পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মন্ত্রিসভা, কে কোন দায়িত্ব পেতে পারেন?
দলের পুরনো সংগঠনকে মজবুত রাখতে এবং গ্রামীণ জনজীবনের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে অভিজ্ঞ নেতা দিলীপ ঘোষকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। নারী শক্তির প্রতিনিধিত্ব এবং আধুনিক শিল্পায়নের লক্ষ্যে আর এক উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে, যাঁর কাঁধে থাকতে পারে শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে ইতোমধ্যে। রাত পোহালেই ব্রিগেডে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন তিনি। ব্রিগেডেই মন্ত্রিসভায় কোন দফতরের মন্ত্রী কে হবেন, সেই নামগুলিও ঘোষণা করা হবে। তবে সূত্রের খবর, প্রথম দিনেই পরিপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে না। ধাপে ধাপে গোটা তালিকা সামনে আনা হবে। প্রথম দফায় শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, দু'জন উপমুখ্যমন্ত্রী এবং ৫ থেকে ৭ জন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। এরপর দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের (নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ) সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বাকি দফতরগুলিতে মন্ত্রী নিয়োগ করা হবে।
জানা যাচ্ছে, এই সরকারের মূল স্তম্ভ হিসেবে ভাবা হয়েছে তিন প্রধান ব্যক্তিত্বকে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কথা মাথায় রেখে তাঁর অধীনে রাখা হতে পারে স্বরাষ্ট্র ও ভূমি সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। অন্যদিকে, দলের পুরনো সংগঠনকে মজবুত রাখতে এবং গ্রামীণ জনজীবনের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে অভিজ্ঞ নেতা দিলীপ ঘোষকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। নারী শক্তির প্রতিনিধিত্ব এবং আধুনিক শিল্পায়নের লক্ষ্যে আর এক উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে, যাঁর কাঁধে থাকতে পারে শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
শীর্ষ নেতৃত্ব
মুখ্যমন্ত্রী: শুভেন্দু অধিকারী
দপ্তর: স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক; কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার; ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন; কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ।
উপ-মুখ্যমন্ত্রী: দিলীপ ঘোষ
দপ্তর: পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন; পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিষয়ক।
উপ-মুখ্যমন্ত্রী: অগ্নিমিত্রা পল
দপ্তর: শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ; তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক্স; রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগ ও শিল্প পুনর্গঠন।
রাজনৈতিক মহলে খবর, অমিয় কিস্কু, শুক্রা মুন্ডা এবং ক্ষুদিরাম টুডুর মতো নেতাদের বন ও উপজাতি উন্নয়নের দায়িত্বে রেখে প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা যেতে পারে। নিশীথ প্রামাণিকের হাতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের ভার দিয়ে ওই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করার লক্ষ্য নেওয়া যেতে পারে। ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ-র মতো দক্ষ চিকিৎসককে স্বাস্থ্য দপ্তর এবং শঙ্কর ঘোষের মতো সুশিক্ষিত ব্যক্তিত্বকে শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব দিয়ে পরিষেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চন্দনা বাউড়ি এবং অশোক দিন্দার মতো প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তৃণমূল স্তর থেকে যুব সমাজ ও মহিলাদের স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Suvendu Adhikari speech: বদলাচ্ছে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল, নাকি নতুন বার্তা দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির?
বিভাগ অনুযায়ী সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা
কৃষি বিপণন: কৌশিক চৌধুরী
কৃষি: কৌশিক চৌধুরী
প্রাণিসম্পদ বিকাশ: শুক্রা মুন্ডা
অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ: মামণি বাউড়ি
ক্রেতা সুরক্ষা: শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়
সমবায়: সুব্রত কবিরাজ
কারাগার প্রশাসন: সজল ঘোষ
বিপর্যয় মোকাবিলা ও সিভিল ডিফেন্স: রেখা পাত্র
পরিবেশ: অমিয় কিস্কু
অর্থ: স্বপন দাশগুপ্ত
দমকল ও জরুরি পরিষেবা: রেখা পাত্র
মৎস্য, জলজ পালন ও মৎস্য বন্দর: সুমন্ত মণ্ডল
খাদ্য ও সরবরাহ: শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন: গোপাল চন্দ্র সাহা
বন বিভাগ: অমিয় কিস্কু
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ: ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ
উচ্চশিক্ষা: শঙ্কর ঘোষ
আবাসন: রূপা গাঙ্গুলি
তথ্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক: ধ্রুব সাহা
সেচ ও জলপথ: দিব্যেন্দু অধিকারী
বিচার বিভাগীয়: কৌস্তভ বাগচী
শ্রম দপ্তর: অজয় কুমার পোদ্দার
আইন দপ্তর: কৌস্তভ বাগচী
গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা: শঙ্কর ঘোষ
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র: অজয় কুমার পোদ্দার
সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা: ভরত কুমার ঝাওর
অপ্রচলিত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি: লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘোড়ুই
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন: নিশীথ প্রামাণিক
সংসদীয় বিষয়ক: কৌস্তভ বাগচী
পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান: স্বপন দাশগুপ্ত
বিদ্যুৎ: লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘোড়ুই
জনস্বাস্থ্য কারিগরি: হরেকৃষ্ণ বেরা
পূর্ত বিভাগ: চন্দ্র শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়
বিদ্যালয় শিক্ষা: শঙ্কর ঘোষ
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি: পীযূষ কানড়িয়া
স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি: চন্দনা বাউড়ি
সুন্দরবন বিষয়ক: সুমন্ত মণ্ডল
কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন: পীযূষ কানড়িয়া
পর্যটন: ধ্রুব সাহা
পরিবহন: দিব্যেন্দু অধিকারী
উপজাতি উন্নয়ন: ক্ষুদিরাম টুডু
নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক: রূপা গাঙ্গুলি
নারী ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ: চন্দনা বাউড়ি
জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন: হরেকৃষ্ণ বেরা
যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া: অশোক দিন্দা
এই সরকার পরিচালনার মূল দর্শনকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে:
১. প্রথম পর্যায়ে হয়তো অগ্রাধিকার দেওয়া হবে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়াকে। সরকারি দপ্তরগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করাই হবে মূল কাজ।
২. দ্বিতীয় পর্যায়ে নজর থাকবে আধুনিক শিল্পের দিকে। কলকাতা ও শহরতলি এলাকায় আইটি (IT) হাব এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতির প্রসার ঘটানো হবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন বিনিয়োগ টানার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
৩. একসময় কলকাতা ছিল ভারতের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বন্দর-ভিত্তিক শিল্প, পর্যটন এবং বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ সম্পন্ন করা হবে এই পর্যায়ে।
৮ মে ২০২৬-এর রাতটি বাংলার রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অমিত শাহের উপস্থিতিতে বৈঠকে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হবে
বলাই বাহুল্য এই তালিকা সুনিশ্চিত নয়, বিজেপি সংবাদমাধ্যমের জন্যে কোনো তালিকা তৈরি করেনি।
৯ মে-র শপথ অনুষ্ঠানে এই জল্পনার কতটুকু সত্যি হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।








