বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: কারা বড় ফ্যাক্টর?
West Bengal Assembly Election 2026: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা ভোটে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর কে? কার জনপ্রিয়তা, কার বিতর্ক, আর কার কৌশল বদলে দিতে পারে বাংলার ভোটের ফল?
পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচন শুধু সরকার গঠন বা সরকার বদলের লড়াই নয়। এই ভোটে একদিকে রয়েছে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একটি দলের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে বিরোধীদের সামনে রয়েছে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করার সুযোগ। আবার কিছু আঞ্চলিক শক্তির কাছে এই নির্বাচন রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখারও পরীক্ষা। বাংলার রাজনীতি বরাবরই শুধু দলীয় সমীকরণে আটকে থাকে না। এখানে নেতা, আবেগ, পরিচয়, সামাজিক অবস্থান, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, উন্নয়ন, দুর্নীতি, এমনকী ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিও ভোটে প্রভাব ফেলে। তাই কে জিতবে, কে হারবে বা কে বিরোধী আসনে বসবে, তার উত্তর সব সময় সরল হয় না।
এই নির্বাচনে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে আলাদা করে আলোচনা হচ্ছে। কেউ সরাসরি প্রার্থী, কেউ দলের মুখ, কেউ সংগঠনের চালিকাশক্তি, আবার কেউ নিজের প্রভাব দিয়ে ভোটের অঙ্কে নতুন হিসাব তৈরি করতে পারেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও সবচেয়ে পরিচিত এবং প্রভাবশালী নাম। গত দেড় দশক ধরে তিনি শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসের মুখও। তাঁর দল বহুবার দাবি করেছে, ২৯৪টি আসনেই আসলে তাঁদের প্রার্থী একজনই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আন্দোলনের নেত্রী, বিরোধী কণ্ঠস্বর, সাংসদ, রেলমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী—একাধিক ভূমিকায় থেকেছেন। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের তিন দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন। সেই থেকে টানা সরকার চালাচ্ছেন।
তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনসংযোগ। বহু মানুষ এখনও তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, ‘দিদি’ হিসেবেই দেখেন। সাধারণ মানুষের বাড়িতে যাওয়া, সরাসরি কথা বলা, হঠাৎ প্রশাসনিক বৈঠক করা বা মানুষের অভিযোগ শোনা—এইসব রাজনৈতিক কৌশল তাঁর ভাবমূর্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাছাড়া মহিলাদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এখনও যথেষ্ট। নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর উপস্থিতি বাংলার রাজনীতিতে আলাদা প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য চালু হওয়া আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি, ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রকল্প, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুবিধা এবং যুবকদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ তাঁকে এখনও ভোটের ময়দানে এগিয়ে রাখতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্রামীণ বাংলায় এখনও বহু মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন বলে মনে করেন। সেই কারণেই প্রকল্পভিত্তিক ভোট তৃণমূলের পক্ষে যেতে পারে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের মধ্যে এই প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আরও একটি বড় বিষয় হলো সংখ্যালঘু ভোট। গত কয়েকটি নির্বাচনে মুসলমান ভোটের বড় অংশ তৃণমূলের দিকে গিয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছে তৃণমূল। ফলে এই ভোটব্যাঙ্কের বড় অংশ এখনও তাঁদের দিকেই থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। গত কয়েক বছরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের নাম উঠে এসেছে। শিক্ষক নিয়োগ, পুরসভা নিয়োগ, রেশন বণ্টন—নানা ক্ষেত্রেই অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা গ্রেফতারও হয়েছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ থেকে। বহু তরুণ-তরুণী যাঁরা দীর্ঘদিন চাকরির আশায় ছিলেন, তাঁরা নিজেদের বঞ্চিত বলে মনে করছেন। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, আন্দোলন, আদালতে মামলা—সব মিলিয়ে এই ইস্যু এখনও যথেষ্ট সংবেদনশীল।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
West Bengal election 2026: বাংলার ভোটে কি এখন খাবারই সবচেয়ে বড় ইস্যু? অন্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা কি বাংলার ভোটারদের ভাবাচ্ছে? ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচয় কি এবার ভোটের ফল নির্ধারণ করবে?
মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে বিরোধীরা বারবার সরকারকে আক্রমণ করেছে। চিকিৎসক নির্যাতন ও খুনের মতো বহুচর্চিত ঘটনাগুলি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। এই সব কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মুখ হলেও, তাঁর সামনে এবার আগের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ।
নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ
বাংলায় বিজেপির রাজনীতি অনেকটাই নির্ভর করে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের উপর। রাজ্যের নেতৃত্বে একাধিক মুখ থাকলেও, ভোটের সময়ে বিজেপি শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই সামনে আনে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা এবং অমিত শাহের সাংগঠনিক দক্ষতা— এই দুইয়ের উপরই দলের সবচেয়ে বেশি ভরসা।
গত কয়েক বছরে বিজেপি বাংলায় নিজেদের শক্তি অনেকটাই বাড়িয়েছে। লোকসভা ভোটে ভালো ফল, বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠা এবং একাধিক জেলায় সাংগঠনিক বিস্তার—সব মিলিয়ে তারা এখন বাংলার রাজনীতিতে বড় শক্তি।
নরেন্দ্র মোদিকে এখনও অনেক মানুষ উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে দেখেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা, রেল, ডিজিটাল পরিষেবা বা গরিবদের জন্য নানা কর্মসূচির কথা বিজেপি ভোটের সময়ে সামনে আনতে চাইবে।
অন্যদিকে অমিত শাহকে ধরা হয় দলের সবচেয়ে কার্যকর নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে। বুথ স্তরে সংগঠন তৈরি, ভোটারদের কাছে পৌঁছনো, দলীয় কর্মীদের সক্রিয় রাখা—এই কাজগুলিতে তাঁর প্রভাব রয়েছে। বাংলার মতো রাজনৈতিক স্থানে বিজেপি যে দ্রুত শক্তি বাড়াতে পেরেছে, তার পিছনে শাহের পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেন অনেকে।
বিজেপির পক্ষে সবচেয়ে বড় ইস্যু হতে পারে দুর্নীতি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, কাটমানি, চাঁদাবাজি, চাকরি দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ, সীমান্ত নিরাপত্তা—এই সব বিষয় বিজেপি বারবার সামনে আনবে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
15 Years of Trinamool Rule: ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাংলাকে কী দিল? লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, রেশন আর স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্প কি মানুষের জীবন বদলেছে? নাকি চাকরির অভাব, দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তা আর শিল্পহীনতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে?
তবে বিজেপিরও কিছু দুর্বলতা রয়েছে। বাংলার মানুষ এখনও বিধানসভা নির্বাচনে স্থানীয় নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে শুধু মোদির জনপ্রিয়তা দিয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করা সহজ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আরও একটি বড় সমস্যা হলো বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ। বিরোধীরা দাবি করে, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি, ভাষা এবং সামাজিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারেনি। বাঙালির আবেগের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করার চেষ্টা করলেও তা কতটা সফল হয়েছে, তা ভোটের ফলেই বোঝা যাবে। এছাড়া ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ভোট এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিজেপিকে নিয়ে যে আশঙ্কা রয়েছে, তা দলের পক্ষে সমস্যার কারণ হতে পারে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী পদের মুখ নন, কিন্তু দলের সংগঠন, প্রচার এবং কৌশল তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ক্রমশ বেড়েছে। তাঁকে ঘিরে দলের মধ্যে এক ধরনের প্রজন্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায়। অনেক পুরনো নেতার তুলনায় তিনি অনেক বেশি আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর এবং তরুণদের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয়।
দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, বুথ স্তরে সংগঠন শক্ত করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থিতি, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের টানার চেষ্টা—এই সব ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয়তা স্পষ্ট। অনেকেই মনে করেন, আগামী দিনে তৃণমূলের প্রধান মুখ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তাঁরই। তাঁর আরেকটি সুবিধা হলো, তিনি নিজেকে তুলনামূলকভাবে পরিশীলিত এবং নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন। জনসভা থেকে টেলিভিশন সাক্ষাৎকার—সব জায়গাতেই তিনি দলকে সুসংগঠিত হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন।
কিন্তু বিরোধীরা তাঁকে ঘিরেও প্রশ্ন তুলেছে। দুর্নীতি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁর নাম বারবার এসেছে। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও বিরোধীরা তাঁকে আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে রেখেছে।
এছাড়া তৃণমূলে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, দলের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান সেই অভিযোগকে আরও জোরদার করে। তবে সব মিলিয়ে তিনি এই নির্বাচনে সরাসরি প্রার্থী না হয়েও তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন।
শুভেন্দু অধিকারী
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
BJP Bengal Sankalp Patra: বাংলায় বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ কি দিল্লির পুরনো প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি? ৩ হাজার টাকার ভাতা, অনুপ্রবেশ রুখতে কড়াকড়ি—এসব কি বাস্তবে সম্ভব? শ্লোগান আর বাস্তবের ফারাক কতটা?
শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী রাজ্যস্তরের নেতা। একসময় তিনি তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই আন্দোলনের ফলেই তৃণমূলের উত্থান আরও দ্রুত হয়েছিল। কিন্তু পরে দল বদলে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই বাড়িয়ে দেন।
বর্তমানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম সরাসরি ঘোষণা না হলেও, রাজ্যের রাজনীতিতে তিনি সেই জায়গাতেই রয়েছেন। বিজেপির রাজ্যস্তরের মুখ হিসেবে তাঁকে ব্যবহার করতে চাইছে দল। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, কাঁথি, তমলুক এবং সংলগ্ন অঞ্চলে তাঁর সাংগঠনিক প্রভাব রয়েছে। এই অঞ্চলে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বিজেপির জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। শুভেন্দুর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভঙ্গি। তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মুখ হয়ে উঠেছেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিধানসভা থেকে রাস্তায়—সব জায়গাতেই তাঁকে দেখা যায়।
তবে তাঁকে নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ করে, তিনি ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি করেন। সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা খুব বেশি নয় বলেও মনে করা হয়।
বিজেপির বিরুদ্ধে মুসলমান ভোটারদের মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, শুভেন্দুর রাজনৈতিক অবস্থান সেই ব্যবধান আরও বাড়াতে পারে। ফলে তিনি বিজেপির জন্য যেমন বড় সম্পদ, তেমনই কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কের কারণও।
হুমায়ুন কবীর
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে হুমায়ুন কবীর হয়তো প্রধান মুখ নন, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে তিনি ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারেন। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদে তাঁর প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি সতর্ক। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার দল বদল করেছেন। কখনও কংগ্রেস, কখনও বিজেপি, কখনও তৃণমূল— বিভিন্ন দলে থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বর্তমানে তিনি নিজের রাজনৈতিক দল গড়ে নতুন করে সংগঠন তৈরির চেষ্টা করছেন।
মুর্শিদাবাদ, বিশেষ করে নওদা ও রেজিনগর অঞ্চলে তাঁর প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। এই অঞ্চলে মুসলমান ভোটের হার বেশি। ফলে তিনি যদি উল্লেখযোগ্য ভোট টানতে পারেন, তাহলে তা তৃণমূল, কংগ্রেস বা অন্য বিরোধী শক্তির ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি নিজেকে মুসলমান সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ধর্মীয় পরিচয়, সংখ্যালঘু অধিকার এবং স্থানীয় আবেগকে সামনে রেখে তিনি নিজের রাজনৈতিক জায়গা তৈরি করতে চাইছেন।
কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। ঘন ঘন দল বদল, বিতর্কিত মন্তব্য এবং রাজনৈতিক অবস্থান বদলের কারণে অনেক ভোটারের মধ্যেই তাঁকে নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সম্প্রতি তাঁকে ঘিরে প্রকাশিত একটি বিতর্কিত ভিডিও নিয়েও রাজ্যে আলোচনা হয়েছে। সেই ভিডিও নিয়ে তিনি দাবি করেছেন, তা এআই দিয়ে তৈরি। যদিও এই বিতর্ক তাঁর ভাবমূর্তিতে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবু তিনি এমন একজন নেতা, যিনি হয়তো পুরো রাজ্যের ফল বদলাবেন না, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নির্ধারণ করতে পারেন।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ব্যক্তিত্বও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক সময় দেখা যায়, একজন নেতার ভাবমূর্তি, বক্তব্য, জনপ্রিয়তা বা বিতর্ক গোটা নির্বাচনের গতিপথ বদলে দেয়।
এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও সবচেয়ে বড় মুখ। তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ থাকলেও তাঁর জনপ্রিয়তা পুরোপুরি কমে যায়নি। বিজেপি মোদি-শাহ জুটির উপর নির্ভর করছে, কিন্তু রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীকেও সামনে রাখতে হচ্ছে। তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব বাড়ছে। আর কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে হুমায়ুন কবীরের মতো নেতারাও ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারেন।
ফলে বাংলার এবারের ভোটে শুধু দলীয় প্রতীক নয়, রাজনৈতিক মুখগুলিও বড় ভূমিকা নেবে। কে মানুষের আস্থা ধরে রাখতে পারবেন, কে ক্ষোভ সামলাতে পারবেন আর কে নতুন সমর্থক টানতে পারবেন, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করবে ফলাফল।






