পরাঙ্মুখ, হৃদয়ে দূরগামী; বেলা তার

Bela Tarr: তিনি চলচ্চিত্রকে কোনো মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর মনে হয়েছিল তাঁর অন্তর্গত বেদনার কথা— আমরা যারা বেদনার সন্তান, তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত এক গূঢ় ভাষায়।

Sanjay Mukherjee
৪ মিনিট
পরাঙ্মুখ, হৃদয়ে দূরগামী; বেলা তার

সম্ভবত ধ্রুপদী অর্থে আধুনিক পৃথিবীর শেষ চলচ্চিত্র— 'শয়তানের নৃত্য', সাত ঘণ্টার এক মহাকাব্য যিনি বানিয়েছিলেন, তিনি অস্তমিত হলেন। এই প্রস্থান যন্ত্রণাবিধুর হতে পারে, কিন্তু তা নিতান্ত কয়েকজনের কাছে, সংখ্যালঘুর কাছে। সিনেমা ক্রমশই স্পেকটাকুলার হয়ে উঠছে। তার নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলী এবং তার দ্রুততা তাকে পরিণত করছে মানুষের ক্ষণিকের বিহ্বলতা ও বিনোদনে। বস্তুত সিনেমার সূচনাও সেভাবেই হয়েছিল। তার থেকে ডিজিটাল যুগে আর কী বেশি আশা করা যাবে? 'আমরা যাইনি মরে আজও, তবু কেবলই দৃশ্যের জন্ম হয়'— আর বেলা তার চেয়েছিলেন তার উচ্চারণ যেন দৃশ্যের অত্যাচার মুক্ত হয়।

তাই বেলা তার প্রচলিত অর্থের সেরকম চলচ্চিত্রকার নন। তিনি চলচ্চিত্রকে কোনো মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর মনে হয়েছিল তাঁর অন্তর্গত বেদনার কথা— আমরা বেদনার সন্তান যারা, তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত এক গূঢ় ভাষায়। এবং তিনি যখন চলচ্চিত্র করেছেন, তাতে নয়নশোভন যুবক-যুবতী বা দেহক্রীড়া অথবা চমকপ্রদ কৌশল কিছুই নেই। আমার মনে হয় বেলা তার অনেক বেশি ভারতীয়, মজ্জায় ও মননে। তাঁর ছবি দেখে সবসময়ই আমার মনে হয়েছে যে মন্থর কিংবা গতিসম্পন্ন সিনেমা যাই হোক না কেন, আসলে তিনি শরশয্যার ভীষ্ম, সূর্য উত্তরায়ণে প্রবেশ না করলে যিনি স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করবেন না। এই কুরুক্ষেত্রের রণরক্ত কোলাহল শেষ হয়ে গেছে। তেমন কোনো নাটক আর পৃথিবীতে নেই। তেমন কোনো ঘটনাও ঘটবে না। অথচ ভীষ্ম অপেক্ষা করে থাকেন এক নিবিড় আস্তিক্য পর্বের অপেক্ষায়। দিন যায়, রাত যায়, ভীষ্ম কখনোই কাতর হন না। অবশেষে একদিন দিনমণি তাকে দয়া করেন। বেলা তার, যথার্থই, তাই।

বেলা তারের 'দ্য টিউরিন হর্স' ছবির দৃশ্য

বেলা তার যখন ছবি করেন তখন ছবির প্রাথমিক শর্ত, অর্থাৎ হলিউডের শর্ত বলতে, যে দ্রুতগতির মন্তাজের কথা আমাদের মনে হয়, তার সম্পূর্ণ বিপরীত আবর্তে তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁর দেখা, এক দীর্ঘ অবলোকন। এই অবলোকনের সঙ্গে বরং জীবনানন্দ দাশের সাদৃশ্য আছে। আমাদের পরিচিত অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশাহীন বিবরণ, নীরব প্রতীক্ষা যেমন সহসা আকুল হয়ে ওঠে কোনো নির্দিষ্ট একটি শব্দের মধ্যে জীবনানন্দের, বেলা তার ঠিক সেভাবেই জানেন তাঁর দীর্ঘ অচঞ্চল দৃষ্টিপাত একটি বিন্দুতে পৌঁছে নিজেই ক্রম-উন্মোচনশীল হয়ে উঠবে। তিনি ক্যামেরাকে বিরতিহীন করে তোলেন। তাঁর প্রথম ছবি থেকে শেষ ছবি সর্বত্রই লং টেক। এবং সেই লং টেক অবিশ্বাস্য— সাত-আট মিনিট করে, এমনকি এগারো মিনিট পর্যন্ত চলে গেছে। তবু বেলা তারের প্রতীক্ষা শেষ হয়নি। তাঁর ছবি হয়ে উঠেছে সময়ের সাংখ্যদর্শন। সময়ের অবিনশ্বর গ্রন্থি বা বলা চলে, এইসব নিরঞ্জন অবলোকনই সেই প্রহর পুঁথি, যা আসলে মানুষের ইতিহাস। কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত শুধু উড্ডীন বিশেষণটি খুঁজে পাওয়ার জন্য একটি সন্ধ্যা ব্যয় করেন, বেলা তার সমগ্র জীবন ব্যয় করতে পারেন একটি শটের জন্য।

আমরা তাঁর ছবি নিয়ে আলোচনা করতেই পারি। 'তুরিনের অশ্ব' বা 'শয়তানের নৃত্য'। কিন্তু এই আলোচনার সময় মনে রাখতে হবে যে, 'শয়তানের নৃত্য' উত্তর-ইউরোপীয় বার্গম্যানের 'সেভেন্থ সিল'-এর অন্তিম দৃশ্য থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এক অন্ধকার থেকে অন্ধকারে চলে যাওয়ার সময় বেলা তার পৃথিবীর অন্ত্যেষ্টি স্থিরতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ করেন। তাঁর সম্পর্কেই আমরা বলতে পারি, 'গতি তবে স্তব্ধতার মতো'। সিনেমা যা গতির শিল্প, তাকে তিনি অবলীলায় পাল্টে দিয়েছেন। এ বিষয়ে রোবের ব্রেসোঁ বা অ্যাঞ্জেলোপুলাস এ জাতীয় নাম আমি করতে চাই না। কারণ এটা শুধু দীর্ঘ টেকের বিষয় নয়। এটা শুধু সম্পাদনার প্রতি এক ধরনের বিরাগ নয়। এটা বরং এক অপলক ও অচঞ্চল দৃষ্টিপাত, যা ছবির অন্তরালে আরেকটি ছবি খুলে দেবে। যেমন দালির পটগুলি, তারা ক্রমশই একটি অর্থ থেকে অন্য অর্থে চলে যায়, এক ছবি থেকে অন্য ছবি গঠন করে। বেলা তারের ছবি প্রায় সেইরকম। তাঁকে আমরা অন্যান্যদের সঙ্গে তো তুলনা করতে পারবই না, যদিও হিচকক তাঁর অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। এমনকি তারকোভস্কির যে নন্দনতত্ত্ব, তার সঙ্গেও পারব না। বেলা তার একটি ভাবনার শরীর।

বেলা তারের 'স্যাটানট্যাঙ্গো' ছবির দৃশ্য

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নধরের ভেলা: গতিময়তার বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ

Nadharer Bhela Review: প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের ছবিতে বারবার উঠে এসেছে গ্রাম্য লোকের ছাপোষা জীবন, মফসসলের মানুষদের খুচরো পয়সার যাপন, সর্বহারাদের এক মহাকাশ ভালবাসার কথা।

তিনি দৃশ্যের আধিপত্যের অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন সিনেমা থেকে। এবং সিনেমার ইমেজ তাঁর কাছে হয়ে উঠেছে ভাবনার বাহক বা স্বয়ং ভাবনা। তাঁর ভাষা নেই। তিনি চিত্রভাষাতেই চিন্তা করা যায় কিনা এরকম একটা অনুমান করতে চেয়েছিলেন। এই ধারণার ঐতিহ্য তাঁর দেশে ছিল। মিকলোস ইয়াঞ্চো প্রমুখ এই ধরনের মন্থর ছবির সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ইতিহাস অনেক বড় অর্থে, ম্যাক্রো ইতিহাস ইয়াঞ্চোর ছবিতে পরিস্ফুট হয়। তাঁর অশ্বসমূহ, তাঁর নগ্ন নারীরা যে অর্থে বিচ্ছুরিত হয়, বেলা তারের পূরবী বিধুর অপরাহ্ণ বা বিষাদাশ্রিত অন্ধকার তেমন নয়। পুণ্য জাহ্নবীর তীরে সন্ধ্যাসবিতার বন্দনায় তিনি অন্তহীন অপেক্ষা করতে পারেন। তাঁর প্রতিবাদ নেই। কেননা তিনি সান্ত্বনা আশা করেন না। বোদলেয়ার যে নির্বেদ বা 'অঁনুই' (Ennui)-এর কথা বলেছিলেন, বেলা তার, তার একটি চূড়ান্ত প্রমাণ। হাঙ্গেরি এক ছোট্ট দেশ। কিন্তু সেখানে সিনেমা তার কথা বলার উৎস মুখ।

এই যে আমরা ইয়াঞ্চোর কথা বললাম, বা আমরা ইস্তভান জাবো এবং মেসজারোস-এর কথা বলি, আমরা আলেকজান্ডার কর্ডা থেকে যে ইতিহাস শুরু করি, তাতে দেখতে পাই যে আসলে হাঙ্গেরি তার নিজের ইতিহাসকে কোথাও লুকিয়ে রেখেছে। তারা এক মায়াবীর মতো জাদুবলে সেই তাস উন্মোচন করে দেয়। হেগেল বলেছিলেন, মিনার্ভার পেঁচা শুধু রাতেই ওড়ে। বস্তুত অধিকৃত হাঙ্গেরিতে যখন ইতিহাস অবলুপ্ত হলো, তখন ইয়াঞ্চো বা বেলা তার বা মেসজারোস প্রমুখ চলচ্চিত্রকারদের আর কী-ই বা করার ছিল? তারা প্রকাশ্যেই যদি আধিপত্যের বিরোধিতা করেন, তার প্রামাণ্য নথি তেমনভাবে জনসাধারণের সামনে গৃহীত নাও হতে পারে। তাই তিনি শান্তিপর্বের জবানবন্দি রেখে গেলেন। উপরন্তু সেই জবানবন্দিতে যে ছবি, যে মন্থরতা, তা আমাদের ধৈর্য দাবি করে।

বেলা তারের 'ড্যামনেশন' ছবির দৃশ্য

সবাই বেলা তারের ছবি দেখে না, দেখবেও না। তাঁর এই মৃত্যু আমাদের কাছে এল খানিকটা সমাপতন হিসেবে। এই মুহূর্তে বাংলা সিনেমায় যা সচরাচর হয় না, তেমন এক তথাকথিত 'ক্লান্তিকর' ছবি, প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের 'নধরের ভেলা' প্রদর্শিত হতে চলেছে প্রেক্ষাগৃহে।

এই 'নধরের ভেলা'-র মধ্যে যে বিলম্ব, যে সময়ের ক্ষয়, তার আদিপুরুষ হিসেবে তো বিশ্ব শতকে বিরাজ করছেন বেলা তার।

অনেক সময় তারকোভস্কিও। এবং মিকলোস ইয়াঞ্চো তো বটেই। এ যেন জীবনানন্দের পয়ার, যাকে ক্রমশই মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া যায়।

যা ছাব্বিশ মাত্রাতেও ক্ষান্ত হয় না। যা শুধুমাত্র গ্রন্থের সীমাবদ্ধতার জন্য আর বিস্তৃত হতে পারে না। বা যেন কোনো রবীন্দ্রসংগীত:

'মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে / আমায় কেন বসিয়ে রাখো একা দ্বারের পাশে।'

বেলা তারের ছবি দেখতে দেখতে আমরা এই প্রশ্নটাই করি। আমরা বুঝতে পারি না এই স্রষ্টা কেন অমরতার পথে হেঁটে যেতে যেতে

তার সঙ্গী সারমেয়টির বদলে আমাদের বেছে নেন। আমরা যাতে নরক থেকে স্বর্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পথে অন্তত কোনো প্রদর্শক পাই— এইটি কারণ বেলা তার চলে গেলেন। কিছুদিন আগে গোদার চলে গেছেন। পৃথিবী প্রায় চলচ্চিত্রকার শূন্য হয়ে পড়ছে। অন্তত সিনেমার সঙ্গে যে দর্শনের যোগাযোগ আছে, সিনেমা যে ইতিহাসের কথা বলে, তা বলার লোক আর নেই। এখন সিনেমা শুধুই একটি কৃৎকুশলতার মতলব। সেই মতলব তো আমরা রোজই পর্দায় দেখছি। আজকের চলচ্চিত্রকার ধুরন্ধর। আর বেলা তার আমাদের মধ্যে শেষ প্রজ্ঞানময় দার্শনিক। লাসলো ক্রাসনোহরকাই তাঁর রচনার সাহিত্য প্রেক্ষাপট তৈরি করতেন, অথচ কোনো ঔপন্যাসিক বেলা তারের পক্ষে জরুরি ছিল না। তিনি নিজেই দৃশ্যের ঔপন্যাসিক। দৃশ্যের স্বয়ম্ভরতা অর্জন তাঁর কাছে অর্জুনের গাণ্ডীব ধ্বনি। 'অপর' চলচ্চিত্রের অভিযাত্রীকে প্রণাম।

লিখেছেন
Sanjay Mukherjee
Sanjay Mukherjee
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।