হরমুজ প্রণালী ব্যবহারে ভারতকে অনুমতি ইরানের?
Hormuz: কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, ইরান নাকি ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু এই খবর এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎই খবর ছড়ায়, ইরান নাকি ভারতীয় জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এই খবরকে এখনও নিশ্চিত বলে মানতে রাজি নয় ভারত সরকার। কেন্দ্রের মতে, এখনই এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো বা নিশ্চিতভাবে কিছু বলা খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে।
কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল ইরান নাকি ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু দিল্লির মতে, এই খবর এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই এখনই এই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
LPG Shortage Hits West Bengal Schools: কলকাতা শহরের কিছু স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, হঠাৎ করেই এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হরনাথ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, তাঁদের হোস্টেলে ১০০-র বেশি ছাত্র থাকে, যাদের চারবেলা খাবারের দায়িত্ব স্কুলের। হঠাৎ গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং বাজারে সিলিন্ডার না পাওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে।
এই প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। পশ্চিম এশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এই পথ দিয়েই বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। ভারতের ক্ষেত্রেও এই পথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, কারণ দেশের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই সমুদ্রপথ দিয়েই আসে। তাই এই রুটে অস্থিরতা তৈরি হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যের উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বাড়তে থাকায় হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগও বেড়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে বহু জাহাজ ওই এলাকায় আটকে পড়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় অনেক জাহাজ সংস্থা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Hormuz Strait Crisis: ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর সরকার তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল। তখন ভারতের তেল আমদানির নির্ভরতা ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ। লক্ষ্য ছিল তা কমিয়ে দুই-তৃতীয়াংশে নামানো। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো।
ভারত সরকার ইতোমধ্যেই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বলেও জানা গিয়েছে। আলোচনায় মূলত জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভারতমুখী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ওড়িশার জাজপুর জেলার চণ্ডিখোলের কাছে দানকারি পাহাড়ে প্রস্তাবিত ‘স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছিল ২০১৮ সালে।
এদিকে ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বেশ কিছু ভারতীয় জাহাজ আটকে পড়েছে বলেও বিভিন্ন খবর সামনে এসেছে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভারত সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছে।
অর্থাৎ, ইরান ভারতীয় জাহাজকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে অনুমতি দিয়েছে, এমন দাবি এখনই নিশ্চিত করে বলতে চাইছে না কেন্দ্র। দিল্লির বক্তব্য, পরিস্থিতি জটিল এবং দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই সরকারি ভাবে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এই ধরনের খবরকে চূড়ান্ত বলে ধরা ঠিক হবে না। আপাতত ভারত কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।





