নজরে ২৬: উত্তরপাড়া বিধানসভা আসনে বামেদের প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়?
জয়ের সম্ভাবনা আছে এমন আসনে প্রার্থী করার মাধ্যমে সিপিআইএম কি বুঝিয়ে দিতে চাইছে তৃণমূলের যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে, বামেদেরও তৈরি হচ্ছে মীনাক্ষী!
জোটের জট খুলতে যখন আলিমুদ্দিনে একের পর এক বৈঠক চলছে। বামফ্রন্টের শরিক দলগুলি কে কত আসনে লড়বেন কথাবার্তা চলছে, এরই মধ্যে খবর উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হতে পারেন সিপিআইএমের ক্যাপ্টেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। পশ্চিম বর্ধমানের কুলটির মেয়ে মীনাক্ষী গ্রাম্য মেঠো ভাষায় মন জয় করেছেন বাম সমর্থকদের। জেলার মেয়েই এখন রাজ্য-রাজনীতিতে অন্যতম চর্চিত মুখ। দল ছাড়াও আপামর জনসাধারণের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের তিনি প্রিয় পাত্রী বলেই রাজনৈতিক মহল জানে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিপিআইএমের প্রার্থী হয়েছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁর আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনের ফলাফল বেরোলে দেখা যায়, মাত্র ৬,২৬৭ (২.৭৪%) ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে মীনাক্ষী। মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সিপিআইএমের দাপুটে মহিলা মুখ দরকার, তাই মীনাক্ষীকে এগিয়ে দেওয়া বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। গ্রামীণ খেটে খাওয়া মানুষ তাঁর কথায় নিজেদের সংযোগ করতে পারে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
CPIM New Leaders: মীনাক্ষীদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শত্রু হল তাঁদের অতীত। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখনও তৃণমূল-বিজেপির বিকল্প হিসেবে বামেদের ভাবতে পারছেন না।
মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের বাবা-মা সিপিআইএমের সদস্য ছিলেন। সেখান থেকেই বামপন্থার প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। এরপর কলেজ জীবন থেকে বাম রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করেন। সিপিআইএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই থেকে পরিচিতি পাওয়া শুরু। ২০০৮ সালে সদস্য হন। এবং তার দশ বছর পরই সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পদের দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীরও সদস্য।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর হওয়ার পর বিএড-ও করেছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সিপিআইএমের হোলটাইমার হিসেবে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে ভাতা পান বলে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় জানিয়েছিলেন মীনাক্ষী। এর বাইরে তাঁর আর কোনো আয় নেই।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
West Bengal CPIM: ২০০৬ পরবর্তী সিপিআইএম মোটামুটি মধ্যবিত্ত, বড়লোকের দল হয়ে গিয়েছে ধরেই নেওয়া যায়।
উল্লেখ্য, উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি শ্রীরামপুর লোকসভার অন্তর্গত। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সিপিআইএমের যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধর। হিসাব বলছে, সেই নির্বাচনে উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে সবথেকে বেশি ভোট পেয়েছিল সিপিআইএম। ফলতই, এই বিধানসভা আসনে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় প্রার্থী হওয়ার খবরে রাজনৈতিক মহলেও নানান প্রশ্ন উঠছে। দীপ্সিতা লোকসভা নির্বাচনে লড়লেন, অথচ জয়ের সম্ভাবনা আছে দেখে বিধানসভা নির্বাচনে মীনাক্ষীকে সেই জায়গায় এগিয়ে দেওয়া হলো কেন? প্রতীক উর রহমান তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে গুঞ্জন উঠেছিল দীপ্সিতা-সৃজনও একই পথে হাঁটবেন কিনা। তাঁরা অবশ্য সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিয়েছেন।
সদ্য সিপিআইএম ত্যাগী যুবনেতা প্রতীক উর রহমান রাজ্য কমিটিতে ইস্তফাপত্র দিয়ে সরব হয়েছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে। সিপিআইএমে একনায়কতন্ত্র চলছে, নির্দিষ্ট কিছু মুখকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন প্রতীক উর। নাম না করলেও, তাঁর আক্রমণের দিকনির্দেশ ছিল মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের দিকেও। তিনিই এবার বামেদের হয়ে ভোটে লড়তে পারেন উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। বামেদের বারবার শুনতে হয়, তারা ‘শূন্য’। ফলতই, সেই তকমা মোছা এখন মীনাক্ষীর কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ।
২০১১ সাল থেকে উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে একচেটিয়া ভাবে গত তিন বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালে এই আসনে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৯৩,৮৭৮ (৪৬.৯৬%)। যদিও গত বিধানসভা নিবার্চনে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক উত্তরপাড়ার বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই অসন্তোষ দেখা দেয় এই এলাকায়। সেই সুযোগটাই মীনাক্ষীর মতো উজ্জ্বল মুখ কাজে লাগাতে চাইছেন! বিমান বসু মীনাক্ষীকে ক্যাপ্টেন বলে মান্যতা দিয়েছিলেন। তাঁকেই ‘সুযোগ আছে’ এমন আসনে প্রার্থী করার মাধ্যমে সিপিআইএম কি বুঝিয়ে দিতে চাইছে তৃণমূলের যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে, বামেদেরও তৈরি হচ্ছে মীনাক্ষী! উত্তর অবশ্য সময়ই দিতে পারবে।





