পিঠের একাল সেকাল

Poush Parbon Pithe Puli: পিঠে তৈরির আগে গ্রামাঞ্চলে 'বাউনি' বাঁধার একটি প্রথা ছিল, যা এখন প্রায় বিলুপ্ত। পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন, মাটির সরা (যে পাত্রে চিতই পিঠে তৈরি করা হয়)-কে পুজো করা হতো। পাকা ধানের শিষ বিনুনির মতো করে পাকিয়ে সরার গলায় বেঁধে দেওয়া হতো— যার নাম 'বাউনী'। বিশ্বাস করা হতো, এতে সারা বছর ধানের গোলা পূর্ণ থাকবে।

inscript
৬ মিনিট
পিঠের একাল সেকাল

পৌষ মাসে খেজুর গুড়, চালের গুঁড়ো, আর নারকেল কোরা—বাঙালির হাড়হিম শীতে এই সুবাস অদ্ভুত এক নস্টালজিয়ায় নিয়ে যায় আমাদের। উপকরণের তালিকার পর আর আলাদা করে বলে দিতে হয় না ঠিক কোন পদের সুবাসের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি আর পিঠে-পুলি— একই মুদ্রার দুই পিঠ। বাঙালির 'শেষ পাতে মিষ্টিমুখ' মানেই সেই প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে মিষ্টি এবং পিঠে।

'পৌষ পার্বণে'র নামই এখন হয়ে গেছে 'পিঠে পার্বণ'। পৌষের সঙ্গে পিঠের সম্পর্ক ঠিক কী?

অগ্রহায়ণে গ্রামবাংলার কৃষক পরিবারে ক্ষেতের নতুন ধান বা 'আমন ধান' ঘরে উঠত। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং পরিশ্রমের পর চাষের ধান ঘরে উঠেছে, কাজেই এই সময় হলো আমোদের। তাই নতুন চাল বা নব অন্নকে ঘিরে নবান্ন উৎসব হতো। তারপর পৌষে হতো পৌষ লক্ষ্মীর পুজো। নতুন ধান ঘরে আসায় মানুষের হাতে টাকা থাকত। তাই বাঙালি নতুন জামা-কাপড় ও অন্যান্য বিভিন্ন শখের জিনিস কিনতে চাইত। আর তাই বিভিন্ন জায়গায় বসত মেলা। কিন্তু খালি মুখে তো আর উৎসব হয় না। নতুন চালের গুঁড়ো বা পিটুলি খুব আঠালো, পিঠে তৈরির জন্য আদর্শ। তাই, ঘরে আসা নতুন ধান, এবং শীতের নতুন গুড় দিয়ে তৈরি করা হতো পিঠে। একে বলা হতো ‘নবান্ন’ পরবর্তী উৎসব বা ‘পৌষ-পার্বণ’।

পিঠে তৈরির আগে গ্রামাঞ্চলে 'বাউনি' বাঁধার একটি প্রথা ছিল, যা এখন প্রায় বিলুপ্ত। পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন, মাটির সরা (যে পাত্রে চিতই পিঠে তৈরি করা হয়)-কে পুজো করা হতো। পাকা ধানের শিষ বিনুনির মতো করে পাকিয়ে সরার গলায় বেঁধে দেওয়া হতো— যার নাম 'বাউনি'। বিশ্বাস করা হতো, এতে সারা বছর ধানের গোলা পূর্ণ থাকবে। অর্থাৎ পিঠে তৈরিটা নিছক রান্না ছিল না, এটি ছিল লক্ষ্মী আবাহনের একটি তান্ত্রিক বা লৌকিক ক্রিয়া।

কিন্তু আজ আমরা যাকে ‘পিঠে’ বলে আদর করে ডাকি, তার জন্মবৃত্তান্ত ঠিক কতটা পুরনো?

আজ থেকে প্রায় দু-আড়াই হাজার বছর আগের কথা। তখনো বাঙালির হেঁশেলে মিক্সার গ্রাইন্ডার বা গ্যাস ওভেন আসেনি। ছিল শিল-নোড়া আর মাটির উনুন। তাই, তখন বাজার থেকে চালের গুঁড়ো কিনে এনে বা মিক্সার গ্রাইন্ডারে চাল না গুঁড়ো করে, শিল-নোড়া দিয়ে পিষে চাল গুঁড়ো করা হতো। সংস্কৃত ভাষায় কোনো শস্য বা দানা পিষে যা তৈরি হতো, তাকে বলা হতো ‘পিষ্ট’। আর চাল বা ডাল পিষে, অর্থাৎ ‘পিটুলি’ তৈরি করে তা দিয়ে যে বিশেষ খাবার বানানো হতো, সংস্কৃত পণ্ডিতরা তার নাম দিয়েছিলেন ‘পিষ্টক’।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রামায়ণ, মহাভারত থেকে মঙ্গলকাব্য... যেভাবে বদলে গেল বাঙালির পিঠেপুলির স্বাদ

Pithe puli in Indian Epics: পৌষপার্বণের প্রধান কিন্তু সরা পিঠে। যাকে কেউ বলে ভাপা পিঠে, কেউ আবার বলে চিতই পিঠে। এপার বাংলায় বাউনি বাঁধার আগে মাটির সরায় পিঠে ভাজতে হয়।

পিঠের ইতিহাস যে হাজার হাজার বছরের পুরনো তার পরিচয় পাওয়া যায় আমাদের বৈদিক সাহিত্যে। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন পুঁথি-পত্র খুব একটা পাওয়া যায় না। মধ্যযুগ থেকে পাওয়া যায়। সেই সময়ের এমন কোনো সাহিত্য পাওয়া যায় না, যেখানে মিষ্টির উল্লেখ আছে কিন্তু পিঠের উল্লেখ নেই।

কৃত্তিবাস ওঝার 'শ্রীরাম পাঁচালীতে' বলা হয়েছে,

শেষে অম্বলান্তে হইল ব্যঞ্জন সমাপ্ত।

দধি পরে পরমান্ন পিষ্টকাদি যত।

বিজয় গুপ্তের 'পদ্মপুরাণে' আমরা দেখতে পাই, চাঁদ সদাগরের স্ত্রী সনকার খাবারের যে বিবরণ দিয়েছেন কবি, তাতে বলেছেন,

খির খিরাইয়া রান্ধে দুগ্ধের পঞ্চ পিঠা,

গুড় চিনি দিয়া রান্ধে, খাইতে লাগে মিঠা।

​মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 'চণ্ডীমঙ্গলে' নানা ধরনের পিঠের কথা বলেছেন,

কলা বড়া, মুগ সাউলি,

ক্ষীর মোন্না, ক্ষীর পুলি

নানা পিঠা রান্ধে অবশেষে।

শ্রীচৈতন্যদেব পিঠে খেতে খুব ভালবাসতেন তার পরিচয় আমরা পাই, শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজের 'শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত' গ্রন্থে, সেখানে শ্রী চৈতন্যদেবের জন্য রান্নার কথা বলতে গিয়ে বলা হয়েছে,

ক্ষীর পুলি, নারিকেল পুলি আর পিষ্ট

কাঞ্জি বড়া, দুগ্ধ চিড়া, দুগ্ধ লকলকি

আর যত পিঠা কইল কহিতে না সকি।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যে ভবানন্দ মজুমদারের স্ত্রী পদ্মমুখী ব্রাহ্মণ ভোজনের জন্য রেঁধেছিলেন রকমারি পিঠে।

অম্বল রাঁধিয়া রামা, আরম্ভিলা পিঠা

বড়া এল আশিকা পীযূষী পুরি পুলি

চুষী রুটি রামরোট মুগের সামুলী।

​ভাষার স্রোত বড় অদ্ভুত। নদী যেমন গতিপথে বাঁক বদলায়, ঠিক তেমনই শব্দও সময়ের গতিপথে রূপ বদলায়। সংস্কৃতের এই গম্ভীর শব্দ ‘পিষ্টক’ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রাকৃত ভাষায় হয়ে গেল ‘পিটঠক’ বা ‘পিটঠা’। সেখান থেকে আরও খানিকটা পথ হেঁটে বাংলায় এসে তার নাম হলো ‘পিঠা’। যাকে আমরা বলি পিঠে। কিন্তু শব্দটি আসলে পিঠা। আসামেও এর নাম 'পিঠা'। ওড়িশায় একে বলে ‘পোঢ় পিঠা’। নাম যা-ই হোক, মূল মন্ত্র কিন্তু সেই একটাই—শস্য পিষে অমৃত প্রস্তুত করা।

সময়ের গতিপথে কেবলমাত্র নামের অভিযোজন হয়নি, হয়েছে পিঠে তৈরির প্রণালীরও অভিযোজন। ​সেকালের পিঠে আর আজকের পিঠের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। সেকালের পিঠে ছিল রাজকীয় ও লৌকিক বিলাস। ​প্রাচীন বা মধ্যযুগে পিঠে শুধু খাবার ছিল না, ছিল আভিজাত্য আর শিল্পের শিলমোহর। ছিল শ্রেণিবৈষম্যের প্রতীক।

‘আসকে পিঠে’ বা ‘সরুচাকলি’ মানেই সেটি খুব সাধারণ মানুষের খাবার। খাবারে দুধ, গুড়, নারকেল দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না যাদের। মাটির সরায় চালের গুঁড়ো জল দিয়ে গুলে তার মিশ্রণ ঢাকা দিয়ে ভাপিয়ে তৈরি হতো বলে এর নাম ছিল ‘আঁশ-কা’ বা আসকে। এটি সম্ভবত পিঠের আদিমতম রূপ।

সরু চাকলি

অন্যদিকে, অভিজাত বা অবস্থাপন্ন গৃহস্থের বাড়িতে পিঠের চেহারা ছিল রাজকীয়। নারকেলের পুর দিয়ে অর্ধচন্দ্রাকৃতি আকার দিয়ে তৈরি করা হতো ​চন্দ্রপুলি। এই পিঠেতে তখন প্রচুর পরিমাণে কর্পূর ব্যবহার করা হতো। যদিও আজ আর সেই সুবাস পাওয়া যায় না।

চন্দ্রপুলি

দুধ ঘন করে ফুটিয়ে তার মধ্যে ছোট ছোট পুলি ফেলার চল ছিল, যা আজকের দুধ-পুলি। কিন্তু তখন তাতে মেশানো হতো কেশর আর গোলাপ জল। আর তার নাম ছিল ​ক্ষীরপুলি ও মনোহরা।

সেকালের ক্ষীরপুলি, একালের দুধপুলি

মঙ্গলকাব্যে এমন কিছু পিঠের নাম পাওয়া যায় যার রেসিপি আজ লুপ্ত। যেমন ‘ত্রিভুবন পিঠে’ বা ‘পদ্মমধু’। শোনা যায়, পদ্মফুলের পাপড়ির নির্যাস দিয়ে কোনো এক জাদুকরী উপায়ে এটি তৈরি করা হতো।

​চৈতন্যচরিতামৃতের বর্ণনায় পাওয়া যায়, মহাপ্রভুকে ভক্তরা ‘কাকরা’ (এক ধরনের মুচমুচে ভাজা পিঠে) আর ‘মুগ-সামলি’ (মুগ ডাল ও মশলা দেওয়া নোনতা পিঠে) ভোগ দিতেন। অর্থাৎ, পিঠে মানেই যে শুধু মিষ্টি, এই ধারণাটা সেকালে ছিল না। ঝাল ও নোনতা পিঠের বিশাল সমাহার ছিল তখন।

​সেকালের কঠিন ও সময়সাপেক্ষ রন্ধন প্রণালী আজকের দিনে হারিয়ে গেছে। আজকের ব্যস্ত যুগে মানুষ সহজ রেসিপি খোঁজে। তাই এসেছে ‘ফিউশন পিঠে’। আগে যেখানে শুধুই ক্ষীর বা নারকেলের ব্যবহার করা হতো, এখন সেখানে জায়গা করে নিয়েছে চকোলেট পাটিসাপটা, ম্যাঙ্গো পুলি, কিংবা আইসক্রিম পিঠে। সময় বাঁচাতে চালের গুঁড়োর বদলে সুজি বা ময়দার ব্যবহার বেড়েছে। খেজুর গুড়ের বদলে অনেক ক্ষেত্রে চিনি বা কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার হচ্ছে। ​সবথেকে বড় পরিবর্তন হলো—আগে পিঠে ছিল হেঁশেলে তৈরি হওয়া এক ভালবাসার পদের নাম। যেখানে বাড়িতে পিঠে তৈরি হচ্ছে মানে বাড়ির প্রতিটি সদস্যের আধীর আগ্রহে অপেক্ষা আর বারবার হেঁশেলে ঢুঁ মারা। কিন্তু এখন পিঠে অনেক ক্ষেত্রেই ‘সুইট শপ’ থেকে কেনা এক শৌখিন ডেজার্ট।

​

​তবুও, আজকের দিনেও মকর সংক্রান্তি এলেই বাঙালির মনটা কেমন আনচান করে। শহুরে ব্যস্ততায় হয়তো ঢেঁকির শব্দ হারিয়ে গেছে, 'ফ্ল্যাট কালচারে' বাড়ির উঠোন হারিয়ে গেছে, যেখানে বসে রোদে পিঠ দিয়ে বসে পিঠে খাওয়া হবে। কিন্তু আজও কোনো এক ফ্ল্যাটের বন্ধ রান্নাঘরে যখন প্রেসার কুকার আর নন-স্টিক প্যানের ভিড়ে একটু নলেন গুড় ফোটে, তখন সেই গন্ধে মিশে থাকে হাজার বছরের পুরনো সেই ‘পিষ্টক’-এর বিবর্তিত ইতিহাস। সময় বদলায় কিন্তু জিভের ডগায় লেগে থাকা পিঠের স্বাদের ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আমরা বাঙালি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।