বাবার এক বছরের বেতনে কাটা হয়েছিল আমেরিকার টিকিট: সুন্দর পিচাই
Sundar Pichai: আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে সুন্দর পিচাইয়ের বিমানের টিকিট কাটতেই তাঁর বাবা প্রায় এক বছরের বেতনের সমান অর্থ খরচ করেছিলেন।
আজ বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষে রয়েছেন সুন্দর পিচাই। কিন্তু তাঁর এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। মধ্যবিত্ত ভারতীয় পরিবারের সন্তান হিসেবে বড় হওয়া পিচাই বারবার বলেছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তাঁর বাবা-মা। সম্প্রতি তিনি আবারও স্মরণ করেছেন সেই সময়ের কথা, যখন তাঁকে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় পাঠাতে তাঁর বাবা প্রায় এক বছরের সমপরিমাণ বেতন খরচ করেছিলেন।
সুন্দর পিচাইয়ের এই অভিজ্ঞতা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়। এর সঙ্গে ভারতের অসংখ্য পরিবারই নিজেদের মিল খুঁজে পায়। সন্তানকে ভালো শিক্ষা দেওয়ার জন্য বহু বাবা-মা বছরের পর বছর সঞ্চয় করেন, নিজেদের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করেন, ঋণ নেন, এমনকি সম্পত্তিও বিক্রি করেন। তাঁদের বিশ্বাস, শিক্ষাই সন্তানের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
পিচাইয়ের শৈশব কেটেছে অত্যন্ত সাধারণ পরিবেশে। বিলাসবহুল জীবন তো দূরের কথা, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য ছিল সীমিত। তবু তাঁর বাবা-মা কখনও শিক্ষার সঙ্গে আপস করেননি। স্কুলজীবনে ভালো ফল করার পর তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যান। পরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানো সহজ ছিল না। আমেরিকায় যাওয়ার বিমানের টিকিটের দামই ছিল পরিবারের কাছে বিশাল বোঝা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
70 Hours Work : মাস্ক কিছুকাল আগেই জানান, টুইটার কিনে নেওয়ার পর তিনি এখন সপ্তাহে ১২০ ঘণ্টা কাজ করেন।
পিচাই জানিয়েছেন, তাঁর বাবা সেই সময় প্রায় এক বছরের বেতনের সমান অর্থ খরচ করেছিলেন শুধুমাত্র তাঁর বিমানের টিকিট কেনার জন্য। সেটিই ছিল সুন্দর পিচাইয়ের জীবনের প্রথম বিমানযাত্রা। সেই প্রথম বিমানযাত্রার স্মৃতি আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে।
আমেরিকায় পৌঁছেও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেখানে প্রতিটি জিনিসের দাম তাঁর কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছিল। তিনি একবার স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, একটি সাধারণ ব্যাকপ্যাকের দামই ছিল তাঁর বাবার এক মাসের বেতনের সমান। দেশে ফোন করাও ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে প্রতিটি খরচ ভেবে-চিন্তে করতে হতো।
এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শুধু মিতব্যয়ী করেনি, দায়িত্ববোধও শিখিয়েছে। তিনি বুঝেছিলেন, তাঁর পড়াশোনার পিছনে শুধু অর্থ নয়, বাবা-মায়ের বহু বছরের পরিশ্রম, স্বপ্ন এবং ত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে। সেই উপলব্ধিই তাঁকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
World's Richest man : ৭৩ বছর বয়সী এই ধন কুবের বরাবরই বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথম দিকে থাকেন। এমনকী দ্বিতীয় ধনীতম ব্যক্তিও হয়েছিলেন তিনি।
সুন্দর পিচাইয়ের মতে, তাঁর বাবা-মা এমন কিছুই করেছিলেন যা সেই সময়ের বহু ভারতীয় অভিভাবক করতেন। তাঁরা নিজেদের প্রয়োজনকে পিছনে রেখে সন্তানদের শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি নয়, বিদেশে থাকার খরচ, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত, বই, দৈনন্দিন ব্যয়-সহ নানা অতিরিক্ত খরচের জন্য আগাম পরিকল্পনা করা জরুরি। অনেক পরিবার শুধুমাত্র টিউশন ফি হিসাব করলেও পরে অন্য খরচ সামলাতে সমস্যায় পড়ে। সন্তান কোন বিষয়ে পড়তে চায়, সেই সিদ্ধান্তে তাকে স্বাধীনতা দেওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র চাকরির বাজার বা সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে কোনো বিষয় চাপিয়ে দিলে দীর্ঘমেয়াদে তার খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। যে বিষয়ে আগ্রহ থাকবে, সেই ক্ষেত্রেই একজন ছাত্র বা ছাত্রী নিজের সেরাটা দিতে পারে।
একজন সফল মানুষের পিছনে অনেক সময় একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, ধৈর্য এবং বিশ্বাস কাজ করে। তাঁর বাবা-মা হয়তো তখন ভাবতেও পারেননি যে একদিন তাঁদের ছেলে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু তাঁরা বিশ্বাস করেছিলেন শিক্ষার শক্তিতে।
আজও ভারতের অসংখ্য পরিবার একই স্বপ্ন দেখে। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানকে ভালো শিক্ষা দেওয়ার জন্য তারা সঞ্চয় করে, নানা ত্যাগ স্বীকার করে। সুন্দর পিচাইয়ের গল্প সব বাবা-মায়ের গল্প, যারা নিজেদের স্বপ্নকে পিছনে সরিয়ে সন্তানের স্বপ্নকে সামনে এগিয়ে দেন। আর সেই কারণেই তাঁর এই অভিজ্ঞতা আজও লক্ষ লক্ষ পরিবারের কাছে অনুপ্রেরণার।







