কেন এক মাস এক ফোঁটাও তেল রফতানি করেনি কুয়েত?

Kuwait Oil Trade: কেন এপ্রিল মাস জুড়ে কুয়েত এক ফোঁটা কাঁচা তেলও রপতানি করতে পারেনি? এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কতটা বড় প্রভাব পড়তে পারে?

inscript
৩ মিনিট
কেন এক মাস এক ফোঁটাও তেল রফতানি করেনি কুয়েত?

কুয়েতের তেল রফতানি নিয়ে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা সামনে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো দেশটি এক মাস তেল রফতানি করেনি। বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির একটি কুয়েত। প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিভিন্ন দেশে পাঠায়। কিন্তু পুরো এপ্রিল মাস তারা কোনো দেশে তেল রফতানি করেনি।

ট্যাংকার ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণকারী সংস্থা জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে কুয়েত থেকে কোনো ক্রুড অয়েল (কাঁচা তেল) আন্তর্জাতিক বাজারে যায়নি। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই প্রথম এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো। যদিও কুয়েত তেল উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করেনি, কিন্তু সেই উৎপাদিত তেল রফতানির বদলে দেশের ভেতরে সংরক্ষণ করা হয়েছে অথবা কিছু অংশ পরিশোধিত পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হলো আঞ্চলিক পরিবহন সংকট এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর জটিলতা। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটগুলির একটি, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই পথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যার ফলে ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং রফতানি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হরমুজে সংকট: কেন তেলের দাম সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ভারত?

Hormuz Strait Crisis: ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর সরকার তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল। তখন ভারতের তেল আমদানির নির্ভরতা ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ। লক্ষ্য ছিল তা কমিয়ে দুই-তৃতীয়াংশে নামানো। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো।

এই সংকট শুধু কুয়েতের ক্ষেত্রেই নয়, গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। অনেক দেশকে তাদের উৎপাদন সীমিত করতে হয়েছে, কারণ তেল রফতানির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। কিছু ক্ষেত্রে তেল সংরক্ষণাগার প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়াও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে উৎপাদন চললেও তা বাজারে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এই পরিস্থিতিতে কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজর’ বা অপ্রতিরোধ্য পরিস্থিতির ধারা প্রয়োগ করেছে। এর অর্থ হলো, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে তেল সরবরাহ করতে না পারলেও সেটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে হচ্ছে বলে বিবেচিত হবে। এটি সাধারণত যুদ্ধ, অবরোধ বা বড় ধরনের প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক সংকটের সময় ব্যবহার করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তেলের লোভ তৈরি করেছিল ইরানের নিয়তি

Middle East conflict history: ১৯০৮ সালে পারস্যের মসজিদ সুলেইমানে তেল আবিষ্কার কী ভাবে বিশ্বরাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদী দখলদারি ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূচনা করেছিল?

এই ঘটনা বিশ্ব তেল বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কুয়েত সাধারণত দৈনিক মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল রফতানি করে এবং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ কুয়েতের তেলের উপর নির্ভরশীল। তাই হঠাৎ করে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ চেইনে চাপ তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও পরিবহন পথের অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা করছে। কুয়েতের রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, এই পরিস্থিতি বেশি দিন থাকবে না। কুয়েতের তেল উৎপাদন সক্ষমতা এখনও শক্তিশালী এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা দ্রুতই রফতানি পুনরায় শুরু করতে পারবে। সমস্যাটি মূলত পরিবহন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত, উৎপাদন স

ক্ষমতার সঙ্গে নয়।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।

এসআইআর: মূল টার্গেট ছিল বাংলা?

SIR West Bengal controversy: এসআইআরের নামে বাংলার নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা কতটা সুপরিকল্পিত? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাল কারচুপি ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্যে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি কতটা?

Garment Workers' Protest in Bangladesh: বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, আন্দোলনের পিছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ সরকারের। কিন্তু শ্রমিকদের অসন্তোষের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি মূল্যবৃদ্ধি ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার ক্ষোভ? সরকারের দাবির পক্ষে কতটা প্রমাণ রয়েছে?

সকালে জমা বিকেলে খরচ: আইনের শাসনের অবমাননা

Gaighata incident: গাইঘাটার ঘটনার পরমুহূর্তে শাসক দলের মন্ত্রী, নেতাদের প্রতিক্রিয়া পরিষ্কার করে দেয়, বন্দি অভিযুক্তকে হত্যার ঘটনা সরকারি নীতির ('সকালে জমা, বিকালে খরচ')—নগ্ন প্রয়োগ।

৫০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত, মোদীর দাবির আড়ালে কোন পরিসংখ্যানগত বিতর্ক?

World Bank's claim about India's poverty decline: বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২২-২৩-এ ভারতের চরম দারিদ্র্য ২৭.১% থেকে ২.৬%-এ নেমেছে বলে দাবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই পরিসংখ্যানকে রাজনৈতিক প্রচারের কাজেও লাগাচ্ছেন। কিন্তু, পরিসংখ্যানের আড়ালে আসল সত্য কি? কি বলছেন অর্থনীতিবিদরা?