রবীন্দ্রনাথের নামে ডাইনোসর রয়েছে খাস কলকাতায়! দেখে আসতে পারেন স্বচক্ষে

Rabindranath Tagore Dinosaur: বন্যা বা ওই জাতীয় কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তীব্র জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে বেচারা প্রকাণ্ড ডাইনোসোর সম্ভবত মারা যায়

inscript
৩ মিনিট
রবীন্দ্রনাথের নামে ডাইনোসর রয়েছে খাস কলকাতায়! দেখে আসতে পারেন স্বচক্ষে

কবিগুরু স্যানিটারি স্টোর। কবিগুরু শু হাউজ, রবিঠাকুর স্পেশ্যাল চাট, বিশ্বকবি পোলট্রিফার্ম। শান্তিনিকেতনপ্রেমী বঙ্গবাসী মাত্রই জানেন, একটা নামও মস্করা নয়। এমন দোকান, ঠেলা হামেশাই চোখে পড়বে শান্তিনিকেতনে ঢোকামাত্রই। শান্তিনিকেতন না হলেও চলবে, বাঙালি সংস্কৃতি ভালোবেসে, ঐতিহ্যবাহী কোনও প্রবাসী দেশে বা বিদেশেও খুলে বসতে পারেন কবিগুরু এফ এল শপ। ভালোবাসার অত্যাচার আর কী, শ্রদ্ধা বড়ই বিষম বস্তু। তবে এসব হার্ডওয়্যার, পোলট্রিফার্মের বাইরেও কবিগুরুর নামে যে ঠিক কীসের কীসের নামকরণ হয়েছে জানলে তাজ্জব হতে হয়। খাস কলকাতা শহরেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে রয়েছে এক ডাইনোসর! মানে এককালে সে ডাইনোসরই ছিল, এখন কালের প্রবাহে জীবাশ্ম! বিশালাকার এক ডাইনোসোরের জীবাশ্মের নামকরণ হয়েছে রবীন্দ্রনাথের নামে, ‘বরাপাসোউরাস টেগোরেই’!

কলকাতার বরানগরের ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের মিউজিয়ামের জিওলজি বিভাগের ঘরে সযত্নে রাখা আছে এই জীবাশ্মটি। ডাইনোসরের সময় রবীন্দ্রনাথ ছিলেন না, রবীন্দ্রনাথের সময়ও কোনও ডাইনোসর ছিল না। কোনও ডাইনোসরই সাহিত্য বা দর্শন চর্চা করেনি, রবীন্দ্রনাথও ডাইনোদের নিয়ে সাহিত্য রচনা করেননি। তাহলে এত কিছু ছেড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে কেন নামকরণ হলো এই ডাইনোসরের? দেখা যাক ইতিহাস ঘেঁটে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাড়িতে পোষেন ডাইনোসর! জ্যোতির্ময় দত্তকে নিয়ে এমনই বিশ্বাস অনেকের

Jyotirmoy Dutta: জ্যোতির্ময় দত্তকে নিয়ে গল্পের শেষ নেই। তাঁর সঙ্গে আলাপ একটু দেরিতে। '৮৮/'৮৯ সালে। ততদিনে তিনি কিংবদন্তি।

সাল ১৯৩১-৩২। বিজ্ঞানী প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের উদ্যোগে বরানগরে প্রতিষ্ঠিত হলো ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট। রাশিবিজ্ঞানের পাশাপাশি ভূতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব নিয়েও গবেষণা চলত এই কেন্দ্রে। ডাইনোসর বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি ও চর্চা দুই-ই শুরু হয় ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জুরাসিক যুগ নিয়ে গবেষণা শুরু করে সেই সময়। ১৯৫৭ সালে গবেষক-অধ্যাপক পামেলা লামপ্লাউ রবিনসনকে আমন্ত্রণ করেন প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে পামেলা রবিনস, এলেক স্মিথ প্রমুখ গবেষক ভারতে আসেন ডাইনোসোরের খোঁজে। স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটও যুক্ত হয় সেই গবেষণায়। স্টাটিস্টিক্যাল ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে গবেষণায় যোগ দেন বি রায়চৌধুরী, এস এল জৈন, তপনকুমার চৌধুরীর মতো গবেষকরা। তবে কলকাতায় নয়, দক্ষিণ ভারতে চলতে থাকে ডাইনোসরের সন্ধান। লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি এবং স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট মিলে অধুনা তেলঙ্গানার নালগোন্ডায় গোদাবরী নদী উপত্যকায় খনন শুরু করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ক্রিকেটার কবিগুরু! যে রবীন্দ্রনাথকে আজও চেনেই না বাঙালি

Rabindranath Tagore: রবীন্দ্রনাথ কিঞ্চিৎ ক্রিকেট খেলেছিলেন বটে, তবে তিনি ঠিক কোন সময়ে ক্রিকেট খেলেছিলেন, তা নিয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু বলা নেই কোথাও।

বছরে ঘুরতে না ঘুরতেই, ১৯৫৮ সালে গোদাবরী উপত্যকা অঞ্চলের পোচামপল্লি গ্রাম লাগোয়া অঞ্চল থেকে পাওয়া যায় বেশ কিছু বিশালাকার জীবের পায়ের হাড়ের জীবাশ্ম। দক্ষিণ ভারত হলেও ওই অঞ্চলে খননের কাজে নিযুক্ত ছিলেন হিন্দিভাষী শ্রমিকরাই। ফলে পশুর বড় বড় পা হয়ে গেল 'বড়া পা'। জীবাশ্মগুলিকে ডাকা হতে থাকে ওই নামেই। আরও খোঁড়াখুঁড়ির পর প্রায় তিনশোর মতো হাড়ের জীবাশ্ম মেলে। সেই সমস্ত জীবাশ্ম পরীক্ষা করে গবেষকরা জানান, সরীসৃপ গোত্রের এক নতুন ধরনের ডাইনোসোরের জীবাশ্ম সেটি। ‘বড়া পা’ এবং তার সঙ্গে গিরগিটি বা লিজার্ডের গ্রিক প্রতিশব্দ ‘সোউরাস’ মিলিয়ে প্রারম্ভিক জুরাসিক যুগের ওই ডাইনোসোরের গোত্রের নামকরণ হয় ‘বরাপাসোউরাস’। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ কই?

কয়েক টন ওজনের সেই জীবাশ্মগুলি নিয়ে আসা হয় কলকাতায় স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে। বছরখানেক ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সেই টুকরোগুলিকে জোড়ার কাজ শুরু হয়। সেই জীবাশ্মের টুকরো জুড়ে জুড়ে প্রাণীটি আসলে কেমন দেখতে ছিল, তার একটা আনুমানিক চেহারা দেওয়া হয়েছে। বরানগরের ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের সংগ্রহশালার জিওলজি বিভাগের ঘরে সাজানো রয়েছে ভারতের মাটি থেকে পাওয়া প্রথম ডাইনোসোরের কঙ্কাল! ঘাড় থেকে ল্যাজের ডগা পর্যন্ত এই ডাইনোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬ ফুট! তবে বেচারা মুণ্ডহীন। বন্যা বা ওই জাতীয় কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তীব্র জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে বেচারা প্রকাণ্ড ডাইনোসোর সম্ভবত মারা যায় এবং মুণ্ডু ভেসে চলে যায় অন্যত্র। পরে সংস্থার অনুরোধে বিদেশ থেকে একটি মাথা উপহার হিসেবে আসে। ডাইনো একটি কৃত্রিম মাথা পায়!

ডাইনোসরের গোত্র না হয় ঠিক হলো, বারাপাসোউরাস। কিন্তু কোন প্রজাতির ডাইনো এটি? যে বছর এইসব কর্মকাণ্ড চলছে সেই ১৯৬১ সালটি ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবর্ষ। বিজ্ঞানী প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ প্রস্তাব দিলেন, কবিগুরুকে সম্মান জানিয়েই ডাইনোসরের নাম দেওয়া হোক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদবির ইংরেজি উচ্চারণ টেগোর অনুসারে ডাইনোসোরের প্রজাতির নাম দেওয়া হলো ‘টেগোরাই’। ডাইনোসোরের নাম হলো ‘বরাপাসোউরাস টেগোরেই’। বরাহনগরের এই ক্যাম্পাসে কয়েক বার এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথও। প্রশান্তচন্দ্র এবং রানি মহালানবিশের বিয়ের সময় রবীন্দ্রনাথ যে আশীর্বাদী লিখে দিয়েছিলেন, এখানকার সংগ্রহশালায় এলে ডাইনোসরের পাশাপাশি দেখা যাবে রবীন্দ্রনাথের সেই লেখাটিও।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?