সূর্য ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে, কী হবে পৃথিবীর? চাঞ্চল্যকর তথ্য গবেষকদের হাতে

সূর্যও ধীরে ধীরে নিজের সমস্ত তেজ হারিয়ে মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে? কী বলছে গবেষণা?

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
সূর্য ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে, কী হবে পৃথিবীর? চাঞ্চল্যকর তথ্য গবেষকদের হাতে

Gaia-এর তৃতীয় বৃহৎ তথ্য প্রকাশনা বা মেজর ডেটা রিলিজে় (DR3) উঠে এল চাঞ্চল্যকর খবর। DR3 জানান দিচ্ছে, লক্ষ লক্ষ নক্ষত্রের অন্তনির্হিত তথ্য; সেই সব নক্ষত্রের কোটি কোটি বছর পুরনো ইতিহাস এবং আরও কয়েক কোটি বছর পর কী হতে পারে, সেই ভবিষ্যৎ। জানা যাচ্ছে, সেই নক্ষত্রদের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা, তাদের আয়তন, এবং তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব ভর।

আর DR3-র সেই বৃহৎ তথ্যভান্ডার ঘেঁটেই জানা যাচ্ছে, সূর্যও ধীরে ধীরে নিজের সমস্ত তেজ হারিয়ে মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে।

'দ্য ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সি'-র অন্তর্ভুক্ত মিশনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, আকাশগঙ্গা এবং তার বাইরে উপস্থিত বিভিন্ন গ্রহ, নক্ষত্রের নির্ভুল ত্রিমাত্রিক মানচিত্র নির্মাণ। নক্ষত্রদের সম্পর্কে এই বিস্তারিত শুমারি, নক্ষত্র এবং মহাজগতের সৃষ্টি, তাদের বিবর্তনের ইতিহাস, এবং তাদের গঠন জানতে সাহায্য করবে বলে ধারণা জ্যোতির্বিদদের মতে।

সূর্য তৈরি হয়েছিল ৪.৫৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে (এক বিলিয়ন মানে একশো কোটি)। 'দ্য ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সি'-র মতে, সূর্য এই মূহূর্তে নিজের মধ্যবয়স যাপন করছে। নিজের দেহে হাইড্রোজেনগুলিকে একীভূত করে হিলিয়ামে পরিণত করছে। তাঁদের মতে, সূর্য কিন্তু এখন রাসায়নিকভাবে থিতু অবস্থায় নেই। আর সেই কারণেই সে এই পরিমাণ তাপ বিকিরণ করতে পারে। তবে এই অবস্থা সবসময় যে থাকবে না, তা স্পষ্ট হল Gaia-এর তৃতীয় বৃহৎ তথ্য প্রকাশনায়।

Wish you could look into the future? 🔮

Thanks to star-mapping mission

we can, to see how our Sun is going to evolve in the future 💫

Find out more👉

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পৃথিবীর মতো নক্ষত্রেও হয় ভূমিকম্প? মহাকাশ থেকে যে তথ্য পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা

Starquakes, যাকে বাংলায় বলা যেতে পারে নক্ষত্রকম্প, তার থেকে আমরা এই সব নক্ষত্রগুলির ব্যাপারে অনেক কিছু জানতে পারি। বিশেষ করে তাদের অভ্যন্তরীণ গঠনের বিষয়ে।

— ESA Science (@esascience)

সূর্য একটি ফুটন্ত প্লাজ়মানির্মিত গোলক। যার অভ্যন্তরের হাইড্রোজেন একদিন ফুরিয়ে যাবে। তখন কিন্তু হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়ামে পরিণত হওয়ার এই বিক্রিয়া, যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় 'ফিউশন' বলে, সেই (ফিউশনের) পদ্ধতিতেও অনেক বদল আসবে। তখন সূর্য একটি বৃহৎ লাল নক্ষত্রে পরিণত হবে এবং তার বাইরের পরিসীমার তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে।

তবে এই ঘটনা কীভাবে ঘটবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে সূর্যের ভর কত এবং কী পরিমাণ রাসায়নিক বস্তু এর অভ্যন্তরে রয়েছে।

এই কাজের সঙ্গে জড়িত ওরলা ক্রিভির মূল কাজ গ্রহনক্ষত্র সম্পর্কে এই ধরণের তথ্য বিশদে সংগ্রহ করা। 'দ্য ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সি'-র একটি প্রেস রিলিজে় জানিয়েছেন, "আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এই নক্ষত্রগুলি থেকে পাওয়া তথ্য থেকে নির্ভুল হিসেব বের করা।" ওরলা এবং তাঁর সহকর্মীরা নক্ষত্র সম্পর্কে যাবতীয় পর্যবেক্ষণ সঠিকভাবে করার জন্যে এই যাবৎ পাওয়া সমস্ত তথ্যকে খুঁটিয়ে নিরীক্ষণ করেছেন।

তাঁরা মূলত নজর দিয়েছিলেন এমন নক্ষত্রের প্রতি, যাদের বাইরের পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা তিন হাজার থেকে দশ হাজার কেলভিনের মধ্যে। কারণ তারাই সব থেকে বেশি সময় ধরে জীবিত রয়েছে মহাকাশে এবং এই বৃদ্ধ নক্ষত্রগুলির হাত ধরেই আকাশগঙ্গার অতীত এবং ভবিষ্যত সম্পর্কে আমরা জানতে পারব। শুধু তাই নয়, দীর্ঘকাল ধরে জীবিত এই নক্ষত্রগুলির সাহায্যে সূর্যের সমবয়স্ক আকাশগঙ্গার বাইরের অন্য কোনো নক্ষত্রকে খুঁজে পাওয়া যাবে।

আর সেই বিপুল তথ্য থেকে ওরলা এবং তাঁর সহকর্মীরা এমন কিছু নক্ষত্রকে খুঁজে বের করেছেন যাদের ভর এবং রাসায়নিক গঠন সূর্যের সমান।

তারপর গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে সেখান থেকে পাওয়া গেল সূর্যের বিবর্তনের অতীত এবং কীভাবে ভবিষ্যতে সূর্যের পরিবর্তন হবে, সেই সম্পর্কে ধারণা। সেখানেই ধরা পড়ল সূর্যের তাপমাত্রা এবং ঔজ্জ্বল্য সুদীর্ঘকাল ধরে কীভাবে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে তা পরিবর্তন হতে চলেছে, সেই সম্পর্কিত তথ্য।

এই গাণিতিক হিসেব থেকেই জানা যাচ্ছে, সূর্যের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ হবে, যখন তার বয়স হবে আট বিলিয়ন বছর। আর তারপর থেকেই ধীরে ধীরে কমবে তার তাপমাত্রা। কমবে আয়তন। তারপর বয়স যখন দশ বা এগারো বিলিয়ন বছরের কাঁটা ছোঁবে, তখন সে বৃহৎ এক লাল নক্ষত্রের রূপ ধারণ করবে।

তারপর থেকে নক্ষত্র হিসেবে সূর্য ধীরে ধীরে জীবনের শেষ সীমায় পা দেবে, এবং তাপমাত্রা এবং ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে একটি অনুজ্জ্বল সাদা 'ডোয়ার্ফে' পরিণত হবে।

ওরলা জানাচ্ছেন, "আমরা যদি আমাদের নিজেদের নক্ষত্র সূর্যকেই না বুঝি, তাহলে আমরা আমাদের ছায়াপথের অন্যান্য নক্ষত্র সম্পর্কেও বুঝব না।" আর সেইজন্যই এই বৃহৎ অসীমের মাঝে, আকাশগঙ্গার মতো ছায়াপথ কীভাবে বিরাজ করছে তা বোঝার জন্য সূর্যের সমতুল আরেকটি নক্ষত্রকে খুঁজে পাওয়া প্রয়োজন।

মহাকাশ-সংক্রান্ত এই তথ্যের সমুদ্র থেকে ওরলা এবং তাঁর সহকর্মীরা সূর্যের সমতুল আরও পাঁচ হাজার আটশো তেষট্টিটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছে। তাদের তাপমাত্রা, উপরিপৃষ্ঠের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, রাসায়নিক গঠন, ভর, এমনকী, ব্যাসও সূর্যের সমান।

বর্তমানে বিপুল সংখ্যক নক্ষত্র সম্পর্কে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে। গবেষকরা চাইছেন, দ্রুত সেই তথ্যসম্ভার দিয়ে মহাকাশের অজানাকে পর্যবেক্ষণ করতে, তাদের সম্পর্কে বিস্তারে গবেষণা শুরু করতে। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানীরা জানতে চাইছেন, সূর্যের সমতুল যে সমস্ত নক্ষত্রের সন্ধান তাঁরা এযাবৎ পেয়েছেন, তাদের সবক'টিরই সৌরজগতের মতো গ্রহমণ্ডলী রয়েছে কি না। সৌরজগতের গ্রহগুলির মতো, সূর্যের সমতুল বাকি নক্ষত্রগুলির আশপাশেও একই গতিতে তাদের নিজস্ব গ্রহগুলি প্রদক্ষিণ করে কি না।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?