মোদি-রাজ্যের ভোটে বড় ফ্যাক্টর, কেন এই সম্প্রদায়কে কাছে টানতে মরিয়া সব দল

বাংলায় যেমন উত্তর ২৪ পরগনার কিছু অংশে মতুয়া ভোট নিয়ে হইচই হয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে, গুজরাতে তেমনই এই পতিদারদের ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ।

tiasa gupta
৪ মিনিট
মোদি-রাজ্যের ভোটে বড় ফ্যাক্টর, কেন এই সম্প্রদায়কে কাছে টানতে মরিয়া সব দল

জল্পনা ছিলই। সেইমতো কংগ্রেসের সঙ্গে হার্দিক প্যাটেলের ডিভোর্স হয়ে গেল। এখন তাঁর তরণী বিজেপির ঘাটে নোঙর করবে কি না, তা সময়ই বলবে, তবে মোদ্দা কথা হল, গুজরাত ভোটে পতিদার একটা বড় ফ্যাক্টর। তারা ভোটের হাওয়া সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই তাদের কাছে টানতে মরিয়া সব দল। কংগ্রেস, বিজেপি এবং আপ-এর অন্দরে ঢুঁ মেরে একবার দেখা যাক, কারা কী ছক কষছে। হার্দিক বিদায় জানালেও কংগ্রেস কিন্তু চুপ করে বসে নেই। কীভাবে তারা ঘুঁটি সাজাচ্ছে, সে প্রসঙ্গে আসা যাক।

পতিদার আন্দোলন থেকে উঠে এসে কংগ্রেসে যোগ দিলেও হার্দিক পটেল বুধবার দল ছেড়েছেন। পতিদার আন্দোলনের মুখ হার্দিকের লড়াই ছিল কার্যত বিজেপির বিরুদ্ধে। তাই স্বাভাবিকভাবে তিনি কংগ্রেসের সমর্থন পান এবং পরে কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে 'হাত'-এর সঙ্গে তাঁর মধুচন্দ্রিমার পিরিয়ড বেশিদিন স্থায়ী হল না। এই অবস্থায় পতিদাররা যদি পুরোপুরি কংগ্রেস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে তাদের লড়াই যে বিশাল মুশকিল হবে, তা বলাই বাহুল্য। তাই তারা চুপ করে বসে নেই।

বৃহস্পতিবার ভোরেই কংগ্রেস নেতারা রাজকোটে পতিদার সমাজের নেতা নরেশ প্যাটেলের বাড়িতে পৌঁছে যান। নরেশ প্যাটেল পতিদারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় লেউভা প্যাটেলদের সংস্থা, শ্রী খোদালধাম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান। সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে নরেশের প্রভাবের জন্য বিজেপি, আম আদমি পার্টিও তাঁকে দলে টানতে চাইছে। এআইসিসি-তে গুজরাতের ভারপ্রাপ্ত নেতা রঘু শর্মা ও গুজরাত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জগদীশ ঠাকুর যখন রাজকোটে নরেশ প্যাটেলের সঙ্গে প্রাতরাশের টেবিলে বৈঠক করছেন, সেই একই সময়ে দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কুণ্ডলধাম স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের যুব শিবিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বক্তৃতা দিয়েছেন। পতিদারদের মধ্যেও স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের প্রভাব প্রবল। মোদিও অন্য পথে পতিদারদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জেলে যাওয়ার ভয়েই হার্দিকের দলত্যাগ?

দিল্লির অন্দরে এমনও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, জেলে যাওয়ার ভয়েই হাত ছাড়লেন হার্দিক। কিন্তু এরকম ভাবনার কারণ কী?

বাংলায় যেমন উত্তর ২৪ পরগনার কিছু অংশে মতুয়া ভোট নিয়ে হইচই হয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে, গুজরাতে তেমনই এই পতিদারদের ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ। এরা ভোটের হাওয়া সম্পূর্ণ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। ঘটনা হল এই সম্প্রদায়টি গুজরাতকে অতীতে চারটি মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছে। শক্তিশালী পতিদার সম্প্রদায়ের ভোট ১৮২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৬০টিরও বেশি ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। বিজেপি, ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পতিদারদের মন জয় করার জন্য বড় সময় কাজ করেছে। যে উল্লেখযোগ্য অংশ হার্দিক প্যাটেলের প্রভাবে কংগ্রেসে আগে চলে গিয়েছিল, তাদের ভোট ফেরাতে সক্ষম হয় বিজেপি। প্রায় তিন দশক আগে, কংগ্রেসের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মাধব সিং সোলাঙ্কি ক্ষমতা দখলের জন্য ক্ষত্রিয়-হরিজন-আদিবাসী-মুসলিম (কেএইচএএম) জোটের সঙ্গে পরীক্ষা করার পরে পতিদাররা গেরুয়া দলের দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়েছিল।

গত পাঁচ বছরে, কংগ্রেস বিধায়কের সংখ্যা ৭৭ থেকে ৬৫-তে নেমে এসেছে। সম্প্রতি দলের এক নেতা অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনের আগে, বিজেপি ১০ জন কংগ্রেস বিধায়ককে 'প্রলোভন দেওয়ার চেষ্টা করছে'। ২০২০ সালে কয়েকজন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে ভয়ে কংগ্রেস তাদের বিধায়কদের একটি রিসর্টে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়াও, কংগ্রেসে পতিদারদের স্থানান্তরের ক্ষতি এবং ভবিষ‍্যৎ সম্ভাবনা উপলব্ধি করে, বিজেপি গত বছর তাদের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিকে পতিদার নেতা ভূপেন্দ্রভাই প্যাটেলের সঙ্গে প্রতিস্থাপন করেছিল। মার্চ মাসে, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন গুজরাত সরকার ২০১৫ সালের পতিদার কোটা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত দায়ের করা ১০টি মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিল, অবশ্য পতিদার আনামত আন্দোলন সমিতি আন্দোলন পুনরায় চালু করার হুমকি দেওয়ার পরে।

বিজেপিতে হার্দিক যোগ দেবেন কি না, তা সময়ই বলবে, তবে কেন তিনি হাত ছাড়লেন, তা নিয়েও চলছে কাঁটাছেঁড়া। দিল্লির অন্দরে এমনও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, জেলে যাওয়ার ভয়েই হাত ছাড়লেন হার্দিক। পতিদার নেতার এই দলত্যাগের পর প্রত্যাশিতভাবে আক্রমণের পথে নেমেছ গুজরাত কংগ্রেস। রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি জগদীশ ঠাকুর বৃহস্পতিবার হার্দিকের দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, হার্দিকের বিরুদ্ধে যে দেশদ্রোহিতার মামলা চলছে, তার জন্য তাঁকে জেলে যেতে হতে পারে। সেই কারণে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই পতিদার নেতা। পতিদারদের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে সব দল, একথা যেমন ঠিক, তেমনই এই প্রশ্নও তুলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা যে, হার্দিককে কি জেল জুজু দেখানো হয়েছিল? অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে সিবিআই জুজু দেখিয়ে হাত করার নজির বিজেপির আছে। তাহলে এই সম্ভাবনা নেহাতই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন প্রশ্ন হল পতিদার আন্দোলন হয়েছিল বিজেপির বিরুদ্ধে, এখন হার্দিক বিজেপিতে যোগ দিলে, তাঁর নেতা হিসেবে নৈতিকতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না?

এদিকে আপও কিন্তু চুপ করে বসে নেই। গত মাসেই তারা হার্দিকের জন্য আমন্ত্রণপত্র ছাপিয়ে রেখেছে। আগেই হার্দিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আম আদমি পার্টি। দলের গুজরাত শাখার প্রধান গোপাল ইটালিয়া বলেছিলেন, আপের সঙ্গে হার্দিকের ‘মানসিকতার মিল হবে’। কংগ্রেসে হার্দিকের মতো ‘আদর্শবাদী কর্মীর’ স্থান নেই।

গোপালের কথায়, “হার্দিক প্যাটেল যদি কংগ্রেসে থাকতে না পারেন, তিনি আপে যোগ দিতে পারেন। কংগ্রেসে থেকে তিনি সময় নষ্ট করছেন। বরং তিনি আমাদের দলের হয়ে কাজ করুন। কংগ্রেসে তাঁর মতো আদর্শবাদী কর্মীর জায়গা নেই।” এক্ষেত্রে কিন্তু সেই পতিদার ফ্যাক্টর এবং ভোট বড় বালাই। তবে হার্দিক এখনও পরিষ্কার করেননি, তিনি কোন দলে শেষ পর্যন্ত যোগ দেবেন।

সবশেষে একথা বলাই যায়, পতিদারদের ছাড়া গুজরাতে কুর্সি দখল সম্ভব নয়। একথা ভালোই জানে কংগ্রেস, বিজেপি এবং আপও। তাই যে যার মতো করে পতিদারদের সামনে রেখে ভোটের অঙ্ক কষা শুরু করে দিয়েছে। কার ভাগ্যে শিঁকে ছেড়ে তা সময়ই বলবে। তবে এই নিয়ে রাজনৈতিক প্রেডিকশন শুরু হবে আরও কিছুদিন পর।

লিখেছেন
tiasa gupta
tiasa gupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?