খারিজ হবে মহুয়ার সাংসদ পদ? ফয়সলা রাত পোহালেই

Cash for Query: শুক্রবার বেলা ১২টায় লোকসভার স্পিকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে এথিক্স কমিটি। তার পরেই স্পিকার ঠিক করবেন, মহুয়া ইস্যুতে কোন পথে এগোতে চলেছে লোকসভা।

Sohini Das
৪ মিনিট
খারিজ হবে মহুয়ার সাংসদ পদ? ফয়সলা রাত পোহালেই

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ভাগ্যনির্ধারণ শুক্রবারই। আগামী ৮ ডিসেম্বর, লোকসভার এথিক্স কমিটিতে জমা পড়তে চলেছে রিপোর্ট। আগামী সবকটি অধিবেশনে মহুয়ার সাংসদ পদ আদৌ থাকবে কি না, তার উত্তর মিলবে ওই রিপোর্টই। তার পরেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

দুবাইয়ের ব্যবসায়ী দর্শন হিরনন্দানির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে লোকসভায় আদানির বিরুদ্ধে প্রশ্ন করার অভিযোগ ওঠে আদানির বিরুদ্ধে। সেই মামলা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এবং আইনজীবী দেহাদ্রাই একযোগে মহুয়ার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তোলেন, এবং মহুয়ার বহিষ্কারও দাবি করেন। ঘটনাক্রমে হলফনামা দিয়ে ওই ব্যবসায়ী জানান, মহুয়ার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ঠিক। ফলে আরও বিপাকে পড়ে যান মহুয়া। ইতিমধ্যে আদানি প্রসঙ্গে আরও জলঘোলা হয়েছে। তাজপুর পোর্ট থেকে আদানিকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণার পরে মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরের দিনই অবশ্য মমতার হয়ে সুর বদলান মমতার মন্ত্রিসভার মন্ত্রী শশী পাঁজা। ফের আদানি প্রসঙ্গে সুর নরম করে রাজ্যসরকার।

এরই মধ্যে চলে এল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ভাগ্যনির্ধারণের দিন। বরাবরই লোকসভায় ধারালো সওয়াল-জবাবের জন্য বিখ্যাত মহুয়া। তবে আদানি-প্রশ্নে বিজেপিকে বিদ্ধ করার পরিণাম যে এমন হবে তা কি ঘুনাক্ষরেও ভেবেছিলেন মহুয়া। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, স্পিকার ওম বিড়লা তাঁকে বলেছেন, শুক্রবার বেলা ১২টায় লোকসভার স্পিকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবেন এথিক্স কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ বিনোদ সোনকর। তার পরেই স্পিকার ঠিক করবেন, মহুয়া ইস্যুতে কোন পথে এগোতে চলেছে লোকসভা। সুদীপ আরও জানান, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তরফে ওই রিপোর্ট নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়ে রাখা হয়েছে স্পিকারের কাছে। সেই সঙ্গে এ-ও বলা হয়েছে, মহুয়াকে লোকসভার কক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দিতে হবে। এথিক্স কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে যেন কোনওরকম একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয়, সে নিয়েই আবেদন জানানো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মহুয়া মৈত্রের 'চরিত্র' নিয়েই চর্চা স্রেফ! কোথায় গেল আদানির দুর্নীতির প্রশ্নগুলি?

Mahua Moitra : যে এথিক্স কমিটি মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ বাতিলের সুপারিশ করেছে তা স্পিকারের কাছে পৌঁছনোর আগে আদানি অধিগৃহীত এনডিটিভির কাছে কি করে চলে যায়?

তবে অঙ্কের উত্তর বোধহয় এতক্ষণে সকলেরই হাতে চলে এসেছে। কারণ এথিক্স কমিটি যে মহুয়াকে লোকসভা থেকে বহিষ্কারের সুপারিশই করেছে, তা মোটামুটি সকলেই জেনে গিয়েছেন। রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগেই কমিটির একাধিক সদস্য সংবাদমাধ্যমের সামনে বলে দিয়েছেন, তাঁরা ঠিক কী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। ফলে শুক্রবার এথিক্স কমিটির রিপোর্ট পেশ হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই যে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, তা নিয়ে একপ্রকাশ নিশ্চিত লোকসভা। মহুয়ার সাংসদ পদ থাকছে না খারিজ হচ্ছে, তার সিদ্ধান্ত হয়ে যাচ্ছে শুক্রবারই।

বেশ কয়েক মাস ধরেই মহুয়া বিতর্ক চলছে। বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই মহুয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সাপেক্ষে এথিক্স কমিটির রিপোর্ট পেশ করা হবে লোকসভার স্পিকারের টেবিলে। গত সোমবার শুরু হয়েছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। এর মধ্যে চলে গিয়েছে চার-চারটে দিন। কিন্তু এখনও পেশ করা হয়নি সেই রিপোর্ট। এর মধ্যে মহুয়ার পাশে যেমন তাঁর দলের সাংসদেরা দাঁড়িয়েছেন, তেমন বিরোধী দলেরও অনেককেই পাশে পেয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।

অধিবেশন শুরুর আগেই এথিক্স কমিটির রিপোর্টের বিরুদ্ধে লোকভার স্পিকারকে চিঠি লিখেছিলেন কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরী। সংসদের অধিবেশন বসার আগে বিজ়নেস অ্যাডভাইসরি কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আওয়াজ তোলেন অধীর। শুধু কি তাই, এথিক্স কমিটির ‘এক্তিয়ার’ নিয়েই প্রশ্ন তোলেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা স্পিকারকে লেখা চিঠিতে বলেন, এথিক্স কমিটি কখনওই কোনও সাংসদকে বহিষ্কারের সুপারিশ করতে পারে না। এই এক্তিয়ার কেবল রয়েছে লোকসভার স্বাধিকাররক্ষার কমিটির। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অধীরের ওই ‘আক্রমণাত্মক’ ভূমিকার কারণেই সোমবার পেশ করা যায়নি রিপোর্টটি। অধীরের পাশাপাশি বিএসপি সাংসদ দানিশ আলিও মহুয়ার পাশে দাঁড়ান। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ওই রিপোর্টের বিরুদ্ধে সংসদ ভবনের চত্বরে স্লোগানও দেন তিনি। ঘটনাচক্রে, দানিশও এথিক্স কমিটির সদস্য। এর পরেই দেখা যায়, সোমবার লোকসভার আলোচ্যসূচিতে ৫ নম্বরে ওই রিপোর্ট পেশের কথা থাকলেও স্পিকার বিষয়টি উল্লেখই করেননি। ৪ নম্বর আলোচ্যসূচির পরে তিনি সরাসরি চলে যান ৬ নম্বর আলোচ্যসূচিতে ।

সূত্রের খবর, শুক্রবার স্পিকার ওম বিড়লা মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় সায় দিয়েছেন। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেটা জানিয়েও দিয়েছেন তিনি। সুদীপের দাবি, ওই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। ইন্ডিয়া জোটের সব শরিক বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে স্পিকার সব মিলিয়ে আধ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করতে চলেছেন। প্রথমে সরকার পক্ষের একজন প্রস্তাব আকারে এথিক্স কমিটির রিপোর্ট পেশ করবেন। পরে মহুয়াকেও সেটা নিয়ে বলার সময় দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজন পড়লে ধ্বনিভোটে ওই প্রস্তাব পাশ করাতে পারে কেন্দ্র। তবে যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে মহুয়া ইস্যুতে আধঘণ্টার বেশি সময় দিতে রাজি নয় বিজেপি শিবির।

সংসদ পদ হারাতে চলেছেন মহুয়া মৈত্র? কেন এখনও চুপ তৃণমূল?

শুক্রবার লোকসভায় স্পিকারের টেবিলে এথিক্স কমিটি আনুষ্ঠানিক ভাবে যে রিপোর্ট পেশ করবে, তাতে কী বলতে চলেছে তাঁরা? আপাতত সকলের চোখ সেদিকেই। পাশাপাশি তাদের প্রস্তাবের পরে স্পিকারের কী ভূমিকা নেবেন, কৌতূহল রয়েছে তা নিয়েও। তবে খুব বেশি সময়ের অপেক্ষা নয়। শুক্রবার বিকেলের আগেই এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।

এসআইআর: মূল টার্গেট ছিল বাংলা?

SIR West Bengal controversy: এসআইআরের নামে বাংলার নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা কতটা সুপরিকল্পিত? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাল কারচুপি ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্যে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি কতটা?

Garment Workers' Protest in Bangladesh: বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, আন্দোলনের পিছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ সরকারের। কিন্তু শ্রমিকদের অসন্তোষের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি মূল্যবৃদ্ধি ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার ক্ষোভ? সরকারের দাবির পক্ষে কতটা প্রমাণ রয়েছে?

সকালে জমা বিকেলে খরচ: আইনের শাসনের অবমাননা

Gaighata incident: গাইঘাটার ঘটনার পরমুহূর্তে শাসক দলের মন্ত্রী, নেতাদের প্রতিক্রিয়া পরিষ্কার করে দেয়, বন্দি অভিযুক্তকে হত্যার ঘটনা সরকারি নীতির ('সকালে জমা, বিকালে খরচ')—নগ্ন প্রয়োগ।

৫০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত, মোদীর দাবির আড়ালে কোন পরিসংখ্যানগত বিতর্ক?

World Bank's claim about India's poverty decline: বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২২-২৩-এ ভারতের চরম দারিদ্র্য ২৭.১% থেকে ২.৬%-এ নেমেছে বলে দাবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই পরিসংখ্যানকে রাজনৈতিক প্রচারের কাজেও লাগাচ্ছেন। কিন্তু, পরিসংখ্যানের আড়ালে আসল সত্য কি? কি বলছেন অর্থনীতিবিদরা?