প্রতিদিন ওষুধ নয়, ছ’মাস অন্তর একটি ইঞ্জেকশন! HIV প্রতিরোধে নতুন দিশা Dr Reddy’s-এর
HIV Prevention: প্রতিদিন HIV প্রতিরোধের ওষুধ খাওয়ার বদলে ছ’মাস অন্তর একটি ইঞ্জেকশন! Dr Reddy’s-এর তৈরি জেনেরিক লেনাকাপাভির USFDA-র টেন্টেটিভ অনুমোদন পেয়েছে। বছরে মাত্র দু’টি ডোজেই যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে HIV-1 সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। কারা নিতে পারবেন এই ইঞ্জেকশন? দাম কত? কবে মিলবে ভারতের বাজারে?
HIV সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন আশার আলো। প্রতিদিন ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে বছরে মাত্র দু’বার ইঞ্জেকশন নিলেই HIV সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এমনই একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ তৈরি করেছে ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা Dr Reddy’s Laboratories। সংস্থাটি এই ওষুধ তৈরির জন্য আমেরিকার Food and Drug Administration (USFDA)-এর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন পেয়েছে। ওষুধটির নাম লেনাকাপাভির (Lenacapavir)।
লেনাকাপাভির কী? HIV হলে কি সেরে যাবে?
লেনাকাপাভির আসলে HIV-1 ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করা একটি দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ। এটি ‘ক্যাপসিড ইনহিবিটর’ (Capsid Inhibitor) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সহজ কথায়, HIV ভাইরাসের চারপাশে থাকা প্রোটিনের আবরণ বা ক্যাপসিডের কাজ ব্যাহত করে এই ওষুধ। এর ফলে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি এবং শরীরের কোষে সংক্রমণ ছড়ানোর প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ইঞ্জেকশন HIV আক্রান্ত ব্যক্তিদের সারিয়ে তোলার ওষুধ নয়। এটি মূলত HIV সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা কিন্তু HIV নেগেটিভ ব্যক্তিদের জন্য। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় প্রি-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস বা PrEP। অর্থাৎ, সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে এমন ব্যক্তি আগে থেকেই এই ওষুধ নিলে HIV সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যাবে।
এত দিন HIV প্রতিরোধের জন্য PrEP পদ্ধতিতে প্রতিদিন একটি করে ওষুধ খেতে হত। কিন্তু লেনাকাপাভিরের ক্ষেত্রে বছরে মাত্র দু’বার ইঞ্জেকশন নেওয়ার প্রয়োজন। অর্থাৎ, প্রায় ছ’মাস অন্তর একটি করে ডোজ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Tripura HIV cases: ত্রিপুরার ২২০টি স্কুল এবং ২৪টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে এই মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে। এই খবর ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। কিন্তু কতটা সত্যি এই খবর?
কারা নিতে পারবেন এই ইঞ্জেকশন?
লেনাকাপাভির মূলত HIV সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা HIV নেগেটিভ ব্যক্তিদের জন্য তৈরি। Dr Reddy’s-এর এই ওষুধটি যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে HIV-1 সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি। প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি অন্তত ৩৫ কেজি ওজনের কিশোর-কিশোরীরাও এর আওতায় আসতে পারেন।
প্রথম ডোজ দেওয়ার আগে HIV পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি HIV নেগেটিভ। পরবর্তী প্রতিটি ডোজ নেওয়ার আগেও পরীক্ষা প্রয়োজন। কারণ, কেউ ইতিমধ্যেই HIV আক্রান্ত হলে অথচ তা না জেনে এই প্রতিরোধমূলক ওষুধ নিতে থাকলে ভাইরাসের ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়া এই ওষুধ নেওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া এই ইঞ্জেকশন অন্য যৌনবাহিত সংক্রমণ বা STI থেকে সুরক্ষা দেয় না। তাই HIV প্রতিরোধের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সতর্কতাও মেনে চলতে হবে।
HIV আক্রান্ত হলে কি এই ইঞ্জেকশনে চিকিৎসা সম্ভব?
এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। HIV প্রতিরোধ এবং HIV-এর চিকিৎসা এক বিষয় নয়। যাঁদের শরীরে ইতিমধ্যেই HIV ভাইরাস রয়েছে, তাঁদের জন্য এই প্রতিরোধমূলক ইঞ্জেকশন কোনও বিকল্প চিকিৎসা নয়। HIV নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি বা ART ব্যবহার করা হয়। নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে ভাইরাসের পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে রাখা সম্ভব। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Vampire Facial HIV Threats: এই ফেসিয়াল পদ্ধতিটি বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। ত্বকের গুণগত মান বাড়ায় এবং তারুণ্য ধরে রাখে।
আমেরিকার অনুমোদন পাওয়ার অর্থ কী?
Dr Reddy’s-এর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা Gilead Sciences প্রথম লেনাকাপাভির তৈরি করে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে Gilead ছ’টি জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাকে এই ওষুধ তৈরির স্বেচ্ছামূলক লাইসেন্স দেয়। তাদের মধ্যে রয়েছে ভারতের Dr Reddy’s।
এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে Unitaid, Wits Reproductive Health and HIV Institute (Wits RHI) এবং Clinton Health Access Initiative (CHAI)-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করে Dr Reddy’s। ওষুধটির উৎপাদন, অনুমোদন এবং কম দামে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই সংস্থাগুলি সাহায্য করেছে। ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর Dr Reddy’s জানায়, তাদের তৈরি জেনেরিক লেনাকাপাভির আমেরিকার USFDA-র কাছ থেকে টেন্টেটিভ অনুমোদন পেয়েছে।
কবে থেকে ভারতের বাজারে পাওয়া যাবে?
Dr Reddy’s জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ হওয়ার আগেই কয়েকটি দেশে প্রথম পর্যায়ের ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালে আরও বিস্তৃতভাবে বিভিন্ন দেশে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। তবে ভারতের ক্ষেত্রে এখনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। কারণ, USFDA-র অনুমোদন পেলেই ভারতের বাজারে ওষুধ বিক্রি শুরু করা যায় না। এর জন্য ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা Central Drugs Standard Control Organisation (CDSCO)-এর প্রয়োজনীয় অনুমোদনও লাগবে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রি-কোয়ালিফিকেশন প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। WHO ইতিমধ্যেই HIV প্রতিরোধে ছ’মাস অন্তর লেনাকাপাভির ব্যবহারের সুপারিশ করেছে। কিন্তু ভারতে কবে থেকে সাধারণ মানুষ এই ওষুধ পাবেন, তা নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উপরে।
দাম কত?
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, Dr Reddy’s-এর তৈরি জেনেরিক লেনাকাপাভিরের দাম ধার্য হয়েছে বছরে জনপ্রতি ৪০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা আনুমানিক ৩,৫০০ টাকার কাছাকাছি।
অর্থাৎ, চুক্তির আওতাভুক্ত দেশগুলিতে একজন ব্যক্তির এক বছরের জন্য দু’টি ইঞ্জেকশনের খরচ হতে পারে প্রায় ৪০ ডলার। ভারতের বাজারে চূড়ান্ত দাম কত হবে, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বর্তমানে মূল সংস্থা Gilead-এর তৈরি ব্র্যান্ডেড লেনাকাপাভিরের দাম আমেরিকায় বছরে প্রায় ২৮ হাজার ডলারের বেশি। সেই তুলনায় জেনেরিক সংস্করণ অনেক সস্তায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।







