সংকীর্তন

Anasuya Sen
৪ মিনিট
সংকীর্তন

হিন্দী ও দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার বিখ্যাত নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী এস-পি-বালাসুব্রাহ্মনিয়ম পরলোকগমন করেছেন আজ প্রায় একবছর হতে চললো | দক্ষিণভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের নেলোর গ্রামের কাছে এক গোঁড়া তেলেগু ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯৪৬ সালের ৪ঠা জুন | তাঁর পিত এস-পি সাম্বামূর্ত্তি ছিলেন সে অঞ্চলের এক জনপ্রিয় গায়ক ও শিল্পী যিনি অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ভক্ত শ্রোতাদের 'হরিকথা' পরিবেশন করতেন | এক চিত্তাকর্ষক ভঙ্গীতে গল্প শোনাতে শোনাতে কাব্য, কণ্ঠসঙ্গীত, নাট্যাভিনয় ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি দর্শক শ্রোতাদের সামনে শ্রীমদ্ভাগবত পুরানের অসামান্য দর্শন ও ধর্মশিক্ষাকে সহজ, সরল ও বোধগম্যভাবে তুলে ধরতেন |

সংবাদপত্র থেকে একথা অবগত হওয়া মাত্র আমার স্মৃতিপটে ভেসে উঠল শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলা-সংকীর্তনের এক ঘরোয়া আসরের কথা | বছর তিনেক আগে আমার এক বন্ধুর ঠাকুমার শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রিত ওই, বীরভূম জেলার সিউড়িতে গেছিলাম | নিয়মভঙ্গের অনুষ্ঠানের দিন সন্ধ্যাবেলা বাড়ীর প্রশস্ত উঠোনে সামিয়ানা খাটিয়ে সংকীর্তনের আসর বসানো হয়েছিল | উঠোনের মাঝখানে ছিল একটি সুউচ্চ বাঁধানো তুলসী মঞ্চ | মঞ্চটি ফুল-মালা দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল | তুলসী মঞ্চে সন্ধ্যাপ্রদীপ ও ধূপ প্রজ্জ্বলিত করে, শাঁখ বাজিয়ে সমবেত প্রণাম নিবেদনের পর তাদের পরিবারের লোকজন, অতিথিরা এবং পল্লীবাসীরা মাটিতে পাতা গালিচার উপর চারপাশ জুড়ে বসলেন | তুলসীমঞ্চের সামনে বিশেষ আসন গ্রহণ করলেন কথক ঠাকুর তথা কীর্তন গায়ক এবং তাঁর সঙ্গতকারী এক বংশীবাদক |

আমার বন্ধুর বাবা তাঁদের দুজনকে প্রণাম করলেন এবং গলায় রজনীগন্ধা ফুলের গোড়ের মালা পরিয়ে দিলেন | চারপাশ থেকে বেজে উঠল শাঁখ, সমবেত উলুধ্বনি ও হরি-হরি বোল-এর প্রণামাতানো পরিবেশে, শুরু হলো 'শ্রীরাধার মানভঞ্জন পালা' | শিল্পীরা প্রথমেই গৃহস্থ দেব-দেবীদের উদ্দেশ্যে, গ্রামস্থ দেব-দেবীদের উদ্দেশ্যে প্রণাম জানানোর পর উচ্চঃস্বরে গেয়ে উঠলেন জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর জয়, জয় প্রভুনিত্যানন্দের জয়, জয় শ্রী অদ্বৈত মহাপ্রভুর জয়, জয় শ্রীবাসাদি গৌরাঙ্গ পার্ষদদের জয়, হরি-হরি-বোল, হরি-হরি-বোল | এরপর মূল গায়েন শুরু করলেন গৌরচন্দ্রিকা | তার পর এলেন পালা কীর্তনের সূচনা-পর্বে | ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপড়ে শ্রীরাধা কেন মান করেছিলেন এবং শ্রীকৃষ্ণ কেমন করে, কত অনুনয়ে-বিনয়ে শ্রীরাধার মান ভঞ্জন করেছিলেন সেটাই ছিল পালা গানের উপজীব্য | এই পালাগানের অসামান্য অভিনয়ের হাত ধরে অতি সাবলীল ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সময়ে সময়ে হাজির হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের প্রানপ্রিয় সখারা, শ্রীরাধার অষ্টসখীবৃন্দ | আবির্ভুত হচ্ছেন নারদ ঋষি তাঁর বিনা নিয়ে, আবির্ভুত হচ্ছেন ভগবান শিব এবং আরও কত দেব-দেবী | একজনমাত্র কীর্তনগায়ক গলায় শ্রীখোল ঝুলিয়ে সুন্দর বাদন, সুউচ্চ অভিনয় দক্ষতা, কথাকত, সঙ্গীতের সুরের আরোহন অবরোহন এবং কণ্ঠ- লালিত্যের অপূর্ব উপস্থাপনা ও মনোমুগ্ধকর নৃত্য (স্ত্রী এবং পুরুষ উভয় ভূমিকায়) পরিবেশনের মাধ্যমে দর্শক শ্রোতাদের ভক্তিরসে আপ্লুত করতে পারেন এবং চোখের জলে ভাসিয়ে দিতে পারেন ----- তা স্বচক্ষে না দেখলে কোনদিন উপলব্ধি হতো না | এরই সঙ্গে কাব্য-নাট্যের Situation - এর সাথে সঙ্গতি রেখে বাঁশির সুরে অসামান্য আবহ -সঙ্গীত পরিবেশন করলেন বংশীবাদক | কোনও প্রশংসায়ই যথেষ্ট নয় তাঁর জন্য |

পালা-নাট্যের মধ্যবর্তী পর্বে এলো সেই কাহিনী যেখানে শ্রীকৃষ্ণ শিক্ষা দিচ্ছেন ----- কেন অভিমান বর্জন করা উচিত | পর্বটি এরকম----- শ্রীকৃষ্ণ প্রচুর অনুনয় বিনয় করেছেন শ্রীরাধার অভিমান ভাঙ্গানোর জন্য | কিন্তু শতঅনুরোধেও শ্রীরাধার মন পাচ্ছেন না | এমন সময় আকাশের দিকে ইঙ্গিত করে শ্রীকৃষ্ণ বললেন শ্রীরাধাকে ------ দ্যাখো প্রিয়ে আমার গভীর ভালবাসা বর্ষার ঘনঘোর কৃষ্ণবর্ণ মেঘের অবিশ্রান্ত বারিধারা হয়ে তোমার উপড় ধরে পড়তে চেয়েছিল | কিন্তু তোমার মানপাবনের প্রচন্ড বাতাসের আঘাতে সেই বারিপূর্ণ মেঘমালা উড়ে চলে গেল আর তুমি স্নিগ্ধবর্ষণ হতে বঞ্চিত রয়ে গেলে |

এই অপূর্ব কাব্য-নাট্য-সঙ্গীতের উপস্থাপনা দেখে ও শুনে সকলে হরি-হরি-বোল, হরি-হরি-বোল ধ্বনি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করলেন | এ এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা | গ্রামবাংলার এক শিল্পীর পক্ষে Performing Art -এর উপস্থাপনায় অতি উচ্চ নিদর্শন | এই প্রকারে দর্শক শ্রোতাদের শ্রদ্ধা ভক্তিকে কত সহজ সরল ভাবে ঈশ্বরের পাদপদ্যে পৌছিয়ে দেওয়া যায় |

'সঙ্গীতের মুক্তি' প্রবন্ধে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন ---- 'চৈতন্যের আবির্ভাবে বাংলাদেশে বৈষ্ণব ধর্ম যে হিল্লোল তুলিয়াছিল সে একটা শাস্ত্রছাড়া ব্যাপার | তাহাতে মানুষের মুক্তি-পাওয়া চিত্ত ভক্তিরসের আবেগে আত্মপ্রকাশ করিতে ব্যাকুল হইল | সেই অবস্থায় মানুষ কেবল স্থাবরভাবে ভোগ করে না, অচল ভাবে সৃষ্টি করে | এই জন্য সেদিন কাব্যে ও সঙ্গীতে বাঙালি আত্মপ্রকাশ করিতে বসিল, তখন পয়ার ত্রিপদীর বাঁধা ছন্দে প্রচলিত রাধাকাহিনী পুনঃপুনঃ আবৃত্তি করা আর চলিল না | বাঁধন ভাঙিল----- সেই বাঁধন ভাঙা বস্তুত প্রলয় নহে, তাহার সৃষ্টির উদ্দম আকাশে নীহারিকার যে ব্যাপকতা তার একটা অপরূপ মহিমা আছে | কিন্তু সৃষ্টির অভিব্যক্তি সেই ব্যাপকতায় নহে | প্রত্যেকে তারা আপনাকে আপনি স্বতন্ত্র হইয়া নক্ষত্রলোকের বিরাট ঐক্যকে যখন বিচিত্র কোরিয়া তোলে, তখন তাহাতেই সৃষ্টির পরিণতি | বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব কাব্যেই সেই বৈচিত্র চেষ্টা প্রথম দেখিতে পাই | সাহিত্যে এই রূপ স্বাতন্ত্র্যে উদ্যোমকেই ইংরেজিতে 'রোমান্টিক মুভমেন্ট' বলে | এই স্বাতন্ত্র্যে চেষ্টা কেবল কাব্য ছন্দের মধ্যে নয়, সঙ্গীতেও দেখা দিল |”

রবীন্দ্রনাথ আরও লিখেছেন ----- "বাংলায় একদিন বৈষ্ণবভাবের প্রাবল্যে ধর্মসাধনায় বা ধর্মরসভোগে একটা ডিমোক্রেসি যুগ এলো | সেদিন সম্মিলিত চিত্তের আবেগের সম্মিলিত কণ্ঠে প্রকাশ পেতে চেয়েছিল | সে প্রকাশ সভার আসরে নয়, রাস্তায় ঘাটে | বাংলার কীর্তনের সেই জনসাধারণের ভাবছ্বাস গলায় মেলাবার খুব একটা প্রশস্থ জায়গা হলো |"

কলকাতার বরানগর পাঠবাড়ির সেবা - প্রতিষ্ঠাতা পরম বৈষ্ণব রামদাস বাবাজি (১৮৭৬ - ১৯৫৩ ) বলেছেন ----- " শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু প্রবর্তিত নাম সংকীর্তনে ইর্ষা , দ্বেষ , জাতপাতের বিভেদ আদি মুছে গিয়ে প্রেমের উদয় হয় | ক্রমে মানুষের অন্তরে বিস্মৃত কৃষ্ণ- স্মৃতি জাগে | তারপর দেখে বিশ্বজুড়ে সবি ,সবাই কৃষ্ণদাস | তখন নিখিল বিশ্বের সবকিছুই ' আমার প্রভুর ' এ বোধ আসবে | বিশ্ব বৈষ্ণবের সেবা করে ধন্য হবে , সুখী হবে | "

প্রকৃত পক্ষে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু দেশের বুকে একটি সমাজবিপ্লব সৃষ্টি করেছিলেন | সেই বিপ্লবের অভিঘাতে শুধু ধর্ম-দর্শন চর্চায় নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে, শিল্প-সাহিত্য-নাট্য-সঙ্গীত চর্চার জগতে এক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল | নিত্য-নতুন সৃষ্টির দ্বার খুলে গিয়েছিল | সেই বিপ্লবের ঢেউ শুধুমাত্র বঙ্গভূমিকে আলোড়িত করেনি, ওড়িষ্যাপ্রদেশ এবং দক্ষিণভারতেও সেই ঢেউ আছড়ে পড়েছিল | মহাপ্রভুর অনুগামীদের হাত ধরে সেই আন্দোলন ত্রিপুরা এবং মণিপুর রাজ্যও গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল | সেই আন্দোলনের প্রভাব সমগ্র দেশেই ছড়িয়ে পড়েছিল | কিঞ্চিৎ স্তিমিত ভাবে হলেও, আজও সেই আন্দোলন জাগরুক আছে |

বৈষ্ণব ভক্তদের মোতে নয় প্রকার ভক্তির মধ্যে নামসংকীর্তনই সর্বশ্রেষ্ঠ | শ্রীকৃষ্ণের নাম আর নামী (অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং) অভিন্ন | কীর্তনীয়াদের কাজ হলো নামীকে মাটির মানুষের কাছে নামিয়ে এনে তাঁর কৃপামধুর্য্য বিতরণ করা | এযুগে এর চাইতে মহত্তর দান আর নেই | পরম বস্তু নিজে ভোগ না করে যে অপরকে বিলায়, সেই তো প্রকৃত বৈষ্ণব |

Source: “Songitchinta” By Rabindranath Tagore and Newspaper

লিখেছেন
Anasuya Sen
Anasuya Sen
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।