ভারতের এই বিশেষ নীল মাঠেই শুরু হবে হকির বিশ্বকাপের মহারণ, কেন এমন রং, জানেন?
FIH Hockey World Cup India :

২০২২-এর ডিসেম্বরে শেষ হল ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। ২০২৩-এই আয়োজন করা হবে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের। তার মাঝখানে ফের একবার বিশ্বকাপের দামামা বেজে গেল ভারতে। ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হল হকি বিশ্বকাপ। বিশ্বের সেরা হকির দলগুলির মহারণ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। তার ওপর এবার ভারতে বসছে আসর। সেই ভারত, যে হকির ইতিহাসে একের পর এক কীর্তি রচনা করেছে। অলিম্পিকে সোনা থেকে ধ্যানচাঁদের জাদু, ‘চক দে ইন্ডিয়া’র মন্ত্র অনেক আগে থেকেই বেজেছিল এই দেশে। এখন সেই সোনালি অতীত না থাকলেও একেবারে শক্তি হারায়নি টিম ইন্ডিয়া।
ওড়িশার ভুবনেশ্বরের কলিং স্টেডিয়াম এবং রৌরকেলার বিরসা মুণ্ডা আন্তর্জাতিক হকি স্টেডিয়ামে বসছে এবারের হকি বিশ্বকাপের আসর। এর মধ্যে বিরসা মুণ্ডা স্টেডিয়ামটি একেবারেই নতুন। ইতিমধ্যেই সেই স্টেডিয়ামের ছবি চোখ টেনেছে হকিপ্রেমীদের। বড় স্টেডিয়ামের গ্যালারির লাল আসন, আর মাঝে হকি টার্ফ – শুরু থেকেই অন্য মেজাজ এনে দিচ্ছে। বারবার নজর কেড়েছে মাঝের ওই ঝকঝকে নীল টার্ফ। তবে এমন নীল টার্ফের আগমন কিন্তু খুব পুরনো নয়। বিস্তর ভাবনাচিন্তার পর পুরনো নিয়ম বদলে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে হকিকে। কিন্তু কেন? হঠাৎ এমন নীল টার্ফ আনার কারণই বা কী?
Odisha has come a long way in creating world-class sports infrastructure. Birsa Munda Hockey Stadium will be another feather in the cap.
Under the leadership of Hon’ble CM Shri
, the state is turning into the preferred sporting destination of the world.
— Odisha Sports (@sports_odisha)
নীল টার্ফের আগমন
একটা সময় ছিল, যখন প্রাকৃতিক মাঠেই খেলা হতো হকি। সেই সময়ই ভারতের দাপট ছিল দেখার মতো। সাতটা অলিম্পিক সোনা, একটা রুপো – তাও ৩৬ বছরের মধ্যে। মাঠে নামলে যেন ম্যাজিক শুরু করত ভারতীয় দল। কিন্তু ১৯৭০-এর দশক থেকে একটু একটু করে বদল আসতে শুরু করল। সেই সময়ই হকির আঙিনায় নেমে এল অ্যাস্ট্রোটার্ফ, অর্থাৎ কৃত্রিম মাঠ। তারপর থেকে আজও সেই কৃত্রিম মাঠেই হকি খেলা হয়। খেলার গতি বাড়ল, শারীরিক ক্ষমতাও বাড়াতে হল।
২০১২ সালের অলিম্পিকের সময় ফের একবার বদল নেমে এল হকিতে। এবার অবশ্য গোটা মাঠ নয়, টার্ফের রং বদল হল। অ্যাস্ট্রোটার্ফের রং হয়ে গেল নীল, বলের রং উজ্জ্বল হলুদ। পুরনো সাবেকি দর্শকরা অবশ্য এতে একটু অসন্তুষ্টই হলেন। এমন চোখে ঝাপটা মারা নীল রং, এমন বল – চিরাচরিত ব্যাপারটিকে রাতারাতি বদলে দেওয়া হচ্ছে কেন? কিন্তু আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন এই ব্যাপারটিই লাগু করে। তার পিছনে ছিল মূলত দুটি কারণ।
কেন নীল রং?
প্রথমত ও প্রধানত, দর্শক টানা। ক্রিকেট কিংবা ফুটবলের তুলনায় হকির দর্শকের সংখ্যা অনেক কম। টিভির সামনে বসে রাত জেগে, খাওয়া দাওয়া ভুলে হকি খেলা দেখা, এটা সাধারণত কখনই দেখা যায় না। কেন? বিশেষজ্ঞরা বলছে, আগে যে রঙের অ্যাস্ট্রোটার্ফে হকি খেলা হতো, তা বেশিরভাগ দর্শকই সেভাবে পছন্দ করত না। বল এমনিতেই ছোট, তার ওপর হকি দ্রুতগতির খেলা। সেখানে বলের পজিশন, খেলার গতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে দর্শকও একটা সময় পর ঝিমিয়ে পড়েন। বিশেষ করে, নতুন প্রজন্ম হকির থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়েছিল।
সেই জায়গায় গাঢ় নীল রঙের অ্যাস্ট্রোটার্ফের ওপর উজ্জ্বল হলুদ রঙের বল থাকলে সেটা টিভি হোক বা স্টেডিয়াম – দেখতে অনেকটা ভালো লাগে। একটা আকর্ষণীয় ব্যাপার চলে আসে। মূলত সেজন্যই নীল রং করা হয় টার্ফকে।
দ্বিতীয়ত, নীল টার্ফের ওপরে থাকে জল। কেন? কারণ এই জলের কারণে খেলোয়াড়রাও দ্রুতগতিতে দৌড়তে পারেন। সেইসঙ্গে বল নিয়ে হকিস্টিক দিয়ে মারলে জলের ফোয়ারা ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে। হাইলাইটে, স্লো মোশনে কিংবা ছবি তোলার সময় যে দৃশ্যটি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ক্রিকেট, ফুটবলের পাশাপাশি হকিও যাতে আকর্ষণীয় হয়, যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যায়, সেজন্যই এমন পদক্ষেপ। এর ফলে কাজও দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের একাংশ হকির দিকে মুখ ফিরিয়েছেন। তাই সেই নীল টার্ফ এখনও জারি আছে।






