রামায়ণ, মহাভারত থেকে মঙ্গলকাব্য... যেভাবে বদলে গেল বাঙালির পিঠেপুলির স্বাদ

Pithe puli in Indian Epics: পৌষপার্বণের প্রধান কিন্তু সরা পিঠে। যাকে কেউ বলে ভাপা পিঠে, কেউ আবার বলে চিতই পিঠে। এপার বাংলায় বাউনি বাঁধার আগে মাটির সরায় পিঠে ভাজতে হয়।

tiasa gupta
৪ মিনিট
রামায়ণ, মহাভারত থেকে মঙ্গলকাব্য... যেভাবে বদলে গেল বাঙালির পিঠেপুলির স্বাদ

“...নলেন গুড়ের সৌরভে আজ

মশগুল যে ভিটে;

পিঠে পিঠে পিঠে।

ক্ষীর-নারিকেল লাগবে আরো?

নিয়ে যা হাতচিঠে;

পিঠে পিঠে পিঠে।"

পৌষ সংক্রান্তির সঙ্গে বাঙালির এতটাই নিবিড় সম্পর্ক যে, বাংলার কাব্য-সাহিত্য, মহাকাব্যিক আখ্যান থেকে লোকায়ত সাহিত্য সুবাসিত হয়েছে পিঠে পুলির আঘ্রাণে। ঠাকুরমার ঝুলির সঙ্গে পরিচয় নেই, এমন শৈশব খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ‘ঠাকুরমার ঝুলি’-তে কাঁকনমালা আর কাঞ্চনমালার গল্পে কে রানি আর কে দাসী, তার মীমাংসা হয়েছিল পিঠে বানানোর ক্ষেত্রে দু’জনের মুনশিয়ানা দেখে। দাসী বানিয়েছিল আস্কে পিঠে, ঘাস্কে পিঠে, আর রানি সরুচাকলি, চন্দ্রপুলি, আরও কত কী! পৌষ পার্বণ মানেই বাংলায় যে হরেক পিঠের সমাহার, সেই রীতি উঠে এসেছিল বাংলার একান্ত নিজস্ব ছেলেভুলানো গল্পেও। পিঠে কেবল বাঙালিরই একচেটিয়া খাবার, এই নিয়ে আদি অনন্তকাল থেকে গলাবাজি চলছে।

ব্রহ্মপুরাণ অনুযায়ী, দক্ষযজ্ঞের সময় সতীর টুকরো টুকরো দেহ যে সব জায়গায় পড়েছিল সেই ৫১ পীঠই পিঠের উৎসস্থল। এমনকী, মহাভারতেও প্রায় ১০৮ রকমের পিঠের উল্লেখ আছে। তবে পিঠে পার্বণ, থুড়ি, পৌষ পার্বণের কপিরাইট কিন্তু একমাত্র বাঙালিরই। বাংলা ছাড়াও অসম, ওড়িশা, বিহার-সহ সমগ্র পূর্বভারতের মানুষই পিঠেপ্রেমী। পিঠে সাধারণত নিরামিষ হতো। তবে কালের নিয়মে বদলে গিয়েছে পিঠে বানানোর ধরন।

প্রাচীনকালে পিঠে মিষ্টান্নেরই অঙ্গ ছিল। কৃত্তিবাসী রামায়ণে সীতার খাবার পরিবেশনে উল্লেখ পাওয়া যায়, “...দধি পরে পরমান্ন পিষ্টকাদি যত।" মঙ্গলকাব্যেও রয়েছে পুলি-পিঠের রন্ধনপ্রণালী। ক্রমে তা নতুন রূপে পরিচিত হয়েছে বাংলায়। ওপার বাংলায় পিঠের বিস্তার বহুল। ঢাকার রাস্তায় সারা বছরই গরম পিঠে পাওয়া যায়। উত্তরবঙ্গে রানিনগর, জলপাইগুড়ি ও মালদা স্টেশনেও পিঠে বিক্রি হয়। স্টেশন সংলগ্ন গ্রাম্য বধূরা নারকেল কোরা আর চালের গুঁড়োর পিঠে ভাপিয়ে কলাপাতায় মুড়ে বিক্রি করেন।

রামায়ণ ও মহাভারতে পিঠের আখ্যান লক্ষ্য করা যায়। মহাভারতের আদিপর্বে দেখা যায় বক রাক্ষসকে বধের প্রাক্কালে ভীমসেন পায়েস, অন্ন ও পিঠে পেট ভরে ভোজন করেছিলেন। এক পেট পিঠে খেয়েই বক রাক্ষসকে বধ করেছিলেন। রামায়ণে নারকেল পুলি, কলাবড়া, তালবড়া, ছানাবড়া, খাজাগজা, গুড়পিঠে, জিলিপি প্রভৃতি নানান ধরনের সামগ্রীর উল্লেখ আছে।

রামায়ণের উত্তরাকাণ্ডে দেখা যায় শাক ভাজা, ঝাল, অম্বল, পায়েস ও দধির সঙ্গে নানা রকমের পিষ্টকাদি সহযোগে সীতা লক্ষণকে আহার করিয়েছেন। কৃত্তিবাসের এই মহাকাব্যে সেকালের খাদ্যাভ্যাস, বেশভূষা, আচার-অনুষ্ঠান, রীতিনীতি প্রভৃতির পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন— গুহকের কুটিরে ভরতকে দই, দুধ, নারকেল, আম, কলা প্রভৃতি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এছাড়া এই কাব্যের বিভিন্ন অংশেই নারকেল-পুলি, পায়েস, পিঠে প্রভৃতি বাঙালি-খাবারের যথেষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। উত্তরকাণ্ডে সীতা লক্ষ্মণকে নিজের হাতে রান্না করে যা খেতে দিয়েছিলেন, তা বাঙালি খাদ্যাভ্যাসেরই প্রকাশ।

জগন্নাথদেবের ভোগেও পিঠে পড়ে। মাসি গুণ্ডিচাদেবীর বাড়ি থেকে আসেন নিজের বাড়িতে। তাঁদের খাবারের নানান সামগ্রীর অন্যতম হল মাঠপুলি ও পিঠাপুলি। পৌষের শীতে পিঠেপুলি না পাওয়ার জন্য ঈশ্বর গুপ্তের মনস্তাপ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে তাঁর ‘পৌষ পার্বণ ২’ কবিতায়। তিনি লিখছেন,

"এবারে বছরকার দিন, কপালে ভাই,

জুটলো নাকো পুলিপিঠে।

যে মাগগির বাজার, হাজার হাজার,

মর্তেছে লোকে, কপাল পিটে৷"

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে কালকেতুর বউ ফুল্লরার কাছে শীতের দিনে তাঁর আদরের পিঠেপুলি কত মধুর ছিল তাঁর অভিলাষেই তা ব্যক্ত-

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শুক্তো থেকে বোয়াল মাছ, বেহুলা-লখিন্দরের বিয়ের মেনু জিভে জল আনতে বাধ্য

বেহুলা-লখিন্দরের বিয়ের অনুষ্ঠান চলে আটদিন ধরে। মনসামঙ্গল কাব্যের নয়টি অধ্যায় এই উৎসবে উত্থাপিত হয়। এক লোকশিল্পীর কথায়, মনসার আবির্ভাব, বেহুলা-লখিন্দরের বিবাহ এবং তার করুণ পরিণতি, চাঁদসদাগরের সর্বনাশ, শেষে চাঁদের মনসাকে পুজো করা এবং বেহুলার অষ্টমঙ্গলায় যাওয়া পর্যন্ত পুরো কাহিনি পালাগানের দ্বারা তুলে ধরা হয়।

"মনে করি সাধ খাইতে মিঠা,

খীর নারকেল তিলের পিঠা।"

আবার ‘নক্সী কাঁথার মাঠ' কবিতায় পল্লিকবি জসীমউদ্দীন বাঙালি মেয়েদের দশটি আঙুলের শিল্পকৌশলকে সমুজ্জ্বলভাবে তুলে ধরেছেন—

"তাহার মতন চেতন সেওই।

কে কাটিতে পারে।

নী করা পাকান পিঠায়

সবাই তারে হারে।"

এই সময় বাংলার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ বিভিন্ন দেব-দেবীর পুজো করে থাকেন, নানা উৎসবে মেতে ওঠে। পৌষ উৎসব হল সাঁওতালদের শেষ উৎসব। উত্তর-পশ্চিম বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার আদিবাসীরা এই পরবের শেষ দিনগুলিতে মৌফুলের মউ বা সোমরস ও হাঁড়িয়া খেয়ে টুসুর গান ও নৃত্যগীতে সকলে মিলেমিশে একাকার হয়ে ওঠে। হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান প্রভৃতি জেলায় সাঁওতালি সমাজে সাড়ম্বরে ‘সাকরাত’ বা পৌষপার্বণ পালন করা হয়ে থাকে। সংক্রান্তির দিন প্রথম পিঠেগুলি তাঁরা তাঁদের সবচেয়ে বড় দেবতা ‘মারাং বুরু’কে ভক্তিভরে নিবেদন করেন। তারপর পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে পিঠের নৈবেদ্য সাজিয়ে উৎসর্গ করেন। এরপর পিঠের সুবাষ ও স্বাদে অবগাহন করেন নিজেরা। সাড়ম্বরে পালিত হয় পৌষ পার্বণ।

পৌষপার্বণের প্রধান কিন্তু সরা পিঠে। যাকে কেউ বলে ভাপা পিঠে, কেউ আবার বলে চিতই পিঠে। এপার বাংলায় বাউনি বাঁধার আগে মাটির সরায় পিঠে ভাজতে হয়। বাউনি অর্থ লক্ষ্মীর বন্ধন। পাকা ধান গোলায় তোলার প্রতীক হিসেবে, কয়েকটি পাকা ধানের শিষ দিয়ে বিনুনি করে, বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় সৌভাগ্যের চিহ্ন হিসেবে সেগুলি বেঁধে দেওয়া হয়। ভাবা হয়, এইভাবেই চিরতরে বাঁধা পড়ে থাকবে সৌভাগ্য। পিঠে ভাজা শেষ হলে তা সেই সরার উপর রেখে, তার উপর মাটির তৈরি ঢাকনা চাপা দিয়ে, সেই ঢাকনার ছোট্ট-গোল মাটির হাতলকে বেড় দিয়ে প্রথম বাউনিটি বেঁধে দিতে হয়।

কিন্তু পৌষ মাসেই কেন পিঠে তৈরির ধুম পড়ে বাঙালি ঘরে?

কথায় বলে, পৌষমাস নাকি লক্ষ্মীমাস। কৃষিজীবী বাংলায় এই সময়েই ধান উঠত চাষির গোলায়। ধান মানেই তো ধন, সম্পদ। তাই এই সৌভাগ্যকে উদযাপন করার জন্য পৌষের শেষ দিনে পার্বণের আয়োজন। আজকের দিনে কৃষিজমির মালিকানা আর ক'জনেরই বা আছে! তবু মুছে যায়নি এই লোকউৎসবের ধারা। আর তারই প্রধান পর্ব হিসেবে রয়ে গিয়েছে নতুন ধানের চাল আর নতুন গুড় দিয়ে পিঠে বানানোর রীতি। আর সেই পিঠে দেওয়া-থোওয়া চলে আত্মীয়-পরিজন, পাড়াপড়শিদের মধ্যে, বাদ যান না পরলোকগত পূর্বপুরুষ কিংবা বাস্তুদেবতাও। যেন বুঝিয়ে দেওয়া হয়, ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে দিয়েই সম্পদের আসল উদযাপন সম্ভব।

গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে আউশ ধান গোলায় ওঠে। আর সেই নতুন চালেই পিঠে তৈরির প্রস্তুতি নিতে শুরু করে বাঙালি। মা-ঠাকুরমাদের মতো সুনিপুণ না হলেও আজকের প্রজন্মের প্রজন্মের অনেকেই কিন্তু স্বজাতির ঐতিহ্য বজায় রাখতে মরিয়া। পিঠের জুটি হেমন্তের নতুন গুড়। এই পিঠের সঙ্গে বাঙালির প্রেম অনেক দিনের। রামায়ণ-মহাভারতের কাল থেকে এই স্বাদ গন্ধে তাই অবগাহন করে চলেছে বাঙালি।

লিখেছেন
tiasa gupta
tiasa gupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।