২,৫০০ মহিলাকে যৌন হেনস্থা করে ভিডিও! যেভাবে গ্রেফতার হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নাতি প্রজ্জ্বল
Prajwal Revanna Arrested: প্রজ্জ্বলের বাবার বিরুদ্ধেও এমন একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সাংসদের বাবা এইচ.ডি. রেভান্না, অপহরণের অভিযোগে গত ৪ মে গ্রেফতার হন।

দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়ার নাতি তিনি। তাঁরই বিরুদ্ধে উঠেছিল যৌন হেনস্থার ভয়াবহ অভিযোগ। তবে ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিদেশে পালান অভিযুক্ত প্রজ্জ্বল রেভান্না। অবশেষে শুক্রবার ৩১ মে ভোররাতে, হাসানের সাংসদ এবং জনতা দলের (ধর্মনিরপেক্ষ) নেতা প্রজ্জ্বল রেভান্না মিউনিখ থেকে এসে পৌঁছন বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে। ভারতের মাটিতে পা দিতেই কর্ণাটক পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রজ্জ্বল গত ২৬ এপ্রিল দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। একজন বা সাতজন নয়, তাঁর বিরুদ্ধে কয়েক হাজার মহিলাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সেইসব ধর্ষণ ও নিগ্রহের ভিডিও-ও প্রকাশ্যে এসেছে।
কর্ণাটক পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল, বেঙ্গালুরু পুলিশ এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ইন্টারপোলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছিলেন। প্রজ্জ্বল কোন বিমানে ফিরবেন সেই তথ্য ইন্টারপোলের কাছ থেকে জানার পরেই গ্রেফতারির পরিকল্পনা করেন তারা। গ্রেফতারের পর প্যালেস রোডের কার্লটন হাউসে সিআইডি সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয় প্রজ্জ্বলকে।
প্রজ্জ্বলের যেদিন ফেরার কথা, তার ঠিক একদিন আগেই বিদেশ মন্ত্রক ঘোষণা করেছিল যে, প্রজ্জ্বল রেভান্নার কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রত্যাহার করার জন্য একটি নোটিশ পাঠান হয়েছে তাঁকে। যদিও তিনি তার কোনও প্রতিক্রিয়াই জানাননি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sex Scandal Prajwal Revanna: এই সমস্ত ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই ৩৩ বছর বয়সি প্রজ্জ্বল রেভান্না জার্মানির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পরেই বিদেশে পালান এই সাংসদ। পালানোর এক মাস পরে ২৭ মে, প্রজ্জ্বল একটি ভিডিও প্রকাশ করেছি জানান যে তিনি ৩১ মে বিশেষ তদন্তকারী দলের সামনে উপস্থিত হবেন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। প্রজ্জ্বলের দাবি করেছেন তাঁর এই বিদেশ সফর আগে থেকেই ঠিক করা ছিল, ধর্ষণের অভিযোগের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
গত ১৮ মে একটি বিশেষ আদালত প্রজ্জ্বলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এই সাংসদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রজ্জ্বল রেভান্নাকে শোকজ করেছে জেডিএস। দল থেকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মহিলা কমিশন।
গত মাসে, বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। যাতে জেডি (এস) নেতা প্রজ্জ্বল রেভান্নার এমন একাধিক মুহূর্ত ধরা পড়েছিল যাতে স্পষ্ট হয়ে যায় তিনি জোরপূর্বক এবং সম্মতিহীনভাবে একাধিক মহিলাকে যৌনহেনস্থা করছেন। বেশিরভাগ ভিডিও দেখেই মনে হয়, এই মহিলাদের ভিডিওগুলি প্রজ্জ্বল রেভান্না নিজেই রেকর্ড করেছিলেন এবং ওই মহিলাদের ভয় দেখিয়ে, তাদের সম্মতি ছাড়াই গোটাটা করা হয়েছে। এই মামলাগুলির তদন্তের জন্য গত ২৭ এপ্রিল সিদ্দারামাইয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার একটি এসআইটি বা স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করে। ঠিক ওই দিনই প্রজ্জ্বল রেভান্না জার্মানিতে পালিয়ে যান।
২২ মে, সিদ্দারামাইয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে প্রজ্জ্বলের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করার দাবি জানান। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এর আগে ১ মে তেও মোদিকে চিঠি লেখেন, যাতে স্বরাষ্ট্র ও বিদেশ মন্ত্রককে প্রজ্জ্বল রেভান্নার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করার নির্দেশ দেয়।
প্রজ্জ্বলের বাবার বিরুদ্ধেও এমন একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সাংসদের বাবা এইচ.ডি. রেভান্না, অপহরণের অভিযোগে গত ৪ মে গ্রেফতার হন। এখন অবশ্য জামিনে রয়েছেন তিনি। সাংসদের বাবা নিজেও এক মহিলাকে যৌন হেনস্থা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিধানসভা ভোটে জিতে কর্ণাটকে এখন ক্ষমতায় আছে কংগ্রেস। হাসান কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন জেডিএস নেতা প্রজ্জ্বল রেভান্নাকে। কর্ণাটকে জেডিএসের সঙ্গে জোট করে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি বারেবারেই প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে প্রজ্জ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। লোকসভা ভোটে আসন জেতার খেলা সবটা। অথচ দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নাতির একাধিক অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সত্য ফাঁস হতে থাকে। পরিচারিকা থেকে দলীয় কর্মী, কেউ-ই বাদ যেতেন রেভান্নার অশ্লীলতা থেকে, জোরজবরদস্তি থেকে। আড়াই হাজার মহিলার ভিডিও ধরা পড়েছে তাঁর কাছ থেকে। যাদেরকে যৌন হেনস্থা করেছেন তিনি বলে অভিযোগ।





