ভারতীয়ত্বের খোঁজে রতন থিয়ামের ‘রবীন্দ্রনাথ’

Ratan Thiyam: একসময়ের শান্তিনিকেতনের নিত্যযাত্রী রতন থিয়ামের জীবনে রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন নাট্যকার নন, এক দার্শনিক মার্গদর্শক।

Nilanjan Haldar
৫ মিনিট
ভারতীয়ত্বের খোঁজে রতন থিয়ামের ‘রবীন্দ্রনাথ’

মঞ্চের উপর গাঢ় অন্ধকার। সেই অন্ধকারের বুক চিরে কখনো এক চিলতে আলো এসে পড়ে, কখনো বা বেজে ওঠে মণিপুরের ঐতিহ্যবাহী পেনা বা মৃদঙ্গ। আর সেই মায়াবী আলো-আঁধারির খেলায় দর্শকের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠেন এক অদৃশ্য রাজা। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাজা’—যিনি ‘অরূপ’, যাঁকে দেখা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়। আর মঞ্চের নেপথ্যে যিনি এই জাদুকরী জগৎ তৈরি করছেন, তিনি আধুনিক ভারতীয় থিয়েটারের অন্যতম ঋত্বিক, ‘কোরাস রেপার্টরি থিয়েটার’-এর উদ্গাতা রতন থিয়াম।

ভারতীয় নাট্যকলার ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং রতন থিয়াম—এই দুটি নাম দুই ভিন্ন সময়ের প্রতিনিধি হলেও, এক গভীর আত্মিক ও দার্শনিক সুতোয় তাঁরা বাঁধা। রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন বাংলা তথা ভারতীয় নাটককে পাশ্চাত্য রিয়েলিজম বা বাস্তবতার একঘেয়ে অনুকরণ থেকে মুক্তি দিতে। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন এক মঞ্চভাষার, যা হবে কাব্যিক, সাংকেতিক কিন্তু বহুজন সুখায় চ। মণিপুরের মণিপদ্ম রতন থিয়াম যেন রবীন্দ্রনাথের সেই অধরা স্বপ্নকেই তাঁর ‘টোটাল থিয়েটার’ বা সামগ্রিক নাট্যকলায় বাস্তবায়িত করলেন।

‘শকুদাবা শকনাইবা’: অরূপের রূপসন্ধান

একসময়ের শান্তিনিকেতনের নিত্যযাত্রী রতন থিয়ামের জীবনে রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন নাট্যকার নন, এক দার্শনিক মার্গদর্শক। ১৯১০ সালে রবীন্দ্রনাথ যখন ‘রাজা’ (The King of the Dark Chamber) লিখেছিলেন, তখন তিনি জানতেন না যে, একশ বছর পরে এই নাটকটি মণিপুরী ভাষায় এক নতুন মাত্রা পাবে। ২০১১ সালে রতন থিয়াম যখন রবীন্দ্রনাথের এই জটিল সাংকেতিক নাটকটি মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘অদৃশ্য’ রাজাকে দৃশ্যপ্রধান মাধ্যম থিয়েটারে উপস্থাপন করা। তাঁর প্রযোজনা ‘শকুদাবা শকনাইবা’ (Shakudaba Shaknaiba)-তে তিনি এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন।

রবীন্দ্রনাথের টেক্সটকে হুবহু অনুসরণ না করে, তাঁর দর্শনকে মঞ্চের ভাষায় অনুবাদ করলেন রতন থিয়াম। তাঁর নির্দেশনায় অন্ধকার ঘরটি আর কেবল রাজপ্রাসাদের কক্ষ রইল না, তা হয়ে উঠল মানুষের অবচেতন মন বা ‘Inner Self’। রতন থিয়াম ‘রাজা’-র মঞ্চভাষায় ভাবানুবাদ করলেন ‘Eternal Quest for Truth and Beauty’ বা সত্য ও সুন্দরের অনন্ত অন্বেষণ। আলোর জ্যামিতিক ব্যবহার এবং ছায়ার মায়াজাল (Chiaroscuro) দিয়ে এমন এক পরিবেশ তৈরি করলেন, যে ‘অন্ধকার’ ভীতিপ্রদ নয়; সত্যদর্শী। আলোকসম্ভব। তিনি দেখালেন, বস্তুবাদী পৃথিবীর চাকচিক্যে আচ্ছন্ন মানুষের মনের অজ্ঞানতাই রবীন্দ্রনাথের চিত্রিত ‘অন্ধকার’।

রানি সুদর্শনার যে ভুল—বাইরের চাকচিক্য বা সুবর্ণকে সত্য বলে মনে করা—তা আসলে আধুনিক মানুষেরই সংকট। রতন থিয়াম দেখালেন, রবীন্দ্রনাথের রাজা কোনো রক্তমাংসের ব্যক্তি নন, তিনি এক পরম সত্য বা ‘Supreme Reality’, যাকে চর্মচক্ষে দেখা যায় না, অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে অনুভব করতে হয়। নাটকের ক্লাইম্যাক্সে যখন কাঞ্চীরাজ তাঁর ভুল বুঝতে পারেন এবং সুদর্শনা বলেন,

আমার এই পরাজয়েই আমার মুক্তি

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নীরবতার ভেতর মানুষের কণ্ঠ : ম্যানুয়াল পুইগ ও বেঁচে থাকার গল্প

Manuel Puig: তাঁর চরিত্ররা খুব কমই উচ্চস্বরে কথা বলে; তারা ফিসফিসিয়ে কথা বলে, অন্ধকার ঘরে বসে স্বপ্ন দেখে, পুরনো সিনেমার পর্দার দিকে তাকিয়ে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া জীবন খুঁজে বেড়ায়।

তখন তা কেবল সংলাপ থাকে না; রতন থিয়ামের নির্দেশনায় তা হয়ে ওঠে মানুষের ইগো বা অহংকারের বিনাশ এবং আত্মোপলব্ধির পথে এক আধ্যাত্মিক যাত্রা। এই নাটকে নবদ্বীপ-জাতক রতন থিয়াম মণিপুরী ধ্রুপদী নৃত্য এবং নট-সংকীর্তনের উপাদান ব্যবহার করে যে অতীন্দ্রিয় আবহ তৈরি করেছেন, সেই আবহে দর্শক পৌঁছে যান আরেক নবদ্বীপ-নন্দনের কীর্তনের ‘ভাবোন্মাদ’ প্রদেশে।

ভারতীয়ত্ব: ‘থিয়েটার অফ রুটস’ ও রবীন্দ্র-দর্শন

রতন থিয়ামের নাট্যযাত্রার মূল মন্ত্র হলো ‘থিয়েটার অফ রুটস’ (Theatre of Roots) বা শিকড়সন্ধানী থিয়েটার। তিনি বিশ্বাস করেন, ভারতীয় থিয়েটারকে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াতে হলে তাকে শেকসপিয়র বা ইবসেনের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের মাটির রসদ খুঁজে নিতে হবে। আর এখানেই তিনি রবীন্দ্রনাথের সবথেকে বড় উত্তরাধিকারী। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘রঙ্গমঞ্চ’ প্রবন্ধে বলেছিলেন যে, দৃশ্যপট বা সিনারি দিয়ে দর্শকের চোখ ভোলানো নয়, বরং দর্শকের কল্পনাশক্তিকে জাগিয়ে তোলাই নাট্যকারের কাজ। রতন থিয়াম ঠিক এই দর্শনকেই তাঁর নাট্যশৈলীতে প্রয়োগ করেছেন।

তাঁর নাটকে জমকালো সেটের বদলে গুরুত্ব পায় অভিনেতার শরীরী ভাষা, কোরিওগ্রাফি এবং দেশজ অনুষঙ্গ। রবীন্দ্রনাথ যেমন চেয়েছিলেন নাটক হবে নাচ, গান এবং কবিতার এক অখণ্ড রূপ, রতন থিয়ামও তাঁর নাটকে মণিপুরের ‘থাং-তা’ (Thang-Ta - মার্শাল আর্ট), ‘নট-সংকীর্তন’, ‘ওয়ারি-লিবা’ (Wari-Leeba- কথকতা) এবং লোকজ আচারকে মিশিয়ে এক ‘কম্পোজিট আর্ট’ (Composite Art) তৈরি করেছেন। তিনি বলেন,

Utilizing tradition by itself is not my tradition, rather utilizing it as a re-interactive tool is my tradition;

যে কথার অনুরণন আমরা পাই রবি ঠাকুরের দর্শনে–

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হয় বাক স্বাধীনতা নয় কাজ

Film Industry Politics: আমরা দর্শক হিসেবে কী চাই? কাদের চাই? ‘ইয়েস স্যার’ বলা একদল অনুগত কর্মী, নাকি অনির্বাণ-ঋদ্ধির মতো ক্ষুরধার শিল্পী যারা পর্দায় জাদু তৈরি করতে পারেন? যখন রাজনীতি বা ইগো শিল্পের টুঁটি চেপে ধরে, তখন ক্ষতিটা কোনো নির্দিষ্ট অভিনেতার হয় না, ক্ষতিটা হয় আমাদের—দর্শকদের, বাংলার সংস্কৃতির।

পুরাতনই যে চিরকাল পুরাতন থাকিবে তাহা নহে, তাহাকেই আবার নতুন করিয়া আবিষ্কার করিতে হইবে।

তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথের নাটক মঞ্চস্থ করা মানে কেবল একটি গল্প বলা নয়; বরং সেই ‘ভারতীয়ত্ব’ বা ‘ইন্ডিয়াননেস’-এর খোঁজ করা, যা পশ্চিমের অন্ধ অনুকরণ নয়।

সমকালে রবীন্দ্রনাথ ও রতন থিয়াম

আজকের যে পৃথিবীতে ট্রাম্পের মতো যুদ্ধবাজেরা পদ্মবনে মত্ত হস্তীর মতো আচরণ করছেন, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে রতন থিয়ামের মঞ্চানুবাদে রবীন্দ্রনাথকে ফিরে দেখা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। মণিপুর নিজেও আজ এক দীর্ঘ অশান্ত সময় পার করছে। রতন থিয়ামের বিখ্যাত নাটক ‘চক্রব্যূহ’ (Chakravyuha) বা ‘নাইন হিলস ওয়ান ভ্যালি’ (Nine Hills One Valley)-তে আমরা দেখেছি সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’ মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে তিনি হয়তো প্রতিবাদের ভাষা বদলে শান্তির এক শাশ্বত পথ খুঁজেছিলেন।

মণিপুরের জাতিগত সংঘাত হোক, বা বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার লড়াই—সবই আসলে সেই অজ্ঞানতার ‘অন্ধকার ঘর’ প্রকোষ্ঠ, যেখানে ‘তোমার আমার ফারাকের নয়া ফন্দি’ হয়ে উঠছে রিলস-ময় এই জড়-জগত। রবীন্দ্রনাথের নাটকে যেমন ‘অচলায়তন’ ভাঙার ডাক থাকে, তেমনই রতন থিয়ামও তাঁর এই নাট্যনির্মাণের মধ্য দিয়ে সেই মনের অচলায়তন ভাঙতে চান। রানি সুদর্শনা যেমন আগুনের মধ্য দিয়ে সত্যকে চিনেছিলেন, আজকের মানুষও যেন সেই মানস-সংঘাতের মধ্য দিয়ে সেই মানবিক সত্যকে খুঁজে পায়—এটাই রতন থিয়ামের অন্বেষণ। তিনি মনে করেন, আধুনিক সভ্যতা আমাদের ‘বহির্মুখী’ করে তুলেছে, কিন্তু শান্তি পেতে হলে আমাদের ‘অন্তর্মুখী’ হতে হবে, ফিরে তাকাতে হবে নিজেদের শিকড়ের দিকে।

তাঁর অরূপলোকে যাওয়ার পরের প্রথম জন্মবার্ষিকীর কালে দাঁড়িয়ে বলা যায়, রতন থিয়াম রবীন্দ্রনাথকে কেবল পাঠ করেননি, তিনি তাঁকে যাপন করেছেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের নাটককে লাইব্রেরির আলমারি থেকে বের করে এনে মুক্তমঞ্চের ধুলোমাখা প্রান্তরে স্থাপন করেছেন। তাঁর মঞ্চে যখন রবীন্দ্রনাথের গান বা সংলাপ মণিপুরী বাচিকে উচ্চারিত হয়, তখন তা আর কোনো নির্দিষ্ট ভাষার থাকে না, তা হয়ে ওঠে এক সর্বজনীন অনুভূতির ভাষা। অন্ধকারের রাজাকে আলোর মাঝে খুঁজে পাওয়ার এই যে নিরন্তর যাত্রা, সেখানেই রতন থিয়াম এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন—যে বিন্দুর নাম

এই ভারতের মহামানবের সাগরতীর,

যে ভারততীর্থে শোনা যাবে

নঈমউদ্দিনের তদারকি চিৎকার -/ বিজয়ন- আকিল- কুলজিৎ – বাইচুং/ মাঠটাকে আরও বড়ো কর।

সেই মাইল-মাইল অভিমান আর ভালোবাসার নাম স্বদেশ-স্বাধীনতা…

লিখেছেন
Nilanjan Haldar
Nilanjan Haldar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।