EXCLUSIVE: দলের নেতাদের উপর নজর রাখতে আমায় ব্যবহার করেছেন মমতা : ঋতব্রত
Ritabrata Banerjee: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূল নেতাদের উপর আড়ি পাতার কাজে তাঁকে ব্যবহার করা হয়েছিল। কাদের কাছে সেই তথ্য পৌঁছে দিতেন তিনি? ২০২১-এর ভোট পর্যন্ত চলা সেই নজরদারির নেপথ্যে কারা ছিলেন?
তৃণমূল নেতাদের উপর লাগাতার নজরদারি চালাতে ব্যবহার করা হতো তাঁকে, দাবি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কোথায়, কাকে রিপোর্ট করতেন, তিনি সবটাই কবুল করেছেন 'অনিন্দ্য এবং' পডকাস্টে।
গত কয়েকদিন লাগাতার আক্রমণের মুখে পড়েছেন ঋতব্রত। কেউ তাঁকে বলছেন 'গদ্দার', কেউ বলছেন 'মীরজাফর'।
আক্রমণকারী তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ঋতব্রতর পাল্টা প্রশ্ন, এখন যাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে, সেই তাকেই কেন ধারাবাহিক ভাবে 'কাজে লাগানো' হয়েছিল? কিন্তু কোন কাজে?
ঋতব্রতের কথায়,
২০২১-এর ভোট অবধি আপনার নেতাদের উপর আড়ি পাততে বাধ্য করেছিলেন।
এই 'কাজ' তিনি কার নির্দেশে করতেন, তা-ও খোলাখুলি জানিয়েছেন ঋতব্রত। জানিয়েছেন, তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁকে ওই কাজ করে যেতে হয়েছে। পাশাপাশিই তাঁর দাবি, তিনি ওই নজরদারিতে যা পেতেন, সেগুলি রিপোর্ট করতেন 'রাজ্য পুলিশের বড়কর্তাদের'।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ritabrata Banerjee: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই ১৪ জনকে নির্বাচনে হারিয়ে দেওয়ার তালিকা তৈরি হয়েছিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর কারা ছিলেন ওই তালিকায়? নির্দেশ এসেছিল কোথা থেকে?
তিনি এ-ও বলেন, যে দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা সফলভাবেই পালন করেছিলেন। এরপর নিজের একনিষ্ঠতার উদাহরণ স্বরূপ একটি উদাহরণও দেন ঋতব্রত। বলেন,
আমি যে কাজ করব, আমি যদি একটা টেবিল মুছি, সেটিই মন দিয়ে মোছার চেষ্টা করব।
সম্পূর্ণ পডকাস্টের লিঙ্ক
নেহাত উড়ো দাবি নয়। তাঁর বক্তব্য,
আমি যে সমস্ত রিপোর্ট দিয়েছিলাম, তার প্রতিটির একটি করে কপি আমার কাছে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
সোমনাথদার (সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়) কাছ থেকে জীবনের একটা শিক্ষা পেয়েছি—সব তথ্য নিজের কাছে রাখতে হবে।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচন চিহ্ন নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। একই সময়ে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনকে ঘিরেও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। এই বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে ঋতব্রতের দাবি নতুন করে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল জামানায় নেতামন্ত্রিদের কার্যকলাপ সম্পর্কে।
তবে ঋতব্রতের এই সমস্ত বক্তব্য তাঁর নিজস্ব দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে। পুলিশের বড়কর্তা বলতে কার কথা বলতে চাইছেন তাও সুস্পষ্ট নয়। যে নথির কথা তিনি বলছেন, তা প্রকাশ্যে এলে তাঁর দাবির পক্ষে কোন তথ্য উঠে আসছে, কাদের নাম সামনে আসছে সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।








