সালমান খানকে ঘিরে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকি, কেন নিশানায় বলিউডের অন্য তারকারাও?
Salman Khan Lawrence Bishnoi feud: এই ঘটনাটি প্রায় তিন দশক ধরে বয়ে চলা একটি পুরনো বিবাদকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছিল কীভাবে? সালমান খানকে ঠিক কতবার মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছে? আর কেনই বা এর মধ্যে একে একে জড়িয়ে পড়ছেন অন্য তারকারা?
২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর মুম্বইয়ে অভিনেতা টাইগার শ্রফের উপর গুলিবর্ষণের ঘটনাটি মনে এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে— সালমান খান ও লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দীর্ঘদিনের এই শত্রুতা কি তবে বলিউডের অন্যান্য তারকাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে?
মুম্বই পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কোনো হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, হামলাকারীরা টাইগার শ্রফের দিকে বন্দুক তাক করার আগে মূলত সালমান খানকেই তাদের মূল লক্ষ্য বানানোর কথা ভেবেছিল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা আরও বেশ কয়েকজন নামী-দামি অভিনেতার বাসভবনের আশপাশেও নজরদারি চালিয়েছিল। তবে এই যাতায়াতের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কাদের ঠিক কোন উদ্দেশ্যে টার্গেট করা হচ্ছিল, তা এখনও তদন্ত সাপেক্ষ।
এই ঘটনাটি প্রায় তিন দশক ধরে বয়ে চলা একটি পুরনো বিবাদকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছিল কীভাবে? সালমান খানকে ঠিক কতবার মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছে? আর কেনই বা এর মধ্যে একে একে জড়িয়ে পড়ছেন অন্য তারকারা?
১৯৯৮: এই দ্বন্দ্বের নেপথ্যের গল্প
১৯৯৮ সালের অক্টোবর মাসে, রাজস্থানে 'হাম সাথ-সাথ হ্যায়' সিনেমার শুটিংয়ের সময় থেকে এই বিরোধের সূত্রপাত।
যোধপুরের কাছের এক জঙ্গলে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে সালমান খানের বিরুদ্ধে। ওই ছবির অন্যান্য কলাকুশলীদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ ওঠে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ অত্যন্ত পবিত্র এবং শ্রদ্ধার পাত্র, আর বন্যপ্রাণী রক্ষা করা এই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সংস্কার ও ঐতিহ্য।
২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে যোধপুরের একটি আদালত কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের এই মামলায় সালমানকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। যদিও অল্প কিছুদিন পরেই তিনি জামিন পেয়ে যান। এই মামলার অন্য অভিযুক্তরা সে যাত্রায় খালাস পান।
পরবর্তী সময়ে লরেন্স বিষ্ণোই এই মামলাটিকেই সালমান খানকে হুমকি দেওয়ার প্রধান অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। ২০১৮ সালে যোধপুরে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সে প্রকাশ্যে এই অভিনেতাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এমনকী ওই বছরই তার গ্যাংয়ের এক সহযোগী সম্পত নেহরা সালমানের মুম্বইয়ের বাড়ির আশপাশে নজর রাখছিল বলে জানতে পারেন তদন্তকারীরা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Jean Dreze Economic Philosophy: দ্রেজের কাছে দারিদ্র্য দূরীকরণ মানে শুধু দরিদ্র পরিবারকে কিছু আর্থিক সাহায্য দেওয়া নয়। প্রয়োজন কাজের সুযোগ, খাদ্যনিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর এমন একটি সামাজিক ব্যবস্থা, যা মানুষকে নিজের জীবন গড়ে তোলার বাস্তব সুযোগ দেয়। দুই প্রশ্নের সময়ক্ষেত্র আলাদা হলেও দুটির দর্শনগত দিক একই—যেখানে শিক্ষা আনে চেতনা, আর চেতনা আনে বিপ্লব।
পার্থক্যটা পরিষ্কার করা খুব জরুরি: বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত মামলাটি ছিল একটি আইনি প্রক্রিয়া, আর বিষ্ণোইয়ের হুমকিগুলি একেবারেই আলাদা একটি অপরাধমূলক বিষয়। তার এই ক্ষোভের কথা দিয়ে তার গ্যাংয়ের করা পরবর্তী প্রতিটি হামলার উদ্দেশ্যকে ব্যাখ্যা করা যায় না।
হুমকির চিঠি থেকে বন্দুকের গুলি, বছরের পর বছর ধরে এই হুমকি অব্যাহত থাকে। ২০২২ সালের জুন মাসে বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ডের কাছ থেকে একটি হুমকির চিঠি উদ্ধার করা হয়, যেখানে সালমানের বাবা সেলিম খান সাধারণত প্রাতঃভ্রমণে যেতেন। ওই চিঠিতে বাবা ও ছেলেকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি, তার আগের মাসে খুন হওয়া পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুস ওয়ালার প্রসঙ্গও টানা হয়েছিল।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে সালমানের টিমের এক সদস্যের কাছে একটি ইমেল আসে, যাতে অভিনেতাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই বার্তায় বিষ্ণোইয়ের মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে সালমানকে গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করার দাবি জানানো হয়। তদন্তকারীরা গোল্ডি ব্রারকে বিষ্ণোইয়েরই এক সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল, যখন বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা মুম্বইয়ে সালমানের 'গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট'-এর বাড়ির সামনে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। এই ঘটনায় সালমান অক্ষত থাকলেও পুলিশ বিষয়টিকে তাঁর উপর পরিকল্পিত প্রাণঘাতী হামলা হিসেবেই তদন্ত করে এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তী সময়ে সালমান তদন্তকারীদের জানান, তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস— এই হামলার নেপথ্যে লরেন্স বিষ্ণোই ও তার সহযোগীরাই রয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মেরে ফেলা। এটি ছিল তদন্তের সাপেক্ষে অভিনেতার ধারণা; তাই প্রত্যেক অভিযুক্তর ভূমিকা সম্পর্কে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেললে চলবে না।
সালমান খানকে ঠিক কতবার হুমকি দেওয়া হয়েছে?
সালমানের বিরুদ্ধে আসা প্রতিটি হুমকি, হুমকির বার্তা, নজরদারির ঘটনা কিংবা হামলার চেষ্টার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই।
তবে নথিভুক্ত বড় বড় ঘটনাগুলির মধ্যে রয়েছে— ২০১৮ সালে বিষ্ণোইয়ের দেওয়া প্রকাশ্য হুমকি, ২০২২ সালের হুমকির চিঠি, ২০২৩ সালের ইমেল, সালমানের পানভেলের ফার্মহাউসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কথিত হত্যার ষড়যন্ত্র এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলে তাঁর বাসভবনের বাইরে গুলি চলার ঘটনা। এরপর থেকে আরও অনেক হুমকি ও ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া গিয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bangladesh consulate Saudi Arabia: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় নৈতিকতার নামে শাস্তি, ন্যায়বিচারের অধিকার, বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতার প্রশ্ন।
এই সমস্ত ঘটনাকে প্রমাণিত কোনো প্রাণনাশের চেষ্টা বলে ধরে নেওয়া ভুল হবে। এগুলির ধরন আলাদা হতে পারে, তবে হয়তো এগুলি সবই একই কথিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
এই বিস্তৃত তদন্তটি আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কেড়েছে। চলতি বছরের (২০২৬ সালের) জুলাই মাসে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) একটি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে— ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে 'এস.কে.' নামের এক বিশিষ্ট ভারতীয় অভিনেতাকে খুন করার উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছিল লরেন্স বিষ্ণোই। ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অপরাধমূলক সাম্রাজ্য প্রসারিত করতে এবং মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই মূলত এই হুমকিগুলিকে হাতিয়ার করা হয়েছিল। তবে এগুলি একটি আইনি নথির কিছু অভিযোগ, কোনো সন্দেহজনক কাজের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
অন্য তারকারাও কেন হুমকির মুখে পড়ছেন?
বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হুমকি বা হামলার শিকার স্রেফ সালমান খান হননি।
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে কানাডায় পাঞ্জাবি গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের বাড়ির সামনে গুলি চলে। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুম্বইতে চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেঠির বাড়ির বাইরেও গুলি চালানো হয়। একই বছরে কানাডায় কমেডিয়ান কপিল শর্মার ক্যাফেতেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এমনকী ২০২৬ সালের ১৭ জুন ভ্যানকুভারে গায়ক এপি ধিলোঁর বাড়ির বাইরেও গুলি চালানো হয় এবং বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম যুক্ত করে একটি বার্তায় এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়। তবে প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য যোগসূত্র ও উদ্দেশ্য একে অপরের থেকে আলাদা, তাই প্রতিটিকে আলাদাভাবেই খতিয়ে দেখা দরকার।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে খুন হন মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকী। এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নামে একটি বার্তা পোস্ট করা হয়, যেখানে সালমানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গটি টানা হয়েছিল। এই খুনের ঘটনার পর সালমান-ঘনিষ্ঠ সকলের নিরাপত্তার প্রশ্নকে আরও জোরালো রূপ দেয়।
এই ঘটনাগুলির মানে এই নয় যে, যে তারকাই কোনো হুমকি পাচ্ছেন, তাঁকে কেবল সালমান খানের কারণেই টার্গেট করা হচ্ছে। তবে গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে ছড়ানো কিছু বার্তায় যখন সালমানের পেশাগত বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাগুলি ঘুরেফিরে আসে, তখন এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে— এই ভীতিপ্রদর্শন কি তবে আর শুধুমাত্র অভিনেতাকে ভয় দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই?
টাইগার শ্রফ: আসল লক্ষ্য কি সালমান খানই ছিলেন?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Muslim goldsmiths in Bengal: বাংলার স্বর্ণশিল্পে মুসলমান কারিগরদের অবদান এই শ্রমের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কলকাতার বৌবাজারের মতো গয়নার বাণিজ্যকেন্দ্র এবং বাংলার নানা এলাকার কর্মশালায় মুসলমান শিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণালংকার নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের অনেকের কাছে এই পেশা কেবল চাকরি নয়, পারিবারিক সূত্রে শেখা একটি বিশেষ দক্ষতা।
১৮ অক্টোবর মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় ঘটে যাওয়া গুলিবর্ষণের ঘটনাটিই এই জোরালো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সে সময় একটি ফুটবল খেলার মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ির উপর বাইকে করে আসা তিনজন বন্দুকবাজ অতর্কিত গুলি চালায় বলে খবর পাওয়া যায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালক এবং এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। অন্যদিকে অভিনেতার টিম সাফ জানিয়ে দেয়, অভিনেতার নাম জড়িয়ে যেন কোনো ভুয়া ভিডিও বা ভুল বিবৃতি ছড়ানো না হয়।
এদিকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা একদল ব্যক্তির সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় এই হামলার দায় স্বীকার করা হয় এবং যাঁরা সালমান খানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন, তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হয়। তবে এ ধরনের দাবি থেকেই নিশ্চিত হয়ে বলা যায় না যে এই হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিল বা বার্তাটি আদতে ওই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকেই পাঠানো হয়েছিল কি না।
২১ অক্টোবর 'হিন্দুস্তান টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মুম্বই পুলিশের সূত্র অনুযায়ী আসল লক্ষ্য হয়তো সালমান খানই ছিলেন। ওই সূত্রগুলির দাবি অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হামলাকারীরা তাঁর বান্দ্রার বাসভবনের আশপাশে রেইকি চালালেও কড়া নিরাপত্তার কারণে তারা সুবিধা করতে পারেনি। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে টাইগার শ্রফের নিয়মিত ফুটবল খেলার রুটিন সম্পর্কে জানতে পেরে তারা তাঁর দিকেই নজর ঘোরান।
এরপর ২২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানা যায় যে, সন্দেহভাজনরা আমির খান ও রণবীর কাপুরের বাড়ির আশপাশেও নজরদারি চালিয়েছিল। তবে এগুলির আসল কারণ কী ছিল এবং সুনির্দিষ্ট কোনো অভিনেতাকে টার্গেট করার জন্য তাদের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
পার্থক্যটা স্পষ্ট করে বোঝা দরকার: পুলিশের সূত্রগুলি সালমান খানকে সম্ভাব্য মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঠিকই, কিন্তু তদন্তের মাধ্যমেই কেবল নিশ্চিত হওয়া সম্ভব যে সন্দেহভাজনরা ঠিক কী ধরনের নির্দেশ পেয়েছিল এবং এর নেপথ্যে আসল অপরাধচক্রে কারা জড়িয়ে। কোনো তারকার বাড়ির সামনে গিয়ে নজরদারি চালানো মানেই এই নয় যে তাঁকে হামলার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে এ পর্যন্ত কী জানা গিয়েছে?
ওই দিন প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই তদন্তে মোট দশজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর ২৩ অক্টোবর 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আরও তিন জন সন্দেহভাজনকে মুম্বই আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এই তিনজনের বিরুদ্ধে মূল ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা এবং একজন মোস্ট ওয়ান্টেড সন্দেহভাজনের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ মূলত হামলাকারী, মধ্যস্থতাকারী এবং অস্ত্র জোগানের নেপথ্যে থাকা সন্দেহভাজনদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। তবে গ্রেফতার করা বা রিমান্ডে নেওয়া মানেই অভিযুক্তের অপরাধ প্রমাণিত হয় না। তদন্ত এখনও চলছে, আর এই গুলিবর্ষণের নেপথ্যে ঠিক কার বা কাদের নির্দেশ ছিল, তা প্রমাণের মাধ্যমেই কেবল নিশ্চিত করা সম্ভব।
সালমানের সঙ্গে কাজ করেন এমন মানুষদের কাছে আসা এই হুমকিটি আরেকটি গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে: এই ভীতিপ্রদর্শনের আসল উদ্দেশ্য কি গোটা চলচ্চিত্র জগতের পেশাগত সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলা? এই সম্ভাবনাটি অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত, তবে তাই বলে প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যে এটাই একমাত্র উদ্দেশ্য—এটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কেবল ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নয়
সালমান খান ও লরেন্স বিষ্ণোইয়ের এই দ্বন্দ্ব ১৯৯৮ সালের কালো হরিণ শিকারের মামলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া একটি জনরোষ থেকে ধীরে ধীরে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এখন এটি নিছক আর ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং একাধিক হুমকি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও হামলার রূপ নিয়েছে যা পুরো বিনোদন জগতের মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
টাইগার শ্রফের উপর গুলি চালানোর এই ঘটনাটি আরও একটি নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে: কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা কোনো তারকাকে ছোঁয়া না গেলে, সেই হুমকির ফল কি তবে তুলনামূলক সহজে নাগাল পাওয়া ব্যক্তিদের দিকে ধাবিত হতে পারে?
আপাতত তদন্তকারীদের কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করতে হবে— সালমান খানই আসল লক্ষ্য ছিলেন কি না, এই হামলার নির্দেশ ঠিক কে দিয়েছিল এবং এতে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আসল ভূমিকা কী ছিল। গ্যাংয়ের প্রকাশ্যে করা দাবি, পুলিশের আনীত অভিযোগ এবং আদালতে প্রমাণিত হওয়া সত্য— এই তিনটি বিষয়কে অবশ্যই আলাদা করে দেখতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, বিষ্ণোই কেন বারবার সালমান খানকে হুমকি দিয়ে চলেছেন— বিষয়টি এখন আর শুধু এই প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আসল উদ্বেগের বিষয় হলো, একজন সুপারস্টারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্ব কি শেষ পর্যন্ত একটি সুদূরপ্রসারী ত্রাস সৃষ্টির অভিযানে রূপ নিয়েছে? আর নতুন কোনো হুমকি বাস্তবে রক্তক্ষয়ী হিংসায় রূপ নেওয়ার আগেই তদন্তকারীরা এই সর্বশেষ হামলার নেপথ্যে কে বা কারা আছে, তা নিশ্চিত করতে পারবেন তো?







