গাজায় প্রতি ৫২ মিনিটে একজন শিশুর মৃত্যু! সামনে এল যে তথ্য

Gaza Crisis: নিহতদের মধ্যে ১,০২৯ জনের বয়স এক বছরের নিচে, ৫,০৩১ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম, আর ৪২০ জন শিশু যুদ্ধের মাঝেই জন্ম নিয়ে মারা গিয়েছে। ১,১০২ জন শিশু যুদ্ধের কারণে হাত বা পা হারিয়েছে।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
গাজায় প্রতি ৫২ মিনিটে একজন শিশুর মৃত্যু! সামনে এল যে তথ্য

গাজায় যুদ্ধের আগুনে সবচেয়ে বেশি পুড়ছে শিশুরাই। একের পর এক বিমান হামলা, অবরোধ, খাবার ও চিকিৎসার সংকট— সব মিলিয়ে তারা এখন বেঁচে থাকার লড়াই লড়ছে প্রতিদিন। প্যালেস্টাইন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র, গাজায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। প্রায় কয়েক লক্ষ শিশু আহত, গৃহহীন, অনাথ হয়ে পড়েছে।

গাজার হাসপাতালগুলোতে জায়গা নেই আহত শিশুদের জন্য। অনেকেই বাবা-মা হারিয়ে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছে। আবার কারও শরীরের অঙ্গ চলে গেছে, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে অক্ষমও হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন শত শত শিশু আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসছে, কিন্তু পর্যাপ্ত ওষুধ, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে গাজায় যত মানুষ মারা গিয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই শিশু। যুদ্ধের কারণে স্কুল, খেলার মাঠ, হাসপাতাল— সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এখনও অনেক শিশু ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই দিন কাটাচ্ছে, খাবার বা জলের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্যালেস্টাইনের স্বীকৃতি ও ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা: আদতে রাজনৈতিক প্রহসন?

Palestine Recognition and Trump’s Peace Plan: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন— সবাই জানে যে ইজরায়েলি দখল আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী। কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থের কারণে তারা মুখ খোলে না।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ১২ লক্ষেরও বেশি শিশু চরম খাদ্যাভাবের শিকার। গাজার ৯ লাখেরও বেশি শিশু এখন স্কুলে যেতে পারছে না, অর্থাৎ তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। একই সঙ্গে ৫,৫৮০ জন শিশু গুরুতরভাবে আহত, যাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু তারা এখনও সেই সুযোগের অপেক্ষায় আছে।

৭ অক্টোবরের প্যালেস্টাইন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজায় চলা এই গণহত্যায় মোট ২০,১৭৯ জন শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ৫২ মিনিটে একজন করে শিশু মারা যাচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ১,০২৯ জনের বয়স এক বছরের নিচে, ৫,০৩১ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম, আর ৪২০ জন শিশু যুদ্ধের মাঝেই জন্ম নিয়ে মারা গিয়েছে। ১,১০২ জন শিশু যুদ্ধে হাত বা পা হারিয়েছে।

গাজায় এখন খাবারই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ত্রাণ দেখিয়ে প্রাণ নেওয়া চলছে। অবরোধের কারণে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানো যাচ্ছে না, ফলে মানুষ খেতে পাচ্ছে না ন্যূনতম পরিমাণও। তাদের মধ্যে অনেকেই দিনে একবেলা খাবার পায়, কেউ কেউ একদিন পর পর কিছু খেতে পায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্রাম্পের চাপ, হামাসের শর্ত : গাজায় শান্তি ফিরবে?

Trump Peace Plan & Hamas Response: হামাস জানিয়েছে, তারা গাজায় আটক সব ইজরায়েলি বন্দিকে, জীবিত ও মৃত উভয়কেই, মুক্তি দিতে প্রস্তুত। তবে, হামাস ট্রাম্পের পরিকল্পনার অন্যান্য দিক নিয়ে আরও আলোচনা চায়।

অপুষ্টির কারণে শিশুদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে, অনেকেরই উচ্চতা ও ওজন স্বাভাবিক হারে বাড়ছে না। বিশুদ্ধ জল না থাকায় তারা জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ডাক্তাররা সতর্ক করেছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম গাজার শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়বে।

হাজার হাজার শিশু এখন অনাথ আশ্রম বা অস্থায়ী শিবিরে রয়েছে। যারা পুরো পরিবারই হারিয়ে ফেলেছে, তারা অন্যদের ঘরে আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু গাজার সংকীর্ণ ও বিপর্যস্ত জীবনযাত্রায় তাদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নেই। অনেক শিশু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, ঘুমাতে পারে না, যুদ্ধের শব্দ শুনলে আতঙ্কে কেঁপে ওঠে।

গাজার শিশুরা যেন জীবনের শুরুতেই বড় হয়ে গিয়েছে। তাদের চোখে খেলার আনন্দ নেই, আছে কেবল ভয় আর ক্ষুধা। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই শিশুরা নিজেদের বেঁচে থাকা নিয়ে প্রতিদিন যুদ্ধ করছে। তাঁরা আরও বলছেন, গাজায় যা ঘটছে তা 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ'। বিশ্বের বড় বড় দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ নানা বিবৃতি দিলেও বাস্তবে গাজার পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তনই হয়নি। খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অবরোধ শিথিলের দাবিও কার্যকর হচ্ছে না। শিশুরা যেন এক এমন যুদ্ধে বন্দি, যার কারণ তারা বোঝেই না।

আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল (৮ অক্টোবর), বিকেল ২:৪৫ মিনিটে গাজা শহরে আবার প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত বড় যন্ত্রসজ্জিত যানবাহর ব্যবহার করে, এগুলিতে টন টন বিস্ফোরক রাখা আছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ৬৭,১৭৩ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং ১,৬৯,৭৮০ জন আহত হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১০,৪২৭ জন (১৬%) নারী, ৪,৮১৩ জন (৭%) বৃদ্ধ/বৃদ্ধা, এবং ৩১,৭৫৪ জন (৪৭%) পুরুষ। এছাড়াও, ৪,৯০০ জনের অঙ্গহানি হয়েছে।

গাজার এই ট্র্যাজেডি কেবল একটি অঞ্চলের নয়— এটি গোটা মানবজাতির লজ্জা। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইজরায়েল ও হামাস ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে একমত হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময় এবং ধীরে ধীরে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মহলের একাংশ বলছেন, যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে যত সহজ, বাস্তবে তা বজায় রাখা অনেক কঠিন। চুক্তি কার্যকর করতে সব পক্ষের আন্তরিকতা ও আন্তর্জাতিক নজরদারি জরুরি। গাজার শিশুরা যেন আবার হাসতে পারে, খেলতে পারে, স্কুলে ফিরতে পারে— এই চাওয়াই এখন মানবতার সবচেয়ে বড় দাবি।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।