কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?
E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?
সাধারণ সিগারেটের মতো ধোঁয়া নেই, রয়েছে নানা স্বাদ ও গন্ধ। দেখতে আধুনিক এই যন্ত্রকে অনেকেই সাধারণ সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর বলে মনে করেন। কিন্তু সত্যিই ই-সিগারেট শরীরের জন্য নিরাপদ? সম্প্রতি কলকাতা বন্দরে বিপুল পরিমাণ ই-সিগারেট উদ্ধারের ঘটনায় সেই প্রশ্নই আবার সামনে এসেছে। গত ২৪ অক্টোবর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। নেপালগামী দুটি কন্টেনারে জলের গ্লাস ও সিরামিকের মগ রয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় ই-সিগারেট। ভারতে নিষিদ্ধ এই পণ্য নিয়ে এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ই-সিগারেট আসলে কী এবং এটি শরীরের কতটা ক্ষতি করতে পারে?
ই-সিগারেট কী?
ই-সিগারেট ব্যাটারিচালিত একটি ছোট যন্ত্র। এর ভিতরে বিশেষ ধরনের তরল থাকে। যন্ত্রটি চালু করলে সেই তরল গরম হয়ে এক ধরনের বাষ্পের মতো কণা তৈরি করে। ব্যবহারকারী তা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে টেনে নেন। সাধারণ সিগারেটের মতো তামাক পুড়িয়ে এতে ধোঁয়া তৈরি করা হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে ই-সিগারেট শরীরের জন্য নিরাপদ।
ই-সিগারেটের তরলে নিকোটিন, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ এবং সুগন্ধি উপাদান থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ফলের স্বাদ বা মিষ্টি গন্ধ ব্যবহার করা হয়। এই কারণেই অনেকে, বিশেষ করে তরুণরা, ই-সিগারেটের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। কিন্তু এর ভিতরে থাকা রাসায়নিক শরীরে ঢুকলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ই-সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করে?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Durgapuja Health Tips: সারাবছর যেখানে বাজার চলতি জলের কোনও ঠিক ঠিকানা থাকে না, সেখানে দুর্গাপুজোর মতো সময়ে যে জলের কোম্পানিগুলি ‘হাইজিন’ মেনে চলবে, একথা আশা করাও ভুল।
১. নিকোটিনে আসক্তি তৈরি হয়
অনেক ই-সিগারেটে নিকোটিন থাকে। এটি এমন একটি রাসায়নিক, যা মানুষকে ধূমপানের প্রতি আসক্ত করে তুলতে পারে। নিয়মিত ই-সিগারেট ব্যবহার করলে শরীর নিকোটিনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তখন ব্যবহার ছেড়ে দেওয়া কঠিন হতে পারে। কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কের বিকাশের উপরও নিকোটিনের খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।
২. ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে
ই-সিগারেট ব্যবহার করার সময় শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও অতি সূক্ষ্ম কণা। এগুলি ফুসফুসে পৌঁছে শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। কারও কারও কাশি, গলায় অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই সাধারণ সিগারেটের মতো তামাক না পুড়লেও ই-সিগারেটকে নিরাপদ ভাবা ঠিক নয়।
৩. হৃদ্যন্ত্রের উপর প্রভাব পড়ে
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Buckwheat Health Hazard: শুধুমাত্র নবরাত্রির সময় এই আটা ব্যবহার করা হয় এবং তখন এর চাহিদা অত্যন্ত বেশি থাকে।
ই-সিগারেটে থাকা নিকোটিন হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। এর ফলে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির উপর চাপ পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ই-সিগারেট ব্যবহার করলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। তবে এই যন্ত্রকে হৃদ্যন্ত্রের জন্য নিরাপদ বলা যায় না।
৪. শরীরে ঢুকতে পারে ক্ষতিকর রাসায়নিক
ই-সিগারেটের তরল গরম হলে কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। এর অ্যারোসলের মধ্যে ভারী ধাতুর অতি সূক্ষ্ম কণাও থাকতে পারে। এই উপাদানগুলি শরীরে প্রবেশ করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিকের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে। তবে ই-সিগারেট ব্যবহারের ফলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি ঠিক কতটা, তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি।
৫. আশপাশের মানুষেরও ক্ষতি হতে পারে
ই-সিগারেট ব্যবহার করার সময় নির্গত অ্যারোসল বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে নিকোটিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ থাকতে পারে। ফলে যাঁরা নিজেরা ই-সিগারেট ব্যবহার করেন না, তাঁরাও কাছাকাছি থাকলে এই পদার্থের সংস্পর্শে আসতে পারেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Health and fitness : চিকিৎসকরা আবার বলছেন খেতে খেতে কথা বললেও বিবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে অনেকেই, এমনকী দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। কিন্তু জানেন কি কেন এমন হয়?
৬. শিশুদের জন্য বিপজ্জনক
ই-সিগারেটের ভিতরে থাকা তরল শিশুদের নাগালে থাকলে বিপদ হতে পারে। ভুল করে সেই তরল গিলে ফেললে বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া যন্ত্রের ব্যাটারি খারাপ হলে আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
ভারতে কেন নিষিদ্ধ ই-সিগারেট?
ভারতে ২০১৯ সালে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার জন্য আইন চালু হয়। এই আইনে ই-সিগারেট তৈরি, আমদানি, রফতানি, পরিবহণ, বিক্রি, বিতরণ, মজুত এবং বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এই পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখাই এই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম উদ্দেশ্য।
কলকাতা বন্দরে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ ই-সিগারেট উদ্ধারের ঘটনা এই নিষিদ্ধ পণ্যের পরিবহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে শুধু আইন করে এই সমস্যার মোকাবিলা করা যথেষ্ট নয়। ই-সিগারেটের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কেও সাধারণ মানুষের জানা প্রয়োজন।
সাধারণ সিগারেটের চেয়ে কি ই-সিগারেট নিরাপদ?
অনেকে মনে করেন, ই-সিগারেটে তামাক পোড়ানো হয় না বলে এটি সাধারণ সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ। কিন্তু এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। ই-সিগারেটেও নিকোটিন ও ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কেও এখনও অনেক কিছু জানা বাকি। তাই সাধারণ সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ই-সিগারেট ব্যবহার করাকে নিরাপদ সিদ্ধান্ত বলা যায় না।
কলকাতা বন্দরে ১৩.৫ কোটি টাকার ই-সিগারেট উদ্ধারের ঘটনা এই নিষিদ্ধ পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। ই-সিগারেটে থাকা নিকোটিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। ভারতে ২০১৯ সালের আইন অনুযায়ী ই-সিগারেটের উৎপাদন, আমদানি, পরিবহণ, বিক্রি ও মজুত নিষিদ্ধ। তাই এই ধরনের পণ্যের অবৈধ কারবার বন্ধ করতে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাও জরুরি।







