ছাত্রনেতাদের আটক করেও থামেনি বিক্ষোভ, লখনউয়ে পরীক্ষার্থীদের পাশে ককরোচ জনতা পার্টি
Cjp Lucknow protest: ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) লখনউয়ে লেখপাল ও সাব-ইন্সপেক্টর পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার দাবিতে চলা এই বিক্ষোভে ছাত্রনেতাদের আটকের অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশি বাধা সত্ত্বেও হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী তাঁদের দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ইকো গার্ডেনের বিক্ষোভ রাজ্যের চাকরিপ্রার্থী ও পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। লেখপাল (Lekhpal) পরীক্ষা, পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফল প্রকাশে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী রাস্তায় নেমেছেন। পুলিশি বাধা ও ছাত্রনেতাদের আটক সত্ত্বেও প্রতিবাদ থামেনি। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সামাজিক কর্মী এবং ককক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিনিধিরা হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
সেখানে উপস্থিত বহু পরীক্ষার্থীর বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে তারা সরকারি চাকরির আশায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং ফলাফল প্রকাশে অস্পষ্টতা তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। অনেকের অভিযোগ, তারা একাধিকবার পরীক্ষায় বসেছেন, কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো বিতর্ক বা প্রশাসনিক সমস্যার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যাচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ সুহাইল নামে এক সমাজকর্মী। তিনি একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদে যোগ দেন। তিনি দ্য ওয়েরে বলেন, বাজারে ১০ টাকার ডায়াপার পর্যন্ত লিক করে না, অথচ হাজার টাকার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বারবার ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায় স্বীকার ও পদত্যাগের দাবি জানান। তাঁর মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে যদি বারবার প্রশ্নফাঁস হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা আর কাদের উপর ভরসা করবে?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘অর্গানাইজার’ পত্রিকা সম্প্রতি সরকারের প্রযুক্তিনীতির সমালোচকদের ‘তেলাপোকা সিনড্রোম’ আখ্যা দেওয়ার পর থেকেই এই পরিভাষা বিতর্কের কেন্দ্রে। সিজেপি-র কর্মীরা এদিন সেই তকমাকেই প্রতীকী প্রতিবাদে রূপ দেন। তাদের দাবি, “তথাকথিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আসলে ভারতের জাগ্রত নাগরিক সমাজ, যারা স্বজনপোষী পুঁজিবাদ ও স্বৈরাচারী প্রবণতার বিরুদ্ধে সরব।”
প্রতিবাদের একটি বড় অংশ ছিল উত্তরপ্রদেশের লেখপাল নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষার প্রার্থীরাও আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, শুধুমাত্র মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, কিন্তু পৃথক পরীক্ষার্থীদের নম্বর বা স্কোরকার্ড প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ছিল, তা যাচাই করার সুযোগ নেই।
বারাবাঙ্কির বাসিন্দা মোহাম্মদ ফৈসল, সাব-ইন্সপেক্টর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, তিনিও ওয়েরকে বলেন, তাঁরা শুধু ফলাফল চান না, পুরো হিসাব চান। তাঁর দাবি, পরীক্ষার্থীদের স্কোরকার্ড এবং শিফটভিত্তিক নর্মালাইজেশনের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। সরকারের কাছ থেকে পরিষ্কার জবাব না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও তিনি জানান।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরও এক পরীক্ষার্থী জিতেন্দ্র যাদবের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশে একটি 'পেপার লিক সিন্ডিকেট' গড়ে উঠেছে। তিনি নিজেও অতীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, বারবার এমন ঘটনা ঘটলে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হতাশা বাড়ে এবং সরকারি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যায়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Cockroach Janata Party: প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও রাজনৈতিক জবাবদিহির দাবিতে যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের অভূতপূর্ব জমায়েত—ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলন কি ভারতের নতুন রাজনৈতিক শক্তির সূচনা, নাকি ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার এক ‘সেফটি ভালভ’ মাত্র?
এই বিক্ষোভে সমর্থন জানাতে উপস্থিত ছিলেন ককক্রোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সম্প্রতি তরুণদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গঠিত এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ পরীক্ষার অনিয়ম ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রচার চালাচ্ছে। লখনউয়ের সভায় তিনি বলেন, সরকারকে প্রশ্ন করতে ভয় পাওয়া যাবে না এবং আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের বড় অংশ সমর্থন জানান।
প্রতিবাদকারীদের মধ্যে অনেকেই অভিযোগ করেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে বয়সসীমার সমস্যায় পড়ছেন। এক পরীক্ষার্থী জানান, যে ট্রেইনড গ্র্যাজুয়েট টিচার (TGT) পরীক্ষা ২০২২ সালে হওয়ার কথা ছিল, তা ২০২৬ সালে এসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। ফলে বহু প্রার্থী ধীরে ধীরে চাকরির বয়সসীমাও পেরিয়ে গিয়েছেন।
আন্দোলনে কেউ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মতো পোশাক পরে এসেছিলেন, কেউ আবার বিভিন্ন স্লোগান ও পোস্টারের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষা মাফিয়া এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতি বছর নিয়মিত শূন্যপদ ঘোষণা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি তোলেন তাঁরা।
তবে আন্দোলনের আগে থেকেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিভিন্ন জেলার একাধিক ছাত্রনেতাকে পুলিশ আটক বা গৃহবন্দি করেছে বলে অভিযোগ। প্রয়াগরাজ, গোরখপুর, কাসগঞ্জ-সহ বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র সংগঠনের নেতাদের বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয় বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। এমনকি কয়েকটি কোচিং প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষও অভিযোগ করেন যে, ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের সুযোগও ছিল। প্রশাসনের দাবি, আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।






