খেতে খেতে জমিয়ে গল্প করছেন? অজান্তেই যে ক্ষতি ডেকে আনছেন শরীরের
Health and fitness : চিকিৎসকরা আবার বলছেন খেতে খেতে কথা বললেও বিবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে অনেকেই, এমনকী দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। কিন্তু জানেন কি কেন এমন হয়?

খেতে বসে কথা না বলার উপদেশখানা অবধি নতুন কিছু নয়, ছোট থেকেই এই কথাটা বড়দের মুখে বারবার শুনতে হয়েছে আমাদের। যদিও এই উপদেশের কারণ আলাদা করে বিশ্লেষণ করা হয়নি কোনও দিনই। এমনিতেই খাবার বিষয়টিই বেশ জটিল একটি তত্ত্ব। কোনটা খাবেন আর কোনটা ফেলবেন এই তালিকা তৈরি করতে রীতিমতো অসুবিধায় পড়তে হয়। প্রত্যেকের শরীরের অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকরা আলাদা আলাদা ডায়েট চার্ট প্রস্তুত করে থাকেন। দিনের শেষে ওই খাবার টেবিলে বসেই আড্ডা জমে, খোশ গল্পে মশগুল হন পরিবারের সকলে। ধরুন সেই গল্পই যদি বাধ সাধে কেউ, তাহলে হয় মুশকিল। তবে চিকিৎসকরা আবার বলছেন খেতে খেতে কথা বললেও বিবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে অনেকেই, এমনকী দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। কিন্তু জানেন কি কেন এমন হয়?
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, খাওয়ার সময় কথা বললে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আসলে আমাদের খাদ্যনালীর একেবারে পাশেই রয়েছে শ্বাসনালী। তাই খেতে খেতে কথা বললে অসাবধানতায় খাদ্যনালীতে খাবার না গিয়ে শ্বাসনালীতে চলে যেতে পারে। এই অবস্থায় খাবার আটকে শ্বাসনালী এমন ভাবেই বন্ধ হয়ে যেতে যে দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত ঘনিয়ে আসতে পারে। তাই বলা হয় খাওয়ার সময় কথা না বলতে। এই অভ্যাস ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
New Year 2023 Detox : ডিটক্স চা হল, বিভিন্ন উপাদান এবং মশলার মিশ্রণ যার ঔষধি গুণ রয়েছে। যাতে চুমুক দিয়ে সহজেই শরীরকে করতে পারবেন টক্সিনমুক্ত।
এছাড়াও খেতে খেতে কথা বললে আমাদের মন অমনোযোগী হয়ে পড়ে। অনেক সময় মাছের কাঁটা অথবা এমন কিছু জিনিস যা খাওয়ার নয়, সেগুলিও মুখে চলে যেতে পারে। তাই মনসংযোগ করার জন্য খেতে বসে কথা না বলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে শ্বাসনালীতে কোনও ভাবে খাবার চলে গেলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রাথমিকভাবে খানিকটা কেশে নিয়ে গলায় ঢুকে যাওয়া খাবার বের করার চেষ্টা করতে হবে, তাতে খুব একটা কাজ না হলে, কাউকে বলুন পিছন থেকে হাত দিয়ে আপনার বুকের তলা চেপে ধরতে। তারপর চাপ দিতে বলুন। এর মাধ্যমে ফুসফুসে বায়ুর চাপ তৈরি হবে। এই চাপ খাবারের অংশকে বাইরে বের করে দেবে। ছোটদের ক্ষেত্রে উপুর করে শুইয়ে দিয়ে পিঠে চাপ দিন বা বুকের তলায় চাপ দিতে পারেন। তবে এতে যদি কাজ না হয় তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া আবশ্যক।
এখানেই শেষ নয়, খেতে খেতে অন্য কাজ করলে বা কথা বললে খবর ঠিকমতো চেবানো হয় না। তার জেরে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া না চিবিয়ে সরাসরি গিলে খাওয়ায় পেটের গোলযোগ পর্যন্ত হতে পারে। এই কারণে হজমের গণ্ডগোল দেখা দিতে পারে। এ কথা ঠিকই যে সারাদিনের ব্যস্ততার পর ওই খাওয়ার সময়টুকুই পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ হয় অনেকের, তবুও বড় কোনও বিপদ এড়াতে খাওয়ার সময় কথা না বলে খাওয়ার পরে বা আগে খানিকক্ষণ গল্প করে সময় কাটাতে পারেন। এতে গল্পও হবে আবার বড় বিপদের আশঙ্কা এড়ানোও যাবে।






