ত্রাণ দেখিয়ে প্রাণ নেওয়া? যা চলছে গাজায়

Gaza: গাজার ২৩ লাখ মানুষ পুরোপুরি ত্রাণে নির্ভরশীল। আর সমস্যা হল ত্রাণ আসে ইজরায়েল হয়ে। গাজার প্রায় প্রতিটি পরিবারই ঘরছাড়া। এখন গাজার মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম খাবার পাচ্ছেন।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
ত্রাণ দেখিয়ে প্রাণ নেওয়া? যা চলছে গাজায়

গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে গত দেড় মাসে ৭৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১১ জুলাই জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের তরফে এ কথা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেছেন, চলতি বছরের ২৭ মে থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত ত্রাণকেন্দ্রে ৭৯৮ জনের মৃত্যুর হিসাব পেয়েছি আমরা। তার মধ্যে ৬১৫ জনই মারা গিয়েছেন গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণ কেন্দ্র থেকে। বাকিদের পার্শ্ববর্তী অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার ত্রাণবহরে মৃত্যু হয়েছে।

মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ)-এর কার্যক্রম চালু হয় গাজায়৷ জিএইচএফ-এর পরিচালিত নতুন ত্রাণব্যবস্থায় খাবারের জন্য প্রায় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ লাইনে অপেক্ষা করেন৷ তাদের এই কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে৷ জাতিসংঘ অভিযোগ করেছে, খাবারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের করতে ইজরায়েলের এটি একটি পন্থা।

ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর পরিচালিত এই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রটি নিরপেক্ষতার নীতি অবলম্বন করছে না বলেও অভিযোগ করেছে মানবধিকার সংস্থাটি। জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন ত্রাণ ব্যবস্থা মানে না জিএইচএফ। অন্যদিকে ইজরায়েলের অভিযোগ করে, জাতিসংঘের পাঠানো ত্রাণ হামাসের হাতে পৌঁছায়। যদিও হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে মুনাফা লুটছে মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট?

Gaza: প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও অ্যামাজন ইজরায়েলকে তাদের ক্লাউড ও এআই-এর বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে।

মার্চ মাসে ইজরায়েল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি না মানার পর থেকে প্রায় ৭,১৪,০০০ ফিলিস্তিনবাসী বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তার মধ্যে ২৯ জুন থেকে ৩০ জুন ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ২৯,০০০ জনকে খান ইউনূস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে ভিড় উপচে পড়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ জল, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার মতোও পরিস্থিতি নেই।

স্বাস্থ্য সংগঠনগুলি জানিয়েছে, ত্রাণশিবিরে ডায়রিয়াতে ভুগছেন প্রায় ৩৯ শতাংশ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খান ইউনিস এবং গাজা। ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র এবং পরিষ্কার জলের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ফিলিস্তিন বাসীরা।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছিলেন, গাজায় ত্রাণ বিতরণের নতুন ব্যবস্থাটি ‘অনিরাপদ' এবং এই ব্যবস্থায় আরও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে৷ গুতেরেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মানুষ নিজের এবং তাদের পরিবারের খাবার জোগাড় করতে গিয়ে হত্যার শিকার হচ্ছেন৷ খাবারের সন্ধান কখনোই মৃত্যুদণ্ড হতে পারে না৷''

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২৩০০ টাকা দিয়ে সন্তানের মুখে পার্লে-জি! যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার এই বাবার কাহিনি স্তব্ধ করে দেয়

Gaza Parle-G Biscuit: ভারতে পার্লে-জি'র দাম মাত্র ৫ টাকা। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় সেই বিস্কুট ২,৩০০ টাকায় সন্তানকে কিনে দিয়েছেন এক বাবা।

গাজায় ইজরায়েল ও মার্কিন-সমর্থিত বিতর্কিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা প্রাক্তন এক কর্মী বিবিসি-কে জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের উপর গুলি চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, কয়েকজন নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি ত্রাণশিবির থেকে একটু দূরে, শুধুমাত্র একটু ধীরে চলায় ওয়াচ টাওয়ার থেকে ইজরায়েল বাহিনী গুলি চালায়।

এই পরিস্থিতিতে অক্সফাম, সেভ দ্য চিল্ডরেন-সহ আরও ১৩০টি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও জিএইচএফ-কে বলেছে, তারা যেন ত্রাণশিবির বন্ধ করে দেয়। কারণ, ওই ত্রাণশিবিরে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন। কিন্তু জিএইচএফ-এর চেয়ারম্যান জনি মুর ব্রাসেলসে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন, ত্রাণশিবির বন্ধ করা হবে না। ব্রাসেলসে দাবি করেন, তারা এখনো পর্যন্ত পাঁচ কোটি ৫৫ লাখ মিল বিতরণ করেছেন।

ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী(আইডিএফ) একাধিকবার বলেছে, ত্রাণ নিতে গিয়ে মানুষজন সামরিক ব্যারিকেডের খুব কাছে চলে এলে, সতর্ক করতে গুলি চালানো হয়। তবে এর ফলে এত দিনে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে সেই সংখ্যা তারা জানায়নি।

এর আগে ২ জুলাই জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক বিভাগ (OCHA) জানিয়েছিল, ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ খান ইউনিসের দুটি এলাকায় রাতারাতি বাস্তুচ্যুতির নির্দেশ দেয়। এখানে প্রায় ৮০,০০০ মানুষ বাস করতেন। বাস্তুচ্যুতির নির্দেশের পর থেকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের জলাধার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন স্থানে জল সরবরাহের সমস্যা হচ্ছে। জল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র- এই আল সাতার জলাধার।

গাজার ২৩ লাখ মানুষ পুরোপুরি ত্রাণে নির্ভরশীল। আর সমস্যা হল ত্রাণ আসে ইজরায়েল হয়ে। গাজার প্রায় প্রতিটি পরিবারই ঘরছাড়া। এখন গাজার মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম খাবার পাচ্ছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অন্তত ৫৭ হাজার গাজার মানুষ মারা গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশই শিশু। চলতি বছরের মে মাসের সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ৯৩ শতাংশ মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাসের হামলার পর এই সংঘর্ষ শুরু হয়। ওই দিন থেকে ইজরায়েল গাজায় নির্বিচার বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইজরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে শিশুদের উপর সরাসরি হামলার পাশাপাশি খাদ্য ও চিকিৎসা পরিষেবায় বাধা দেওয়ার প্রমাণও পেয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। এর আগে ২০২৪ সালে ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজার প্রতি ১০ ফিলিস্তিন শিশুর ৯ জনই ‘ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটে’ রয়েছে। ক্ষুধা, পিপাসা এবং মারাত্মক অপুষ্টির কারণে অনেক ফিলিস্তিন শিশুই মারা গিয়েছে। ওই বছরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, গাজার প্রতি ৫ শিশুর ৪ জনই প্রতি তিন দিনে অন্তত এক দিন পুরো দিন না খেয়ে থাকে। আর কত দিন চলবে এই নৃশংসতা? সেই প্রশ্ন থাকছেই।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।