পাত্র-পাত্রী দুজনেই মৃত, টুইটারে সাড়া ফেলল ৯০ বছরের পুরনো বিয়ের কার্ড, দেখতে কেমন ছিল?
Wedding Invitation Card : একটা ধসে যাওয়া রঙের পুরনো কার্ডের ছবি, তার মধ্যে যা কিছু লেখা সবই উর্দু ভাষায়। দেখা মাত্রই চোখের সামনে ধরা দেয় একরাশ প্রাচীনত্ব

পত্র দ্বারা নিমন্ত্রণের ত্রুটি থাকলেও, তা বোধ হয় চিরকালই মার্জনীয়। তাই বিয়ের অনুষ্ঠানে কার্ডের জায়গাটা বহুকাল ধরেই বহাল। পাত্র পাত্রীর পরিচয়, অনুষ্ঠানের স্থান এবং পথনির্দেশ এটুকুই মূল উপজীব্য। তার সঙ্গে কয়েক লাইনের সুখ বার্তা, ব্যাস বিয়ের কার্ড বলতে এটুকুই। তবে জীবনের এ হেন একটা অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা যার হাত ধরে তা নিয়ে একটা বাড়তি উত্তেজনা তো থাকবেই। তাই সময়ের সঙ্গে বদলেছে কার্ডের ধারণাও। প্রথমে সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখাই ছিল চল, পড়ে অবশ্য মেশিনে কার্ড ছাপানোর রেওয়াজ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরবর্তীতে আরো আধুনিক হয়েছে বিয়ের কার্ড। বাহারি সাজসজ্জার কার্ড, হাতে আঁকা কার্ড থেকে শুরু করে হল আমলের মিউজিক কার্ড সবই এসেছে ট্রেন্ড মেনে। কিন্তু এসবের মধ্যেও যদি পুরনো আলমারি অথবা কোনো ধুলো পড়া দেরাজ থেকে হঠাৎ মেলে সেকেলে একটা বিয়ের তবে হয়তো নিমেষেই শুরু হয় টাইম ট্রাভেল।
ধরুন, আপনার মা-বাবার বিয়ের কার্ড, কিংবা ধরুন আরও একটা প্রজন্ম পিছিয়ে গেলেন। দাদু ঠাকুমার বিয়ের কার্ড খুঁজে পেয়ে গেলেন হুট করে! কী শুনতে অবাক লাগছে, তাই তো? কিন্তু সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনার সাক্ষী থেকেছে নেট দুনিয়া।
একটা ধসে যাওয়া রঙের পুরনো কার্ডের ছবি, তার মধ্যে যা কিছু লেখা সবই উর্দু ভাষায়। দেখা মাত্রই চোখের সামনে ধরা দেয় একরাশ প্রাচীনত্ব। আমন্ত্রণপত্রের ছবিটি টুইটারে আপলোড করেছেন সোনাল বাটলা নামে এক মহিলা। উপরে ক্যাপশনে উল্লেখ করেন, “আমার দাদা-দাদির বিয়ের আমন্ত্রণ প্রায় #১৯৩৩ #দিল্লি"। অর্থাৎ ১৯৩৩ সালে, দিল্লির একটি বিয়ের নিমন্ত্রণ পত্র এটি। কার্ডটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে নিমেষেই হয়ে যায় ভাইরাল। রমনার একটা প্রাচীন ঐতিহ্য নিয়ে শুরু হয় হুলুস্থুল। কেউ কেউ কমেন্ট স্মৃতিচারণা করে নিজের পরিবারের কোনো পুরনো বিয়ের কথা বলেন, কেউ আবার এমন কার্ড দেখে চক্ষু স্বার্থক বলেই স্বীকার করেন। কেউ আবার দম্পতির পরলৌকিক বিচরণ নিয়ে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।
হ্যাঁ, এই কার্ডের দম্পতি আর কেউই বেঁচে নিয়ে। কিন্তু রয়ে গিয়েছে তাঁদের জীবনের এমনটা একটা সুখের চিঠি। রয়ে গিয়েছে, কফি রঙের একটি পুরনো কার্ডে উর্দুতে লেখা কয়েক লাইন। কার্ডটিতে লেখা ছিল, “আমি নবী মুহাম্মদকে সম্মান ও ধন্যবাদ জানাই। এই ভালো সময়ের জন্য আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞ। শ্রদ্ধেয় স্যার, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমার ছেলে হাফিজ মুহাম্মদ ইউসুফের বিয়ে ২৩ এপ্রিল রবিবার, ধার্য করা হয়েছে।” আর কার্ডের নিচেই রয়েছে সাল ১৯৩৩।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Marriage Ceremony : বিবাহ নাকি জোরদার কোনো ইভেন্ট, প্রশ্ন উঠছে হাল আমলের বাঙালি বিয়ের রীতিকে ঘিরে
— Sonya Battla (@SonyaBattla2)
শীতকাল মানেই ঘরে ঘরে বিয়ের মরশুম। আর বিয়ের অনুষ্ঠানে একটা বড়ো জায়গা জুড়ে থাকে বিয়ের কার্ড। মন্দিরে বিগ্রহের সামনে কার্ড দিয়ে নিমন্ত্রণ করেই শুরু হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিক তোড়জোড়। তাই এই নিমন্ত্রণ পত্রকে খুব যত্ন করেই রাখা হয় বাড়িতে। তাছাড়া সে যুগে, ঘরে ঘরে ছবি অথবা ভিডিওর চল ছিল না। তাই স্মৃতি বলতে ওই কার্ডটুকুই ছিল সব। যার জেরে আজ প্রায় এক শতাব্দীর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও মুহূর্তের মধ্যে ভেসে ওঠে সেই বিয়ের উৎসব।
আজকাল বিয়ে নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে চান অনেকেই। বিয়েকে একটা ইভেন্ট বানিয়ে ফেলে তাই লাগিয়ে দেওয়ার প্রয়াস চলে কম বেশি সর্বত্র। তাই বিয়ের কার্ড নিয়েই নানারকম নতুনত্বের খোঁজ করেন কেউ কেউ। অনেকেই ভিন্টেজ কার্ড করতে চান নিয়ে বিয়েতে। তাই নেট দুনিয়ায় এরকম একটা ছবি সামনে আসতেই তা বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তেজনার রেশ। অনেকেই হয়তো ইতিমধ্যেই প্ল্যান করে ফেলেছেন এভাবেই তাক লাগাবেন নিমন্ত্রিতদের।







