ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে নতুন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা

US Iran conflict: ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সমঝোতা আর কার্যকর নয়। এই পরিস্থিতিতে বাড়ছে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা। হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

inscript
৩ মিনিট
ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে নতুন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা আবারও ভেঙে গেল। মাত্র কয়েকদিন আগেও মনে হচ্ছিল, দীর্ঘ সংঘাতের পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অন্তত সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। নতুন করে ইরানে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির যে সমঝোতা হয়েছিল, তা এখন আর কার্যকর নেই। ফলে আবারও বড় আকারের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তাকে বিপদের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার ঘটনার পরই এই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের সামরিক পরিকাঠামো ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকেই এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছিল। সেই কারণেই তাদের লক্ষ্য করে নতুন করে আঘাত হানা হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, এই অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, উপকূলীয় রাডার, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং বিপুল সংখ্যক ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌযানকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই হামলার উদ্দেশ্য যুদ্ধ আরও বাড়ানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে ইরান এই হামলাকে সরাসরি আগ্রাসন বলে আখ্যা দিয়েছে। তেহরানের সামরিক নেতৃত্বের দাবি, আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এর জবাব দেওয়া হবে। ইরান জানিয়েছে, তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ইরান! কেন দুই দেশের সর্ম্পকের অবনতি হলো?

Iran-Israel War: এমনকি ১৯৪৮ সালে যখন ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়, তখন তুরস্কের পর ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া দ্বিতীয় মুসলিম দেশ ইরান। দুই দেশের মধ্যে গড়ে উঠেছিল অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক।

এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে এখানে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ে। যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা বা হামলা চালানো বন্ধ না করে, তাহলে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ওয়াশিংটন আপাতত কূটনৈতিক পথের চেয়ে সামরিক চাপ বাড়ানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে সংঘাতের মাঝেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ভবিষ্যতে আবার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা অত্যন্ত অনিশ্চিত। যুদ্ধবিরতির ভিত্তি কার্যত ভেঙে পড়ায় নতুন করে বিশ্বাসের সংকট তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তারের সম্ভাবনা। ইতোমধ্যেই ইরানের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদি পাল্টা হামলার পরিমাণ আরও বাড়ে, তাহলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই উত্তেজনার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। বিশ্বের বহু জাহাজ সংস্থা হরমুজ প্রণালী ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন শুরু করেছে। কিছু জাহাজ বিকল্প রুট বিবেচনা করছে, আবার অনেক সংস্থা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার নীতি নিয়েছে। এতে তেল, গ্যাস ছাড়াও বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। ইউরোপীয় দেশগুলির পাশাপাশি জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও সংযমের আহ্বান জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান সংঘাত যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্ক বারবার ওঠানামা করেছে। কখনও যুদ্ধবিরতির আলোচনা এগিয়েছে, আবার কখনও সামরিক সংঘর্ষ সেই প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিয়েছে। এবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির যে সামান্য আশা তৈরি হয়েছিল, নতুন হামলার পর তা প্রায় ভেঙে পড়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা আবারও সামনে চলে এসেছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শব্দবাজি বা আতসবাজি, পরিবেশ থেকে প্রাণ, কার কতটা ক্ষতি

Fireworks Pollution: দীপাবলি ও কালীপুজোর আনন্দে বাজি পোড়ানোর চল থাকলেও এর প্রভাব পড়ে মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও পশুপাখির উপর। বাজির ধোঁয়া থেকে বাড়ে বায়ুদূষণ, বিকট শব্দে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শ্রবণশক্তি। দূষিত হয় মাটি ও জলও। কিন্তু শব্দবাজি ও আতসবাজি ঠিক কতটা ক্ষতি করে এবং কীভাবে কমানো সম্ভব?

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে আমেরিকার নজর, কেন ঘোষিত হলো ২০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার?

Million dollar reward for Iranian nuclear plan: ওয়াশিংটন থেকে সরাসরি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ও বিজ্ঞানীদের তথ্যের জন্য ২০ মিলিয়ন ডলারের রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস পুরস্কার ঘোষণা করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে এবিষয়ে পরিদর্শকদের প্রবেশ বন্ধের পর, সারা বিশ্ব ইরানের এই পারমাণবিক ‘জ্ঞান' সম্পর্কিত তথ্যের ধারাবাহিকতা হারিয়েছে। ট্রাম্প এই প্রকল্পের ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ দাবি করলেও, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবিষয়ে অনিশ্চিত।

কেন মানবাজারে জোট বাঁধল আদিবাসী সমাজ?

Adivasi Mahasamavesh in Purulia's Patharkata: পুরুলিয়ার মানবাজার মহকুমার পাথরকাটায় ‘ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল’-এর ডাকে প্রায় ২০টি আদিবাসী সংগঠনের মহাসমাবেশ ঘটে গেল। কুড়মিদের এসটি তালিকাভুক্তি করার রাজনৈতিক উদ্যোগের বিরোধিতা, বন অধিকার আইন ২০০৬-এর বাস্তবায়ন, ২০২৩ বন সংরক্ষণ আইন বাতিল, অষ্টম তফসিলে আদিবাসী ভাষা অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে তারা জমায়েত করলেন এই মহাসমাবেশে।

ঘুমের মধ্যেই স্মৃতি হারানোর ইঙ্গিত! মস্তিষ্কে ‘একাকী’ তরঙ্গের হদিস পেলেন বিজ্ঞানীরা

Lonely Waves: গভীর ঘুমের মধ্যেই কি স্মৃতিশক্তি হারানোর ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে? সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কে ‘লোনলি ওয়েভস’ বা একাকী তরঙ্গের সন্ধান পেয়েছেন। আলঝাইমার্সের সঙ্গে সম্পর্কিত টাউ প্রোটিন জমার কারণে এই তরঙ্গের স্বাভাবিক ছন্দ ও সমন্বয় ব্যাহত হতে পারে। স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার আগেই কি এই পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব?

শহরজুড়ে ভূতের গল্পের আসর

Bhoot Chaturdashi: ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় বাঙালিকে তার নিজের ভূত, সাহিত্য আর ছেলেবেলার স্মৃতির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ‘কলকাতা ৯ ক্যাফে’ (Kolkata 9 Cafe)। সেখানে আয়োজন করা হয়েছে ভূতের গল্প পাঠের আসর। আর সেই সন্ধ্যায় বাঙালির প্রিয় অতিপ্রাকৃত সাহিত্যকে পাঠকদের সামনে জীবন্ত করে তুলতে হাজির হচ্ছেন প্রখ্যাত কবি জয় গোস্বামী।

ভূত চতুর্দশীর দেশে হ্যালোউইনের দাপট, কোথায় হারাল বাঙালির ভূতেরা?

Bengali ghosts: ইদানীং শুনছি কলকাতার উঁচু উঁচু আবাসনে ‘হ্যালোউইনে’র প্রতাপ খুব। ভূত চতুর্দশীর ‘দেশীয়’ ঐতিহ্য ভুলে কাছাখোলা বাঙালি ‘ভদ্রবিত্ত’ ‘উচ্চবিত্ত’ বাবুসমাজ এখন হ্যালোউইনে ‘স্বাধিকার প্রমত্ত’!

পুলিশের গুলিতে শেষ হয়েছিল মান্যা সুর্ভে, সদিক জামাল, ইশরত জাহাঁর জীবন, কিন্তু শেষ হয়নি বিতর্ক

Police Encounter in India: পুলিশি হেফাজতে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের এই ধারাবাহিক পরিণতি কেবল অপরাধের তদন্তকেই থামিয়ে দিচ্ছে না, বরং সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার এবং বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিচ্ছে। আমাদের বিশেষ ধারাবাহিক সিরিজ ‘এনকাউন্টার’-এর প্রথম পর্বে রইল এমনই হাড়হিম করা কয়েকটি ঘটনার নেপথ্য সত্যের খতিয়ান।

তান্ত্রিকের স্বপ্নাদেশে প্রতিষ্ঠা, আজও চলছে প্রাচীন রীতি! শিবপুরের হাজার হাত কালীর ইতিহাস

Hazaar Haath Kali: হাওড়ার শিবপুরের হাজার হাত কালীমন্দিরের ইতিহাস প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো। কথিত আছে, তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নাদেশেই এই মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হয়। প্রায় ২৫ ফুট উঁচু দেবীমূর্তির হাজার হাত ঘিরে রয়েছে নানা লোকবিশ্বাস। তন্ত্রমতে পুজো হলেও এখানে নেই পশুবলির রীতি। কীভাবে শুরু হয়েছিল এই মন্দিরের ইতিহাস?