"ভালবাসা খুঁজতে গিন্সবার্গ ভারতে এসেছিলেন"- ​ডেবোরা বেকার

Deborah Baker about Allen Ginsberg: আমার মনে হয় না আমেরিকা ভারতকে নিয়ে খুব বেশি ভাবত। যুক্তরাজ্যের কাছে ভারত যতটা পরিচিত ছিল, আমেরিকার কাছে ততটা ছিল না। ভারতের ভাবমূর্তি মূলত ইংরেজরাই তৈরি করেছিল।

inscript
৭ মিনিট
"ভালবাসা খুঁজতে গিন্সবার্গ ভারতে এসেছিলেন"- ​ডেবোরা বেকার

বিট জেনারেশনের প্রবাদপ্রতিম কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ এবং কলকাতার মাটির সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ—আধুনিক সাহিত্যের ইতিহাসে এটি এক অনন্য এবং বর্ণময় অধ্যায়। আর এই অধ্যায়টিকে যিনি নিপুণ গবেষণায়, গভীর মমতায় এবং প্রাঞ্জল গদ্যে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন, তিনি হলেন বিশিষ্ট আমেরিকান জীবনীকার ও প্রাবন্ধিক ডেবোরা বেকার (Deborah Baker)।

​ডেবোরা বেকার বর্তমান বিশ্বের নন-ফিকশন বা প্রামাণ্য সাহিত্যের জগতে এক অত্যন্ত সমীহজাগানিয়া নাম। যুদ্ধ-সাংবাদিক মেরি কলভিনের জীবনী 'ইন এক্সট্রিমিস' (In Extremis) হোক বা পুলিৎজার পুরস্কারের চূড়ান্ত পর্বে মনোনীত 'দ্য কনভার্ট' (The Convert)—তাঁর প্রতিটি কাজই তথ্যের গভীরতা এবং গল্পের বুননে সমৃদ্ধ। তবে কলকাতার সাহিত্যপ্রেমী মানুষের কাছে তাঁর বিশেষ আদরের জায়গাটি তৈরি হয়েছে মূলত 'আ ব্লু হ্যান্ড: দ্য বিটস ইন ইন্ডিয়া' (A Blue Hand: The Beats in India) বইটির জন্য। এই বইটিতে তিনি গিন্সবার্গের ভারত ভ্রমণ, কলকাতার হাংরি জেনারেশনের কবিদের সঙ্গে তাঁর সখ্য এবং ভারতীয় দর্শনের প্রভাবে পাশ্চাত্যের সাহিত্যে পরিবর্তনের ঢেউ—সবকিছুকেই এক সুতোয় গেঁথেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি প্রখ্যাত সাহিত্যিক অমিতাভ ঘোষের সহধর্মিণী, যা বাংলার সঙ্গে তাঁর সংযোগকে আরও নিবিড় করেছে।

​সম্প্রতি এক্সাইড কলকাতা লিটারারি মিটে (Exide Kolkata Literary Meet) যোগ দিতে এসেছিলেন ডেবোরা। সেখানে তিনি অ্যালেন গিন্সবার্গের ভারতবাস, তাঁর রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক রূপান্তর এবং আজকের সংঘাতময় পৃথিবীতে গিন্সবার্গের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনার ফাঁকেই আউটলুক-এর প্রতিনিধি শ্রীমন্তী সেনগুপ্তের সঙ্গে এক একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে গিন্সবার্গের জীবনের নানা অজানা দিক।

প্রশ্ন - পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ভারতকে নিয়ে সবসময়ই একটা গতে বাঁধা ধারণা ছিল—সাপুড়ে, হাতি আর সাধুদের দেশ হিসেবে। আপনি কি মনে করেন গিন্সবার্গ প্রাচ্য সম্পর্কে পাশ্চাত্যের এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পেরেছিলেন?

​উত্তর - আমার মনে হয় না আমেরিকা ভারতকে নিয়ে খুব বেশি ভাবত। যুক্তরাজ্যের কাছে ভারত যতটা পরিচিত ছিল, আমেরিকার কাছে ততটা ছিল না। ভারতের ভাবমূর্তি মূলত ইংরেজরাই তৈরি করেছিল। গিন্সবার্গের আগে কতজন আমেরিকান কবি ভারতে এসেছিলেন? খুব কম। ভারত তাঁদের কল্পনায় ছিল না। সেটা অনেক পরে এসেছিল এবং হয়তো গিন্সবার্গের তাতে কিছুটা ভূমিকা ছিল। ষাটের দশকে বিটলস আসে এবং সেটাই ভারত সম্পর্কে ধারণাগুলোকে ব্যাপকভাবে খুলে দেয়। মার্টিন লুথার কিং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, বিশেষ করে গান্ধীবাদী মতাদর্শের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। গিন্সবার্গের হাত ধরে, আমার মনে হয় প্রচুর ভারতীয় সাহিত্য আমেরিকায় পৌঁছেছিল।

​প্রশ্ন - আপনি কি মনে করেন তাঁর ডায়েরি এবং নোটগুলো পাশ্চাত্যের মিডিয়ার তৈরি ভারতের ভাসা-ভাসা ছবির বাইরে কিছু তুলে ধরে?

​উত্তর - এই 'ইন্ডিয়া ডায়েরিজ'-এ ভারত খুব একটা নেই। তিনি যা দেখছেন তা নিয়ে তিনি লিখছেন না, তিনি যা স্বপ্ন দেখছেন তা নিয়ে লিখছেন এবং তিনি স্বপ্ন দেখছেন নিউ ইয়র্কে তাঁর বন্ধুদের নিয়ে।

​প্রশ্ন - আমেরিকান এবং ভারতীয় সাহিত্যে তিনি কী ধরনের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বই এবার কিস্তিতে? বইমেলায় নতুন উদ্যোগ প্রতিক্ষণের

Suddhabarata Deb interview: "তিন-চার দশকে আমাদের তরুণ পাঠকের সংখ্যা অসম্ভবভাবে বেড়েছে। প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি পাঠক এখন তরুণ প্রজন্ম। আজকের প্রজন্ম পত্রিকা বা খবরের কাগজ কম পড়ে হয়তো, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে খবর দেখে নেয়, কিন্তু এতে তাদের বই পড়ার খিদে মেটে না।"

​উত্তর - লোকেরা কলেজে তাঁকে পড়ে না, তারা নিজেদের গরজেই তাঁকে খুঁজে নেয়। এবং আমি মনে করি এটা জানা জরুরি... কারণ এটাই তাঁর আকর্ষণের অংশ যে, অধ্যাপকরা জোর করে তাঁকে ছাত্রদের গেলাচ্ছেন না। অ্যালেন এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তিনি চেয়েছিলেন যেন প্রাতিষ্ঠানিক বা অ্যাকাডেমিক জগত তাঁর প্রশংসা করে। কেরুয়াক এবং বারোজও ছিলেন এমন বহিরাগত। এবং তরুণদের জন্য তাঁদের নিজেদের মতো করে আবিষ্কার করাটা জরুরি। আমিও এভাবেই কেরুয়াককে আবিষ্কার করেছিলাম।

​প্রশ্ন - আজকের বিশ্বে গিন্সবার্গের কাজের প্রাসঙ্গিকতাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

​উত্তর - আমি মনে করি না যে তাঁর এমন কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল যে তাঁর প্রভাব চিরস্থায়ী হবে। তিনি এমন একজন কবি ছিলেন যাঁর নিজের সম্পর্কে অসম্ভব সততা ছিল। তাঁর কৌতুকরসবোধ ছিল দারুণ। তাঁর মধ্যে অনেক যন্ত্রণা, উদ্বেগ এবং ভয় ছিল, কিন্তু তিনি সমকামী, এই সত্যটা স্বীকার করতে তিনি কখনও ভয় পাননি। তিনি মনে করতেন গাঁজাকে বৈধ করা উচিত। তিনি সবসময় 'সোম' (বৈদিক গ্রন্থে উল্লিখিত এক ধরণের নেশাদ্রব্য) আসলে কী, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতেন। তিনি পুরাণবিদ আর. গর্ডন ওয়াসনের সাথে দীর্ঘ চিঠিপত্র আদান-প্রদান করেছিলেন, যেখানে তিনি ভেবেছিলেন মাশরুম সম্পর্কে তথ্য পাবেন। তাঁর চরিত্রের অনেকগুলো দিক আছে।

​প্রশ্ন - গিন্সবার্গের আধ্যাত্মিকতার সাথে দীর্ঘ যোগসূত্র ছিল। তিনি দাবি করেছিলেন যে ১৯৪৮ সালে তিনি ঈশ্বরকে দেখেছিলেন। আধ্যাত্মিকতা এবং মাদক ছাড়া অন্য কিছু কি তাঁকে এই দীর্ঘ ভারত সফরে উৎসাহিত করেছিল?

​উত্তর - তিনি ভালোবাসা চেয়েছিলেন। তিনি এমন এক গডম্যান বা গুরুর খোঁজ করছিলেন যাঁকে তিনি ভালোবাসতে পারবেন... এমন একজন গুরু যেখানে সত্যিকারের ভালোবাসা পাওয়া যাবে।

​প্রশ্ন - কলকাতার কবিদের সঙ্গে গিন্সবার্গের পারস্পরিক প্রভাব সম্পর্কে আপনার গবেষণা কী তথ্য দিয়েছে?

​উত্তর - তাঁরা ছিলেন খুবই ধর্মনিরপেক্ষ... কমিউনিস্ট বা সমাজতান্ত্রিক। অ্যালেন রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে খুব আগ্রহী ছিলেন... তাঁর বাবাও কমিউনিস্ট ছিলেন। তিনি তাঁদের জীবন ও সংগ্রাম সম্পর্কে জানতে চাইতেন। আমার মনে হয় কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে থাকার সময় তিনি নিজে যেমন ছিলেন, এঁরা ছিলেন যেন তারই এক বাঙালি সংস্করণ।

​প্রশ্ন - ভ্রমণের সময় তাঁর শরীর ভালো ছিল না। আপনি তাঁর কিডনির সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন, যার ফলে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা হতো। তিনি অত্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকতেন যেখানে সুযোগ-সুবিধা খুব সীমিত ছিল। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে আপনি মনে করেন?

​উত্তর - এটা বেশ আগ্রহজনক। একজন 'বিট' (Beat) কবি হিসেবে তিনি নিজেকে বেশ পরিপাটি রাখতেন। তিনি নিয়মিত নাপিতের কাছে যেতেন, পকেটে রুমাল রাখতেন এবং স্যুট পরতেন। হিপ্পিদের চেয়ে 'বিট'রা বেশ আলাদা ছিল। তিনি ভারতে এসে ঝোলা ব্যাগ, স্যান্ডেল, পুঁতির মালা, সালোয়ার কামিজের নান্দনিকতা গ্রহণ করলেন... এবং এটাই পরে হিপ্পিদের রূপ হয়ে উঠল। ভারতে এসে তাঁর শারীরিক পরিবর্তনও হলো... তিনি চুল বড় করলেন, আবার চুল পড়াও শুরু হলো, তাঁকে দেখতে প্রায় সাধুদের মতো লাগত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতীয়ত্বের খোঁজে রতন থিয়ামের ‘রবীন্দ্রনাথ’

Ratan Thiyam: একসময়ের শান্তিনিকেতনের নিত্যযাত্রী রতন থিয়ামের জীবনে রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন নাট্যকার নন, এক দার্শনিক মার্গদর্শক।

​এটা বলাও জরুরি যে তিনি গান্ধীবাদীদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন... তিনি ভারতে ছিলেন যখন ভারত-চিন যুদ্ধ (১৯৬২) শুরু হয়। তিনি কিছুদিন পথেও কাটিয়েছেন, দিল্লি থেকে বেইজিং পর্যন্ত একটি পরিকল্পিত যাত্রায় (বিনোবা ভাবের নেতৃত্বাধীন) গান্ধীবাদীদের সঙ্গে হেঁটেছিলেন (চিনা সরকার অভিযাত্রীদের প্রবেশে বাধা দিলে যা শেষ হয়ে যায়)। রাজনীতিও যে একটা পারফরম্যান্স বা প্রদর্শনী হতে পারে, এই ধারণাটা তাঁর উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

​তিনি যখন আমেরিকায় ফিরে যান, তখন দেশটি ভিয়েতনাম যুদ্ধে জড়িয়ে ছিল। তিনি ভারত থেকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদ সভার নেতৃত্ব ও আয়োজনের ক্ষমতা, যেমন "পেন্টাগন ঘেরাও বা লেভিটেশন(lavitation of Pentagon)"। তিনি সৈন্যদের বন্দুকের নলে গোঁজার জন্য ফুল নিয়ে এসেছিলেন এবং দাঙ্গার মাঝখানে 'ওঁ' মন্ত্র জপ করেছিলেন। অর্থাৎ, ভারত থেকে তাঁর প্রাপ্তিগুলোর মধ্যে তাঁর শান্তিকামী রাজনীতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

​প্রশ্ন - আপনার বইয়ে হোপ স্যাভেজ চরিত্রটি খুব উজ্জ্বলভাবে উপস্থিত থেকেও অনুপস্থিত। তিনি করসো এবং গিন্সবার্গের জন্য যেন এক ধ্রুপদী 'মিউজ' বা প্রেরণা। যদিও গিন্সবার্গ সরাসরি নারীবিদ্বেষী ছিলেন না, তবে মনে হয় না তিনি নারীদের প্রতি আগ্রহী ছিলেন বা তাঁদের জন্য লিখেছেন বা তাঁদের প্রোমোট করেছেন...

​উত্তর - আমি মনে করি না যে এটা করা তাঁর কাজ ছিল। তিনি একজন কবি ছিলেন; তাঁর হৃদয় যেখানে টানে, তিনি সেখানেই যাবেন। তাঁর হৃদয় তাঁকে কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিল, তিনি সেখানে নিবিষ্ট ছিলেন এবং কলকাতার কবিদের জন্য যা করার ছিল তা করেছিলেন। আমার মনে হয় একজন পুরুষের কাছে সবকিছু আশা করা ভুল। তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের জন্যও খুব বেশি কিছু করেননি, যদিও কবি আমিরি বারাকা তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, তবুও তিনি নাগরিক অধিকার আন্দোলনের(civil rights movement) সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।

​প্রশ্ন - আমি এটা সাধারণ 'বিট' মনোভাবের পরেপ্রেক্ষিতে বলছি—নারীদের পণ্য হিসেবে দেখা বা তাঁদের সমকক্ষ কবি হিসেবে গণ্য না করা।

​উত্তর - হ্যাঁ, সেই অর্থে, তিনি সেই সময়েরই ফসল ছিলেন।

​প্রশ্ন - ‘আ ব্লু হ্যান্ড’ (A Blue Hand) লেখার শৈলী আপনি কীভাবে ঠিক করলেন?

​উত্তর - আমার তথ্যের উৎস ছিল মূলত তাঁর চিঠি এবং ডায়েরি। তিনি খুব ভালো গদ্যলেখক ছিলেন না; গদ্যে তাঁর আগ্রহ ছিল না। আপনি যদি তাঁর জার্নালগুলো দেখেন, দেখবেন তিনি কীভাবে এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে চলে যেতেন... শুধুই পর্যবেক্ষণ এবং খুঁটিনাটি লিখে রাখা। যশোর রোড আসলে একটার পর একটা বিবরণের সমষ্টি। তাছাড়া, এটা ঠিক কবিতা নয়; তিনি এটা গান হিসেবে লিখেছিলেন। তাই, আমার লেখার মাধ্যমে গিন্সবার্গকে যাতে পাঠকরা বুঝতে পারেন, সে জন্য আমি বিষয়টিকে যতটা সম্ভব সংহত ও সুসংগত করার চেষ্টা করেছি।

​প্রশ্ন - আপনি কীভাবে নন-ফিকশন বা বাস্তব ঘটনা এবং কাল্পনিক গল্প বলার ধরনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখলেন, যাতে মানুষ সত্যিই সেই ৬০-এর দশকে হারিয়ে যেতে পারে?

​উত্তর - নন-ফিকশন বা প্রবন্ধসাহিত্যের মাধ্যমেও অনেক গল্প বলা যায়। ভারতে আপনারা হয়তো 'ক্রিয়েটিভ নন-ফিকশন'-এর সঙ্গে অতটা পরিচিত নন। এখানকার অ্যাকাডেমিক নন-ফিকশন মূলত তত্ত্ব বা ধারণানির্ভর, কিন্তু আমার বইগুলো মানুষদের নিয়ে।

​প্রশ্ন - আপনি কি মনে করেন 'হাউল' (Howl) যদি আজকের দিনে তার সেই অত্যন্ত অশ্লীল বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশিত হতো, তবে একই রকম প্রভাব ফেলত?

​উত্তর - আমি জানি না। আমার মনে হয় আজকের দিনে হয়তো ওটা তাক থেকে সরিয়ে ফেলা হতো (নিষিদ্ধ বা সেন্সর করা হতো)।

​প্রশ্ন - আজকের দক্ষিণপন্থী শাসিত ভারত সম্পর্কে গিন্সবার্গ কী বলতেন বলে আপনি মনে করেন?

​উত্তর - (হাসি) আপনি কি আমাকে বিপদে ফেলতে চাইছেন? আমার মনে হয় তিনি খুব নিরুৎসাহিত হতেন। ঠিক তেমনভাবেই, যেমন তিনি অনুভব করেছিলেন যখন ভারত চিনের বিরুদ্ধে উগ্র হয়ে উঠেছিল। রাতারাতি তিনি দেখেছিলেন শান্তিকামী, আধ্যাত্মিক ভারতীয়রা কীভাবে ক্ষিপ্ত চিন-বিরোধী বিক্ষোভকারীতে পরিণত হয়েছিল। তিনি মোহভঙ্গ হয়েছিলেন।

​প্রশ্ন - আজকের আমেরিকায় গিন্সবার্গের অবস্থান কেমন হতো? আমার ধারণা, বিশ্বজুড়ে দক্ষিণপন্থার উত্থানের এই সময়ে তাঁর মতো কবির পক্ষে টিকে থাকা শ্বাসরোধী হতো।

​উত্তর - তিনি ঠিক কোনো না কোনো উপায় খুঁজে বের করতেন। আমার খুব ইচ্ছে হয়, এখন যদি আমাদের মধ্যে তাঁর মতো কেউ থাকতেন!

(​আউটলুকে প্রকাশিত কবি ও ফ্রিল্যান্স লেখক শ্রীমন্তী সেনগুপ্তের নেওয়া সাক্ষাৎকারটির বাংলা অনুবাদ এটি)

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।