ইজরায়েলের আগ্রাসন ভয় ছড়িয়েছে ভারতে?

Hindutva Support for Israel’s Gaza War: হিন্দুত্ববাদীদের বয়ানে বারবার এমন একটা আভাস ছিল যেন সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধেও একইভাবে বলপ্রয়োগ হতে পারে। আর যৌক্তিক নাগরিক সমাজ হয়ে উঠেছে দেশদ্রোহী।

Tanvia Barua
২ মিনিট
ইজরায়েলের আগ্রাসন ভয় ছড়িয়েছে ভারতে?

গত কয়েক মাসজুড়ে ইজরায়েলের আগ্রাসন আর গণহত্যা শুধু মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকেনি। খবরের শিরোনাম, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, রাজনৈতিক মন্তব্য— সবকিছুই বৃহত্তর সমাজকে এক সংঘাতময় পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। অতীতে বারবার এই ধরনের পরিস্থিতিতে ভারত প্যালেস্টাইনের প্রতি সমানুভূতি প্রকাশ করেছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আলাদা। অতীতে সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। ভারত বিদ্বেষের বাস্তুতন্ত্রের এই ছবি দেখেনি। গোদি মিডিয়া এবং শাসক দলের হিন্দুত্ববাদী ধারা এত মানুষের মনদখলে সক্রিয় ছিল না।

অবশ্য হিন্দুত্ববাদী নেতারা বহু বছর ধরেই ইজরায়েল ও জায়নবাদের ভাবধারাকে সমর্থন করে আসছেন। ভি ডি সাভারকর ও এম এস গোলওয়ালকর একসময় বলেছিলেন, ইজরায়েলের 'এক জাতি, এক ধর্ম' ধারণা ভারতের জন্য একটি উদাহরণ। আজ সেই ধারণা আবার জোরালোভাবে ফিরে এসেছে, বিশেষ করে বিজেপি ও তাদের ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলোর সমর্থকদের মধ্যে। এর প্রভাব সামান্য নয়— এটা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আচরণের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজায় প্রতি ৫২ মিনিটে একজন শিশুর মৃত্যু! সামনে এল যে তথ্য

Gaza Crisis: নিহতদের মধ্যে ১,০২৯ জনের বয়স এক বছরের নিচে, ৫,০৩১ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম, আর ৪২০ জন শিশু যুদ্ধের মাঝেই জন্ম নিয়ে মারা গিয়েছে। ১,১০২ জন শিশু যুদ্ধের কারণে হাত বা পা হারিয়েছে।

গাজায় যুদ্ধ শুরু হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা হ্যাশট্যাগ ছড়িয়ে পড়েছে, যেমন #IndiaStandsWithIsrael এবং #HindusWithIsrael। অনেক ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) পোস্টে গাজার ধ্বংসযজ্ঞকে ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই’ বলেও দাবি করেছে। গাজার নিরীহ মানুষদের মৃত্যু, শিশু ও মহিলাদের উপর হামলার ছবি পর্যন্ত বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। এই প্রচারণা শুধু মতামত প্রকাশ নয়, বরং মুসলিমদের প্রতি ঘৃণার আগুনকে আরও উস্কে দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমবিরোধী মন্তব্য, বক্তব্য এবং ঘৃণার প্রচার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গিয়েছে।

পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, ভারতের অনেক মুসলিম তরুণ, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী এখন গাজার পাশে দাঁড়ানোর কথা প্রকাশ করতেও ভয় পেয়েছে। ফিলিস্তিনি পতাকা দেখানো, প্রার্থনা করা বা একটি ইমোজি ব্যবহার করে প্যালেস্টাইনের পক্ষে কথা বললেও, তাদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে, অনেকেই চুপ করে থাকার পথই বেছে নিয়েছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৯৬৭ থেকে ২০২৫! যেভাবে গাজায় বারবার নিশানা করা হচ্ছে সাংবাদিকদের

Israel’s killing of journalists: ইজরায়েল ১৯৬৭ সালে দখলদারিত্বের প্রথম দিন থেকেই, মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের উপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চেয়েছে। পরে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে সেন্সরশিপ আনা হয়।

কূটনীতিবিদরা বলছেন, আসলে প্যালেস্টাইনে ইজরায়েলের ধ্বংসলীলাকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে হিন্দুত্ববাদীদের হাত শক্ত হয়েছে। মুসলিম সমাজকে লাগাতার কোনঠাসা করা হয়েছে।

হিন্দুত্ববাদীদের বয়ানে বারবার এমন একটা আভাস ছিল যেন সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধেও একইভাবে বলপ্রয়োগ হতে পারে। আর যৌক্তিক নাগরিক সমাজ হয়ে উঠেছে দেশদ্রোহী।

কিন্তু ভারতের সমাজের চিরকালীন বুনোট বা সাংবিধানিক কাঠামো কিন্তু এই পরিবেশের পক্ষে নয়। মানুষের প্রতি সহানুভূতি, ন্যায়ে আস্থা, যুদ্ধবিরোধিতা কেন অন্যায় হয়ে দাঁড়াল, প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে নাগরিক সমাজকেই।

(মতামতের দায় ব্যক্তিগত)

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।