পুজোর হ্যাংওভার সামলাতে শরীর আদৌ প্রস্তুত? মাথায় থাকুক সুস্থতার এই উপায়গুলি

Durgapuja Health Tips: সারাবছর যেখানে বাজার চলতি জলের কোনও ঠিক ঠিকানা থাকে না, সেখানে দুর্গাপুজোর মতো সময়ে যে জলের কোম্পানিগুলি ‘হাইজিন’ মেনে চলবে, একথা আশা করাও ভুল।

Arunima Mukherjee
৩ মিনিট
পুজোর হ্যাংওভার সামলাতে শরীর আদৌ প্রস্তুত? মাথায় থাকুক সুস্থতার এই উপায়গুলি

দু’দিন পরেই মহালয়া আর মহালয়া মানেই দেবীপক্ষের সূচনা। বাঙালির পুজো শুরু হয় বলতে গেলে মহালয়ার দিন থেকেই। কলকাতায় প্রতিবছর তৃতীয়া কিংবা চতুর্থীতেই রাস্তায় পা রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। এরমধ্যে কিছুদিন আগে ‘হু’ আবার ঘোষণা করে দিয়েছে, করোনা অবশেষে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছে। তাই এবার আর পুজোর ভিড় দেখার জন্য যে নগরবাসীকে তৃতীয়া পর্যন্তও অপেক্ষা করতে হবে না, সে কথা বলাই বৃথা। বাঙালির কাছে পুজো মানেই সারা বছরের একটু একটু করে জমিয়ে রাখার সবটা ঢেলে খরচা করা। পুজো মানেই বাঁধ ভাঙা আনন্দ, একসঙ্গে বসে আড্ডা, হই-হুল্লোড়, সারা রাত জেগে ঠাকুর দেখা আর সবচেয়ে জরুরি, যা মন চায় তাই খাওয়া। বছরের এই সময়েই বাঙালিরা খাওয়া–দাওয়া নিয়ে বিশেষ বাছবিচার করেন না, এমনকী যাঁরা সারা বছর ধরে জিমে গিয়ে ঘাম ঝরিয়ে বহু কষ্টে সিক্সপ্যাক বানান, তাঁরাও খুব সহজেই পুজোর ভূরিভোজে তা একেবারে ভেঙে চুরমার করে দিতেও বিশেষ ভাবেন না।

চপ, শিঙ্গারা, ফুচকা, এগরোল, পরোটা থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের ক্ষতিকর খাবারগুলিই তখন আমাদের কাছে একেবারে স্বর্গসম। এরসঙ্গেই আবার রয়েছে লাগাম ছাড়া রঙিন জলের হিড়িক। অতঃপর পুজোর চারটে দিন কোনওরকমে পার করতে পারলেও, পরের দিনগুলোতে শরীর খারাপ একেবারে অবধারিত। আবার অনেকে তো পুজোর মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এইবার পুজোয় যেন আপনাকে আর অসুস্থ না হতে হয় সেইজন্যই রইল পুজোয় নিজেকে ভালো রাখার কিছু টিপস।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Karim's vs Kareem's: এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায়! পুজোয় কোথায় কোন বিরিয়ানি সেরা?

Kolkata Biriyani: মুম্বইয়ের করিম ধনানির হাতে তৈরি করিমস রেঁস্তোরার সঙ্গে অনেকেই দিল্লির জামা মসজিদ এলাকার করিমসকে গুলিয়ে ফেললেও দু’টি কিন্তু একবারে আলাদা রেঁস্তোরা।

এবার শরতের নীল আকাশে ‘সাদা মেঘের ভেলা’র বদলে কালো মেঘের ঘনঘটার প্রকোপই বেশি। যদিও আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দেশ ছেড়ে বর্ষা-বিদায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, তবে বঙ্গ থেকে বর্ষা নাকি বিদায় জানাতে জানতে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ। সুতরাং পুজোতে যে বৃষ্টি হবে না, এ কথা একেবারেই বলার উপায় নেই। বৃষ্টি মানেই মণ্ডপ দেখতে গিয়ে কাক স্নান! জামার জল গায়েই শুকনো আর সেখান থেকেই ঠাণ্ডা লেগে কিংবা ভাইরাল ইনফেকশন থেকে ধূম জ্বর। বেশিরভাগ সময়েই শাড়ি সামলাতে সামলাতে আর ছাতা সামলানো হয়ে ওঠে না, তাই বেচারা বর্ষাকালের সঙ্গী আর পুজোর সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে না। কিন্তু এইবার পুজোয় কষ্ট করে হলেও ছাতাটা একটু সঙ্গে রাখার চেষ্টা করুন। একদিকে যেমন পুজোর আগে করানো ফেসিয়ালের মেয়াদও দীর্ঘস্থায়ী হবে, তেমনই আবার রক্ষা মিলবে বরুণ দেবের ‘কু-নজর’ থেকেও।

আগেই বলেছি, পুজো মানেই বাইরের উলটোপালটা জিনিস খাওয়া। বাইরের খাবার যতখানি সম্ভব এড়িয়ে চলতে, এই বাণী মন একেবারেই শুনবে না। তার চেয়ে বরং সকালবেলা খালি পেটে একটা অ্যান্টাসিড খেতে পারেন আর পারলে তিনবেলাই বাইরে না খেয়ে অন্তত একবেলা হলেও বাড়িতে খাবার চেষ্টা করুন। তিনবেলা টানা বাইরে খাওয়া মানেই শরীরের খাদ্যনালী এবং পাচনতন্ত্রের উপর চাপ সৃষ্টি করা। এতে একদিন পেটপুরে খেলেও পরেরদিন

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অক্ষয় হোক পুজোর রান্নার ঐতিহ্য! যে ষোলোআনা বাঙালি খাবারগুলি অবশ্যই খাবেন...

Durga Puja 2022: যারা নানা রকম খাবারের স্বাদ নেওয়ার জন্য দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ান, তাঁদের অন্তত একবার পুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষত কলকাতায় আসা উচিত।

অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। অ্যান্টাসিডের পাশাপাশি আবার শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখতে আর আগেরদিন রাতের হ্যাংওভার কাটিয়ে উঠতে সকালবেলা একগ্লাস লেবু-জলের বিকল্প নেই। আর যদি কেউ নেহাতই ফিটনেস ফ্রিক মানুষ হয়ে থাকেন তবে তাঁরা নিজেদের সঙ্গে পছন্দের দু’টো একটা ফল রাখতে পারেন। একেবারে তেলেভাজা না খেয়ে খাবারের মধ্যে দক্ষিণ ভারতীয় খাবার যেমন, ইডলি বা ধোসার মতো খাবারগুলি রাখতে পারেন।

সকালবেলার জলখাবার কিন্তু কোনওভাবেই মিস করা যাবে না পুজোর ক’টা দিনে।

‘প্যান্ডেল হপিং’ করতে করতে জল তেষ্টা পাবেই আর সেইসময় অধিকাংশক্ষেত্রেই মণ্ডপের আশেপাশের দোকান অথবা অন্যত্র থেকে যে কোনও কোম্পানির জলের বোতল কিনে থাকি। তেষ্টার তাড়নায় আমরা একবারও দেখি না পয়সা দিয়ে কেনা জল আদৌ ভরসাযোগ্য কি না। এরপরের গল্প প্রায় সবার জানা। সারাবছর যেখানে বাজার চলতি জলের কোনও ঠিক ঠিকানা থাকে না, সেখানে দুর্গাপুজোর মতো সময়ে যে জলের কোম্পানিগুলি ‘হাইজিন’ মেনে চলবে, একথা আশা করাও ভুল। তাই সঙ্গে একটা জলের বোতল রাখা আবশ্যক। যাদের আবার লো প্রেশারের সমস্যা আছে, তাঁরা জলের সঙ্গে একটা ইলেকট্রলের প্যাকেটও সঙ্গে রাখতে পারেন। জলের এই ঝামেলা এড়াতে চাইলে ডাবের জল বা প্যাকেট করা ফ্রুটজুস খেতে পারেন। এগুলিতে একদিকে যেমন বিভিন্ন মিনারেল থাকে, তেমনই বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারটাও রক্ষা পায়। তবে বর্ষাকালে অনেকেরই জল তেষ্টা পায় না। কিন্তু কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হাঁটতে হাঁটতে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যাবেই, তাই তেষ্টা না পেলেও অন্যান্য দিনের থেকে পুজোর দিনগুলোতে একটু বেশি জল খাওয়াই বাঞ্ছনীয়।

পুজোর চারটে দিনকে একেবারে চুটিয়ে উপভোগ করার কারণে অনেকেই ঘুম বিষয়টাকে একেবারে এড়িয়ে চলে যান। কিন্তু অন্যান্য দিনগুলোর থেকেও পুজোর দিনগুলোতে শরীরে ক্লান্তি বেশি বই কম আসবে না তাই অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম খুবই জরুরি। করোনা পৃথিবী ছেড়েছে ঠিকই কিন্তু এখনও আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই তার স্মৃতিস্বরূপ একটা-দু’টো স্যানিটাইজার ঠিকই পাওয়া যাবে। এইবছরের পুজোয় সেগুলোরও একটা গতি হোক। খারাপ সময়ে যা কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে উঠেছিল সেগুলো না হয় অক্ষুণ্ণ থাকুক আর সকলের পুজো ভালো কাটুক।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।