতে পারে। এখনও পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত যাবতীয় যা আলোচনা তা ভীষণ রকম গুরুগম্ভীর ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণময় আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে। অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তন একটি গুরুগম্ভীর বিষয় কিন্তু তার গাম্ভীর্য যদি চায়ের দোকানের সহজ-সরল বাক্যালাপ কিংবা ট্রেন-বাসের প্রাত্যহিক আড্ডার বিষয়বস্তু হয়ে উঠতে না পারে তাহলে যথাযথভাবে বুঝে নিতে হবে যে, গোড়া থেকেই একটি ভীষণ রকম গলদ রয়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে "গাছ লাগাও প্রাণ বাঁচাও" হোর্ডিং দেওয়া কিংবা পাড়ার ক্লাব থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতে গাছের চারা ধরিয়ে দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজন করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কিন্তু তা কখনোই সাধারণ মানুষের অন্তরে ছাপ ফেলতে পারে না যদি না সেই গুরুগম্ভীর বিষয়গুলি বৈজ্ঞানিক বা তাত্ত্বিক আলোচনার বেড়াজাল ডিঙিয়ে নিয়ে প্রাত্যহিক জীবনের অতি সহজ-সরল আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠতে পারে।

যেমন ধরুন, কয়েকটি খুব সহজ উদাহরণ দিয়ে এই বিষয়টির পর্যালোচনা করা যেতে পারে। আমরা ছোট থেকে যে ধরনের রূপককাহিনী কিংবা উপন্যাস, কবিতা, নাটক, গল্প পড়ে বড় হয়েছি, তার কতখানি জুড়ে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কথা ছিল? এমনকি একটু তলিয়ে ভাবলে দেখা যেতে পারে, যে ধরনের সায়েন্স ফিকশন পড়ে আমরা বড় হয়েছি সেখানে কিন্তু বন্যপ্রাণ, পরিবেশ, জলাভূমি এরকম নানান গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপেক্ষিত থেকে গেছে। অবশ্যই কিছু কিছু ব্যতিক্রম আছে কিন্তু তার সংখ্যা অতীব নগণ্য।

তাহলে হিসেব কী দাঁড়াল? এই উপেক্ষার দায় কি কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-ঔপন্যাসিকের নয়? আমরা কি মহাশ্বেতা দেবীর 'অরণ্যের অধিকার' কিংবা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আরণ্যক'-এর মতো সৃষ্টি আরও আরও বেশি করে পেতে পারতাম না? এই একই কথা প্রযোজ্য চলচ্চিত্র জগতের ক্ষেত্রেও। মূল ধারার চলচ্চিত্র জগতে যখন প্রেম, অ্যাকশন, গোয়েন্দা গল্প থেকে শুরু করে আরও বিভিন্ন ঘরানা আমরা দেখতে পেয়েছি, সেখানে আমরা কতগুলি মেইনস্ট্রিম সিনেমা পেয়েছি যেখানে জলবায়ু, ইকোলজি, সবুজায়ন ইত্যাদি নানান শব্দ, নানান বিষয় সহজসরলভাবে উঠে এসেছে? অথচ এই দায় কি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কারোরই ছিল না? আমরা কি তাদের উপর দোষারোপের তির চালাব না? আমাদের যাবতীয় শিল্পকলা, সাহিত্য সৃষ্টিতে পরিবেশের গুরুত্ব সেই ভাবে ধরাই পড়েনি কোনোদিন, হাতেগোনা কয়েকজনের লেখা ছাড়া বৃহদংশে তা উপেক্ষিতই থেকে গেছে।

কিন্তু আবারও প্রশ্ন তার দায় কি শুধুই শিল্পীদের?সাম্প্রতিককালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা বলছে, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক শেষ ২২০ বছরে ৬১% কমে গেছে। গবেষক সেখানে নানান মানুষের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণ করেছেন যে পরিবেশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আসলে উত্তরাধিকার সূত্রে একজনের থেকে অপরজনে চালিত হয়। অর্থাৎ সহজ কথায় বললে, এই গবেষণায় জানা যাচ্ছে, পিতা-মাতা যদি পরিবেশের সান্নিধ্য পেয়ে থাকে সন্তানেরও পরিবেশের সঙ্গে একাত্মতা তৈরি হয়েছে। অদ্ভুতভাবে মানুষের বিলাসিতার চাহিদা মানুষকে নগর জীবনের প্রতি এতটাই আকৃষ্ট করেছে যে সে পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হতে কখন নিজের শিকড় থেকে দূরে সরে গেছে সে জানে না, ফলস্বরূপ তার পরবর্তী প্রজন্ম পরিবেশ কী এবং পরিবেশের প্রতি সহানুভূতিশীল ও শ্রদ্ধাশীল থাকা যে জরুরি তা আর শিখে উঠতে পারেনি।

যেহেতু আমরা অন্যের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোতে অভ্যস্ত তাই, আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে 'Reel Addicted' কিংবা 'ফোনে মুখ গুঁজে থাকা প্রজন্ম' বলে দাগিয়ে দিয়েছি কিন্তু একবারও ভেবে দেখিনি তাদের এই অ্যাডিকশন আমাদেরই পরিবেশ থেকে দূরে সরে যাওয়ার একটি ফলাফল।

সমাজমাধ্যমের প্রসঙ্গে মনে পড়ল, বেশ কয়েকবছর হলো নতুন এক ট্রেন্ড উঠে এসেছে "মন খারাপের ওষুধ হল পাহাড়ে ছুটে যাওয়া" কিংবা "পাহাড় আমায় ডাকছে"। কোনোদিন আদৌ ভেবে দেখেছেন পাহাড় কি সত্যিই আমাদের ডাকে? মাথা উঁচু করে আকাশকে চুম্বন করার ক্ষমতা যার আছে তার কি নুইয়ে পড়া সমাজ থেকে এই মেরুদণ্ডহীন প্রাণগুলোকে কাছে ডাকার কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে? অথচ আমরা ছুটে যাই, তার সরলতা, তার স্নিগ্ধতাকে উপভোগ করি আর বিনিময়ে তার বুকে স্তুপাকারে জমা করে আসি শহর থেকে বয়ে নিয়ে যাওয়া প্লাস্টিকের জঞ্জাল। পাহাড় কি এই জঞ্জালের দাবিদার? যদি ক্ষণিকের আনন্দ সে দিয়ে থাকে, এই জঞ্জাল কি তার আদৌ প্রাপ্য? কিন্তু আমরা সমাজ মাধ্যমের ফাঁদে থেকে একে অন্যের অনুকরণ করে অন্ধ পিপীলিকার মতো ছুটে চলি পাহাড়ের কাছে, লোক দেখানো আভিজাত্য নিয়ে, নিজের বুকে ভরা সমস্ত জঞ্জাল তার বুকে রেখে এসে স্বার্থপরের মতো স্নিগ্ধতাটুকু ছিনিয়ে আনি।

ঔপনিবেশিকতা হয়তো আমাদের কোথাও গিয়ে এক অন্ধ অনুকরণ শিখিয়েছে। আমরা ভালো থাকার চাহিদায় মত্ত হয়ে উঠেছি। কিন্তু এই ভালো থাকার সংজ্ঞাও বোধহয় আমাদের জীবন থেকে বদলে গেছে। চারিদিকে গগনচুম্বী শপিং মল। সস্তায় মিলছে জামাকাপড়। অন্যকে দেখানো ও অন্যকে দেখে ট্রেন্ড অনুসরণ করতে গিয়ে আমরা কি আদৌ কখনও ভেবে দেখেছি যে, সস্তায় বিপুল পরিমাণ যে জামা-কাপড় গুলো কিনছি সেগুলো আসলে কোনো পদার্থ দিয়ে তৈরি? এই এত এত জামাকাপড় কীভাবে বাতিল হবে? সেগুলো বাতিল হওয়ার পর কোথায় যাবে? সেগুলো বানানোর জন্য পরিবেশ থেকে কী পরিমাণ জল নষ্ট হয়েছে? একটি জামা কেনার সময়, সেই জামা দু'দিন পরে ফেলে দেওয়ার সময় আমরা কি নিজেদেরকে এই প্রশ্ন গুলো করছি? যদি না করে থাকি তাহলে তার দায় কার?

সন্ধ্যা হলেই আমাদের খাবারের তালিকা জুড়ে জায়গা করেছে নানান বিদেশি খাবার, এক একটির আবার বেশ গুরুগম্ভীর নাম। সেসব খেতে খেতে কখনও নিজেদেরকে প্রশ্ন করেছি, ছোটবেলায় যে দেশি চাল, দেশি শাক পাওয়া যেত সেগুলো কোথায় হারিয়ে গেল? হারিয়ে যাওয়ার পেছনে অবশ্যই খাদ্য রাজনীতি এবং কর্পোরেট কোম্পানিগুলির আগ্রাসী থাবা একটা বড় ভূমিকা পালন করেছে— একথা অনস্বীকার্য। কিন্তু তারা আমাদের খাবার তালিকায় থাকা প্রয়োজনীয় এই সমস্ত খাবার সরিয়ে নানান বিষাক্ত খাবার দিয়ে থালা ভর্তি করে কঠিন কঠিন নাম দিয়ে সাজিয়ে দিতে পেরেছে, তার কারণ আমরা আসলে অন্ধের মতো সেই কঠিন বিষগুলোকে গিলতে চেয়েছি। এর দায় কার? আমরাই তো দিনের পর দিন আমাদের লোকায়ত সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলেছি শুধুমাত্র আধুনিক হওয়ার তাগিদে!

বন ও বন্যপ্রাণীর সব থেকে কাছাকাছি যে মানুষ গুলো আমাদের চারপাশে ছিল আমরা তাদেরকে অদ্ভুত ভাবে সমাজের একটা কোণে ঠেলে দিয়েছি। এই জঙ্গল কেটে আমরা শহর বানিয়েছি। সেই শহরেই গাছ লাগিয়ে আমরা পার্ক বানিয়েছি। আজকে দশতলা বাড়ির ফ্ল্যাটে বসে, মানিপ্ল্যান্ট লাগিয়ে সেই অপরাধবোধ থেকে কি মুক্ত হওয়া সম্ভব? এভাবে কি দায় এড়ানো যায়? দিল্লির ব্যালকনি ছোঁয়া দূষণ কি মানিপ্ল্যান্টের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছে? করবে না। করতে পারে না। আর তা আমরা সকলেই জানি। প্রসঙ্গত, আরও একটি কথা বলে রাখি, নিজের স্বেচ্ছাচারিতার জন্য প্রাকৃতিক বনাঞ্চল কেটে প্রকৃতিপ্রেমের নামে (পড়ুন প্রাণের দায়ে পড়ে) যত্রতত্র গাদাগাদা গাছ লাগালেই কিন্তু শেষরক্ষা হবে না, তার নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি ও হিসেবনিকেশ আছে। সেসব আলোচনা আমরা করতে বা শিখতে কোনোকালেই সমষ্টিগতভাবে তেমন উদ্যোগী হইনি।

বিগত পুজোর আগে ঠিক যে যে কারণে কলকাতা জলের তলায় ছিল, উপরের প্রতিটি বিষয় এর সঙ্গে ভীষণভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি মিথ হিসেবে মানতে চেয়েছে, ঠিক ওই ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার “আল ইজ ওয়েলের” মতো। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে নিজেকে বোকা বানিয়ে দায় এড়ানো যায় না। কারণ কলকাতার যে পরিমাণ জলাভূমি নষ্ট হয়েছে তার পেছনে আমাদেরই ভালো থাকার খিদে কাজ করছে। ভালো থাকার চাহিদা নিয়ে কলকাতার গগনচুম্বী ফ্ল্যাটে ওঠার আগে আমরা কি কখনও সেই আবাসনের বিক্রেতা কিংবা প্রোমোটার, যাই বলি, তাকে প্রশ্ন করেছি যে, সে সেই অঞ্চলের পরিবেশ নিয়ে কতটুকু জানে? সে কী ভূমিকা পালন করেছে? ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে কী ভেবেছে? নিজেরা গাদা গাদা ফ্ল্যাট কেনার আগে কতবার সেসব নিয়ে ভেবেছি? কলকাতার রক্তজালিকা আদিগঙ্গা এখন প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেই আদিগঙ্গা নষ্ট হয়েছে যাবতীয় বর্জ্য ফেলার কারণে। কিন্তু এই বর্জ্য ফেলেছে কারা? কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী এসে তো ফেলে যায়নি, আদিগঙ্গা নষ্ট করার দায় কি আমরা নেব?

আমরা কি সরকারকে দোষারোপ করার পাশাপাশি সরকারকে এই প্রশ্নটা রাখব না যে, সরকার এবং একই সঙ্গে বিরোধীদলগুলি আমার শহরের, আমার রাজ্যের, আমার দেশের জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে ঠিক কী ভাবছে? আমার অঞ্চলে যিনি ভোটে দাঁড়াচ্ছেন তিনি পরিবেশের গুরুত্ব কি আদৌ বোঝেন? তা নিয়ে এবার চায়ের দোকানে কি আলোচনা জমে উঠবে? জমে ওঠাটা বোধহয় ভীষণ জরুরি।

এই শীতের পরিস্থিতি কেবলমাত্র একটি সিনেমার প্রাথমিক ট্রেলার। গোটা সিনেমা শুরু হয়ে গেলে আমাদের আর রক্ষে নেই। আর সিনেমা শুরু হতে এক দশকের মতো সময় বাকি আছে। তাই সেই সময়কে দীর্ঘায়িত করতে আমাদেরকে দায় নিতে হবে। নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে আমাদেরকেই দায় নিতে হবে। দায় নেওয়ার সময় এসেছে আমাদের, আমরা যদি নিজেরা দায় নিতে শুরু করি তাহলেই যথার্থভাবে সরকারের ঘাড়ে দায় চাপাতে পারব।

লিখেছেন
Subhajit Naskar
Subhajit Naskar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?