হাওড়ার টালিছাওয়া ঘর থেকে সোনা জেতা: অচিন্ত্য শিউলি মনে করাচ্ছেন গোবর গুহ, ভীম ভবানীদের

২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমস্-এ ইতিহাস গড়েছেন বাংলার ছেলে অচিন্ত্য। ভারোত্তোলনে ৭৩ কেজি বিভাগে সোনা এনেছেন। স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ৩১৩ কিলো ওজন তুলে রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

Sindhu Som
৪ মিনিট
হাওড়ার টালিছাওয়া ঘর থেকে সোনা জেতা: অচিন্ত্য শিউলি মনে করাচ্ছেন গোবর গুহ, ভীম ভবানীদের

তিনি যে পাহাড়প্রমাণ বাধা জয় করে বিজয়ী খেতাব অর্জন করেছেন, তা সোনা দিয়ে মাপা যায় না বইকি! তবু সোনায় ভারতের চোখ ফিরেছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে নানা নামীদামি ব্যক্তি ট্যুইট করে সম্মান জানাচ্ছেন। সত্যি বলতে কী, সম্মান তিনি ছিনিয়ে নিয়েছেন একরকম।

অচিন্ত্য শিউলি। এই হাওড়ার দেউলপুরের ছেলে। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে যে টালিছাওয়া ভাঙা ক্লান্ত ঘরগুলি চোখে পড়ে, তারই একটায় বাসা ছিল তাঁর। সেই টালিছাওয়া ঘরে থেকেই ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমস-এ ইতিহাস গড়েছেন বাংলার ছেলে অচিন্ত্য। ভারোত্তোলনে ৭৩ কেজি বিভাগে সোনা এনেছেন। স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ৩১৩ কিলো ওজন তুলে রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

অকর্মণ্য বলে বাঙালির পরিচয় আজকের নয়। ব্রিটিশ শাসন এদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাঙালি জানতে পারল, তারা কাজে নাকি খুব একটা চৌখস না। মানে এমনটাই তাদের জানিয়ে দেওয়া হতো পদে পদে। ইংরেজদের 'পুরুষালি' ভাবমূর্তির পাশে বাঙালিকে 'না-পুরুষ' হিসেবে দাঁড় করানো ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের অন্যতম অবদান। মাথা পেতে মধ্যবিত্ত মেনে নিয়েছিল এই নিদান। কিন্তু সাধারণ মানুষ? মধ্যবিত্তর মধ্যেও বেশ কিছু ব্যতিক্রম ছিল। সাহেবপ্রেমী বাঙালি যৌথস্মৃতি থেকে তাঁদের ছেঁটে ফেলেছে দীর্ঘদিন। গোবর গুহ, বিষ্টু ঘোষ বা ভীম ভবানীর মতো চরিত্ররা কলকাতা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। মনোহর আইচ থেকে গুণময় বাগচি, বাঙালি শরীরের কাছে পাত্তা পায়নি বিশ্ব। সেসব ইতিহাস কৌশলে চেপে দেওয়া হয়। তাতে উপনিবেশকে চলতি কিছু ধারণায় বেঁধে ফেলা সহজ হয় আর কী! ইতিহাসের সমস্ত ক্ষেত্রেই ঔপনিবেশিক শাসক নিজেকে দেখত পুরুষ হিসেবে, এবং উপনিবেশকে নারী হিসেবে। পিতৃতান্ত্রিক এই ভাবনার গলদ গোড়াতেই। কিন্তু মুশকিল হলো, দীর্ঘদিন ধরে মধ্যবিত্ত বাঙালি নিজেও তাই বিশ্বাস করে আসছে। একদিক থেকে এই স্টিরিওটাইপের মুখে জোর থাপ্পড় অচিন্ত্যরা।

বাস্তব থেকে কিংবদন্তি হয়ে ওঠার পথটা কিন্তু খুব মসৃণ ছিল না। দাদা অলোকের হাত ধরেই ভারোত্তোলনের পথে আসা অচিন্ত্যর। তখন তাঁর বছরদশেক বয়েস। বছরখানেকের মাথায় হৃদরোগে মারা যান বাবা। তিনি ভ্যান চালাতেন। ২০১৩ সালে মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স মাত্র আটত্রিশ। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে পরিবারের। কীভাবে চালাবেন? জোগাড়যন্ত্র নেই, রোজগার নেই, সংসার চালানোই দায়। বাবাকে দাহ করার ক্ষমতা নেই। এর কাছ থেকে টাকাটা ওর কাছ থেকে পয়সাটা ধার করে কোনওরকমে দাহকার্য সম্পন্ন হলো। সেদিনগুলোর কথা ভোলেননি দুই ভাই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জঙ্গলে কাঠ কাটা থেকে শুরু, ভারতকে সোনা জেতানো মীরাবাঈ চানুর যাত্রা কেমন ছিল

মীরাবাঈ চানুর এই বিশ্ব-বিজয়ের রাস্তাটা খুব একটা সহজ ছিল না। ভারতের মতো ক্রিকেটনির্ভর দেশে থেকে ভারোত্তোলনের মতো একটি খেলাকে নিয়ে এগোনো সহজ না।

তবে ছোট্ট অচিন্ত্যর মাথার ওপর জোড়া বটগাছ দাদা আর কোচ। অনেকটা শচীনের মতোই। শচীনের যেমন দাদা অজিত এবং গুরু রমাকান্ত আচরেকর ছিল, অচিন্ত্যর ছিলেন দাদা অলোক এবং কোচ অষ্টম দাস। অর্থনেতিক কোনও নিরাপত্তা নেই। রোজ খাবার জোটাই কপাল, তার আবার ভারোত্তোলনের ভারী ভারী খাদ্যতালিকা। এক ফুঁয়ে সেসব সরিয়ে রাখতে হতো। শরীরের আগে মনটা পাকিয়ে তুলতে হয়েছে দুই ভাইকে। দিনের শেষে এক প্লেট ঘুগনি আর ডিমসিদ্ধ পাওয়ার জন্য ধান বইতেন অচিন্ত্য। ভারোত্তোলন কিন্তু ছাড়েননি। দাঁতে দাঁত চেপে একা লড়াইটা চালিয়ে গিয়েছেন। প্রশাসনিক স্তরে কি রাজ্য কি কেন্দ্র— কোনও সাহায্য পাননি। অথচ একেই ভাগ্য বলে মেনে নিতে নারাজ দুই ভাই। অন্যের গাফিলতির দায় নিজে নেবেন কেন? নিজের সেরাটা দিয়ে ওই পরিস্থিতিতেও গড়ে নিচ্ছিলেন নিজেকে। সোনা পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য রাজনীতিকরা ট্যুইটে ভরিয়ে দিচ্ছেন আন্তর্জাল। হায় রে পোড়া পেট! সেও যদি ট্যুইটেই ভরে উঠত।

ভারতে প্রতিদিন শরীরচর্চা করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। কিন্তু দুঃখের বিষয় ভারোত্তোলন বা শরীরচর্চা-জাতীয় স্পোর্টসের তেমন সরকারি পরিকাঠামো নেই। নেই সাধারণের জন্য মুশকিল আসানের উপায়। বহু খেলোয়াড় রাজ্য স্তরে, জাতীয় স্তরে পুরস্কার পেয়েও থাকেন ব্রাত্য। হতাশ হয়ে পড়েন। জীবনে রোজগার জোটে না তেমন। বড় বড় জিম বাদ দিলে, সাধারণ জিমে ট্রেনারের কাজ করে দিন শেষে ক'টা টাকাই বা জোটে? সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি, প্রতিশ্রুতির প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি ভাঁওতা সহ্য করতে করতেই জীবন পার হয়ে যায়। এক ধরনের অবহেলা এই খেলোয়াড়দের জীবন ঘিরে জমতে থাকে বলয়ের মতো।

অচিন্ত্যর দিনবদলের শুরু সেনাবাহিনীর শিবিরে সুযোগ পেয়ে। চালচুলোহীন অতি সাধারণ কোচ অষ্টম দাস যখন ছেলেটিকে প্রথম দেখেন, তখন সে নিতান্তই শিশু। তবে ছেলেটির অদম্য ইচ্ছা দেখে তিনি খানিকটা আন্দাজ করেছিলেন যে, এই ছেলে একদিন বড় কিছু একটা করবেই। হাজার হোক, কম ছেলে তো বেরলো না তাঁর হাত দিয়ে। অষ্টম পারিশ্রমিক নেন না। ভালবাসেন, তাই বিনা পয়সায় ভারোত্তোলন শেখান। অচিন্ত্য ঠিকঠাক খেতে পেত না, জানতেন তিনি। অবাক হতেন দেখে ছেলেটা তারপরেও কখনও হাল ছাড়েনি। মা, দাদা, অচিন্ত্য তিনজনে জরির কাজ করে সংসার চালাতেন তখন। রোজগারের টাকায় ডিম জুটত। রোজ তাতেই আড়াই-তিন ঘণ্টা প্র্যাকটিস। ইয়ুথ ন্যাশনালে ৫০ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতলেন ইচ্ছাশক্তির জোরে। এরপর অচিন্ত্য-সহ ছ'জন ছাত্রকে নিয়ে পুনে গেলেন অষ্টম। যদি ছেলেগুলোর একটা ব্যবস্থা করা যায়। সেনাবাহিনীর ট্রায়াল চলছিল। সেখানে নির্বাচিত হলেন অচিন্ত্য। তখন ২০১৪-'১৫-র সিজন। সেই সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন অচিন্ত্য।

বার্মিংহামে সোনা জয়ের পর উৎসবের আবহ অচিন্ত্যর গ্রাম দেউলপুরে। সাফল্যের দিনটিতে বারবার সেই অভাবের দিনগুলি মনে যাচ্ছে দাদার। কোচের চোখে জল। নিজের বাড়িতেই ভারোত্তোলনের কোচিং দেন অষ্টম। না আছে চাকরি, না আছে আর্থিক সংগতি। ছেলেমেয়েগুলোর মুখ চেয়ে কিছু নিতে পারেন না। সরকার পরিকাঠামো দেয়নি। অথচ কত ছেলে তার কাছে শিখে জাতীয় পুরস্কার পেল! কখনও চাষ করেন। কখনও কারখানায় খেপ খাটেন। রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে হিসেবেও কাজ করেছেন লকডাউনের সময়। মাটি কাটেন এই শিক্ষক। রাষ্ট্র অন্ধ। গাছের ছায়ায় প্র্যাকটিস করান। বৃষ্টি হলে প্র্যাকটিস বন্ধ। পুরনো হয়েছে লোহা, ওজন, সরঞ্জাম। অচিন্ত্যর ছিনিয়ে আনা সোনা কি আলো ফেলবে গোবর গুহ, ভীম ভবানী, বিষ্টু ঘোষেদের এই উত্তরসূরির বুকের নিভৃতে? ছাত্রের জয়ে স্বপ্নের ঘোর লাগে শিক্ষকের। যদি বাবুদের মতি ফেরে!

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।