ডাইনোসরের অবিকৃত ভ্রূণ পড়ে রয়েছে ডিমের জীবাশ্মে! ফিরতে পারে জুরাসিক পার্ক?
Dinosaur Embryo: ছোট্ট ডাইনোসর ভ্রূণটি দেখতে ঠিক ডিমের মধ্যে কুঁকড়ে শুয়ে থাকা পাখির বাচ্চার মতো।

জুরাসিক পর্ব কোনওদিন কি ফিরে আসবে? কোনওদিনও কি সিনেমার পর্দার বাইরে জ্যান্ত হয়ে উঠবে ডাইনোসরেরা? ডাইনোসরেরা হারিয়ে গেল কীভাবে, কেমনই বা ছিল তাদের রোজকার দিন? প্রাগৈতিহাসিক বিশ্ব নিয়ে যে কতিপয় কৌতূহল এখনও তাজা রয়ে গেছে, ডাইনোসর সেই কৌতূহলগুলির অন্যতম। সম্প্রতি যাতে হাওয়া দিয়েছে একটি ডিম! অবিশ্বাস্য বিরল একটি ডিমের মধ্যে মিলেছে ডাইনোসরের ভ্রূণ! চিনের এক জাদুঘরের গুদামঘরে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধুলো পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছিল ডিমের জীবাশ্মটি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডিমটির বয়স কম করে ৬৬ থেকে ৭২ মিলিয়ন বছর! এই জীবাশ্ম ডিমের মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে ডাইনোসরের ভ্রূণ! অজাত এই ভ্রূণ ডাইনোসর এবং আধুনিক পাখির মধ্যেকার এক মিসিং লিঙ্ক!
ওভিরাপ্টোরোসর নামে পরিচিত পালকওয়ালা, দাঁতবিহীন থেরোপডের একটি গোষ্ঠীর অন্তর্গত এই প্রাণীটি প্রায় ২৭ সেন্টিমিটার বা প্রায় সাড়ে ১০ ইঞ্চি দীর্ঘ বলে অনুমান। সবচেয়ে আশ্চর্যের হচ্ছে, ভ্রূণটি যে অবস্থায় মিলেছে তা এমন এক ভঙ্গিতে আছে যা বর্তমান সময়ের পাখির ভ্রূণের বৈশিষ্ট্য। এটি এমন ডাইনোসর ভ্রূণের প্রথম আবিষ্কার। ডিম পাড়ার কিছুক্ষণ আগে, আধুনিক পাখিরা একাধিক কৌশল প্রয়োগ করে। পাখিরা এই বিবিধ কৌশলে শরীরকে বাঁকা করে মাথাকে ডানার নিচে নিয়ে আসে। ওইভাবেই ভ্রূণটি থাকে। পাখিদের এই আচরণের বিবর্তনের উত্সটি এই কিছুকাল পর্যন্ত অজানাই ছিল।
২০২১ সালের একটি গবেষণাপত্রে গবেষকরা ব্যাখ্যা করেন যে, এই ভ্রূণের নমুনাটি তারা আধুনিক পাখির ভ্রূণের অবস্থাতেই পেয়েছেন। ভ্রূণটির ডাকনাম দিয়েছেন তারা, বেবি ইংলিয়াং। বেবি ইংলিয়াংয়ের মাথা শরীরের দুই পাশে পায়ের ফাঁকে রাখা। শিরদাঁড়া বরাবর পিঠটি কুঁচকানো অবস্থায় পাওয়া গেছে এই ভ্রূণটিকে। এই ধরনের ভঙ্গি উড়তে পারে না এমন ডাইনোসরের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না কিন্তু শেষ পর্যায়ের আধুনিক পাখির ভ্রূণ ডিমের মধ্যে ঠিক এভাবেই থাকে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Rabindranath Tagore Dinosaur: বন্যা বা ওই জাতীয় কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তীব্র জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে বেচারা প্রকাণ্ড ডাইনোসোর সম্ভবত মারা যায়

পাখিদের ডিম পাড়ার প্রক্রিয়ায় 'টাকিং' একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টাকিং মানে এভাবে মাথা পায়ের ফাঁকের মধ্যে গুঁজে ভ্রূণকে বিশেষ অবস্থানে আনা। যারা এই অবস্থানে আসতে পারে না তাদের ডিম ফুটে জন্মানোর সম্ভাবনা অনেক কম। বেবি ইংলিয়াং আধুনিক পাখি ভ্রূণের ভঙ্গিতে আছে বলে মনে করা হচ্ছে যে, আধুনিক পাখিদের প্রাচীন থেরোপড পূর্বপুরুষদের মধ্যেই প্রথম এই গুণটি বিকশিত হতে পারে।
ছোট্ট ডাইনোসর ভ্রূণটি দেখতে ঠিক ডিমের মধ্যে কুঁকড়ে শুয়ে থাকা পাখির বাচ্চার মতো। এই ভ্রূণই স্পষ্ট বলে দিচ্ছে আজকের পাখিদের বৈশিষ্ট্যগুলি ডাইনোসর পূর্বপুরুষদের মধ্যেই প্রথম বিকশিত হয়েছিল, বলছেন গবেষক অধ্যাপক স্টিভ ব্রুসেট।

ইংলিয়াং স্টোন নেচার হিস্ট্রি মিউজিয়ামে অবস্থিত, বেবি ইংলিয়াং এখনও পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে সম্পূর্ণ ডাইনোসর ভ্রূণগুলির অন্যতম। এই ভ্রূণটি দেখেই গবেষকরা অনুমান করতে পারছেন, অক্ষত শিশু থেরোপডের চেহারার আসলে কেমন ছিল। যেহেতু এটি সেই ধরণের একমাত্র নমুনা তাই গবেষকরা অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, তাদের পর্যবেক্ষণ থেকে ডাইনোসর ভ্রূণের প্রকৃতি সম্পর্কে কোনও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কোনও অনুমান নিশ্চিত করার আগে এই জাতীয় আরও জীবাশ্ম পাওয়া এবং তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।
তবুও গবেষকরা বলছেন, এই নতুন ব্যতিক্রমী জীবাশ্ম ভ্রূণ বলে দিচ্ছে, আজকে আমরা যে পাখিদের দেখতে পাই, তাদের মধ্যেকার কিছু প্রাথমিক আচরণের শিকড় লুকিয়ে রয়েছে ডাইনোসরদের মধ্যে। সুতরাং বিবর্তনের ক্রমকে আরও গভীরে বুঝতে এই ভ্রূণকে নেড়েঘেঁটে দেখতেই হবে।






