“হৃদয় কপাট দেখ না খুলে, ঘরের মানুষ ঘরেই খাড়া”: দরবেশি গানের সাধক কালাচাঁদ দরবেশ

Kalachand Darbesh: দরবেশরা হয়তো প্রথাগত সংসার ত্যাগ করেন, কিন্তু তারা জীবনকে কখনো অস্বীকার করেন না। বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে ট্রেন-বাসে কিংবা গ্রামের উঠোনে গান গেয়ে তারা পরম সত্যকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেন।

UTPAL SARKAR
৬ মিনিট
“হৃদয় কপাট দেখ না খুলে, ঘরের মানুষ ঘরেই খাড়া”: দরবেশি গানের সাধক কালাচাঁদ দরবেশ

বাংলার মাটির গভীরে মিশে আছে দরবেশি গানের দর্শন। এটি কেবল সুর আর বাণীর মিলন নয়; বরং বৌদ্ধ সহজিয়া, বৈষ্ণব ভক্তি এবং সুফি মরমিয়ানার এক অনন্য সমন্বয়। কালাচাঁদ দরবেশের মতো সাধক-শিল্পীরা এই ধারাকে যেভাবে বয়ে নিয়ে চলেছেন, তাতে জীবনের এক গভীর সত্য ফুটে ওঠে। এই গানগুলো আসলে পরম সত্যকে খুঁজে পাওয়ার এক জীবন্ত মাধ্যম।

দরবেশি গানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো অন্তর্জগতের অনুসন্ধান। এই দর্শন বাইরের প্রথাগত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, মন্দির-মসজিদের বাহ্যিকতা কিংবা জাত-পাতের বিভেদকে মানতে চায় না। তাদের কাছে মানুষের দেহ ও মনই হলো সাধনার প্রধান ক্ষেত্র। গানে বারবার ফিরে আসে—

ঘরের মধ্যে ঘর বানায়া

কিংবা

হৃদয় কপাট দেখ না খুলে, ঘরের মানুষ ঘরেই খাড়া।

এর সহজ অর্থ হলো, পরম সত্তা বা ঈশ্বরকে বাইরে কোথাও খুঁজতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; তিনি আমাদের অন্তরের ভিতরেই অবস্থান করছেন। দরবেশি দর্শন আমাদের শেখায় যে, সত্যিকারের জ্ঞান বা শান্তি বাইরের ভ্রমণে পাওয়া যায় না, তা মেলে নিজের গভীরে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে।

দরবেশি গানে প্রেম ও মানবিকতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রেম কেবল পার্থিব কোনো বিষয় নয়, বরং একটি আধ্যাত্মিক শক্তি যা মানুষকে মনের সব সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দেয়। সুফি প্রভাবের ‘ইশক-ই-হকিকি’ (প্রকৃত প্রেম) এবং বৈষ্ণব ঢঙের রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার মতো উপমা এখানে মিলেমিশে এক হয়ে গেছে। তবে এই প্রেম কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের গণ্ডিতে আটকে নেই—এটি পুরোপুরি সার্বজনীন। এই গানগুলো শেখায় মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সততা আর সহানুভূতিই হলো সত্যিকারের সাধনা।

কোন সাধনে পাবি রে তুই

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভাওয়াইয়া শিল্পী সুনীতি রায়: অভাবের সঙ্গে লড়াই করেও থামেনি মাটির গান

Suniti Roy Bhawaiya singer: শিল্পী সুনীতি রায় এই ঐতিহ্যবাহী ধারাকেই তাঁর কণ্ঠের মাধ্যমে নতুন প্রাণ দিয়েছেন। তাঁর গাওয়া গানগুলোতে মাটির গন্ধ আর সাধারণ মানুষের আবেগ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছেও ভাওয়াইয়াকে সমানভাবে জনপ্রিয় করে তুলছে।

—এই প্রশ্নের উত্তরে দরবেশরা বলেন, বাইরের কোনো আচার-আচরণে নয়, বরং হৃদয়ের শুদ্ধতা আর মানবিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েই পরমকে পাওয়া সম্ভব।

দরবেশি দর্শনের আরেকটি বড় দিক হলো দেহতত্ত্ব। এখানে শরীরকে দেখা হয় আধ্যাত্মিক অনুষঙ্গ হিসেবে। সহজিয়া ও সুফি ঐতিহ্য থেকে আসা এই ভাবনায় বিশ্বাস করা হয় যে, মহাবিশ্বের সকল রহস্য এই দেহের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। গানে প্রায়ই

আমার ঘরের ভিতরে আগুন

বা এই ধরনের কথা আসে, যা আসলে দেহের ভিতরের সুপ্ত শক্তিকে জাগিয়ে তোলার ইঙ্গিত দেয়। এই দেহকে চেনা আর জানার মধ্য দিয়েই দরবেশি সাধনা পূর্ণতা পায়।

দরবেশি সাধনা কোনো যান্ত্রিক বিষয় নয়; এতে মিশে থাকে গভীর আবেগ, ভক্তি আর অকৃত্রিম সরলতা। এই গানের দর্শন অত্যন্ত জীবনমুখী ও বাস্তববাদী। দরবেশরা হয়তো প্রথাগত সংসার ত্যাগ করেন, কিন্তু তারা জীবনকে কখনো অস্বীকার করেন না। বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে ট্রেন-বাসে কিংবা গ্রামের উঠোনে গান গেয়ে তারা পরম সত্যকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেন। এই দর্শনে কোনো গোঁড়ামি নেই—আছে শুধু প্রকৃত মানুষ হওয়ার এবং মানুষকে খোঁজার ব্যাকুল আহ্বান। সাধক কালাচাঁদ দরবেশ নিজের জীবন দিয়ে দেখিয়ে গিয়েছেন যে, এই দর্শন কোনো বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা জীবন্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে।

সারকথা হলো, দরবেশি গানের দর্শন এক সহজ কিন্তু গভীর পথ। নিজের অন্তরে ফিরে এসে প্রেমের মাধ্যমে সত্যকে জানা, মানুষকে ভালবাসা আর জীবনকে সরলভাবে যাপন করাই এর মূল কথা। এখানে ধর্মের নামে কোনো বিভেদ নেই, আছে শুধু মানবতার এক চিরন্তন আলো।

বাংলার দরবেশি গানের বিশুদ্ধ ধারার এক অমর নাম কালাচাঁদ দরবেশ। তাঁর আসল নাম ছিল কালাচাঁদ দাস। ১৯৩৪ সালে অবিভক্ত বাংলয় (বর্তমান বাংলাদেশে) জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি গভীর টান ছিল তাঁর। শুধু গান নয়, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানও তাঁর জীবনের মূল স্রোত হয়ে উঠেছিল। তিনি সহজিয়া-সুফি সম্প্রদায়ের এক প্রবাদপ্রতিম সাধক-শিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সেস নুটবুম যেন আমাদের মধ্যেই বেঁচে থাকেন

Cees Nooteboom obituary: একজন লেখক কি সত্যিই চলে যান? তিনি কি কেবল শরীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? নাকি তাঁর শব্দ, তাঁর চিন্তা, তাঁর নির্মিত সময়—এসবই তাঁকে পাঠকের ভিতরে নতুনভাবে বাঁচিয়ে রাখে?

১৯৬৪ সালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন এবং জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আনন্দচন্দ্র কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি ধূপগুড়ির একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। এমনকী পরবর্তীকালে তিনি ঠুনকিরঝাড় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। কিন্তু জীবনের গভীরতর অর্থ খোঁজা আর ভিতরের মানুষকে চেনার তাগিদে তিনি একসময় নিশ্চিত চাকরির মায়া ছেড়ে দেন। এরপর থেকে পুরোপুরি সাধনা আর সংগীতের মাঝেই নিজেকে সঁপে দেন এই মহান শিল্পী।

কালাচাঁদ দরবেশ ছিলেন দরবেশি গান, বাউল ও ফকিরি সংগীতের সত্যিকারের ধারক। তিনি রাধাচরণ দরবেশের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে বৌদ্ধ, বৈষ্ণব ও সুফিবাদের এক যৌথ ধারায় দরবেশি গান শেখেন। তাঁর গানের সুর ও ভাবের মধ্যে আধ্যাত্মিকতার গভীরতা এবং মানুষের সঙ্গে সংযোগের এক অদ্ভুত শক্তি প্রকাশ পেত। তাঁর সংগীত ও দর্শন শুধু বাংলার মানুষের মন জয় করেনি, বরং বিশ্বের বহু দেশের মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, মরক্কোসহ আফ্রিকার বহু দেশে তিনি দরবেশি গান পরিবেশন করেছেন। ১৯৯০ সালে লন্ডনের ভারত মেলায় বিশ্বখ্যাত তবলাবাদক জাকির হোসেনের সঙ্গে তাঁর সঙ্গত হয় এবং সেই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। একই বছর গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে দরবেশি জীবন ও দর্শন নিয়ে একটি ওয়ার্কশপও পরিচালনা করেছিলেন তিনি।

কালাচাঁদ দরবেশের গায়কী প্রথাগত বাউল ও ফকিরি গানের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ছিল। তিনি নিজেই গান রচনা ও সুর করতেন। সারাজীবন তিনি মাধুকরী করে ট্রেন বা বাসে সাধারণ মানুষের মধ্যে দরবেশি গান ছড়িয়ে দিতেন। তাঁর কণ্ঠের স্বর ছিল গভীর ও মৃদু, কিন্তু ভীষণ হৃদয়স্পর্শী। প্রতিটি সুরে তিনি যেন জীবন ও প্রকৃতির বার্তা শোনাতেন। বাড়ির ছোট্ট উঠোন হোক বা বিদেশের বড় অডিটোরিয়াম—যেখানেই গান পরিবেশন করতেন না কেন, তাঁর কণ্ঠের সরলতা আর আবেগ মানুষের অন্তরে পৌঁছে যেত। তাঁর গান মানুষকে সততা, প্রেম, ভক্তি আর মানবিকতার পথে চলার প্রেরণা দিত।

কালাচাঁদ দরবেশের উল্লেখযোগ্য গানগুলো আজও শ্রোতাদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। তাঁর গাওয়া

হৃদয় কপাট দেখ না খুলে, ঘরের মানুষ ঘরেই খাড়া

কোন সাধনে পাবি রে তুই

ভগবানকে চিনবি যদি

ঘরের মধ্যে ঘর বানায়া

সিন্ধু পারের বন্ধু যে জন

এবং

আমার ঘরের ভিতরে আগুন

—এই সৃষ্টিগুলো কালজয়ী। তিনি নিজের জীবন আর গানের মধ্য দিয়ে দেখিয়ে গেছেন, কীভাবে অতি সাধারণ জীবনযাপন আর সাধনার মাধ্যমে মানুষের মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্ভব।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে শয্যাশায়ী ছিলেন। ৮৫ বছর বয়সে, ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর রবিবার সকাল ৭টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা দরবেশি গান তার এক অনন্য প্রাণপুরুষকে হারান। তবে তাঁর জীবন, সুরের মাধুর্য আর গভীর জীবনদর্শন আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

কালাচাঁদ দরবেশের জীবন ছিল সরল, নির্ভেজাল আর সাধনায় মগ্ন। তিনি শুধু গান গাইতেন না, বরং সুরের মায়ায় মানুষের মধ্যে মানবিকতা, প্রেম আর সততার বীজ বুনে দিতেন। তাঁর প্রতিটি সুরের মধ্যে ফুটে উঠত জীবন আর প্রকৃতির এক নিবিড় মেলবন্ধন। বাংলার দরবেশি গানের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

লিখেছেন
UTPAL SARKAR
UTPAL SARKAR
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।