রহস্যময় বিস্ফোরণের শব্দ, সঙ্গে সবুজ আলো! যোধপুরের সেই রহস্যের কিনারা হয়নি আজও

Jodhpur Sonic Boom: যোধপুরের সেই শব্দের উৎস আজ অবধি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

Raktim Dey
৩ মিনিট
রহস্যময় বিস্ফোরণের শব্দ, সঙ্গে সবুজ আলো! যোধপুরের সেই রহস্যের কিনারা হয়নি আজও

২০১২ সাল। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এক আজগুবি তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল। দক্ষিণ আমেরিকার প্রাচীন মায়া উপজাতির তৈরি করা একটি ক্যালেন্ডার ২০১২ সালের সঙ্গেই শেষ হয়েছিল। সেই ক্যালেন্ডারের হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে কোনও তারিখ অথবা হিসেব ছিল না। সেই সূত্রেই বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তার মধ্যে সবথেকে পরিচিত তথ্য ছিল যে, ২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। তার কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, মায়া উপজাতি আগে থেকেই এই ধ্বংসের দিনের কথা জানত। তাই তাদের তৈরি ক্যালেন্ডারের হিসেবে ইংরেজির ২০১২ সাল পৃথিবীর শেষ বছর হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে। এই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু মানুষ ভয় পেয়েছিল। বহু মানুষ তাদের জীবনের শেষ ইচ্ছা ভাবতে এবং পূরণ করতে শুরু করেছিল। বহু মানুষ যদিও এই তথ্যের সত্যতার প্রতি সন্দিহান ছিল। এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে হলিউডে একটি সিনেমা তৈরি হয়েছিল। আশঙ্কা, অবিশ্বাস- সব মিলিয়ে মানুষ ২০১২ সালের শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। এমন সময় ভারতের যোধপুর শহরে একটি আশ্চর্য ঘটনা ঘটে যায়।

১৮ ডিসেম্বর, ২০১২। এই তারিখটা বহু যোধপুরবাসী আজও ভুলতে পারেনি। সকাল এগারোটা পঁচিশ নাগাদ এক বিকট শব্দে শহরের মানুষ চমকে উঠেছিল। বহু মানুষের কথায়, সেই শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে, শব্দের উৎসের কাছে থাকা কোনও মানুষ বধির হয়ে যেতে পারতো। শব্দটা শহরের বহু মানুষ শুনলেও তার উৎস কেউ দেখতে পায়নি। এই ঘটনাকে বলা হয় সনিক বুম।

সনিক বুম কী

সনিক বুমের অর্থ হলো, শব্দের থেকে দ্রুত গতিতে উড়ে যাওয়ার কারণে যে শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি হয়। এক ধরনের শক ওয়েভ তৈরির ফলে কৃত্রিম বায়ুকণার একটি 'কোন' বা তরঙ্গ তৈরি হয়। সেই তরঙ্গ সর্বগামী হয় ও মাটির অভিমুখে যায়। ফলে সেই তরঙ্গের সমগ্র ব‍্যসজুড়ে সৃষ্টি হয় এই 'সনিক বুম'।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সম্পূর্ণ নতুন মানুষ প্রজাতির সন্ধান এনে দিল নোবেল! যে রহস্যর সমাধান করল বিজ্ঞান

Nobel in Physiology: তৈরি হয়েছে নতুন এক বিজ্ঞান, নাম প্যালিওজেনোমিক্স। স্বান্তে পাবো ও তাঁর সহকর্মীদের জন্যই সম্ভব হয়েছে এটা।

যোধপুরের সনিক বুম রহস্য

শব্দ শোনার পরের হতচকিত ভাব কাটিয়ে উঠে মানুষ নিজেদের মতো শব্দের উৎস সম্পর্কে মতামত জানাতে শুরু করেছিল। কারও মতে ভারতীয় বায়ুসেনার কোনও উড়োজাহাজ থেকে এই শব্দের উৎপত্তি, অন্যদের কাছে নিকটবর্তী কোনও সেনাছাউনি অথবা কোনও তেল মজুত কেন্দ্রের বিস্ফোরণ এই শব্দের উৎস বলে মনে হয়েছিল। অনেকে বলেছিল যে, শব্দ শুনে মেঘের গর্জন মনে হলেও তা মেঘের গর্জনের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র ছিল। শব্দের উৎস সংক্রান্ত মানুষের বিভিন্ন তথ্য থাকলেও তার প্রায় সবক'টাই খারিজ হয়ে গিয়েছিল। ভারতীয় বায়ুসেনার মুখপাত্র এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলেন, ভারতীয় বায়ুসেনার কোনও বিমান ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসের আঠারো তারিখ সকাল এগারোটা পঁচিশ নাগাদ যোধপুর শহরের ওপর দিয়ে শব্দের থেকে বেশি গতিবেগে উড়ে যায়নি। একই সঙ্গে বিবৃতিতে এই শব্দের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কোনওরকম যোগাযোগ নাকচ করে দেওয়া হয়েছিল। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছিলেন যে, শহরের মতো সাধারণ মানুষের বসবাসের এলাকায় সেনা কোনওরকম পরীক্ষা চালায় না। শব্দের পর নিকটবর্তী সেনা ছাউনি অথবা অন্যান্য কোনও এলাকা থেকেই কোনও রকম বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়নি।

রাজস্থানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে এইরকম একটা শব্দের উৎস আজ অবধি খুঁজে পাওয়া যায়নি। যদিও বিভিন্ন মাধ্যমে এই ঘটনা একটা নাম পেয়েছিল। যোধপুর সনিক বুম। সনিক বুম, অথবা শব্দাঘাত কোনও জিনিস শব্দের থেকে দ্রুত বেগে চলাচল করলে তার থেকেই উৎপন্ন হয়। যদিও নামকরণের ক্ষেত্রে বিস্ফোরণ নয় বরং কোনও যানের কথা বলা হয় কিন্তু মানুষের পরিচিত যে ধরনের যান এই শব্দাঘাত সৃষ্টি করতে পারে যোধপুরের মতো শহরের ওপর, সেই সময় তার উপস্থিতির কথা নাকচ হয়ে গিয়েছিল। তাহলে যোধপুর সনিক বুমের উৎস কী ছিল?

পরবর্তীকালে এই সনিক বুম নিয়ে একটি অবাক করা তথ্য সামনে আসে। যোধপুরের মতোই আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এবং ইংল্যান্ডেও একই ধরনের শব্দাঘাত শোনা গিয়েছিল। যদিও তা শোনা গিয়েছিল আলাদা আলাদা দিনে এবং আলাদা সময়ে কিন্তু সেই শব্দের সঙ্গে যোধপুরের শব্দের অনেক মিল ছিল। কোথাও কোথাও এই শব্দের সঙ্গে এক ধরনের সবুজ আলো দেখতে পাওয়ার কথা এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছিল। সেই সময়ে এক ভূতত্ত্ববিদ জানিয়েছিলেন, এইরকম শব্দাঘাত সাধারণ শব্দাঘাতের পর্যায়ে পড়ে না এবং এই ঘটনার আগে এই ধরনের তীব্র শব্দাঘাত সংক্রান্ত কোনও নথি সম্ভবত নেই। ভারত তথা পৃথিবীর কাছে আজ অবধি একটা ধাঁধা হয়ে থাকা রহস্যময় যোধপুর সনিক বুম বহুদিন যোধপুর শহরের বহু মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে রেখেছিল।

পৃথিবীজুড়ে হওয়া এতগুলি সনিক বুম কি পরস্পরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট? এর বৈজ্ঞানিক ব‍্যাখ‍্যা কি লুকিয়ে রয়েছে গ্রহান্তরে? এই নিয়েও নানা তত্ত্ব উঠে এসেছে। ভিনগ্রহীদের আগমন নিয়ে এমনিতেই নানারকম আগ্রহ রয়েছে মানুষের। তবে এই ঘটনার কোনও প্রাকৃতিক ব‍্যাখ‍্যা থাকাই স্বাভাবিক। কোনও দিন হয়তো সেই রহস‍্যের সমাধান হবে।

তথ্য ঋণ: জি নিউজ, মিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, নাসা

লিখেছেন
Raktim Dey
Raktim Dey
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।