তাজমহল- পাষাণে গড়া এক কবিতা

Anasuya Sen
৫ মিনিট
তাজমহল- পাষাণে গড়া এক কবিতা

"যেটা অবর্ণনীয় সেটা আমি বর্ণনা করতে যাব না | কোন শব্দ, কোন লেখনীই কোনওমতেই পাঠকের কল্পনাপ্রবণ মনকে তাজমহলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্য এবং তার স্রষ্টার পবিত্র কল্পনার সম্মন্ধে সঠিক রূপ দিতে পারবে না |" তাজমহল সম্মন্ধে এমনটাই লিখে গেছেন লর্ড বরাট তাঁর 'Fortyone Years in India' গ্রন্থে |

বিখ্যাত পর্যটক অস্কার ব্রাউনিং তাজমহল দেখার পর তাঁর মুগ্ধতার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন এই ভাষায় - "তাজমহল ভারত তথা বিশ্বের এক অতুলনীয় সৌধ তাজ দেখুন এটি আপনাকে এত মোহিত করবে যে আপনি আপনার অনুভূতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাবেন না | এবং এই অপ্রকাশিত অনুভূতি মৃত্যুর দিন পর্যন্ত সজীব থাকবে আপনার অন্তরে|"

যাঁর স্মৃতিতে গড়া এই সৌধের চরম উৎকর্ষ নিয়ে পৃথিবীর জ্ঞানী-গুণী মানুষ ও শিল্পরসিকেরা এমন উচ্চসিত ভাবে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন, তিনি ছিলেন ভারত ইতিহাসের অন্যতম খ্যাতিমান মুঘল সম্রাট শাহজাহানের প্রিয়তমা পত্নী আর্জুমান্দ বানো বেগম, যিনি, মমতাজ মহল নামেই প্রসিদ্ধ ছিলেন | আর্জুমান্দ নিজে অসামান্য স্নিগ্ধ রূপের অধিকারিণী ছিলেন, তাই সম্রাট তাঁর প্রিয়তমা নামকরণ করেছিলেন ঐভাবে | মমতাজের জন্ম হয়েছিল ১৫৯২ সালে, বাবার নাম ছিল আসফ খান | শাহজাহানের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয় ১৬১২ সালে | দুৰ্ভাগ্যবশত, মাত্র ৩৯ বছর বয়সে ১৬৩১ সালে মমতাজ পরলোকগমন করেন দক্ষিণ ভারতের বারহানপুরে | তাঁকে সমাধিস্থ করা হয় তাপ্তী নদীর তীরে জেনাবাদ নামক স্থানে | তবে সেটি ছিল প্রথম সমাধি |

শোনা যায় পরম প্রিয় পত্নীর মৃত্যুতে সম্রাট শাহজাহান শোকে দুঃখে একেবারে ভেঙ্গে পড়েছিলেন | কয়েক মাসের মধ্যেই তার সমস্ত চুল - দাড়ি পেকে সাদা হয়ে গেছিল | তিনি রাজপোশাক পরা এবং রাজদরবারে যাওয়া ত্যাগ করেছিলেন | এইভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর শাহজাহান শোক সামলে নিলেন | পরলোকগতা পত্নীর স্মৃতিকে আঁকড়ে তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং স্ত্রীর করলেন যে একটি অপূর্ব সুন্দর সৌধ নির্মাণ করিয়ে মমতাজ এবং তার স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখবেন | শান্ত অবিচলতায় সম্রাট ধীরে ধীরে শুরু করলেন সেই সঙ্কল্প রূপানয়নের কাজ | শোকের এমন কাব্যিক প্রকাশ জগতে দুর্লব |

মমতাজের মৃত্যুর ছয়মাস পরে তাঁর মৃতদেহ জেনাবাদ থেকে তুলে এনে পুনরায় আগ্রায় সমাধিস্থ করা হলো জয়পুরের রাজা মানসিংহের বাগানে | শাহজাহান এই কাজ সুষ্ঠভাবে সমাপন করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন যুবরাজ সুজাকে | তারপর সম্রাট সমাধিসৌধ নির্মাণের কাজে অগ্রসর হলেন | তাঁর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমন্ত্রণ করলেন ভারত তথা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত স্থপতি ও শিল্পীদের | বিভিন্ন স্থপতি স্মৃতিসৌধের বিভিন্ন রূপের পরিকল্পনা অর্থাৎ Civil Engineering Plan -এর প্রস্তাব রাখলেন | কোন স্থপতির প্রস্তাবিত পরিকল্পনা সম্রাটের শিল্প - সৌন্দর্যবোধ, সুরুচি আর ভাবাবেগকে উৎকৃষ্ট রূপদান করতে পারবে, তাই নিয়ে কিছুদিন চলল চুলচেরা বিচার | অবশেষে তুরুস্কের স্থপিত উস্তাদ ঈশা খান ইফেন্দি -র বানানো পরিকল্পনা স্বীকৃত হলো | ঈশা খান নির্মিত সমাধি-সৌধের জন্য প্রস্তাবিত একটি ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি দেখে শাহজাহান সন্তুষ্ট হলেন, সবুজ সঙ্কেত দিলেন | তিনি জানালেন যে সৌধটির নাম হবে তাজমহল |

মমতাজের মৃত্যুর একবছর পরে শুরু হল তাজমহল নির্মাণের কাজ | তাজমহল নির্মাণের জন্য ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রধানদের সহযোগিতায় সংগ্রহ করা হয়েছিল নানা প্রকারের মূল্যবান কাঠ, পাথর, সোনা, রূপ ও সৌধ - নির্মাণ সামগ্রী | এই নির্মাণ কাজে নিযুক্ত হয়েছিল আনুমানিক টো হাজার শিল্পী, কারিগর ও শ্রমিক | ঈশা খানের নেতৃত্বে তারা ১২ বছর ৬ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার বলে সফল হয়েছিল সম্রাট শাহজাহানের স্বপ্নের তাজমহল নির্মাণ করতে | অর্থাৎ মূল স্থাপত্যটি নির্মাণ শেষ হয়েছিল ১৬৪৪ - ১৬৪৫ সালে | পার্শবর্তী অন্যান্য সৌধ, গৃহ তোরণ, প্রবেশদ্বার, উদ্যান, প্রাচীর ইত্যাদি নির্মাণ কাজ নিয়ে সমস্ত কাজ শেষ হতে আরও আট - নয় বছর লেগেছিল |

ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন যে সম্রাট শাহজাহান ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিসম্পন্ন, রুচিবান ও দয়ালু ব্যক্তি| নির্মাণ কাজে নিযুক্ত ২০ হাজার শিল্পী, কারিগর ও শ্রমিকদের একজনের উপরেও কখনও জোর-জবরদস্তি, দমন-পীড়ন করা হয়নি| কোনও শিল্পী - কারিগর তার প্রাপ্যের চেয়ে কম মজুরি পাননি| শিল্পী-কারিগরদের প্রত্যেকে যাতে সন্তুষ্ট চিত্তে কাজ করতে পারেন তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা সম্রাট করিয়ে রেখেছিলেন| নির্মাণকাজে মোট কত ব্যয় হয়েছিল তা নিয়ে মতভেদ আছে| কোনও কোনও ইতিহাসবিদের মতে এই কাজে সর্বমোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় চার কোটি টাকা| সম্রাট শাহজাহান তাজমহলকে এমন অবস্থান রেখে বানিয়েছিলেন, যাতে তিনি আগ্রা দুর্গ থেকে গবাক্ষ পথে যখন খুশী তাজমহলের দর্শন পেতে পারেন|

মমতাজের সমাধি ক্ষেত্রের উপরে তাজমহলের যে মূল সৌধ সেটি সম্পূর্ণ শ্বেত মার্বেল পাথরে নির্মিত | তার শান্ত স্নিগ্ধ অতুলনীয় রূপ যে কোনও দর্শককে বিমুগ্ধ করে| দেখে মনে হয় যেন শ্বেতপাথরে রচিত এক কবিতা | বস্তুতঃ তাজমহল হলো পৃথিবীর এক অত্যাশ্চর্য্য শিল্পসৃষ্টি| ভারতীয় স্থাপত্যরীতি এবং পারসিক স্থাপত্য কৌশলের এক সুসম্বদ্ধ শৈল্পিক রূপ প্রকাশ পেয়েছে এই সৌধে| সমগ্র মোঘল সম্রাজ্যের অধীশ্বর হওয়া সত্ত্বেও শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা বাঁচিয়ে রাখতে পারেননি ঠিকই, তবে তাঁর প্রেমকে স্বরণীয় করে রাখতে পেরেছেন সৌন্দর্য্য সূক্ষ্ম শিল্পকলা আর অসাধারণত্বের এই নিদর্শন সৃষ্টি করে | সম্রাট শাহজাহানের সুরুচি এবং উন্নত শিল্পভাবনার সার্থক প্রকাশ হয়েছে তাজমহল|

মমতাজ ছাড়া আর যাঁরা শাহজাহানের উদার ভালবাসায় ধন্য হয়েছিলেন, তাঁদের সমাধিও আছে এই সৌধ চত্বরে | তাজমহলের প্রধান প্রবেশ দ্বার, যেটি পশ্চিম দিকে অবস্থিত, সেই দ্বারের বাইরে লাল বেলে পাথরে নির্মিত হয়েছে ফতেপুরী মসজিদ | ফতেপুরী বেগম ছিলেন শাহজাহানের অন্যতম পত্নী তাঁর স্মৃতিরক্ষার্থে সম্রাট এটি নির্মাণ করান| প্রধান প্রবেশদ্বারের বাঁদিকে রয়েছে শ্বেত পাথরে নির্মিত সতুলন্নিসার খাদানের সমাধি| খাদান ছিলেন নিঃসন্তান | তবে তিনি মমতাজ বেগম এবং সম্রাট কন্যা জাহান-আরা বেগমের অত্যন্ত প্রিয় সঙ্গিনী ছিলেন| ১৬৪৭ সালে সতুলন্নিসার জীবনবাসনা হয় লাহোরে| সেখানে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়| কিন্তু ১৬৪৯ সালে শাহজাহান তাঁর মরদেহ লাহোর থেকে আগ্রায় এনে তাজমহল চত্বরে পুনরায় সমাধিস্থ করান|

পশ্চিমের প্রধান প্রবেশদ্বার ছাড়া পূর্বে ও দক্ষিণে রয়েছে আরও দুটি প্রবেশদ্বার| পূর্বদ্বারের কাছে আছে শাহজাহানের আর এক পত্নী শিরহিদ্দি বেগমের সমাধি | দক্ষিণ দ্বারের ডান পাশে আছে লাল বেলে পাথরে নির্মিত মমতাজের আর এক প্রিয়সঙ্গিনীর সমাধি|

তাজমহলের উপরে ওঠার সিঁড়ি রয়েছে দু'পাশে| সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসতে হয় বিশাল সৌধ চত্বরে| তার চারকোণে দাঁড়িয়ে আছে ১৪০ ফুট উঁচু চারটি গোলাকার মিনার | সম্পূর্ণ কোরানটাই উৎকীর্ণ রয়েছে তাজের দেওয়ালে| তাজের গায়ে রয়েছে অতুলনীয় রঙ্গীন পাথরের কারুকার্য, যাতে ব্যবহৃত হয়েছে দেশ-বিদেশের ৩৫ রকমের মূল্যবান পাথর|

তাজমহলের ভিতরে মধ্যিখানে রয়েছে মমতাজের সমাধি ক্ষেত্র| সমাধি ক্ষেত্রের শান্তিরক্ষার জন্য নীচের মূল সমাধিক্ষেত্রের উপরের তলায় রয়েছে অনুরূপ একটি সমাধি | শাহজাহানের মৃত্যুর পর প্রিয়তমা পত্নীর সমাধির পাশেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয় |

শুধু সৌধ নয়, তাজ চত্বরে রয়েছে সুবিস্তৃত সাজানো বাগান | মোঘল বাদশাদের রুচিই ছিল আলাদা | তাঁরাযেখানেই কোন সৌধ নির্মাণ করেছিলেন সেখানেই সামনে বানিয়েছিলেন সুন্দর বাগান | বাগানের মধ্যে ঝর্ণা এত অবিরাম জলের ধারার ব্যবস্থা করেছিলেন তাঁরা | তাজের পিছনে যমুনা নদী আর সামনের সাজানো বাগান পূর্ণিমার চাঁদনী রাতে তাজের আল মায়াময় রূপ সৃষ্টি করে |

তথ্যসূত্র:

https://www.google.co.in/url?sa=i&url=https%3A%2F%2Fwww.history.com%2Ftopics%2Findia%2Ftaj-mahal&psig=AOvVaw2XDgFqhwIzC uUyAapYEG&ust=1631983127542000&source=images&cd=vfe&ved=0CAgQjRxqFwoTCPjdu6W7hvMCFQAAAAAdAAAAABAD

লিখেছেন
Anasuya Sen
Anasuya Sen
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।