দেড় মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড আর্জেন্টিনা, ফ্রান্সকে লড়াইয়ে ফেরালেন এমবাপে
Fifa World Cup 2022 : এমবাপের পায়ের যাদুতে বিস্মিত হয় বিশ্ব। পুরোপুরি ফিরে আসে ফ্রান্স।

তখন আর বাকি মাত্র আর ৯ মিনিট। ঠিক আর আগেই আচমকা খেলা ঘুরিয়ে দিল ফ্রান্স! মাত্র ৯৭ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের ফল সমান-সমান করে ফেললেন কিলিয়ান এমবাপে।
ভালোই চলছিল সবটা। প্রথম অর্ধে আর্জেন্টিনার দুই গোলে পর অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যান ফরাসিরা। এদিকে জিরৌর মতো খেলোয়াড়কে তুলে নেন তাঁদের কোচ। কিন্তু তারপর? খেলা দ্বিতীয়ার্ধে পৌঁছনোর পরও তীব্র লড়াই দিতে শুরু করে নীল-সাদা ব্রিগেড। কিন্তু সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার মতোই আচমকা ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রান্স। তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই পেনাল্টির সুযোগ পায় মেসিদের বিপক্ষের খেলোয়াড়রা। সেখানেই কিস্তিমাত। খলনায়ক নিকোলাস অটেমেন্দির ভুলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। সেখানেই রুখে দাঁড়ান এমবাপে। প্রথম পেনাল্টির সুযোগেই মুশকিল আসান করেন তিনি। ৭৯ মিনিটের মাথায় ১ গোল করে খেলায় ফেরে ফ্রান্স। কিন্তু এরপরেই ঘটে বিস্ফোরণ! ৮১ মিনিটেই ফের গোল! আবারও এমবাপের পায়ের জাদুতে বিস্মিত হয় বিশ্ব। পুরোপুরি ফিরে আসে ফ্রান্স। আর্জেন্টিনার একচ্ছত্র আধিপত্যের কাছেও এগিয়ে যান এমবাপেরা।
খেলার প্রথম থেকেই এদিন তীব্র লড়াইয়ে ছিলেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। মেসিকে আটকাতে কোনও খামতি রাখেননি ফরাসি কোচ। যদিও সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় খানিকক্ষণ পরেই। ফের পেনাল্টিকে কাজে লাগান মেসি। ২৩ মিনিটের মাথায় গোল করে ১-০ স্কোরে এগিয়ে নিয়ে যান নিজের দলকে। এরপর আবার ৩৪ মিনিট নাগাদ মেসির ম্যাজিকে লক্ষ্যভেদ করেন ডি মারিয়া। গোল করেন তিনি। আরও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রথমার্ধ যেতেই আর্জেন্টিনার উপর ঘনিয়ে আসে বিপদ। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের মতোই শেষমুহূর্তে নাস্তানাবুদ হয় লাতিন আমেরিকার এই দেশ। আচমকা চিন্তার কালো মেঘ নামিয়ে আনেন ওয়ামেন্দি। অনেক চেষ্টা করেও ফ্রান্সের পেনাল্টি পাওয়া আটকাতে পারেননি এই খেলোয়াড়। পেনাল্টি পেতেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আসল কাজটা করেই ফেলেন এমবাপে। শুধু পেনাল্টি নয়, এরপরেই ফের গোল করে পুরো পরিবেশ বদলে দেন ফ্রান্সের এই তারকা ফুটবলার।
প্রসঙ্গত, সমগ্র টুর্নামেন্টে বারবার চর্চিত হয়েছেন এমবাপে। একাধিকবার তাঁর খেলা নজর কেড়েছে বিশ্বের। তাঁর গোলে জয় পেয়েছে ফ্রান্স। একের পর এক কঠিন লড়াইয়ে তিনিই হয়েছেন পথ। এমবাপের কৃতিত্বে জেতা ম্যাচও টাইব্রেকারের লড়াইয়ে টেনে নিয়ে গিয়েছে বিপক্ষকে। এবারও তার অন্যথা হল না। চূড়ান্ত লড়াইয়েও ছাপ রাখলেন এমবাপে। শেষমুহূর্তেও দেখিয়ে দিলেন লড়াই কাকে বলে!
ফ্রান্সের (France) অন্যতম ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে উচ্চারিত হয় এমবাপের নাম। এবারের বিশ্বকাপে (Qatar World Cup Final) ফেভারিটের তালিকায় মেসি, নেইমারদের সঙ্গে ছিলেন তিনিও। বরাবর চাপের কাছে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে পারেন এই ফুটবলার। বলা হয়, এযুগের বুদ্ধিমান খেলোয়াড় তিনিই। এদিনও যেন ঠিক সেটাই করলেন কিলিয়ান। অচিরেই দেখিয়ে দিলেন বিপদে পড়লে কীভাবে রক্ষাকর্তা হয়ে উঠতে হয়। প্রথম থেকেই আর্জেন্টিনার (Argentina Messi) দিকে ছিল ম্যাচ। অনেকই বলতে শুরু করেছিলেন, এমবাপে কই! জীরুকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনায় উঠে আসে এমবাপে (Kylian Mbappe) কেন নয়? কিন্তু আর হল কই! মুহূর্তেই দেখিয়ে দিলেন আসল রাজা কাকে বলে। বিশ্বসেরার লড়াইয়ের চরম মুহুর্তের কয়েকমিনিট আগেই লড়াইয়ের কথা স্মরণ করালেন তিনি। দেখিয়ে দিলেন, এভাবে ফিরে আসা বা না আসা গেলেও এভাবে লড়াই করা যায়!







