এমিলি শেঙ্কেল, যে মেয়েটিকে চিরকাল ভালোবেসেছিলেন নেতাজি

Sourish Das
৭ মিনিট
এমিলি শেঙ্কেল, যে মেয়েটিকে চিরকাল ভালোবেসেছিলেন নেতাজি

নেতাজি, এই কথাটি শুনলেই বাঙালিদের তথা গোটা ভারতের জনগনের মনে একটা ছবি ভেসে ওঠে। এক স্বাধীনতা সংগ্ৰামীর ছবি যিনি ইংরেজদের মতো পরাক্রমশালী শক্তির বিরুদ্ধেও মাথা নত করেননি কোনোদিন। নিজের বুদ্ধিমত্তার জোরে ইংরেজদের বারংবার মাত দিয়ে ব্রিটিশদের ভারত ছাড়া করেছিলেন তিনি। ওনার জনপ্রিয় স্লোগান 'তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো' আজকেও লক্ষ লক্ষ ভারতবাসীকে উদ্বুদ্ধ করে, যেকোনো মানসিকভাবে বিদ্ধস্ত মানুষকে আবারো জাগিয়ে তুলতে পারে। আজকে সেই মহামানবের জীবনের একটি অন্য দিক নিয়েই হবে চর্চা।

আপনারা সকলেই নেতাজির স্বাধীনতা সংগ্রামের কিংবা তার দেশপ্রেমের একাধিক কাহিনি শুনে এবং পড়ে থাকবেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, স্বাধীনতার জন্য লড়াই করার সময়েই একজন নারীকে মন দিয়ে ফেলেছিলেন নেতাজি। শুধু মন দিয়ে ফেলেছিলেন, সেটুকুই না, বরং নিজের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাকে ভালোবেসেছিলেন তিনি। তবে দুজনের বিয়ে নিয়েও বিস্তর ভুল বোঝাবুঝি এবং রহস্যজনক ছিল, কিন্তু ১৮ আগস্ট ১৯৪৫ এ নেতাজির মৃত্যুর (যদিও ঐদিন নেতাজির মৃত্যু হয়েছিলো কিনে সেটা জানা যায়নি স্পষ্টভাবে) বছরখানেক পর থেকেই বিষয়টি সামনে আসে। সেই নারীর নাম ছিল এমিলি শেঙ্কেল। চলুন, জেনে নিই নেতাজি এবং এমিলির গোপন প্রেম কাহিনীর ব্যাপারেই, যেই প্রেম কাহিনীকে কার্যত ভুলেই গেছে বিশ্ব।

সুভাষ এবং এমিলির এই প্রেম কাহিনীর প্রথম পরিচয় মেলে যখন নেতাজির মৃত্যুর বছর খানেক পরে নেতাজির বাড়িতে তার দাদা শরত চন্দ্র বসুর কাছে একটা চিঠি আসে। চিঠিটি লিখেছিলেন এমিলি। এমিলি শেঙ্কল, তিনি জন্যসূত্রে একজন অস্ট্রেয়া নিবাসীনি হলেও কাজের সূত্রে গ্রহণ করেছিলেন জার্মান নাগরিকত্ব। ১৯৪৬ সালে শরৎ চন্দ্র বসুর কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি সুভাষ চন্দ্র বসুর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে জানান। মাধুরী বোসের 'দ্যা বোস ব্রাদার্স এন্ড ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেন্স' বইতে এই চিঠি এবং এমিলির বিভিন্ন কথা নিয়ে লেখা আছে। এমিলির ওই চিঠির ব্যাপারেও জানা যায় এই বই থেকেই। শরৎ চন্দ্র বসুর কাছে এমিলি যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, সেখানে তিনি লিখেছিলেন, কিভাবে তিনি সুভাষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন, কিভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল, সবকিছু।

চিত্রঋণ : https://www.rediff.comঅনেকে মনে করতেন, সুভাষ একজন সিঙ্গেল ফাদার ছিলেন, কিন্তু না তিনি যে বিবাহ করেছিলেন, সেই বিষয়টি অনেকেরই অজানা। এমিলি জানিয়েছিলেন, জার্মান নাগরিক হওয়ার কারণে তার দেশের আইন তাকে বিদেশিদের বিয়ে করার অনুমতি দিতোনা। কিন্তু তাও তারা দুজনে গোপনে হিন্দু মতে বিয়ে করেছিলেন। তাদের দুজনের একটি মেয়েও হয়েছিল, যার নাম অনিতা। তবে, এই চিঠিতে তিনি এও জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি সুভাষের পরিবারের থেকে কোনোরকম সাহায্য প্রার্থনা করছেন না, বরং তিনি শুধুমাত্র তাদেরকে অনিতার ব্যাপারে জানাতেই এই চিঠি লিখেছিলেন। এবং তিনি চেয়েছিলেন, যদি তার কিছু হয়ে যায়, তাহলে যেন সুভাষ এর পরিবার এই মেয়েটির যত্নআত্তিতে কোন ত্রুটি না রাখে।

শোনা যায় নাকি, নিজের জীবদ্দশায় নিজের ব্যক্তিত্বের জন্য নেতাজি মহিলাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ক্ষুরধার মস্তিষ্ক এবং দারুন ব্যক্তিত্বের জন্যই তিনি ছিলেন জনপ্রিয়। তবে তিনি নিজের জীবনেও একজনকেই ভালোবেসেছিলেন, যার জন্য তিনি যতদিন বেঁচেছিলেন, ততদিন চিঠি লিখেছেন।

তবে নেতাজির জীবনের এই দিকটির ব্যাপারে জানতে গেলে একটু পিছনে যেতে হবে। ১৯৩৪, ব্রিটিশ সরকার যখন নেতাজিকে নির্বাসিত করার আদেশ দিয়েছিল, তখন তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন ইউরোপের ভিয়েনাতে। সেই সময় ভিয়েনা থেকে আবারো তিনি নিজের কাজ শুরু করেন। ভিয়েনা থেকেই তিনি তার সঙ্গী সাথীদের চিঠিপত্র লিখতেন। তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ কথা জানাতেন। এই চিঠি লেখার সূত্রেই তার সাথে আলাপ এমিলি শেঙ্কেলের। চিঠির ডিটেকশন এবং টাইপিংয়ের জন্য তার একজনকে দরকার ছিল। সেই সময় নেতাজির এক বন্ধু তাকে এমিলির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং তাকে তিনি কাজে রাখেন।

এই কাজের সূত্রেই তাঁরা দুজন দুজনের কাছাকাছি আসা শুরু করেন। তারা দুজনে ইউরোপের একাধিক জায়গায় ঘুরতে গিয়েছিলেন বলেও খবর। ভিয়েনাতে থাকাকালীন তাঁদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। দুই বছর পরে নেতাজি যখন আবার ভারতে ফিরে আসেন, তখনও তিনি কিন্তু এমিলির প্রতি সমানভাবে দায়িত্বশীল ছিলেন।

আসলে চিঠিপত্র এমিলি এবং সুভাষের সম্পর্কের মধ্যে অন্যতম সেতুবন্ধনের কাজ করেছিল। চিঠি লেখার কাজের জন্যই যেমন এমিলি এবং সুভাষের দেখা হয়েছিল, তেমনই দুজন দুজনের খোঁজখবর নিতেন চিঠিপত্রের মাধ্যমে। ১৯৩৬ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু যখন ভারতে ফিরে এসে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রধান ভূমিকা নিতে শুরু করেন, সেই সময়ও এমিলিকে তিনি চিঠিপত্র লেখালেখি করতেন। কাজের ব্যস্ততা দূরে ঠেলে দিয়েও তিনি এমিলিকে তা সর্বক্ষণের খবর জানাতেন।

স্বাধীনতার পরে যখন এই সমস্ত চিঠিগুলিকে প্রকাশিত করা হয়, তারপর থেকেই নেতাজির এই দিকটি সকলের সামনে আসে। তবে নেতাজির এই রোমান্টিক দিকটির উন্মোচনের শুধুমাত্র যে নেতাজির লেখা চিঠি কাজ করেছিল তা কিন্তু নয়। বরং তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল শরৎ চন্দ্র বসুর কাছে এমিলি শেঙ্কলের পাঠানো আরো কিছু চিঠি।

একটি চিঠিতে এমিলি শরৎচন্দ্র বসুকে জানিয়েছিলেন, নেতাজি যখন, ' দ্য ইন্ডিয়ান স্ট্রাগল ' বইটি রচনা করছিলেন সেই সময় এমিলি তার সেক্রেটারি হিসেবে কাজ শুরু করেন। তখন থেকেই তাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠতে শুরু করে। শরৎচন্দ্র বসু কে এমিলি লিখেছিলেন, ' তোমার ভাই যখন ১৯৪১ সালে ইউরোপে ফিরে আসে তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করে, আমি তার সঙ্গে বার্লিন নিয়ে গিয়ে কাজ করব কিনা। আমি তার সেই প্রস্তাবে রাজি হই এবং ১৯৪২ পর্যন্ত তার সঙ্গে কাজ করি বার্লিনে থেকে।' তিনি আরো লিখেছিলেন, 'যখন আমরা বার্লিনে ছিলাম, তখন তোমার ভাই আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। বহু বছর ধরে তাকে চেনার কারণে তাকে আমার একজন ভালো মানুষ মনে হয়। এই কারণেই আমি তাকে বিবাহ করতে রাজি হই।'

যদিও অনেকে মনে করেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিবাহ হয়েছিল ১৯৩৭ সালে। শর্মিলা বোসের লেখা 'লাভ ইন দ্যা টাইম অফ ওয়ার: সুভাষচন্দ্র বোস জার্নি টু নাতসী জার্মানি' বইয়ে বেশ কিছু জায়গায় লেখা রয়েছে অস্ট্রিয়ার বডগস্টিন শহরে ১৯৩৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর তারা দুজনে বিবাহ করেছিলেন।

অন্যদিকে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পাঠানো চিঠিপত্রের মধ্যে থেকেও এমিলি শেঙ্কল এর কথা বারবার উঠে আসে। শিশির কুমার বসু এবং সুগত বসু এমিলিকে পাঠানো নেতাজির চিঠির যে সংকলন ১৯৯৪ সালে প্রকাশ করেন সেখানেও এমিলির ব্যাপারে বার বার উল্লেখ রয়েছে। এই বই থেকে জানা যায়, এমিলিকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রথমবার চিঠি পাঠিয়েছিলেন ৩০ নভেম্বর ১৯৩৪ সালে। সেই সময় নেতাজি রোমে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেই যাত্রার সময় আবহাওয়া এবং আশপাশের দৃশ্য নিয়ে আবছা বর্ণনা দিয়েছিলেন।

নেতাজি লিখেছিলেন, 'যতক্ষণ না ভারতে পৌঁছাতে পারি ততক্ষণ হয়তো আমি তোমাকে চিঠি লিখতে পারবো না আর... আমি একজন খারাপ সংবাদদাতা হতে পারি, কিন্তু আশা করি একজন খারাপ মানুষ নই।' তিনি আরো লেখেন, 'আমি এই চিঠিটা এয়ার মেইলের মাধ্যমে পাঠাচ্ছি কিন্তু কাউকে একথাটা জানাবে না যে এই চিঠি আমি এয়ার মেইলের মাধ্যমে পাঠাচ্ছি। আমি অন্য কাউকে এয়ার মেইলের মাধ্যমে চিঠি লিখি না।' এই কথাটির মাধ্যমে নেতাজি হয়তো বোঝাতে চেয়েছিলেন, এমিলির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনকে তিনি সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন এবং এই কারণেই তিনি এয়ার মেইলের মাধ্যমে চিঠি লিখেছেন। এছাড়াও এবং বেশ কিছু এমন চিঠি ছিল যেগুলোর মাধ্যমে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এমিলিকে নিজের ভালবাসার কথা জানিয়েছিলেন।

পথে তার সমস্যা হবে সে কথা জেনেও, তিনি বেশ কয়েকবার এমিলিকে চিঠিপত্র লিখেছিলেন, ভারতে ফিরে আসার আগে। ভেনিস থেকে তিনি একটি ছোট নোট তার উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলেন। এই নোটে তিনি তার যাত্রার সমস্ত বিবরণ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে লিখেছিলেন। এথেন্স এবং কায়রো থেকেও এরকম বেশ কিছু নোট তিনি লিখেছিলেন। ভারতে ফিরে আসার পরে, কলকাতার উডবার্ন পার্ক থেকে ৭ ডিসেম্বর ১৯৩৪ তিনি একটি চিঠি লিখেন। এই চিঠিতে তিনি শেঙ্কেলকে তার পিতার প্রয়াণের কথা জানান। তিনি আরো জানান, তার পিতার মৃত্যুতে তার মা প্রত্যন্ত শোকাহত হয়ে পড়েছেন। নেতাজিকে পুলিশ যখন গৃহবন্দী করে, তার আগে কোনোভাবে তিনি এমিলিকে একটি চিঠি লিখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি সেই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, "আমি এরপরে তোমাকে আর চিঠি লিখতে পারবো কিনা আমি জানিনা। ব্রিটিশ পুলিশ আমাকে নজর বন্দি করেছে। আমি নিজের বাড়িতে এখন একজন বন্দির মত জীবন কাটাচ্ছি। কিন্তু যদি আমি তোমাকে চিঠি না লিখতে পারি আমাকে ভুল বুঝবে না।" যদিও তারপরে নেতাজি পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিবাহের পরেও তাদের মধ্যে চিঠি চালাচালি হামেশাই চলত। এই চিঠিগুলিই তাঁদের সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করে তুলতে সাহায্য করেছিল।

জানা যায়, ভারতের স্বাধীনতার আগে এমিলি এবং সুভাষচন্দ্র বসু নিজেদের বিবাহের কথা কাউকে জানাননি। তারা চেয়েছিলেন এই বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে গোপন থাকুক। নেতাজির এই বিবাহের ব্যাপারে শুধুমাত্র জানতেন পন্ডিত জহরলাল নেহেরু। শোনা যায় নাকি, ১৯৪২ এর নভেম্বর মাসে বোস এবং এমিলির একটি কন্যাসন্তান হয় যার নাম রাখা হয় অনিতা। প্রথমে তার নাম অমিতা রাখা হলেও পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে অনিতা রাখা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, স্ত্রী এবং কন্যার সঙ্গে নেতাজি খুব বেশিদিন থাকতে পারেননি। ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট একটি প্লেন দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর খবর আসে, যদিও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৯৪৩ সালে যখন সুভাষচন্দ্র বসুর জার্মানির জন্য রওনা দিয়েছিলেন সেই সময় উনি শেষ বারের জন্য তাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

সুগত বোসের লেখা 'হিজ ম্যাজেষ্টি অপোনেন্ট' বইতে লেখা, নেতাজির মৃত্যু তিন বছর পরে ১৯৪৮ সালে তাদের পরিবার ভিয়েনা গিয়ে অনিতা এবং এমিলির সঙ্গে দেখা করেছিল। তারা তাঁদের দুজনকে দেশে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানান, কিন্তু সেই সময় তারা ভারতে আসতে চাননি। সেই সময়ে এমিলি তার মায়ের দেখাশোনা করেছিলেন। ১৯৬০ সালে অনিতা ভারতে এলেও এমিলি আর কখনো ভারতে আসেননি। নেতাজির পত্নী এবং তার মেয়ের ব্যাপারে বিস্তর বিতর্ক আছে। কিন্তু তবুও এই সাদা-কালো চিঠিগুলি এখনো নেতাজির রোমান্টিক দিকটাকে তুলে ধরে। প্রায় এক দশক তারা দাম্পত্য জীবনে ছিলেন, কিন্তু এই সময়েও এই চিঠিগুলিই তাঁদের সম্পর্কের যোগসূত্র ছিল। নেতাজি ও তার স্ত্রীর মধ্য ১৪ বছর বয়সের পার্থক্য ছিল। কিন্তু বয়স কখনোই তাঁদের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এমিলি কখনোই এই সম্পর্ক নিয়ে বেশি কিছু বলতে যাননি। ১৯৯৬ সালে এমিলি নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত, তিনি নেতাজির পাঠানো চিঠি গুলিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে ছিলেন। অন্যদিকে, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নেতাজিও তার স্ত্রীকে ভালোবেসেছিলেন। তাইই হয়তো, নিজের শেষ চিঠিতে নেতাজি লিখেছিলেন, 'প্রাণে বেঁচে নাও থাকতে পারি, তোমাকে আর নাও দেখা দিতে পাড়ি, ফাঁসি অথবা গুলি খেতে পারি তবুও জানবে তুমি আমার হৃদয়ে রয়েছো। এই জন্মে না হলেও পরের জন্মে আমরা একসাথে থাকবো।'

Content source -

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।

ইস্টবেঙ্গলের জয়ে কোমা ভেঙে চোখ মেলেছিলেন শচীনকর্তা

S D Burman's love for East Bengal: শচীনকর্তার একমাত্র পুত্র ‘পঞ্চম’ বাবার কানের কাছে চিৎকার করে উঠলেন— “বাবা… ইস্টবেঙ্গল জিতসে… পাঁচ-শূন্য!” আর তারপরই ... যে মানুষটি নির্জীব পড়েছিলেন, যাঁর স্নায়ু কোনো ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না—তাঁর চোখের কোণ সামান্য কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে শচীনকর্তা তাঁর অক্ষিপট মেলে তাকালে। ব্যাস, ওইটুকুই। এর পর আর কোনোদিন তিনি চোখ খোলেননি।

যে দুর্গাপুজোয় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষেধ, সেখান থেকেই যেভাবে হলো সর্বজনীন পুজোর শুরু

history of Durga Puja in Kolkata: ব্রিটিশ কলকাতায় সেই পুজোর ধরন বদলাতে শুরু করল; বদলাল গেট-টুগেদারের ধরনও। আর কলকাতার দুর্গাপুজো আদতে হয়ে উঠল কোম্পানির পুজো। মানে কোম্পানির লোকেদের তোয়াজের জন্য করা পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান। সেই পুজোর থেকে ইংরেজদের মনোরঞ্জন করা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

প্রেমে, ঈর্ষায়, ভ্রমণে মারিয়া কোদামার চোখে কেমন ছিলেন বোর্হেস?

Jorge Luis Borges: ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে লেখকের বিধবা স্ত্রী মারিয়া কোদামা তাঁদের অনন্য সম্পর্ক ও একান্ত যাপনের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। মারিয়া কোদামা মৃত্যুবরণ করেন ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন পাবলো হিয়েনেরা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, পরে লা নাসিয়ন (La Nacion) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেসবিশেষজ্ঞ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন।

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর সভায় ছুরি কোথা থেকে এল?

SRFTI Kolkata clash: সমাজমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে—এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে এসে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে লাথি মারছে। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেও পিছনের দেওয়ালে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঝুলছিল। অর্থাৎ, যে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগকে সামনে এনে এত প্রচার চালানো হচ্ছে, তখনো পর্যন্ত সেই ব্যানারে কোনো আঁচড়ও পড়েনি।

চার-পাঁচ বছর নিয়েছিল তৃণমূল, বিজেপি মাত্র চারমাস

SRFTI incident: গোটা দেশে যখন মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করেছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এল। অথচ একসময় গর্বের সঙ্গে বলা হতো—“হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো।” আজ তা যেন উল্টে গিয়েছে।

মাতঙ্গিনী হাজরা ও তমলুকের বিদ্রোহ: এক বৃদ্ধার মৃত্যু যেভাবে বদলে দিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ

Matangini Hazra death: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। তমলুক শহরের দিকে পাঁচ দিক থেকে ধেয়ে এল জনতার উত্তাল মিছিল। সরকারি দপ্তর ঘিরে ফেলতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের এক বিরাট বাহিনী এগিয়ে আসছিল শহরের উত্তর দিক থেকে—ফৌজদারি আদালতের পথ ধরে। আর সেই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন প্রায় বাহাত্তর বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা।