নীরবতার ভেতর মানুষের কণ্ঠ : ম্যানুয়াল পুইগ ও বেঁচে থাকার গল্প

Manuel Puig: তাঁর চরিত্ররা খুব কমই উচ্চস্বরে কথা বলে; তারা ফিসফিসিয়ে কথা বলে, অন্ধকার ঘরে বসে স্বপ্ন দেখে, পুরনো সিনেমার পর্দার দিকে তাকিয়ে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া জীবন খুঁজে বেড়ায়।

Sibasis Mukherjee
৬ মিনিট
নীরবতার ভেতর মানুষের কণ্ঠ : ম্যানুয়াল পুইগ ও বেঁচে থাকার গল্প

শীতের কলকাতা মানেই বইমেলার ধুলোমাখা বিকেল আর নতুন বইয়ের গন্ধ। এবারের আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকার এই দেশটির নাম শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফুটবলের সবুজ গালিচা, অথবা সাহিত্যপ্রেমীদের মনে উঁকি দেয় হোর্হে লুই বোর্হেস বা হুলিও কোর্তাসারের জাদুবাস্তবতার জগৎ। কিন্তু এই নক্ষত্রখচিত আকাশের এক কোণে, কিছুটা নিভৃতে থেকেও যিনি ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল, তিনি ম্যানুয়াল পুইগ।

​যিনি তথাকথিত উচ্চমার্গীয় সাহিত্যের গাম্ভীর্য ভেঙে পপ কালচার, বি-গ্রেড সিনেমা আর অন্দরমহলের ফিসফিসানিকে জায়গা দিয়েছেন উপন্যাসের পাতায়। তাঁকে বাদ দিয়ে আর্জেন্টিনার সাহিত্যের পাঠ অসম্পূর্ণ। আসন্ন বইমেলার আবহে, যখন আমরা আর্জেন্টিনার সাহিত্যকে নতুন করে চিনে নিতে চাইছি, তখন পুইগ পাঠ অপরিহার্য। এই নিবন্ধটি সেই অসমসাহসী লেখকের প্রতি এক শ্রদ্ধার্ঘ্য—যিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে রূপোলি পর্দার আড়ালে, কারাগারের অন্ধকারেও মানুষ খুঁজে বেড়ায় মুক্তির আকাশ, কীভাবে নীরবতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা।

ম্যানুয়াল পুইগ এমন একজন লেখক, যাঁর কাছে সাহিত্য কখনওই কেবল কাগজে বন্দি শব্দের শৈল্পিক বিন্যাস ছিল না; সাহিত্য ছিল স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা, লজ্জা, ভালোবাসা, ভয় এবং বেঁচে থাকার এক দীর্ঘ, নীরব আর্তনাদ। তিনি লিখতেন সেইসব মানুষের কথা, যাদের গল্প ইতিহাসের মূলস্রোতে ঠাঁই পায় না, যাদের জীবন সমাজ ও রাষ্ট্রের শক্ত কাঠামোর নিচে চাপা পড়ে থাকে।

তাঁর চরিত্ররা খুব কমই উচ্চস্বরে কথা বলে; তারা ফিসফিসিয়ে কথা বলে, অন্ধকার ঘরে বসে স্বপ্ন দেখে, পুরনো সিনেমার পর্দার দিকে তাকিয়ে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া জীবন খুঁজে বেড়ায়। পুইগ জানতেন, জীবনের গভীরতম সত্য বহু সময় দার্শনিক গ্রন্থের কঠিন ভাষায় ধরা দেয় না; বরং তা লুকিয়ে থাকে জনপ্রিয় গানের সুরে, অতিনাটকীয় সিনেমার দৃশ্যে, কিংবা এলোমেলো কথোপকথনের মধ্যে নীরব ফাঁকে।

আর্জেন্টিনার ছোট শহর জেনারাল ভিয়েগাসে বেড়ে ওঠা পুইগের শৈশবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেই ছিল কল্পনার বিস্তার। চারপাশের রক্ষণশীলতা, সামাজিক নিয়ম, নীরব দমন—সব কিছুর মাঝেই সিনেমা ছিল তাঁর মুক্তির একমাত্র জানালা। সিনেমা হলে বসে তিনি শিখেছিলেন কীভাবে অন্যের জীবনের ভেতর ঢুকে পড়তে হয়, কীভাবে নিজের অস্তিত্বের সীমা ভেঙে দেওয়া যায়। এই কারণেই তাঁর সাহিত্যে সিনেমা কখনও শুধু অনুষঙ্গ নয়; সিনেমা হয়ে ওঠে স্মৃতির ভাষা, আকাঙ্ক্ষার রূপক, বেঁচে থাকার কৌশল। তাঁর লেখায় পর্দার আলো যেমন আছে, তেমনি আছে হলের অন্ধকার। আর এই দুইয়ের সংঘাতেই জন্ম নেয় তাঁর আখ্যান।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পরাঙ্মুখ, হৃদয়ে দূরগামী; বেলা তার

Bela Tarr: তিনি চলচ্চিত্রকে কোনো মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর মনে হয়েছিল তাঁর অন্তর্গত বেদনার কথা— আমরা যারা বেদনার সন্তান, তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত এক গূঢ় ভাষায়।

পুইগের উপন্যাসে গল্প কখনও সোজা পথে হাঁটে না। সেখানে চিঠি আসে, ডায়েরির পাতা খুলে যায়, সংলাপ হঠাৎ থেমে যায়, চরিত্ররা মাঝপথে হারিয়ে যায়। এই ভাঙাচোরা কাঠামো কোনো নান্দনিক খেয়াল নয়; এটি মানুষের জীবনের প্রকৃত রূপ। পুইগ বিশ্বাস করতেন, মানুষের জীবন কখনও সম্পূর্ণ বা সুসংহত নয়, তা টুকরো টুকরো স্মৃতি, অসমাপ্ত ইচ্ছা আর অপূর্ণ স্বপ্নের সমষ্টি। তাই তিনি পাঠককে আরাম দিতে চাননি; তিনি পাঠককে সেই ভাঙা জীবনের মাঝখানে বসিয়ে দিতে চেয়েছেন, যেখানে প্রশ্নের উত্তর নেই, আছে কেবল অনুভব।

যৌনতা পুইগের লেখায় কোনো চমক নয়, কৌতূহল জাগানোর অস্ত্রও নয়। যৌনতা তাঁর কাছে মানুষের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য সত্য। তিনি দেখিয়েছেন, সমাজ যাদের 'স্বাভাবিক' নয় বলে চিহ্নিত করে, যাদের পরিচয় লুকোতে বাধ্য করে, তাদের যন্ত্রণাও গভীর, তাদের ভালোবাসাও সত্য। তাঁর চরিত্ররা প্রায়ই নিজের শরীর, নিজের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দ্বিধায় ভোগে; তারা জানে না, সমাজের চোখে তারা গ্রহণযোগ্য কি না। পুইগ সেই দ্বিধাকেই তাঁর সাহিত্যের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। এখানে যৌনতা রাজনীতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শরীরও এক ধরনের রাজনৈতিক ক্ষেত্র।

কারাগারের অন্ধকার কক্ষে দু’জন মানুষের কথোপকথন—এই আপাত সাধারণ দৃশ্যের ভেতর দিয়ে পুইগ প্রশ্ন তুলেছেন স্বাধীনতা আসলে কী? বন্দি মানেই শুধু চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে থাকা নয়; বন্দিত্ব হতে পারে সামাজিক নিয়মে, লিঙ্গ পরিচয়ে, ভয়ের অভ্যাসে আটকে থাকা। আবার মুক্তি কখনও কখনও আসে গল্প বলার মধ্য দিয়ে, অন্যের কণ্ঠে আশ্রয় নেওয়ার মাধ্যমে। পুইগ দেখিয়েছেন, গল্প বলা নিজেই এক ধরনের প্রতিরোধ—যেখানে দমিত মানুষ নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করতে পারে।

রাজনীতি পুইগের কাছে কোনো বিমূর্ত ধারণা ছিল না। রাজনীতি ছিল দৈনন্দিন ভয়, সেন্সরশিপের চাপ, শরীরের উপর রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ। সামরিক শাসনের সময় আর্জেন্টিনা ছেড়ে তাঁকে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল। এই নির্বাসন তাঁর লেখায় বড় কোনো অভিযোগ হয়ে ওঠেনি; বরং তা হয়েছে এক দীর্ঘ, ক্লান্ত বিষাদ। নিজের দেশ ছেড়ে বেঁচে থাকা মানে তাঁর কাছে কেবল ভৌগোলিক বিচ্ছেদ নয়, নিজের ভাষা, নিজের স্মৃতি, নিজের শিকড়কে প্রতিদিন নতুন করে বহন করা। এই বহনের ক্লান্তি তাঁর লেখায় ছায়ার মতো পড়ে থাকে।

পুইগের সাহিত্যিক অবস্থান ছিল স্পষ্টভাবে বিদ্রোহী, যদিও তা কখনও স্লোগানের ভাষায় প্রকাশ পায়নি। তিনি তথাকথিত “উচ্চ সাহিত্য”-এর পবিত্রতা ভেঙে দিয়েছিলেন জনপ্রিয় সংস্কৃতির উপাদান দিয়ে। সিনেমার গল্প, রেডিও নাটক, পত্রিকার গসিপ, প্রেমের চিঠি—সবকিছুকেই তিনি সাহিত্যের সমান অধিকার দিয়েছেন। এই ভঙ্গির মধ্য দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন: কার ভাষা মূল্যবান, কার গল্প বলার যোগ্য? পুইগ দেখিয়েছেন, অবহেলিত ভাষা আর তুচ্ছ বলে মনে করা গল্পের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মানুষের জীবনের সবচেয়ে গভীর মানবিক সত্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সলিল চৌধুরী: আসমুদ্রহিমাচল বিস্তৃত এক মহাজীবন

Salil Chowdhury: আজকের প্লেলিস্ট কালচারে, যেখানে আমরা এলোমেলো করে শুনি হিপহপ থেকে রবীন্দ্রসংগীত, সেখানে সলিলের কাজ প্রমাণ করে— মেলোডি সীমানাবিহীন, নিরন্তর মাইগ্রেশন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পুইগ সাহিত্যকে সাহস দিয়েছেন দুর্বল হতে। তাঁর চরিত্ররা শক্ত নায়ক নয়; তারা ভাঙে, কাঁদে, পালাতে চায়, আবার ভালোবাসার দিকেও হাত বাড়ায়। তারা প্রায়ই সিদ্ধান্তহীন, লজ্জায় জর্জরিত। কিন্তু এই দুর্বলতাই তাদের মানবিক করে তোলে। পুইগ যেন আমাদের কানে কানে বলেন, অসম্পূর্ণ হওয়া কোনো ব্যর্থতা নয়; বরং সেটাই মানুষ হওয়ার শর্ত।

তাঁকে পড়তে পড়তে মনে হয়, আমরা যেন কারও ব্যক্তিগত ডায়েরির পাতায় ঢুকে পড়েছি, যেখানে শব্দের আড়ালে জমে আছে চাপা কান্না, চাপা হাসি আর অপ্রকাশিত স্বপ্ন। তাঁর সাহিত্য পাঠ মানেই অন্যের জীবনের গোপন ঘরে প্রবেশ করা—যেখানে কোনো নৈতিক বিচার নেই, আছে শুধু সহানুভূতির নীরব আলো। তিনি পাঠককে শেখান কীভাবে বিচার না করে শোনা যায়, কীভাবে অন্যের যন্ত্রণাকে নিজের ভেতরে জায়গা দেওয়া যায়।

এই কারণেই ম্যানুয়াল পুইগ আজও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়েও, যখন পরিচয়, যৌনতা, রাষ্ট্র আর ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জটিল, আরও দ্বিধাগ্রস্ত, আরও সংঘাতময় হয়ে উঠেছে, পুইগ আমাদের মনে করিয়ে দেন—মানুষের গল্প কখনও সরল নয়, কখনও একরৈখিক নয়। মানুষ একই সঙ্গে বহু সত্তা বহন করে, বহু ভয়, বহু আকাঙ্ক্ষা, বহু লজ্জা নিয়ে বাঁচে। তাঁর সাহিত্য আমাদের বদলে দেয় চুপিসারে, কোনো স্লোগান ছাড়াই, কোনো নৈতিক বক্তৃতা না দিয়ে। পুইগ পড়া মানে নিজের ভেতরের দুর্বলতাকে স্বীকার করা, নিজের লুকোনো কণ্ঠটি শোনার সাহস করা। আর ঠিক সেই জায়গাতেই তাঁর সাহিত্য, জীবন আর শিল্পের সীমারেখা মুছে দেয়—গল্প বলা হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার আরেকটি নাম।

আজকের পৃথিবীতে, যেখানে পরিচয় প্রায়ই সার্টিফিকেটে বন্দি, যেখানে ভালবাসা নিয়মের তালিকায় বিচারাধীন, যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকের শরীর ও কণ্ঠের উপর ক্রমশ একটু বেশি দাবি জানাতে থাকে—সেই পৃথিবীতে পুইগ আমাদের শেখান নীরবতার রাজনীতি। তিনি দেখান, সব প্রতিবাদ মিছিল হয় না, সব বিপ্লব শ্লোগানে লেখা থাকে না। কখনও কখনও দু’জন মানুষের কথোপকথন, কারাগারের অন্ধকারে বলা একটি গল্প, কিংবা পুরোনো সিনেমার কাহিনি শোনানোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। এই প্রতিরোধ উচ্চস্বরে নয়, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী।

ম্যানুয়াল পুইগের প্রাসঙ্গিকতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে এই কারণে যে, তিনি আমাদের 'স্বাভাবিক' বলে শেখানো ধারণাগুলোকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান। তিনি দেখান, স্বাভাবিকতা আসলে ক্ষমতার ভাষা—যে ভাষা ঠিক করে দেয় কে কেন্দ্রে থাকবে, কে প্রান্তে যাবে। তাঁর সাহিত্যে প্রান্তিক মানুষরা শুধু করুণা পাওয়ার যোগ্য চরিত্র নয়; তারা চিন্তা করে, সিদ্ধান্ত নিতে চায়, ভালবাসে, ভুল করে, এবং সবচেয়ে বড় কথা—তারা নিজেদের গল্প নিজেরাই বলতে চায়। এই স্বরাধিকার আজও সমান জরুরি, কারণ আজও বহু মানুষের কণ্ঠ সামাজিক শোরগোলে হারিয়ে যায়।

পুইগ আমাদের শেখান সহানুভূতির নৈতিকতা। তাঁর লেখায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই, দ্রুত রায় নেই। তিনি পাঠককে বলেন—শোনো, আগে শোনো। বিচার করার আগে অনুভব করো। এই শোনার অভ্যাসই আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে বিপন্ন। সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুত প্রতিক্রিয়া, মতামতের তাড়াহুড়ো, পক্ষ নেওয়ার চাপ—সব কিছুর মাঝখানে পুইগ আমাদের ধীরে পড়তে শেখান, ধীরে ভাবতে শেখান। তাঁর সাহিত্য যেন এক দীর্ঘ শ্বাস, যা আমাদের তাড়াহুড়োর ভেতর থামিয়ে দেয়।

আরও একটি কারণে পুইগ আজও গুরুত্বপূর্ণ—তিনি আমাদের দুর্বলতার সঙ্গে মিলিয়ে দেন। আজকের যুগ শক্ত থাকার, সফল হওয়ার, আত্মবিশ্বাসী দেখানোর যুগ। কিন্তু পুইগ দেখান, মানুষ আসলে প্রায়ই ভয় পায়, দ্বিধায় ভোগে, নিজের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লজ্জিত হয়। তাঁর চরিত্ররা শক্ত মুখোশ পরে নেই; তারা কাঁদে, ভাঙে, কখনও পালাতে চায়। এই ভাঙনই তাদের মানবিক করে তোলে। পুইগ যেন বলেন—ভাঙা মানেই শেষ নয়; ভাঙার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নিজের সত্যকে চিনে নেওয়ার সম্ভাবনা।

পুইগ পড়া মানে নিজের জীবনের দিকেও অন্য চোখে তাকানো। আমরা বুঝতে শুরু করি, আমাদের দৈনন্দিন কথোপকথন, আমাদের ছোট ছোট স্মৃতি, আমাদের গোপন লজ্জা—এসবও সাহিত্য হতে পারে, অর্থপূর্ণ হতে পারে। জীবনকে আর “বড় ঘটনা” দিয়ে মাপতে হয় না; জীবন ধরা দেয় ছোট মুহূর্তে, অপ্রকাশিত কথায়, অসমাপ্ত স্বপ্নে। এই উপলব্ধি পাঠককে আরও সংবেদনশীল করে তোলে—নিজের প্রতি, অন্যের প্রতিও।

সব মিলিয়ে, ম্যানুয়াল পুইগ আমাদের শেখান সাহিত্যের এক নরম কিন্তু গভীর দায়িত্ব। সাহিত্য কেবল সৌন্দর্য বা বিনোদন নয়; সাহিত্য এমন এক জায়গা, যেখানে মানুষ নিরাপদে নিজের ভাঙাচোরা সত্তাকে প্রকাশ করতে পারে। পুইগ সেই জায়গাটুকু খুলে দিয়েছেন—নিঃশব্দে, ধৈর্যের সঙ্গে, ভালোবাসার চোখে। তাই তাঁকে পড়া মানে শুধু একজন লেখককে পড়া নয়; তাঁকে পড়া মানে মানুষ হওয়ার জটিল, অসম্পূর্ণ, অথচ অপরিহার্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড়ানো।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।