নজরে ২৬: উত্তরপাড়া বিধানসভা আসনে বামেদের প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়?

জয়ের সম্ভাবনা আছে এমন আসনে প্রার্থী করার মাধ্যমে সিপিআইএম কি বুঝিয়ে দিতে চাইছে তৃণমূলের যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে, বামেদেরও তৈরি হচ্ছে মীনাক্ষী!

inscript
৩ মিনিট
নজরে ২৬: উত্তরপাড়া বিধানসভা আসনে বামেদের প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়?

জোটের জট খুলতে যখন আলিমুদ্দিনে একের পর এক বৈঠক চলছে। বামফ্রন্টের শরিক দলগুলি কে কত আসনে লড়বেন কথাবার্তা চলছে, এরই মধ্যে খবর উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হতে পারেন সিপিআইএমের ক্যাপ্টেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। পশ্চিম বর্ধমানের কুলটির মেয়ে মীনাক্ষী গ্রাম্য মেঠো ভাষায় মন জয় করেছেন বাম সমর্থকদের। জেলার মেয়েই এখন রাজ্য-রাজনীতিতে অন্যতম চর্চিত মুখ। দল ছাড়াও আপামর জনসাধারণের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের তিনি প্রিয় পাত্রী বলেই রাজনৈতিক মহল জানে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিপিআইএমের প্রার্থী হয়েছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁর আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনের ফলাফল বেরোলে দেখা যায়, মাত্র ৬,২৬৭ (২.৭৪%) ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে মীনাক্ষী। মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সিপিআইএমের দাপুটে মহিলা মুখ দরকার, তাই মীনাক্ষীকে এগিয়ে দেওয়া বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। গ্রামীণ খেটে খাওয়া মানুষ তাঁর কথায় নিজেদের সংযোগ করতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মীনাক্ষীকে ঘিরে বাম যুবদের উৎসাহের সীমা নেই, তবু অতীতই ভবিষ্যতের অন্তরায়

CPIM New Leaders: মীনাক্ষীদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শত্রু হল তাঁদের অতীত। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখনও তৃণমূল-বিজেপির বিকল্প হিসেবে বামেদের ভাবতে পারছেন না।

মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের বাবা-মা সিপিআইএমের সদস্য ছিলেন। সেখান থেকেই বামপন্থার প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। এরপর কলেজ জীবন থেকে বাম রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করেন। সিপিআইএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই থেকে পরিচিতি পাওয়া শুরু। ২০০৮ সালে সদস্য হন। এবং তার দশ বছর পরই সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পদের দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীরও সদস্য।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর হওয়ার পর বিএড-ও করেছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সিপিআইএমের হোলটাইমার হিসেবে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে ভাতা পান বলে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় জানিয়েছিলেন মীনাক্ষী। এর বাইরে তাঁর আর কোনো আয় নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুখে খেটে খাওয়া মানুষের কথা, তবু কেন শূন্য বামেরা?

West Bengal CPIM: ২০০৬ পরবর্তী সিপিআইএম মোটামুটি মধ্যবিত্ত, বড়লোকের দল হয়ে গিয়েছে ধরেই নেওয়া যায়।

উল্লেখ্য, উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি শ্রীরামপুর লোকসভার অন্তর্গত। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সিপিআইএমের যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধর। হিসাব বলছে, সেই নির্বাচনে উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে সবথেকে বেশি ভোট পেয়েছিল সিপিআইএম। ফলতই, এই বিধানসভা আসনে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় প্রার্থী হওয়ার খবরে রাজনৈতিক মহলেও নানান প্রশ্ন উঠছে। দীপ্সিতা লোকসভা নির্বাচনে লড়লেন, অথচ জয়ের সম্ভাবনা আছে দেখে বিধানসভা নির্বাচনে মীনাক্ষীকে সেই জায়গায় এগিয়ে দেওয়া হলো কেন? প্রতীক উর রহমান তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে গুঞ্জন উঠেছিল দীপ্সিতা-সৃজনও একই পথে হাঁটবেন কিনা। তাঁরা অবশ্য সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিয়েছেন।

সদ্য সিপিআইএম ত্যাগী যুবনেতা প্রতীক উর রহমান রাজ্য কমিটিতে ইস্তফাপত্র দিয়ে সরব হয়েছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে। সিপিআইএমে একনায়কতন্ত্র চলছে, নির্দিষ্ট কিছু মুখকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন প্রতীক উর। নাম না করলেও, তাঁর আক্রমণের দিকনির্দেশ ছিল মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের দিকেও। তিনিই এবার বামেদের হয়ে ভোটে লড়তে পারেন উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। বামেদের বারবার শুনতে হয়, তারা ‘শূন্য’। ফলতই, সেই তকমা মোছা এখন মীনাক্ষীর কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ।

২০১১ সাল থেকে উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে একচেটিয়া ভাবে গত তিন বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালে এই আসনে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৯৩,৮৭৮ (৪৬.৯৬%)। যদিও গত বিধানসভা নিবার্চনে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক উত্তরপাড়ার বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই অসন্তোষ দেখা দেয় এই এলাকায়। সেই সুযোগটাই মীনাক্ষীর মতো উজ্জ্বল মুখ কাজে লাগাতে চাইছেন! বিমান বসু মীনাক্ষীকে ক্যাপ্টেন বলে মান্যতা দিয়েছিলেন। তাঁকেই ‘সুযোগ আছে’ এমন আসনে প্রার্থী করার মাধ্যমে সিপিআইএম কি বুঝিয়ে দিতে চাইছে তৃণমূলের যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে, বামেদেরও তৈরি হচ্ছে মীনাক্ষী! উত্তর অবশ্য সময়ই দিতে পারবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।