ইজরায়েলের আগ্রাসন ভয় ছড়িয়েছে ভারতে?
Hindutva Support for Israel’s Gaza War: হিন্দুত্ববাদীদের বয়ানে বারবার এমন একটা আভাস ছিল যেন সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধেও একইভাবে বলপ্রয়োগ হতে পারে। আর যৌক্তিক নাগরিক সমাজ হয়ে উঠেছে দেশদ্রোহী।

গত কয়েক মাসজুড়ে ইজরায়েলের আগ্রাসন আর গণহত্যা শুধু মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকেনি। খবরের শিরোনাম, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, রাজনৈতিক মন্তব্য— সবকিছুই বৃহত্তর সমাজকে এক সংঘাতময় পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। অতীতে বারবার এই ধরনের পরিস্থিতিতে ভারত প্যালেস্টাইনের প্রতি সমানুভূতি প্রকাশ করেছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আলাদা। অতীতে সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। ভারত বিদ্বেষের বাস্তুতন্ত্রের এই ছবি দেখেনি। গোদি মিডিয়া এবং শাসক দলের হিন্দুত্ববাদী ধারা এত মানুষের মনদখলে সক্রিয় ছিল না।
অবশ্য হিন্দুত্ববাদী নেতারা বহু বছর ধরেই ইজরায়েল ও জায়নবাদের ভাবধারাকে সমর্থন করে আসছেন। ভি ডি সাভারকর ও এম এস গোলওয়ালকর একসময় বলেছিলেন, ইজরায়েলের 'এক জাতি, এক ধর্ম' ধারণা ভারতের জন্য একটি উদাহরণ। আজ সেই ধারণা আবার জোরালোভাবে ফিরে এসেছে, বিশেষ করে বিজেপি ও তাদের ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলোর সমর্থকদের মধ্যে। এর প্রভাব সামান্য নয়— এটা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আচরণের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gaza Crisis: নিহতদের মধ্যে ১,০২৯ জনের বয়স এক বছরের নিচে, ৫,০৩১ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম, আর ৪২০ জন শিশু যুদ্ধের মাঝেই জন্ম নিয়ে মারা গিয়েছে। ১,১০২ জন শিশু যুদ্ধের কারণে হাত বা পা হারিয়েছে।
গাজায় যুদ্ধ শুরু হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা হ্যাশট্যাগ ছড়িয়ে পড়েছে, যেমন #IndiaStandsWithIsrael এবং #HindusWithIsrael। অনেক ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) পোস্টে গাজার ধ্বংসযজ্ঞকে ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই’ বলেও দাবি করেছে। গাজার নিরীহ মানুষদের মৃত্যু, শিশু ও মহিলাদের উপর হামলার ছবি পর্যন্ত বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। এই প্রচারণা শুধু মতামত প্রকাশ নয়, বরং মুসলিমদের প্রতি ঘৃণার আগুনকে আরও উস্কে দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমবিরোধী মন্তব্য, বক্তব্য এবং ঘৃণার প্রচার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গিয়েছে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, ভারতের অনেক মুসলিম তরুণ, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী এখন গাজার পাশে দাঁড়ানোর কথা প্রকাশ করতেও ভয় পেয়েছে। ফিলিস্তিনি পতাকা দেখানো, প্রার্থনা করা বা একটি ইমোজি ব্যবহার করে প্যালেস্টাইনের পক্ষে কথা বললেও, তাদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে, অনেকেই চুপ করে থাকার পথই বেছে নিয়েছেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Israel’s killing of journalists: ইজরায়েল ১৯৬৭ সালে দখলদারিত্বের প্রথম দিন থেকেই, মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের উপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চেয়েছে। পরে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে সেন্সরশিপ আনা হয়।
কূটনীতিবিদরা বলছেন, আসলে প্যালেস্টাইনে ইজরায়েলের ধ্বংসলীলাকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে হিন্দুত্ববাদীদের হাত শক্ত হয়েছে। মুসলিম সমাজকে লাগাতার কোনঠাসা করা হয়েছে।
হিন্দুত্ববাদীদের বয়ানে বারবার এমন একটা আভাস ছিল যেন সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধেও একইভাবে বলপ্রয়োগ হতে পারে। আর যৌক্তিক নাগরিক সমাজ হয়ে উঠেছে দেশদ্রোহী।
কিন্তু ভারতের সমাজের চিরকালীন বুনোট বা সাংবিধানিক কাঠামো কিন্তু এই পরিবেশের পক্ষে নয়। মানুষের প্রতি সহানুভূতি, ন্যায়ে আস্থা, যুদ্ধবিরোধিতা কেন অন্যায় হয়ে দাঁড়াল, প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে নাগরিক সমাজকেই।
(মতামতের দায় ব্যক্তিগত)







