হ্যান্ড অব গড থেকে জিদানের গুঁতো, বিশ্বকাপ ফাইনালের চমকে দেওয়া মুহূর্ত ভোলা যায় না আজও

World Cup Football Final 2022: ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের সব থেকে বড় অঘটন। সে বছরের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে প্রথমবার ফাইনালে পৌঁছেছিল ব্রাজিল।

Sourish Das
৫ মিনিট
হ্যান্ড অব গড থেকে জিদানের গুঁতো, বিশ্বকাপ ফাইনালের চমকে দেওয়া মুহূর্ত ভোলা যায় না আজও

রবিবারই ভাগ্য বিচার হবে ২০২২ কাতার ফুটবল বিশ্বকাপের। প্রিয় দলকে সমর্থন দিতে আর ফুটবলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে আবারও জেগে উঠবে গোটা বিশ্ব। হয়তো কয়েকজনের মনে রয়েছে প্রিয় দলের চলে যাওয়ার বেদনা। কিন্তু, মেসি বনাম এমবাপে, দুই পিএসজি তারকার নিজের দেশের জন্য লড়াই দেখার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন সবাই। ৯২ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে কত শত ঘটনাই না ঘটেছে মনে রাখার মতো। কত গল্পই না রচিত হয়েছে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে। কত ঘটনা পেয়েছে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই।

১৯৩০ : আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব বিজেতা উরুগুয়ে

১৯৩০ সালের উদ্বোধনী টুর্নামেন্টে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোল করেছিলেন ফ্রান্সের ফরওয়ার্ড লুসিয়েন লরেন্ট। তবে আয়োজকদের উরুগুয়ে ছিল সেই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট। তার উপর ১৯২৮ সালে আমস্টারডামে আয়োজিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সোনা জিতে সেই সময় বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দল উরুগুয়ে। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে পরাস্ত করে সে বছর বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল উরুগুয়ে। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্মরণীয় থেকে যান ফ্রান্সের সেই ফরওয়ার্ড। পরবর্তীকালে একটি মিডিয়া সাক্ষাৎকারে লরেন্ট বলেছিলেন,

"আমি যখন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করি, তখন আমি জানতাম না এতটা জনপ্রিয়তা পাবে ফুটবল বিশ্বকাপ। সেই সময় ফুটবল নিয়ে বিশেষ একটা উন্মাদনা ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে সেই একটি গোল স্মরণীয় হয়ে রইল ইতিহাসের পাতায়।"

১৯৫০ : অভিশপ্ত মারাকানা

সম্ভবত, ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের সব থেকে বড় অঘটন। সে বছরের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে প্রথমবার ফাইনালে পৌঁছেছিল ব্রাজিল। এই একটি ম্যাচের জন্য ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ১,৭৩,৮৫০ জন উপস্থিত হয়েছিলেন এক জায়গায়। রিও ডি জেনিরোতে এই ফাইনালে নিজের দেশকে সমর্থনের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন বিপুলসংখ্যক ব্রাজিলিয়ানরা। ফিফার রেকর্ড অনুযায়ী, এই ম্যাচটি ছিল ইতিহাসের সব থেকে বেশি দর্শক সম্বলিত ফুটবল ম্যাচ। কিন্তু সেই ফাইনাল ম্যাচেই ঘটে অঘটন। ঘরের মাঠে ফেভারিট ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলে নেয় উরুগুয়ে। ৭৯ তম মিনিটে গোলটি করে প্রায় দুই লক্ষ দর্শককে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড আলসিদেস ঘিগিয়া। এটি ছিল ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপ, যেখানে কোনও সঠিক ফাইনাল ম্যাচ আয়োজিত হয়নি। ফাইনাল গ্রুপ পর্বের চার দলের মধ্যে লীগ পদ্ধতিতে শিরোপা নির্ধারিত হয়েছিল এই টুর্নামেন্টে।

১৯৫৪ : বার্ণের বিস্ময়

১৯৫৪ বিশ্বকাপটি ছিল সেই বিশ্বকাপ যেখানে পুসকাসের হাঙ্গেরিকে হারিয়ে নতুন রূপকথার জন্ম দিয়েছিল পশ্চিম জার্মানি। যদি ১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরি জয়লাভ করতো তাহলে হয়তো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলের তালিকায় পেলে কিংবা মারাদোনার আগে নাম থাকতে পারতো হাঙ্গেরির কিংবদন্তি ফুটবলার পুসকাসের। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরি এতটাই অপ্রতিরোধ্য ছিল যে সেই বিশ্বকাপে হাঙ্গেরি গোল করেছিল ২৭ টি! এখনও পর্যন্ত এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল সেটাই। যে দলকে গ্রুপ পর্বে ৮-৩ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল হাঙ্গেরি, সেই পশ্চিম জার্মানির কাছেই ফাইনালে পরাজিত হতে হয়েছিল হাঙ্গেরিকে।

যদিও এদিন ভাগ্যদেবতা ছিল জার্মানির সঙ্গে। ৮৪ মিনিটে স্রোতের বিপরীতে অধিনায়ক ওয়াল্টারের কর্নার কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে সেই বিশ্বকাপের হিরো হয়ে উঠেছিলেন জার্মানির হেলমুট রান। ৮৬ মিনিটের মাথায় পুসকাস সেই গোল ফেরত দিয়েছিলেন, তবে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বিশ্বকাপ ছিটকে যায় পুসকাসের হাত থেকে। আর জার্মানদের প্রথম মহানায়ক হয়ে ওঠেন বার্ন।

১৯৫৮ : ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির আবির্ভাব

১৯৯৮ বিশ্বকাপটা ছিল ব্রাজিলের জন্য সব থেকে স্মরণীয়। সে বছরের বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের হয়ে গোল করেছিলেন ফুটবলের মহাতারকা পেলে। তাও আবার সেই গোলটি করেছিলেন একেবারে ফাইনাল ম্যাচে। সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে এই আবির্ভাব হয়েছিল ব্রাজিলের এই কিংবদন্তির। সুইডেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে ৫-২ গোলে জয়লাভ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছিল ব্রাজিল। আর চোখে আনন্দাশ্রু নিয়ে সোনালি ট্রফিটি হাতে তুলেছিলেন পেলে।

১৯৬২ : ব্যাটেল অব সান্তিয়াগো

ফাইনাল ম্যাচের ঘটনা না হলেও, ফুটবলের স্মরণীয় ঘটনার তালিকায় এই ম্যাচটিকে থাকতেই হবে। ১৯৬২ সালের ২ জুন গ্রুপ পর্বের ম্যাচে চিলি মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির। ইতিহাসের পাতায় ম্যাচটি ঠাঁই করে নিয়েছিল ব্যাটেল অব সান্তিয়াগো নামে। আক্ষরিক অর্থেই যেন ম্যাচে যুদ্ধ হয়েছিল সেদিন। মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়রা বারবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন হয়ে উঠেছিল যে, ফুটবলারদের শান্ত করতে তিনবার মাঠে প্রবেশ করেছিল পুলিশ। ফুটবলের ইতিহাসে এরকম ঘটনা আর নেই বললেই চলে।

১৯৬৬ : ইংল্যান্ডের বিশ্ববিজয়

যে দেশে ফুটবলের জন্ম হয়েছিল এতদিন পর্যন্ত সেই দেশই বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পারেনি। তবে এই ছবিটা পাল্টেছিল ১৯৬৬ সালে। সে বছরের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে পশ্চিম জার্মানিকে ফাইনালে পরাস্ত করে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেছিল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচটি ছিল ব্রিটেনের টেলিভিশন ইভেন্ট ইতিহাসের সব থেকে বেশি দেখা অনুষ্ঠান। ৯০ মিনিটের খেলা শেষে যখন দু'টি দল ২-২ ব্যবধানে শেষ করেছিল, সেই সময় প্রয়োজন হয়েছিল এক্সট্রা টাইমের। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইংল্যান্ডের প্রথিতযশা ফুটবলার জিঅফ হারস্ট। ৪-২ ব্যবধানে পশ্চিম জার্মানিকে পরাস্ত করে ট্রফি ঘরে তুলেছিল ইংল্যান্ড।

১৯৮৬ : 'ঈশ্বরের হাতে' মারাদোনার বিশ্ববিজয়

১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয় করেছিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা। ফাইনাল ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফাইনালে হয়তো মারাদোনা গোল পাননি, তবে ব্রাউন, ভালদানো, ও বুরুচাগার থেকেও বেশি আলোচনায় ছিলেন মারাদোনা। নেপথ্যে, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের একটি ম্যাচ।

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের ম্যাচে যেন জাদু দেখিয়েছিলেন মারাদোনা। তবে এই ম্যাচের ৫১ তম মিনিটে করা তাঁর প্রথম গোল ছিল প্রবল বিতর্কিত। রেফারির চোখ ফাঁকি দিয়ে লাফিয়ে হেডের ভঙ্গিমায় হাত দিয়ে তিনি জালে পাঠিয়েছিলেন বল! ফুটবলের ইতিহাসে এটি 'হ্যান্ড অব গড' নামেই পরিচিত। তবে মাত্র ৪ মিনিট পর আট জনকে কাটিয়ে সেই মারাদোনাই ফুটবল বিশ্বকে উপহার দিয়েছিলেন এক দুর্দান্ত গোল। এই গোলটি পরিচিত হয়েছিল 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি' নামে। বিশ্বকাপ তো বটেই, বিশ্ব ফুটবলের সব থেকে আইকনিক মুহূর্তের মধ্যে একটি ছিল এই দু'টি মুহূর্ত।

১৯৯৮ : ফ্রান্সের উত্থান

১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে যেন এক মহাকাব্য রচনা করেছিল দিদিয়ের দেশ্চাম্পের ফ্রান্স। ফাইনাল ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জ্বলে উঠেছিলেন ফ্রান্সের ইতিহাসের সব থেকে আইকনিক ফুটবলার জিনেদিন জিদান। ২৭ মিনিট ও ৪৫ মিনিটের মাথায় করা দু'টি গোল পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিয়েছিল সেলেকাওদের। ৬৮ মিনিটের মাথায় দেসিয়ালি লাল কার্ড দেখে বাইরে গেলেও, সুবিধা করতে পারেননি রোনাল্ডোরা। রিকি মার্টিনের কথায় 'দ্য কাপ অব লাইফ' কে সঙ্গে করে ইতিহাস গড়েছিল ফরাসিরা।

২০০৬ : জিদানের ধাক্কা

পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জিনেদিন জিদান ফাইনালে প্রথম থেকেই আগুন ঝরাতে শুরু করেন। ম্যাচে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ফ্যাবিয়া ক্যানাবেরার ইতালি। অবস্থার প্রতিকূলে চলে যাওয়ায় কূটকৌশলে জিদানকে সবার অন্তরালে খেপিয়ে তোলেন ইতালি ডিফেন্ডার মাতারাজ্জি। রীতিমতো গালাগাল দিতে শুরু করেন ফরাসি প্রাণভোমরার পরিবার নিয়ে। লিপ রিডিং বিশেষজ্ঞরা বলেন, সেই ম্যাচে জিদানের বোনকে নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করেছিলেন মাতারাজ্জি। আর সেখানেই ভেঙে যায় জিদানের ধৈর্যের বাঁধ।

মেজাজ হারিয়ে মাতারাজ্জির বুকে মাথা দিয়ে সজোরে আঘাত করেন জিদান। অনিবার্যভাবেই শাস্তি হিসেবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় জিদানকে। বিশ্বকাপ ফুটবলে ফাইনালে লাল কার্ড দেখা চতুর্থ ফুটবলার হয়ে ওঠেন জিদান। আর সেই ঘটনার সুযোগ নিয়ে পেনাল্টিতে ফ্রান্সকে পরাজিত করে বিশ্ববিজেতা হয় ইতালি।

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।