দ্বিখণ্ডিত তৃণমূল শুভেন্দুকে কতটা শক্তিশালী করল?

Suvendu Adhikari: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ভাঙন, নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং সাংগঠনিক সংকটে লাভবান হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী? বিদ্রোহী বিধায়কদের অবস্থান, আইপ্যাক বিতর্ক এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে তৈরি হওয়া অস্থিরতা কি তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষমতার পরিধি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে?

Tanvia Barua
৫ মিনিট
দ্বিখণ্ডিত তৃণমূল শুভেন্দুকে কতটা শক্তিশালী করল?

রাজনীতিতে অনেক বড় বড় নেতা দল বদলেছেন। কেউ হারিয়ে গিয়েছেন, কেউ প্রাসঙ্গিক থেকেছেন, আবার কেউ নতুন রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নব্য নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক যাত্রাপথ অন্যরকম। তিনি শুধু দল ছাড়েননি, যে দলকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেই দলকেই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত করার অন্যতম প্রধান কারিগর হয়েছেন। এমনকী এখানেও শেষ নয়, ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল যেভাবে দ্বিখণ্ডিত হলো, সেখানে তিনি কোনো ভূমিকাই পালন করেননি এটা শিশুও মানবে না। বরং রাজনৈতিক মহলের মত এই ঘটনাপ্রবাহ ভোটজয়ের চেয়েও বড়, তাঁর ব্যক্তিগত জয়।

২০২০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার সময় শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ছিল, দলের চরিত্র বদলে যাচ্ছে। দলের সব সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদের প্রভাব বাড়ছে। সেই সময় তৃণমূলের অধিকাংশ নেতা এই অভিযোগকে ব্যক্তিগত ক্ষোভ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ছয় বছর পরে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে একই ধরনের অভিযোগ দলের ভেতর থেকেই উঠছে।

নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যেও খুব বেশি দ্বিমত নেই। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের আন্দোলনের উপর ভর করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান ঘটেছিল। সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক বিস্তারেও তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুকুল রায়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শুভেন্দুই ছিলেন দলের প্রধান মুখগুলির অন্যতম।

এই কারণেই দলের ভেতরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্রুত উত্থানকে অনেকেই সহজভাবে নিতে পারেননি। রাজনৈতিক লড়াই, গণআন্দোলন কিংবা দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পথ পেরিয়ে নয়, বরং উত্তরাধিকার রাজনীতির সুবিধা নিয়েই অভিষেক ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন, এমন ধারণা তৃণমূলের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। এই ধারণা সঠিক না ভুল, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু এই অসন্তোষ যে বাস্তব ছিল, তা পরে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।

সমস্যা আরও বাড়ে যখন তৃণমূলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্রমশ আইপ্যাক-নির্ভর হয়ে ওঠে। সমীক্ষা, ডেটা, মাইক্রো ম্যানেজমেন্টের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। রাজনৈতিক পরামর্শদাতারা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন, আর বহু পুরনো নেতা নিজেদের গুরুত্ব কমে যাওয়ার অভিযোগ করতে থাকেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাজ দেওয়ার মুরোদ নেই কিল মারার গোঁসাই: হকার উচ্ছেদ রাষ্ট্রের মুখে আয়না ধরা

সময়ের সঙ্গে সরকার পাল্টেছে, শাসক দলের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু হকার উচ্ছেদ সম্পর্কে শাসকের দৃষ্টিভঙ্গির এতটুকু পরিবর্তন হয়নি। সেই একই পরম্পরা আজও প্রবহমান।

এই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে অভিষেক শিবিরের সংঘাত বাড়ে। তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ ছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সাংগঠনিক গুরুত্ব কমতে থাকে। দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রভাব আগের তুলনায় কমে যায় বলেও দাবি করা হয়। ক্রমবর্ধমান এই দূরত্বের জেরেই শেষ পর্যন্ত তিনি ২০২০ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, শুভেন্দুর রাজনৈতিক ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। বাস্তবে ঘটল উল্টোটা।

নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যায়। এরপর ২০২৬ সালে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুটি আসনেই জয় পান। কিন্তু শুভেন্দুর প্রকৃত সাফল্য সম্ভবত নির্বাচনী ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

আজ তৃণমূলের ভেতরে যে ভাঙন দেখা যাচ্ছে, তা কেবল সাংগঠনিক সংকট নয়; এটি নেতৃত্বের সংকটও। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, তা কার্যত প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবপত্রে থাকা স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের টিকিটে জয়ী আরেক বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, প্রস্তাবনায় থাকা একাধিক স্বাক্ষরে অসঙ্গতি রয়েছে। রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই আবার প্রকাশ্যে এই অভিযোগের কথা তুলে ধরার পরই দল দ্রুত পদক্ষেপ করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে তড়িঘড়ি বহিষ্কার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে সিংহভাগ তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার দাবি সামনে আসে। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে সমর্থন করেছেন। সেই তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জাভেদ খান, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, আখরুজ্জামানরাও ছিলেন।

এই ঘটনার পর এক বিবৃতিতে তৃণমূল কংগ্রেস জানায়, পশ্চিমবঙ্গে দলের সব স্তরের সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। শুধু মূল সংগঠনই নয়, শাখা সংগঠনগুলির কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দলের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে, পরাজয় ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণ খতিয়ে দেখা হবে, ভুলত্রুটির বিশ্লেষণ করা হবে। তার পরেই নতুন করে বিভিন্ন স্তরের কমিটি গঠন করা হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হকারের দোকান ভাঙে, কর্পোরেটের বাজার বাড়ে

সাম্প্রতিক হকার উচ্ছেদ কেবল সৌন্দর্যায়ন নয়, বরং নয়া-উদারবাদী মুক্তবাজারের চাপে গণপরিসরে কর্পোরেট পুঁজির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রশাসনিক রূপরেখা। শাসকদলের বুলডোজ়ার নীতি কীভাবে আইনি বৈষম্য তৈরি করে শ্রমজীবী মানুষের সমান্তরাল অর্থনীতি ও জীবিকাকে ধ্বংস করছে— জানুন এই বিশ্লেষণে।

মঙ্গলবার (২ জুন) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ধর্না কর্মসূচিতে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ কয়েকজন বিধায়ক ও তৃণমূল নেতাকে দেখা গেলেও দলের বহু পরিচিত মুখ সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে এই অনুপস্থিতি নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার ঘটনাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন,

এইভাবে চোরাগোপ্তা পথে এসব করার কী দরকার ছিল?

একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, দল এই ঘটনার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তাৎপর্য খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। এই জায়গাতেই শুভেন্দুর লাভ।

প্রথম লাভ, তাঁর রাজনৈতিক বয়ান বৈধতা পাচ্ছে। তিনি যে অভিযোগ নিয়ে দল ছেড়েছিলেন, আজ সেই অভিযোগের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের ভেতর থেকেই। বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতেও প্রকাশ্যে আইপ্যাকের সমালোচনা করেছেন। সন্দীপন সাহার বক্তব্যেও একই সুর শোনা গিয়েছে। ফলে শুভেন্দুর দলত্যাগ আর নিছক ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে না; অনেকের কাছে তা রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

দ্বিতীয় লাভ, বিজেপির ভেতরে তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব বৃদ্ধি। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা বা অসন্তুষ্ট নেতাদের বড় অংশের সঙ্গে শুভেন্দুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তাঁরা যদি নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খোঁজেন, স্বাভাবিকভাবেই শুভেন্দুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি যতটা বাড়বে, শুভেন্দুর নিজস্ব রাজনৈতিক বলয়ও ততটাই প্রসারিত হতে পারে।

তৃতীয়ত, তিনি এখন এমন একটি অবস্থানে রয়েছেন যেখানে বিরোধী ও প্রাক্তন প্রতিপক্ষ—দু'পক্ষকেই এক রাজনৈতিক ছাতার নীচে আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আনুগত্য একটি বড় সম্পদ। বিশেষ করে যখন কোনো নেতা ক্ষমতায় থাকেন। তৃণমূলের বর্তমান সংকট শুভেন্দুকে সেই সুযোগ করে দিচ্ছে।

এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থনকারী তালিকায় এমন কিছু নেতার নাম রয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে নানা অভিযোগ উঠেছে। জাভেদ খানের বিরুদ্ধে তিলজলার অশান্তির মামলায় এফআইআর হয়েছে, যদিও তিনি জামিন পেয়েছেন এবং কোনো আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। রথীন ঘোষের নাম পুর নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে, যদিও তিনিও এখনও আদালতে দোষী সাব্যস্ত নন। ফলে রাজনৈতিক মহলে আবার ‘ওয়াশিং মেশিন’ তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিতর্কের চূড়ান্ত সত্যতা ভবিষ্যতের ঘটনাই নির্ধারণ করবে।

তৃণমূলের ভাঙন কি শুধু বিজেপিকে শক্তিশালী করছে, নাকি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভিত্তিকেও আরও মজবুত করছে?

বর্তমান পরিস্থিতি দ্বিতীয় সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে। কারণ দল ভাঙলে সাধারণত নতুন শক্তিকেন্দ্র তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গে সেই সম্ভাব্য শক্তিকেন্দ্রের আনুগত্য একমাত্র শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই আছে। এমন এক অনুগত বিধায়ক গোষ্ঠী ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে, যারা রাজনৈতিকভাবে তাঁর নেতৃত্বের উপর নির্ভরশীল থাকবে। ভবিষ্যতের যে কোনো ক্ষমতার সমীকরণে এই গোষ্ঠী তাঁর শক্তির উৎস হয়ে উঠতে পারে। তৃণমূল যত বিভক্ত হচ্ছে, শুভেন্দুর রাজনৈতিক পরিসর ততই বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বাড়ছে তাঁর ক্ষমতাবৃত্তের পরিধি।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

Opposition March to EC Office: এসআইআর ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করলেন রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়াা জোটের বিরোধী সাংসদরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ স্লোগান ওঠে। তবে কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

ব্রাজিলের ভোটে লুলার ধাক্কা, ফ্লাভিওর উত্থান: কেন বদলাচ্ছে সমীকরণ?

Brazil presidential election 2026: প্রথম দফায় ফ্লাভিওর প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ছিল কার্যত অপ্রত্যাশিত। কারণ, অধিকাংশ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষাতেই লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই সংখ্যার আড়ালে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—কেন বোলসোনারোবাদ এখনও এতটা শক্তিশালী?

‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাও আঘাত পায়’: যাদবপুরে নেহা বোরার কণ্ঠে প্রতিরোধের ঐক্যের বার্তা

Neha Bora Jadavpur University: নেহার কথায়, “আমার গলার অবস্থা, আমার শরীরের অবস্থা যা—ঠিক একই পরিস্থিতি আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI)। আর এই যন্ত্রণা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে দিল্লির রাজপথে যাদের রক্ত ঝরেছে, যাদবপুরে যাদের উপর হামলা হয়েছে, এসআরএফটিআই-তে যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে—আমরাই একে অপরের ব্যথা সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

‘যেই আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’: আসলে কেমন শাসক ছিলেন আসলে লঙ্কেশ?

Ravana character analysis: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন মানুষ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জেরবার, তখন ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' সমাজকে একদম গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিল। শিক্ষিত যুবক সমাজকে ভাবতে বাধ্য করল এই মহাকাব্য।

‘ভাই’ থেকে ‘বিরোধী’, কুড়ি বছর পর ফের একসঙ্গে: SIR যেভাবে কাছে আনল উদ্ধব ও রাজকে

Uddhav Thackeray Raj Thackeray: জনসভা থেকে রাজ ঠাকরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাদ পড়া এই দুই কোটি মানুষ আসলে কারা? দিল্লির দরবারে যখন এই বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানানো। একই সঙ্গে তিনি ইভিএমের বদলে পুরনো ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবি তোলেন।

গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেসের ব্লুপ্রিন্ট কী?

Electoral demands of congress leaders: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ৩ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’, অমিত শাহ ‘অবৈধ মন্ত্রী’, সকল মুখ্যমন্ত্রীরা ‘অবৈধ’। কংগ্রেসের দাবি, লোকসভা ও সকল বিধানসভা ভেঙে ব্যালট পেপারে পুনঃনির্বাচন করানো হোক। এসআইআরে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বিলোপ, ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, ২০২৩-এর সিইসি নিয়োগ আইন চ্যালেঞ্জ, এই সকল বিষয় উঠে এসেছে সাংবাদিক সম্মেলনটিতে। সামনে রয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে পদযাত্রা। ইতোমধ্যে, কালই রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘সত্যাগ্রহ’ নামক একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছেন।

আরও চাপে জ্ঞানেশ কুমার, দু'দশকের পুরনো মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ

Gyanesh Kumar Under Scrutiny: ২০০৬ সালে কেরলের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সচিব থাকাকালীন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরল সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।