এক ফুলেই জন্ম নিল দুই মার্কিন সন্তান! এমনটাও সম্ভব? আসলে কী এই বিরল ‘মোমো’ যমজ?
'MoMo' Twins : যমজ সন্তান নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা অনেকটাই কেটে গিয়েছে এ যাবৎ। কিন্তু মোমো যমজ আসলে কী? কেমন করে বেড়ে ওঠে এরা? কেনোই বা বিশ্বে বিরল এই ঘটনা? আর কীই বা পার্থক্য এমনি যমজের সঙ্গে?

মানব জীবনে বিস্ময়ের যে কোনও অন্ত নেই এ কথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকী জন্মের পদ্ধতি নিয়েও এমন কিছু বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকে চিকিৎসা শাস্ত্র, যা গোটা বিশ্বের সামনে উদাহরণ স্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটি অফ আলাবামার তরফে একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ্যে এসেছে। তাতেই জানা গিয়েছ, ‘মোমো’ যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ব্রিটনি আলবা নামে এক মহিলা। ঘটনার কথা সামনে আসতেই রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে নেট দুনিয়ায়। যমজ সন্তান নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা অনেকটাই কেটে গিয়েছে এ যাবৎ। কিন্তু মোমো যমজ আসলে কী? কেমন করে বেড়ে ওঠে এরা? কেনোই বা বিশ্বে বিরল এই ঘটনা? আর কীই বা পার্থক্য এমনি যমজের সঙ্গে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে গোটা বিশ্ব।
মাত্র ছয়মাস আগেই লুকা এবং লেভি নামে দুই যমজ সন্তানের জন্ম দেন মার্কিন বাসিন্দা ব্রিটনি আলবা। সেই ঘটনা অবশ্য আর পাঁচটা যমজ সন্তানের মতোই সাধারণ ছিল। কোনও রকম জটিলতার মধ্যেও পড়তে হয়নি সেই সময়। কিন্তু সেই সন্তানদের জন্মের ঠিক ছয়মাস পরেই যখন ব্রিটনি আবার বুঝতে পারলেন যে তিনি ফের অন্তঃসত্ত্বা, তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় যত পর্যালোচনা। চিকিৎসক যখন তাঁদের জানায় দ্বিতীয়বারের এই গর্ভাবস্থায় খুবই ঝুঁকি রয়েছে , তাঁরা বিরল মোমো যমজ সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন, তখন থেকেই খুবই সাবধানে থাকেন ব্রিটনি আলবা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
G-Spot: গবেষকরা জানান জি-স্পট বলে আদতে আলাদা করে কোনও জায়গাই নেই। বরং তাঁরা উল্টে ক্লিটোরাল এবং ভ্যাজাইনাল অর্গ্যাজ়মের উপস্থিতির কথা জানান।
এই ধরনের যমজ 'মোমো' নামে পরিচিত, মনোঅ্যামনিওটিক-মনোকোরিওনিকের সংক্ষিপ্ত রূপ। সাধারণত যমজ সন্তানদের ক্ষেত্রে গর্ভে থাকা প্রতিটি ভ্রূণের জন্য আলাদা থলি, আলাদা প্ল্যাসেন্টা বা ফুল এবং ‘ফ্লুইড’ থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পুরো ঘটনাটি হয় উল্টো। একই প্লাসেন্টা, অ্যামনিওটিক থলি এবং তরল ভাগ করে মোমো যমজ সন্তানেরা। কেবলমাত্র ভ্রূণের নাড়িটুকু ছাড়া বাকি সবই থাকে একটি করে। বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির মতে, মোমো যমজ হল এক বিরল ধরনের যমজ, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট শিশু জন্মের এক শতাংশেরও কম। উল্লেখ্য যে, এই মোমো যমজ গর্ভধারণের ক্ষেত্রে ভ্রূণের জটিলতার কারণে বিশেষ ঝুঁকি থাকে।
প্রথম থেকেই এই বিরল গর্ভধারণ নিয়ে সতর্ক ছিলেন ব্রিটনি আলবা এবং ফ্রাঙ্কি আলবা সহ চিকিৎসকেরাও। চিকিৎসকদের মতে ৬০ হাজারের মধ্যে মাত্র একটি ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রেগন্যান্সি দেখতে পাওয়া যায়। এই ধরনের প্রেগন্যান্সি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে ডেলিভারির সময় নবজাতক ও মা উভয়েরই মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত শিশুর জন্ম দেন মা। আর এইসব দিক মাথায় রেখেই জন্মের প্রায় ৫০ দিন আগে থেকে নার্সিংহোমে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন মিসেস আলবা।তিনি যখন ২৫ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন তখন তাঁকে UAB-এর উচ্চ-ঝুঁকির প্রসূতি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। অবশেষে গত ২৫ অক্টোবর মোমো যমজ লিডিয়া এবং লিনলি আলবার জন্ম হয়। জানা যায়, জন্মের পর থেকে প্রায় মাস দুয়েক একস্ট্রা কেয়ার ইউনিটে ওই দুই শিশুদের নজরবন্দি রেখেছিলেন চিকিৎসকেরা। সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় দুই মোমো যমজ সন্তানদের কোলে নিয়ে মিসেস আলবার ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই ফের চর্চায় এসেছে বিশ্বের এই বিরল ঘটনাটি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অসাধারণ সাফল্য নিয়ে আশাবাদী গোটা বিশ্ব।







