কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায়, ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে যে ভুলগুলির মাশুল দিল ব্রাজিল
FIFA World Cup 2022 : ১০৫ মিনিটে নেইমারের দুরন্ত গোলের পর আশায় লাফিয়ে উঠেছিলেন ব্রাজিল সমর্থকরা। কিন্তু শেষমেশ নেমে এল একরাশ হতাশা।

কেউ বলেছিল তারা ব্ল্যাক হর্স। কেউ বলেছিল তাদের হাতেই এবার উঠবে বিশ্বকাপ। নেইমারের মতো মহাতারকা ছিল তাদের ভরসা। কিন্তু অঘটনটা ঘটেই গেল। ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হারল ব্রাজিল। মাঝরাতে কার্যত মাথায় হাত উঠল একরাশ মানুষের। ১০৫ মিনিটে নেইমারের দুরন্ত গোলের পর আশায় লাফিয়ে উঠেছিলেন ব্রাজিল সমর্থকরা। কিন্তু শেষমেশ নেমে এল একরাশ হতাশা। প্রথমে ১১৭ মিনিটে পেটকোভিচের গোল, তারপর পেনাল্টি শ্যুট আউটে হার। ২০২২ বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার ব্রাজিলের বিদায় এখনও অনেকের বিশ্বাস হচ্ছে না।
এই হার নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের ময়নাতদন্ত। যোগ্য নেতৃত্বের অভাব নাকি দলের সামগ্রিক অনভিজ্ঞতা, ব্রাজিলকে ডোবালো কোনটা?
ক্রোয়েশিয়া দলটির মূল স্তম্ভ তাদের ক্যাপ্টেন লুকা মদরিচ। ৩৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার এই বয়সেও সবটুকু দিয়ে লড়ে যাচ্ছেন। সতীর্থদের উদ্বুদ্ধ করছেন। তাঁর লড়াই দেখে বাকিরাও নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে এগিয়ে আসছেন। মান্দজুকিচ বা সুকের নেই, তবুও নিজের কাজ থেকে একচুলও ফাঁকি নেই তাঁর। ১২০ মিনিট ধরে গোটা মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো, ১৪০ টি টাচ, সবকিছুই অধিনায়কোচিত। সেই জায়গায় বেশ খানিকটা ঘাটতি থেকে গিয়েছে ব্রাজিলের। নেইমার কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজের ঝলক দেখালেন ঠিকই, কিন্তু তারকার প্রভাব আর কোথাও পড়ল না।
সেইসঙ্গে রইল পেনাল্টি শ্যুট আউট। ক্রোয়েশিয়া এর আগে পেনাল্টি শ্যুট আউটে হারেনি, এই তথ্যটি কি কোনওভাবে ব্রাজিলকে চাপে রেখেছিল? ক্রোয়েশিয়া কিন্তু চারটে শট গোলেই মেরেছিল। এদিকে রদরিগো প্রথম বলটি তুলে দেন ক্রোয়েশিয় গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচের হাতে। আর মার্কুইনোস তাঁর শটটি সোজা বারপোস্টে মারেন। যা শেষমেশ সেলেকাওদের কফিনের পেরেকটি পুঁতে দিল।
ডিফেন্সের দিকেও নজর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নেইমারের গোলের পর ব্রাজিলের ডিফেন্সের ফাঁক ঠিকই বার করে নেয় ক্রোয়েশিয়া। কেবল ছিল সুযোগের অপেক্ষা। সেটাই খুঁজে নেন পেটকোভিচ। সোজা জালে বল জড়িয়ে নেন তিনি। পাশাপাশি তরুণ ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও রিচার্লিসনকে তুলে নেওয়াও কি ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে এল সেলেকাওদের কাছে? এই দুই খেলোয়াড় নিজেদের কাজটি করে যাচ্ছিলেন। আক্রমণে গতিও আনছিলেন। হঠাৎ তাঁদের তুলে নেওয়াই কি কাল হল ব্রাজিল কোচ তিতের?
পরিসংখ্যান দেখলে আরও একটা ব্যাপার নজরে আসবে। ব্রাজিল গোটা ম্যাচে মোট ২১ টি শট মেরেছে। লক্ষ্যে গিয়েছে ১১ টি শট। গোল হয়েছে একটি। ক্রোয়েশোয়ার তুলনায় সুযোগও এসেছিল প্রচুর। কিন্তু সেই সুযোগ আর কাজে লাগাতে পারল না ব্রাজিলের আক্রমণ বিভাগ। কাজে লাগালে ফলাফলে অন্য ছবি উঠে আসতেই পারত! ব্রাজিল সমর্থকরাও উল্লাসে, উন্মাদনায় মেতে উঠতে পারতেন।







